ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক চলছে


বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক চলছে

বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সভা শুরু হয়ে গেছে। রাজধানী গুলশানের বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এই সভা অব্যাহত রয়েছে।

শনিবার (১১ জুলাই) সন্ধ্যার পর থেকেই সভাটি শুরু হয়। দলীয় সূত্রের মাধ্যমে এ তথ্যটি জানা গেছে।

সভায় সভাপতিত্ব করছেন বিএনপি চেয়ারম্যান এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

সর্বশেষ ১৭ মে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এর পূর্বে দলটি গত ৪ এপ্রিল বৈঠক করেছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে দুই সিটির ‘মহাপরিকল্পনা’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ১১ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৮:৪৫ পি.এম


ঢাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে দুই সিটির ‘মহাপরিকল্পনা’

প্রতি বছর বর্ষার সময়, রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন সড়ক এবং অলিগলি পানিতে তলিয়ে যায়। বছরের পর বছর শান্তভাবে বিচ্ছিন্ন উন্নয়নের প্রকল্পে শত শত কোটি টাকা ব্যয় করার পরেও জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান হয়নি। সেই অবস্থার পরিবর্তন করতে এবার সমন্বিত মহাপরিকল্পনা (মাস্টারপ্ল্যান) তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন।

সরকারি গবেষণা সংস্থা ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিং (আইডব্লিউএম) এবং বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতায় প্রণীত এই পরিকল্পনায় ড্রেনেজ নেটওয়ার্ক, খাল, আউটলেট, পাম্পিং স্টেশনসহ পুরো পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাকে একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে রাজধানীর জলাবদ্ধতা নিরসনের একটি দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পথ তৈরি হবে বলে সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা।

জানা গেছে, ঢাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে ইতোমধ্যে সরকারি গবেষণা সংস্থা আইডব্লিউএম-এর সহায়তায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) কাজ শুরু করেছে। একইভাবে, ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের সহায়তায় এই উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)।

দক্ষিণ সিটি করপোরেশন জানিয়েছে, প্রথম ধাপে তাদের পাঁচটি অঞ্চলের জন্য মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ের কাজ চলছে। পরে বাকি পাঁচটি অঞ্চলকে এর আওতায় আনা হবে। পরিকল্পনায় ড্রেনেজ লাইন, আউটলেট, খাল এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নের পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা থাকবে। এর ভিত্তিতেই প্রকল্পের পরিধি, অগ্রাধিকার, কর্মপদ্ধতি ও বাস্তবায়নের সময়সীমাসহ অন্যান্য সবকিছু নির্ধারণ করে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

মহাপরিকল্পনা তৈরির বিষয়টি নিশ্চিত করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান বলেন, ‘জলাবদ্ধতা নিরসনে ডিএসসিসির পুরো এলাকার মাস্টারপ্ল্যানের কাজ শুরু হয়েছে। প্রথম ধাপে ঘনবসতিপূর্ণ ও জলাবদ্ধতাপ্রবণ ৫টি অঞ্চলের কাজ আগে করা হচ্ছে। আশা করছি, মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী কাজ শুরু হলে জলাবদ্ধতার একটি স্থায়ী সমাধান করা সম্ভব হবে।’

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) একই ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে। ডিএনসিসির অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী খন্দকার মাহবুব আলম বলেন, ‘মাস্টারপ্ল্যানের একটা প্রকল্প আমাদেরও নেওয়া হয়েছে। তবে ডিটেইলটা আমি বলতে পারব না।’

ডিএনসিসির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. ফরহাদ বলেন, ‘আমাদের ইনিশিয়েটিভটা ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের সঙ্গে। ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের একটি প্রজেক্টে বিষয়টি ইনক্লুড করা হয়েছে। শিগগিরই কাজটি শুরু করবে।’

২০২১ সালের আগে রাজধানীর জলাবদ্ধতা নিরসনের দায়িত্ব ছিল ঢাকা ওয়াসার হাতে। ২০১৫ সালে সংস্থাটি একটি ড্রেনেজ মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করেছিল। কিন্তু পরে খাল ও ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তর হওয়ায় ওয়াসার মাস্টারপ্লান কার্যকর হয়নি। এরপর প্রায় পাঁচ বছর নতুন কোনো মহাপরিকল্পনা ছাড়াই দুই সিটি করপোরেশন বিচ্ছিন্নভাবে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। এতে বিপুল অর্থ ব্যয় হলেও জলাবদ্ধতা কমেনি। বরং অনেক এলাকায় পরিস্থিতি আরো জটিল হয়েছে।

এবার সেই সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসতে চায় ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন। এ কারণে বৃহৎ প্রকল্প গ্রহণের আগে মাস্টারপ্ল্যান তৈরির গুরুত্ব দিয়েছে তারা। ঢাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন নগর পরিকল্পনাবিদরা। তাদের মতে, শুধু পরিকল্পনা করলেই হবে না, সেটি কঠোরভাবে অনুসরণ করে বাস্তবায়নও নিশ্চিত করতে হবে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, ‘রাজধানীর জলাবদ্ধতা সমস্যা যে জটিল আকার ধারণ করেছে, এটি নিরসনে সমন্বিত প্ল্যান (মাস্টারপ্ল্যান) সবার আগে জরুরি।’

‘তবে এটি মাস্টারপ্ল্যান কিনা জানি না। মাস্টারপ্ল্যান ছাড়া বিচ্ছিন্নভাবেই যত প্রকল্প বা অর্থই খরচ করুক, তাতে কোনো কাজে দেবে না। বরং ভবিষ্যতে অপরিকল্পিত কাজগুলো আরও সংকট তৈরি করবে। যার প্রমাণ বর্তমান অবস্থা… (কোটি কোটি টাকা খরচের পরও জলাবদ্ধতা প্রকটই হচ্ছে)।’

জলাবদ্ধতা নিরসনে মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নে সম্প্রতি ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিং (আইডব্লিউএম)-এর সঙ্গে চুক্তি করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীন পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ট্রাস্টি এই গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি গাণিতিক মডেলিং ও আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে বন্যা ব্যবস্থাপনা, নদী প্রকৌশল, উপকূলীয় সুরক্ষা এবং পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা ও পরিকল্পনা করে আসছে।

শুধু তা-ই নয়, সিটি করপোরেশন, ওয়াসাসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের পানি সরবরাহ ও ড্রেনেজ-সংক্রান্ত বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা রয়েছে আইডব্লিউএমের। এ অভিজ্ঞতার কারণে জলাবদ্ধতা নিরসনের মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সংস্থাটিকে।

আইডব্লিউএমের প্রধান কর্মকর্তা ও নির্বাহী পরিচালক মো. আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে ডিটেইল জানি না। এটুকু জানি যে, ঢাকা সাউথ (দক্ষিণ) সিটি করপোরেশনের সঙ্গে আমাদের একটা অ্যাগ্রিমেন্ট হয়েছে। বিস্তারিত জানার জন্য আমাদের সংশ্লিষ্ট ডিরেক্টর বা সিটি করপোরেশনের রেসপন্সিবল পারসনদের সঙ্গে কথা বলতে পারেন।’

আইডব্লিউএমের পানি সরবরাহ, স্যানিটেশন ও নগর পানি ব্যবস্থাপনা বিভাগের (ডব্লিউএসইউ) পরিচালক তন্ময় চাকি বলেন, ‘আমরা মাত্র কাজ শুরু করেছি। এখনো আমরা ইনিশিয়াল পর্যায়ে আছি। আমাদের এক্সপার্টরা কাজ করছেন। বিস্তারিত বলা এখন কঠিন।’

তন্ময় চাকি আরো বলেন, ‘এটা বিভিন্ন অঞ্চল ধরে করা হচ্ছে। জলাবদ্ধতার সমস্যাগুলো কী, কীভাবে সমাধান করতে পারি- সেগুলো নিয়ে কাজ করছি।’

ডিএসসিসি প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান বলেন, ‘আইডব্লিউএমের কাছে প্রচুর ডাটা (উপাত্ত) আছে। বাংলাদেশের সব জায়গার ওয়াটার সেক্টর নিয়ে কাজ করছে তারা। অতীতের সব ডাটা তাদের কাছে রয়েছে। তাই তারাই সবচেয়ে ভালো মাস্টারপ্ল্যান করতে পারবেন। এই কারণেই জলাবদ্ধতা নিরসনে তাদের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে।’

ডিএসসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মো. মাহাবুবুর রহমান তালুকদার বলেন, ‘জলাবদ্ধতার প্রধান কারণ বৃষ্টির পানি (শহরের) বাইরে যাওয়ার পর্যাপ্ত পথ নেই। এই পথ তৈরি করাসহ অন্যান্য বিষয়গুলো সমাধানের জন্য আইডব্লিউএমকে কনসালটেন্ট হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে।’

ডিএসসিসি বলছে, জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রথমত জরিপ চালাচ্ছে আইডব্লিউএম। এই জরিপে কোন এলাকার কোথায় কী সমস্যা আছে, সেগুলো বের করা হচ্ছে। সে অনুযায়ী প্রাথমিক প্রতিবেদনও সিটি করপোরেশনকে দিচ্ছে তারা। পরবর্তীতে ডিপিপি (ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রপোজাল) করে দেবে।

ডিএসসিসি প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান বলেন, ‘মাস্টারপ্ল্যানের প্রধান কাজ হবে- ড্রেনেজ সিস্টেমের কানেক্টিভিটি তৈরি করা, যেন পানি জমে না গিয়ে শহরের বাইরে বেরিয়ে যায়। যেমন ধরুন- কাকরাইল থেকে মৎস্য ভবন এলাকার ড্রেনের কোনো কানেক্টিভিটি নাই, এখানকার কানেক্টিভিটি তৈরি করা। ধরুন- নিউমার্কেট এলাকা, সেখানে মারাত্মক আকারের জলাবদ্ধতা হয়। সেখানে একটা আউটলেট করে আদি বুড়িগঙ্গায় পানি ফেলার ব্যবস্থা করা। তারপর ধরুন- বকশীবাজার বা গুলিস্তান এলাকার পানি সুয়ারিঘাট দিয়ে বুড়িগঙ্গায় ফেলতে একটা পথ তৈরি করা। মাস্টারপ্ল্যানে এরকম বেসিক কাজগুলো হবে। এর আওতায় আমাদের কতগুলো আউটলেট দরকার, এই কাজটাও চলছে।

‘ওই রকম স্টাডি করে আমাদের আপডেট করে দেবে আইডব্লিউএম। তারা একটা ডিপিপি করে দেবে এবং একটা ড্রেনেজ নেটওয়ার্ক করে দেবে। এই কাজগুলো তারা করবে।’

এক প্রশ্নের জবাবে, ডিএসসিসির প্রধান প্রকৌশলী বলেন, ‘আইডব্লিউএমের মাধ্যমে আমরা মাস্টারপ্ল্যানই করছি। এ কারণেই তারা ফিল্ড স্টাডি করছে। একটা মহাপরিকল্পনা বা মাস্টারপ্ল্যানে সেভাবে ফিল্ড স্টাডি করা হয়, এখানেও সেভাবেই ফিল্ড স্টাডি করা হচ্ছে। যেমন ধরুন- একটি ড্রেনেজ লাইন তিন কিলোমিটার। এখন ফিল্ড স্টাডি করে যদি শর্ট ডিসিশন দিতে পারে যে- এই পানিটা কোথায় চলে যাবে এবং সবচেয়ে কম খরচে হয়ে যাবে- এটাই তো মাস্টারপ্ল্যানের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এই কাজগুলোই তারা (আইডব্লিউএম) করে দেবে।’

গুলিস্তান থেকে সদরঘাট এবং শ্যামপুর খালের পানি বুড়িগঙ্গা নদীতে নিষ্কাশনে নতুন দুটি আউটলেট নির্মাণের যে কথা ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম বলছেন, সেগুলো নতুন মাস্টারপ্ল্যানের অধীনেই কাজ চলছে বলেও ডিএসসিসি সূত্র জানায়।

সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কাজ করা আইডব্লিউএমের একাধিক জ্যেষ্ঠ বিশেষজ্ঞ জানিয়েছেন, তারা মূলত প্রথমে জরিপের কাজ করেন। সমস্যার প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করেন। এরপর সমাধানে করণীয় নির্ধারণ করেন। এবং সেগুলোর ডিজাইন তৈরি করেন।

ডিএসসিসির পাঁচটি অঞ্চলে মাঠপর্যায়ের জরিপ করেছে ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিং (আইডব্লিউএম)। এরই মধ্যে সংস্থাটি প্রাথমিক প্রতিবেদন (ইনসেপশন রিপোর্ট) জমা দিয়েছে এবং একটি উপস্থাপনাও করেছে। ওই প্রতিবেদনে রাজধানীর ড্রেনেজ ব্যবস্থার উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

জরিপে দেখা গেছে, মাঠপর্যায়ে পরিদর্শন করা ৫৭টি সুইচ গেটের মধ্যে ৪০টিই অচল। কুতুবখালি খাল এলাকায় প্রায় সব ড্রেনেজ লাইনে বর্জ্য জমে পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাবকে এর অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

