০৯:১৬ পি.এম
মাদারীপুরে স্ত্রীর স্বীকৃতি দাবি করে একটি নারী বিষের বোতল হাতে প্রেমিকের বাড়িতে অনশনে বসেছেন। অভিযোগ রয়েছে, দুই বছর আগে প্রথম সংসার ভেঙে বিয়ে করলেও এখনো তিনি তার স্বামী দ্বারা স্বীকৃতি পাচ্ছেন না। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্র থেকে জানা গেছে, মাদারীপুর সদর উপজেলার খোঁয়াজপুর ইউনিয়নের পখিরা গ্রামের হানিফ চৌকিদারের মেয়ে রানী আক্তার এবং পার্শ্ববর্তী মধ্যচক গ্রামের আয়নাল খানের ছেলে স্বপন খানের মধ্যে ৫ বছরের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। কিন্তু রানীকে অন্যত্র বিয়ে দিয়ে দেয় তার পরিবার।
রানী অভিযোগ করেন, শ্বশুর বাড়িতে কুৎসা রটিয়ে তার সংসার ভেঙে দিয়েছেন স্বপন খান। এরপর, ২০২৪ সালের ২০ মে, রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকার একটি কাজী অফিসে ৬ লাখ টাকা দেনমোহরে তাকে বিয়ে করেছেন স্বপন। তবে বিয়ের পর থেকে স্বপন তাকে স্ত্রী হিসেবে স্বীকৃতি দিতে টালবাহানা করতে থাকেন। বহুবার চেষ্টা করেও কোনো সমাধান না পেয়ে শনিবার দুপুর থেকে তিনি বিষের বোতল হাতে নিয়ে স্বপনের বাড়িতে অনশনে বসেছেন।
আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার
এ সময় স্বপন খানের পরিবার তাকে বাধা দিলে দুপক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়। রানী আক্তার জানান, যদি স্ত্রীর স্বীকৃতি না পান তবে আত্মহত্যার পথ বেছে নিবেন। রানীর এই অনশনকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাস্থলে উৎসুক জনতা ভিড় জমান। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এই ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত স্বপন খান বাড়িতে নেই। তিনি বিভিন্ন এলাকায় মিনিট্রাক ভাড়া দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন।
অনশনরত রানী আক্তার বলেন, ‘২০২৩ সালে আমার আগের স্বামীর কাছে মিথ্যা বানোয়াট কথা বলে সংসার ভেঙে ছাড়িয়ে আনে। পরে ২০২৪ সালে গোপনে বিয়ে করে স্বপন। এরপর আমার বড় ভাশুর (স্বপনের বড় ভাই) লিবিয়ায় ধরা পড়ার পর আমাদের বাড়ি এসে আমার কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা আনেন স্বামী ও শাশুড়ি (স্বপন ও তার মা)।’
তিনি আরও বলেন, ‘এখন আমার স্বামীকে গোপনে বিয়ে দেয়ার পাঁয়তারা করছে তার পরিবার। আর আমার স্বামী আমাকে বলছেন, তোমাকে বাড়ি নিলে আমাকে তাড়িয়ে দেবে। কিন্তু আমি তো প্রেমিকা না, আমি বিয়ে করা বউ। আমি স্ত্রীর স্বীকৃতি চাই। এর আগে আমি বিচার দাবিতে স্থানীয় মেম্বারের কাছে গিয়েও কোনো ফলাফল পাইনি। যদি সঠিক বিচার না পাই, তাহলে এই বাড়িতেই বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করবো।’
স্বপন খানের মা ও তার পরিবারের সদস্যরা বলেন, ‘ওদের ৫ বছরের সম্পর্ক ছিল, কিন্তু আমরা তো জানতাম না। এখন ছেলের জন্য বিয়া ঠিক করছি আর এই মেয়ে বলে তাকে নাকি বিয়া করছে। গোপনে বিয়ে করে থাকলে আমার ছেলে ওই মেয়ে নিয়ে যেখানে মন চায়, সেখানে গিয়ে থাকুক। ওই মেয়ে এই বাড়িতে আসবে কেন? এইটা স্বপনের বাড়ি না।’
আরও পড়ুন: ধামরাইয়ে দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় প্রশাসনের তৎপরতা: বিভাগীয় কমিশনার
মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা দেয়া হবে।’
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন