০১:৪১ পি.এম
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে নির্মাণ শ্রমিক নয়নী রাজবংশী নামে এক নারীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার পরে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, খুনি ওই নারীকে ধর্ষণ করেন।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মির্জাপুর থানার পুলিশ রবিউল (২৫) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে। শুক্রবার টাঙ্গাইল আদালতে রবিউলকে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন জানানো হলে, সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তিনি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
মির্জাপুর আমলী আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল মাজিস্ট্রেট সাগর তালুকদার তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করেছেন, বলেও নিশ্চিত করেছেন মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা, মির্জাপুর থানার উ-পপরিদর্শক (এসআই) ইসলাম। নয়নী রাজবংশী মির্জাপুর পৌর এলাকার আন্ধরা গ্রামের মরণ রাজবংশীর স্ত্রী।
আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার
পুলিশ সূত্র জানায়, নয়নী রাজবংশীর সঙ্গে জানু নামের রাজমিস্ত্রির এক সর্দারের পরকীয়া চলছিল। একদিন রবিউল এই অবৈধ সম্পর্কের দৃশ্য দেখে ফেলেন। রবিউল এবং নয়নী রাজবংশী একসঙ্গে ঢালাই কাজে হেলপার হিসেবে কাজ করতেন, ফলে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা বেড়ে ওঠে।
রবিউল মাঝে মাঝে নয়নী রাজবংশীর বাড়িতে যাতায়াত করতেন। বিষয়টি তার স্ত্রী মিম ভালোভাবে নেননি, ফলে সন্দেহ বেড়ে যায় এবং তাদের মধ্যে নিয়মিত বাগবিতণ্ডা হতে থাকে।
গত কোরবানির ঈদের আগের দিন রবিউলের স্ত্রী বাবার বাড়িতে চলে যান। পরে তিনি আর স্বামীর বাড়িতে ফেরেননি। এর ফলে রবিউল নয়নী রাজবংশীর ওপর ক্ষুব্ধ হন এবং সুযোগ খুঁজতে থাকেন। ২১ জুলাই (মঙ্গলবার) রাত ১১টার দিকে রবিউল নয়নীর বাড়িতে গিয়ে ঘুম থেকে ডেকে তুলে নয়নীকে পুষ্টকামুরী দক্ষিণপাড়ায় কাদের মিয়ার বাড়িতে নিয়ে দৈহিক মিলনের চেষ্টা চালান। নয়নী এতে বাধা দিলে রবিউল তার ওপর চড়ে বসে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন এবং পরে ধর্ষণ করেন। এরপর মৃতদেহ পাখির মতো ঝোপের মধ্যে ফেলে দেয় বলে তার স্বীকারোক্তিতে উল্লেখ রয়েছে। রবিউল এক ছেলে ও এক কন্যা সন্তানের জনক।
বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত নয়নী বাড়িতে না ফেরায়, তাঁর মেয়ে টুম্পা রাজবংশী (৩০) রবিউলকে আসামি করে থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। পরে পুলিশ তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে, নয়নীর সাথে তার অবৈধ সম্পর্ক রয়েছে এমন সন্দেহে রবিউলের স্ত্রী চলে যান। এই ক্ষোভে মহিলাকে ডেকে নিয়ে দৈহিক মিলনের চেষ্টা করেন রবিউল। নয়নী বাধা দেওয়ায় হত্যার পর কাদের মিয়ার বাড়ির পাশে লৌহজং নদীতে মরদেহ ফেলে দেন। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাত দেড়টায় তিনি পুলিশকে দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ নয়নী রাজবংশীর মরদেহ উদ্ধার করে।
আরও পড়ুন: ধামরাইয়ে দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় প্রশাসনের তৎপরতা: বিভাগীয় কমিশনার
মির্জাপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রাশেদ ফজল এবং তদন্তকারী কর্মকর্তা মির্জাপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ইসলাম জানান, রবিউল নয়নীকে হত্যার পর ধর্ষণের কথা মির্জাপুর আমলী আদালতের বিচারক সাগর তালুকদারের কাছে ১৬৪ ধারায় স্বীকার করেছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন