১১:০০ পি.এম
রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে নিয়মিত পররাষ্ট্র দপ্তর পর্যায়ের পরামর্শ প্রক্রিয়া প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে ‘ফরেন অফিস কনসালটেশন (এফওসি)’ বিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ ও তাজিকিস্তান।
আজ ঢাকায় দুই দেশের মধ্যে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত পররাষ্ট্র দপ্তর পর্যায়ের পরামর্শ বৈঠকের আগে এ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করা হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব রাষ্ট্রদূত আসাদ আলম সিয়াম এবং তাজিকিস্তানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইদিবেক কালান্দার, এই দুই দেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন।
আরও পড়ুন: ‘আল্লাহর বাড়ি মানুষ যায় পবিত্র নিয়তে, ওখানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঠিক না’ হুমায়ুন কবিরের মন্তব্য
বৈঠকে উভয় পক্ষ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নতুনভাবে বিন্যস্ত ও সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করে এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে পারস্পরিক সফরের মাধ্যমে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা আরও জোরদারে সম্মত হয়। দুই দেশের আইনপ্রণেতাদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ বাড়াতে বাংলাদেশ-তাজিকিস্তান পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপ গঠনের বিষয়েও আলোচনা হয়।
বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দুই দেশ বেসরকারি খাতের মধ্যে যোগাযোগ ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের বিনিময় বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয়।
বাংলাদেশ তাজিক প্রতিনিধিদলকে তৈরি পোশাক (আরএমজি), পাট ও পাটজাত পণ্য এবং ওষুধ শিল্পে দেশের বৈশ্বিক সক্ষমতার কথা তুলে ধরে। একইসঙ্গে বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে (এসইজেড) বিনিয়োগের জন্য তাজিক বিনিয়োগকারীদের আহ্বান জানানো হয়।
এছাড়া বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বিষয়ে একটি যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন, দুই দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠনের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই এবং তাজিক ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের বাংলাদেশ সফরের প্রস্তাব দেয় ঢাকা।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
বৈঠকে খনিজ সম্পদ খাতে সহযোগিতার বিষয়েও আলোচনা হয়। এ সময় বাংলাদেশ তাজিকিস্তানের স্বর্ণ, অ্যালুমিনিয়াম, জিংক, তামা, সিসা ও রৌপ্যের মজুত এবং সংশ্লিষ্ট দক্ষতা থেকে উপকৃত হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে।
দুই দেশ শিক্ষা, ক্রীড়া, পর্যটন ও সংস্কৃতি খাতে সহযোগিতা এবং শিক্ষার্থী, তরুণ ও সাংস্কৃতিক দলের বিনিময়ের মাধ্যমে জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগ জোরদারের উপায় নিয়েও আলোচনা করে। তাজিকিস্তানে বাংলাদেশের দক্ষ ও অর্ধদক্ষ জনশক্তির কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়েও আগ্রহ প্রকাশ করা হয়।
বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা, সাংস্কৃতিক সহযোগিতা, কূটনৈতিক ও সরকারি পাসপোর্টধারীদের জন্য ভিসা অব্যাহতি, পর্যটন উন্নয়ন, দ্বৈত কর পরিহার, বিনিয়োগ সুরক্ষা ও প্রসার এবং শিল্প সহযোগিতা বিষয়ে কয়েকটি দ্বিপক্ষীয় দলিলের আলোচনা দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে একমত হয় দুই পক্ষ।
উভয় দেশ জাতিসংঘ ও ওআইসিসহ আঞ্চলিক ও বহুপক্ষীয় ফোরামে পারস্পরিক সমন্বয় ও সহযোগিতা জোরদারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।
আরও পড়ুন: ক্ষমা চাইলেন ‘পাপের লাশ বাংলাদেশে আসুক চাই না’ বলা এমপি রতন
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রার্থিতাকে সমর্থন দেওয়ায় তাজিকিস্তানকে ধন্যবাদ জানায় বাংলাদেশ।
আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পরিস্থিতি নিয়েও বৈঠকে মতবিনিময় হয়। দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলেও উভয় পক্ষ মত দেয়।
দুই পক্ষ প্রথমবারের মতো আয়োজিত পররাষ্ট্র দপ্তর পর্যায়ের পরামর্শ বৈঠককে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের একটি মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করে এবং এটিকে ভবিষ্যৎ সম্পৃক্ততার দৃঢ় ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে। পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে দুশানবেতে দ্বিতীয় দফা এফওসি আয়োজনেরও সিদ্ধান্ত হয়।
এফওসির পাশাপাশি বাংলাদেশ ও তাজিকিস্তানের কূটনৈতিক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যেও একটি পৃথক সমঝোতা স্মারক সই হয়। এতে ফরেন সার্ভিস একাডেমির রেক্টর রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ আব্দুল মুহিত এবং তাজিকিস্তানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইদিবেক কালান্দার স্বাক্ষর করেন।
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন