০৩:২৪ এম
বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ সৃষ্টির ফলে সমুদ্র বন্দরের ৩ নাম্বার সতর্ক সংকেত ও নদী বন্দরের ১ নাম্বার সতর্ক সংকেত জারি থাকার কারণে ভোলার দ্বীপ উপজেলা মনপুরার সঙ্গে সারা দেশের নৌ-যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। এ কারণে মনপুরা সারা দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। গত ৫ দিনের টানা বর্ষণের ফলে মনপুরার সর্বত্রই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।
উপজেলার ৫ ইউনিয়নের ১০ গ্রামের আনুমানিক ১৫ হাজার মানুষ পানিবন্ধি হয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে উপকূলজুড়ে বৃষ্টি হচ্ছে। বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে মনপুরার সঙ্গে নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে বলে যুগান্তরকে নিশ্চিত করেছেন ভোলা জেলা বিআইডব্লিউটিএর (নদীবন্দর) সহকারী পরিচালক নির্মল কুমার রায়। হাজিরহাট সি-ট্রাক ঘাট ও রামনেওয়াজ ঢাকা সার্ভিস ঘাটের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, সকাল ১০ টায় ভোলা যাওয়ার জন্য বেশ কয়েকজন যাত্রী হাজিরহাট সি-ট্রাক ঘাটে এসেছিল। নৌযান বন্ধ থাকায় তারা ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
এদিকে, রামনেওয়াজ ঢাকার সার্ভিস ঘাটে ঢাকা যাওয়ার জন্য যাত্রীরা উপস্থিত হয়েছিল, কিন্তু ঢাকা থেকে আজ কোনো লঞ্চ না আসায় ঢাকাগামী যাত্রীরা যেতে পারেননি। ভোলা আবহাওয়া অধিদপ্তরের পর্যবেক্ষক মাহবুবুর রহমান জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় ভোলাতে ৫৩ দশমিক ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। লঘুচাপের কারণে সমুদ্র বন্দরকে ৩ নাম্বার সতর্ক সংকেত ও নদীবন্দরকে ১ নাম্বার সতর্ক সংকেত প্রদর্শন করার জন্য নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার
ভোলা জেলা বিআইডব্লিউটিএর সহকারী পরিচালক (নদীবন্দর) নির্মল কুমার রায় জানিয়েছেন, লঘুচাপ ও সতর্ক সংকেতের কারণে জেলার সব নৌযান বন্ধ রয়েছে। গত ৫ দিন ধরে টানা বৃষ্টির কারণে উপজেলার ৫ ইউনিয়নের ১০ গ্রামের আনুমানিক ১৫ হাজার মানুষ পানিবন্ধি হয়ে পড়েছে। এখন মানুষ ঘর থেকে বের হতে পারছে না। নিম্ন আয়ের মানুষেরা ঘর থেকে বের হতে না পারায় অনেকেই উপোস রয়েছেন। পানিবন্ধি এলাকাগুলোর বেশিরভাগ ঘর-বাড়ি ডুবে যাওয়ার ফলে চুলায় হাড়ি না ওঠায় রান্না করা হয়নি।
এদিকে, মেঘনায় ভাটা থাকার কারণে বিপৎসীমার নিচে ১ দশমিক ১৯ সেন্টিমিটারের নিচে পানি প্রবাহিত হচ্ছে বলে যুগান্তরকে নিশ্চিত করেছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসাফউদ্দৌলা। অন্যদিকে, ভোর রাতে জোয়ারের সময় উপজেলার বিচ্ছিন্ন বেড়িবাঁধহীন চর কলাতলী ইউনিয়নের কাজীরচর ও ঢালচরের নিম্নাঞ্চলে ২-৩ ফুট জোয়ারের প্লাবিত হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
দেখা গেছে, উপজেলার হাজিরহাট ইউনিয়নের চরযতিন, দাসেরহাট, সোনারচর ও চরজ্ঞান, সাকুচিয়া ইউনিয়নের চরগোয়ালিয়া, মাস্টারহাট, দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের রহমানপুর ও মনপুরা ইউনিয়নের কাউয়ারটেক ও আন্দিরপাড় গ্রামে অধিকাংশ এলাকা বৃষ্টির পানিতে ডুবে রয়েছে। ঘর-বাড়ির ভিতরে ২-৩ ফুট পানি জমে গেছে। এদিকে, হাজিরহাট ইউনিয়নের ৪, ৫ ও ৬নং ওয়ার্ডের দাসের হাট এলাকা সবচেয়ে নাজুক অবস্থায় আছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা এগিয়ে না আসলেও সমাজকর্মী ও সংবাদকর্মী মেহেদী হাসান ও আবদুর রহমান সোয়েবের প্রচেষ্টায় ওই অঞ্চলে পানি নিষ্কাশনের কাজ করা হচ্ছে স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে। এই এলাকার বাসিন্দা মফিজ মেস্ত্রী জানিয়েছেন, তারা বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে ডুবে রয়েছেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কেউ তাদের খোঁজ নেননি। কিন্তু সমাজকর্মী আবদুর রহমান সোয়েব ও মেহেদী হাসানের সহযোগিতায় তারা স্বেচ্ছাশ্রমে পানি নিষ্কাশনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ডিভিশন-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসাফউদ্দৌলা জানান, মনপুরা উপকূলে জলাবদ্ধতা যাতে না সৃষ্টি হয়, সেই লক্ষ্যে খাল খননের প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন