বৃহস্পতিবার, ২ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০৪:২৯ পি.এম
ভোক্তা পর্যায়ে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম আরও কমানো হয়েছে। জুলাই মাসের জন্য ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৩৫৭ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৫২৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) দাম কমানোর এই নতুন ঘোষণা দিয়েছে।
সন্ধ্যা ৬টা থেকে নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
এক বিজ্ঞপ্তিতে বিইআরসি জানিয়েছে, জুলাই মাসে ১২ কেজি এলপিজির দাম ১ হাজার ৮৮৫ টাকা থেকে ৩৫৭ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৫২৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর আগে ২ জুন সবশেষ সমন্বয় করা হয় এলপি গ্যাসের দাম। সে সময় ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৫৫ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৮৮৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।
এদিকে, বৃহস্পতিবার জুলাই মাসের জন্য ভোক্তা পর্যায়ে ১৬ টাকা ৫৩ পয়সা কমিয়ে অটোগ্যাসের মূসকসহ দাম প্রতি লিটার ৭০ টাকা ৪০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।
গত ২ জুন সবশেষ সমন্বয় করা হয় অটোগ্যাসের দাম। সে সময় ভোক্তা পর্যায়ে ২ টাকা ৫৯ পয়সা কমিয়ে অটোগ্যাসের মূসকসহ দাম প্রতি লিটার ৮৬ টাকা ৯৩ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছিল।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় সরকারি বিধিমালা ভঙ্গ করে বিদ্যালয়ের নতুন, পুরোনো ও অব্যবহৃত সরকারি পাঠ্যপুস্তক ভাঙারির দোকানে বিক্রি করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে থানায় এজাহার দায়ের করা হয়েছে এক প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম মো. আকতার হোসেন। তিনি বিদ্যমান সরকারি হাতেম আলী বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত।
শুক্রবার (২৬ জুন) দুপুর বেলা পৌর শহরের বহেরাতলা এলাকার একটি ভাঙারির দোকানের সামনে থেকে ট্রাকে বই ভর্তি করার সময় স্থানীয় জনতা একাধিক বইসহ একটি ট্রাক আটক করে। এই ঘটনায় উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয়ের হিসাবরক্ষক মো. কবির হোসেন বাদী হয়ে মঠবাড়িয়া থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন।
এজাহার ও স্থানীয় সূত্র থেকে জানা যায়, শুক্রবার (২৬ জুন) দুপুরে পৌর শহরের বহেরাতলা এলাকার জনৈক হান্নানের ভাঙারির দোকানের সামনে বগুড়াগামী একটি ট্রাকে আনুমানিক ৮ হাজার কেজি নতুন-পুরোনো বই, গাইড বই ও কার্টন বিক্রির উদ্দেশ্যে তোলা হচ্ছিল। এই সময় স্থানীয় লোকজনের সন্দেহ হলে তারা বই এবং কার্টনসহ ট্রাকটি আটক করে। পরে তল্লাশি চালিয়ে দেখা যায়, সেখানে ২০২৪ ও ২০২৫ শিক্ষাবর্ষের জন্য বিপুল পরিমাণ নতুন ও অব্যবহৃত সরকারি পাঠ্যপুস্তক উপস্থিত রয়েছে।
ঘटनাস্থলে উপস্থিত জাকারিয়া নামের এক হকারকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি স্বীকার করেন, সরকারি হাতেম আলী বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আকতার হোসেনের কাছ থেকে তিনি বইগুলো কিনেছেন। এই মর্মে হকার জাকারিয়া তাৎক্ষণিকভাবে একটি লিখিত বক্তব্যও প্রদান করেন।
এজাহারে আরও উল্লেখ থাকা তথ্যে বলা হয়, গত ২৩ জুন প্রধান শিক্ষক মো. আকতার হোসেন ও তার সহযোগীরা সরকারি বিধিমালা উপেক্ষা করে এবং কোনো ধরনের নিলাম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ না করে বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় তলা থেকে ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির বাংলা, ইংরেজি, বিজ্ঞান, গণিত ও ভোকেশনালসহ বিভিন্ন বিষয়ের মোট ২ হাজার ৩৭৯টি সরকারি বই গোপনে হকার জাকারিয়ার কাছে মাত্র ৮ হাজার ৮০৫ টাকায় বিক্রি করেন। বইগুলোর মোট ওজন ছিল ৫৮৭ কেজি।
এজাহারে অভিযোগ আনা হয়েছে, সরকারি কর্মচারী হিসেবে এই ধরনের ক্ষমতার অপব্যবহার ও অপরাধজনক বিশ্বাসভঙ্গের মাধ্যমে বই বিক্রির অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। আলাদা করে বই বিক্রির আগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কিংবা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে বিষয়টি অবহিত করা হয়নি বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
পরবর্তীতে বুধবার (১ জুলাই) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশক্রমে প্রাথমিক স্তরের বইগুলো উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে দেওয়া হয় এবং গাইড বইগুলো সংশ্লিষ্ট প্রাপকের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। অন্যদিকে, মাধ্যমিক স্তরের ২ হাজার ৩৭৯টি সরকারি বই মঠবাড়িয়া থানা পুলিশ জব্দ করেছে। বইগুলো যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই এবং বিতরণ কার্যক্রম শেষ করে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার পরামর্শক্রমে থানায় এজাহার দায়ের করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলে বাদী জানিয়েছেন।
মঠবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সদ্যবিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রফতানি আয় এসেছে ৪ হাজার ৮০০ কোটি ১৯ লাখ ডলার, যা বিগত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় শূন্য দশমিক ৫৮ শতাংশ কম হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্যটি জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত অর্থবছরের জুলাই-জুন মাসে দেশের রফতানি আয় কমে গেছে। দেশে ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি হয়েছে ০.৫৮ শতাংশ। আর বিগত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়ে রফতানি আয়ের পরিমাণ ছিল ৪ হাজার ৮২৮ কোটি ৩৯ লাখ ডলার।
অর্থবছরের জুলাই থেকে জুন মাসের মধ্যে তৈরি পোশাকের রফতানি আয় ১.৬৪ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৮৭০ কোটি ১ লাখ ডলারে। গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়ে মাসে রফতানি আয়ের পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৯৩৪ কোটি ৬৯ লাখ ডলার।
তৈরি পোশাক খাতের রফতানি আয়ের মধ্যে ২ হাজার ৬২ কোটি ৩৮ লাখ ডলার এসেছে নিটওয়্যার রফতানি থেকে, যা বছর ব্যবধানে ২ দশমিক ৫৩ শতাংশ কমেছে। গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই-জুন মাসে এ আয় ছিল ২ হাজার ১১৫ কোটি ৯০ লাখ ডলার।
এছাড়া ১ হাজার ৮০৭ কোটি ৭৩ লাখ ডলার এসেছে ওভেন পোশাক রফতানি থেকে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় শূন্য দশমিক ৬১ শতাংশ কমেছে। গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই-জুন মাসে এ আয় ছিল ১ হাজার ৮১৮ কোটি ৭৮ লাখ ডলার।
এদিকে, সদ্যবিদায়ী জুন মাসে তৈরি পোশাক (আরএমজি) রফতানি আয় গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২১ দশমিক ৫২ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৩৮ কোটি ৭৭ লাখ ডলারে। আর ২০২৫ সালের একই সময়ে এ আয় ছিল ২৭৮ কোটি ৭৭ লাখ ডলার।
তৈরি পোশাক খাতের রফতানি আয়ের মধ্যে ১৮৪ কোটি ১ লাখ ডলার এসেছে নিটওয়্যার রফতানি থেকে, যা বছর ব্যবধানে ১৯ দশমিক ৪৯ শতাংশ বেড়েছে। এছাড়া ১৫৪ কোটি ৭৫ লাখ ডলার এসেছে ওভেন পোশাক রফতানি থেকে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে ২৪ দশমিক ০২ শতাংশ।
ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের উল্লেখযোগ্য খাতের মধ্যে কৃষি পণ্যের রফতানি কমলেও হোম টেক্সটাইল ও চামড়া, চামড়াজাত পণ্যের রফতানি বেড়েছে।
চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের রফতানি বৃদ্ধি পেয়েছে ৭ দশমিক ০৯ শতাংশ। জুলাই-জুন মাসে রফতানি হয়েছে ১২২ কোটি ৬২ লাখ ডলারের চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য।
আর হোম টেক্সটাইলের রফতানি আয় ৬ দশমিক ৫২ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯২ কোটি ৮৪ লাখ ডলারে। তবে কৃষি পণ্যের রফতানি আয় ১ দশমিক ৩৪ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৯৭ কোটি ৫৩ লাখ ডলারে।
এদিকে সদ্যবিদায়ী জুন মাসে দেশে পণ্য রফতানি থেকে ৪২০ কোটি ২৬ লাখ মার্কিন ডলার আয় হয়েছে। যা বছর ব্যবধানে বেড়েছে ২৫ দশমিক ৯১ শতাংশ।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন আবার পেছানো হয়েছে।
এটি সংগ্রহ করার পর, এ নিয়ে ৯৬ বারের মতো পেছালো সময়।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম ৯ আগস্ট পরবর্তী দিন ধার্য করেছেন।
এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা থাকলেও, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তা দাখিল করতে পারেনি।
এদিন ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক রুকনুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
এই ঘটনায়, ২০১৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে রক্ষিত বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব থেকে হ্যাকাররা ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি করে নেয়। ধারণা করা হয়, দেশের ভেতরে থাকা কোনও একটি চক্রের সহায়তায় ঐ অর্থপাচার সংঘটিত হয়।
এ ঘটনায় ২০১৬ সালের ১৫ মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড বাজেটিং ডিপার্টমেন্টের উপপরিচালক জোবায়ের বিন হুদা মতিঝিল থানায় অজ্ঞাতদের আসামি করে একটি মামলা করেন।
এটি দায়ের করা হয় মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে। একদিন পর, ১৬ মার্চ আদালত মামলাটির তদন্তভার সিআইডিকে দেন। তখন থেকেই মামলাটি তদন্ত করছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৪০১৫ পিস ইয়াবাসহ কুখ্যাত মাদক সম্রাট হিসেবে পরিচিত ২৬ মামলার আসামি মনির শেখ, যিনি ওরফে মনি শেখ নামে পরিচিত, সঙ্গে তার তিন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। গ্রেপ্তারের সময় ইয়াবা বিক্রির নগদ টাকা এবং মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে বাগেরহাটের পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মাদ নাছের রিকাবদার তার দপ্তরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য প্রদান করেন।
তিনি বলেন, বুধবার (১ জুলাই) রাত আনুমানিক সাড়ে ৩টায় ফকিরহাট মডেল থানার বারাশিয়া মধ্যপাড়া এলাকায় ডিবি পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন— আসামি মনির শেখ (৪৭), তার সহযোগী সবুজ মিয়া ওরফে সবুজ (৩০), হাফিজুর রহমান মোল্লা ওরফে হাফিজুল (৩৭) এবং তৌহিদুল ইসলাম ওরফে শেখ তামিম (২০)।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৪০১৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ইয়াবা বিক্রির নগদ ৭১ হাজার ৯২০ টাকা এবং তিনটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, এ ঘটনার পর ফকিরহাট মডেল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। গ্রেপ্তার করা মনির শেখের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে ২৬টি মামলা এবং একটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে।
পুলিশ সুপার জানান, গত সাত দিনে বাগেরহাট জেলার পরিচালিত ধারাবাহিক অভিযানে মোট ৪০ জন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জেলার মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং এটি আরও জোরদার করা হবে।
এদিকে, মাদক ব্যবসায়ীদের সম্পর্কে তথ্য দিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করার জন্য সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। তথ্যদাতার পরিচয় গোপন রাখা হবে বলেও প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