এছাড়া ডিএসসিসি এলাকায় পানি নিষ্কাশনে বর্তমানে দুটি আউটলেট আছে। এগুলোর পাম্পিং স্টেশন কমলাপুর টিটি পাড়া ও ধোলাইখাল এলাকায়।

ডিএসসিসি জানায়, আইডব্লিউএমের প্রাথমিক জরিপে এই দুই আউটলেট ও পাম্পিং স্টেশন যথেষ্ট নয় বলে জানিয়েছে। এগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি খালগুলোরও জরুরি সংস্কারের সুপারিশ করা হয়েছে আইডব্লিউএম। সংস্থাটির পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, ময়লা-আবর্জনায় অধিকাংশ খালের পানিপ্রবাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

ডিএসসিসির প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান বলেন, ‘এখন পর্যন্ত ইনিশিয়ালি যেগুলো করেছে, তার একটা প্রেজেন্টেশন আমাদের দিয়েছে আইডব্লিউএম। অন্যান্য এলাকাও স্টাডি করে তারা আমাদের ইনসেপশন রিপোর্ট দেবে। সার্ভে রিপোর্টও দেবে, এরপর ফাইনাল রিপোর্ট দেবে। ডিপিপিও করে দেবে।’

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) পরিকল্পনা ছিল একযোগে ১০টি অঞ্চলের জলাবদ্ধতা নিরসনে মহাপরিকল্পনা (মাস্টারপ্ল্যান) প্রণয়ন শুরু করার। এ জন্য প্রায় ৮ কোটি টাকার বাজেটও নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে অর্থসংকটের কারণে আপাতত প্রথম ধাপে পাঁচটি অঞ্চলের কাজ শুরু হয়েছে। এছাড়া বাকি পাঁচটি অঞ্চলের মাস্টারপ্ল্যান দ্বিতীয় ধাপে প্রণয়ন করা হবে।

ডিএসসিসির প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান বলেন, ‘পুরাতন ৫টা ও নতুন ৫টা অঞ্চল নিয়েই এটা (মাস্টারপ্ল্যান) করার পরিকল্পনা ছিল। পরে দেখি আমাদের টাকার সমস্যা। ফান্ডে টাকা নাই। এটা নিজস্ব অর্থায়নে করতে হচ্ছে।’

আজিজুর রহমান বলেন, ‘ওনাদের (আইডব্লিউএম) বলেছি- ১ থেকে ৫ অঞ্চল ঘনবসতি এলাকা। এখানকার ড্রেনেজ ব্যবস্থা খুব খারাপ, জলাবদ্ধতাও বেশি হয়। এগুলো আগে করে দেন। কারণ নতুন এলাকাগুলো এখনো ফাঁকা আছে, জলাবদ্ধতাও কিছুটা কম। তাই আপাতত পুরাতন ৫টা (অঞ্চল) করছি। পরে নতুন ৫টা (অঞ্চল) করব।’

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) জানায়, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ‘মেট্রো ঢাকা ওয়াটার সিকিউরিটি অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স প্রোগ্রাম’ নামে একটি বৃহৎ প্রকল্প হাতে নিয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। ৩ হাজার ৮০০ কোটি টাকার প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন এবং ঢাকা ওয়াসা।

প্রকল্পটির প্রধান লক্ষ্য ঢাকা ও আশপাশের পানি দূষণ কমানো। পাশাপাশি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নত করা এবং নিরাপদ পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার বিষয়গুলোও এই প্রকল্পে যুক্ত। এই প্রকল্পের অধীনেই মাস্টারপ্ল্যান করবে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন।

ডিএনসিসির জন্য প্রকল্পে ৯০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হচ্ছে। প্রকল্পটি শিগগিরই একনেকে উঠবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

জানতে চাইলে ডিএনসিসির সিভিল সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) ফারুক হাসান মো. আল মাসুদ বলেন, ‘এই প্রজেক্টের অধীনে আমরা ড্রেনেজ মাস্টারপ্ল্যান নিয়ে কাজ করব। পূর্বের প্ল্যান রিভিউ হবে, আপডেট হবে। প্রয়োজনীয় বিষয় সংযোজন হবে। ফাইনালি নতুন মাস্টারপ্ল্যানে রূপ নেবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ওয়াসার মাস্টারপ্ল্যানে অনেক খাল মিসিং ছিল। এগুলো নতুন মাস্টারপ্ল্যানে যুক্ত করা হবে। ড্রেনেজ সিস্টেমে যেখানে যা যা প্রয়োজন, সবই নতুন মাস্টারপ্ল্যানে অন্তর্ভুক্ত হবে।’

এক প্রশ্নের জবাবে ফারুক হাসান বলেন, ‘ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এই প্রজেক্টে যুক্ত হলেও এর অধীনে মাস্টারপ্ল্যানের কাজ করছে না। প্রকল্পের আওতায় আমারই (উত্তর সিটি) মাস্টারপ্ল্যানের কাজ করব।’

প্রকল্পের বাস্তবায়ন কাঠামো সম্পর্কে ডিএনসিসির এই প্রকৌশলী বলেন, ‘এই প্রজেক্টে একেকজনের একেকটা কাজ করবে। এটা পিডি হবেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের আর ডিপিডি হবে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো থেকে। কাজ বাস্তবায়ন যে যার মতো কাজ করবে। এখানে চারটি প্রতিষ্ঠানের আলাদা আলাদা অনেক বিষয় আছে। এভাবেই প্রকল্পের ডিজাইন করা।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মিশরের বন্দরে আটকে দেওয়া হলো এলজিবিটিকিউ+ ক্রুজ জাহাজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ১১ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৮:৪৭ পি.এম


মিশরের বন্দরে আটকে দেওয়া হলো এলজিবিটিকিউ+ ক্রুজ জাহাজ

তুরস্কের পর এবার মিশরও এলজিবিটিকিউ+ পর্যটকদের বহনকারী একটি প্রমোদতরীকে নিজেদের জলসীমায় প্রবেশের অনুমতি দেয়নি। ফলে জাহাজটির জন্য নির্ধারিত আলেকজান্দ্রিয়া সফর বাতিল করতে হয়েছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ভার্জিন ভয়েজেসের স্কারলেট লেডি নামের জাহাজটিতে উপস্থিত ছিল প্রায় দুই হাজার যাত্রী। তাদের মধ্যে ব্রডওয়ের খ্যাতনামা শিল্পী প্যাটি লুপোনও রয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) সকালে যাত্রীরা কেবিনে দেওয়া এক নোটিশে জানতে পারেন, মিশরের অনুমতি না পাওয়ায় বিকল্প বন্দরের খোঁজ করা হচ্ছে।

আটলান্টিস ইভেন্টসের প্রধান নির্বাহী রিচ ক্যাম্পবেল যাত্রীদের উদ্দেশে দেওয়া বার্তায় বলেছেন, মিশরের জলসীমায় প্রবেশের অনুমতি না পাওয়ায় আলেকজান্দ্রিয়ায় নোঙরের পরিকল্পনা বাতিল করা হয়েছে। গত বছর একই রুটে কোনো সমস্যা ছাড়াই ভ্রমণ করা গেলেও এবার এই সিদ্ধান্তে তারা বিস্মিত হয়েছেন।

তিনি আরও জানান, আলেকজান্দ্রিয়ায় যাত্রাবিরতির ব্যবস্থা করতে অ্যাটলান্টিস ইভেন্টস ও ভার্জিন ভয়েজেস সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে। কিন্তু মিশরের এই সিদ্ধান্ত সকলের জন্য অপ্রত্যাশিত ছিল।

আলেকজান্দ্রিয়া সফরটি মূল পরিকল্পনায় ছিল না। তুরস্ক জাহাজটিকে প্রবেশের অনুমতি না দেওয়ায় শেষ মুহূর্তে মিশরকে বিকল্প গন্তব্য হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে মিশর সরকার কেন অনুমতি দেয়নি, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি।

এর আগে ১০ দিনের এথেন্স-ভেনিস ভ্রমণের অংশ হিসেবে জাহাজটি তুরস্কে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দেশটির স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানায় যে, জাহাজটি এমন একটি গোষ্ঠীর জন্য ভাড়া করা হয়েছে, যাদের আচরণ তুর্কি সমাজের নৈতিক মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এ কারণে জনমনে উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় জাহাজটির সফর বাতিল করা হয়েছে।

জাহাজে থাকা যাত্রী র্যান্ডি স্লোভাচেক নিজের ব্লগে লেখেন, ৩৬ বছরের ইতিহাসে এটি প্রথম যে অ্যাটলান্টিস ইভেন্টসের কোনো জাহাজকে কোনো দেশে নোঙর করতে দেওয়া হলো না। আর এক সপ্তাহের মধ্যে এমন দুটি দেশে ঘটনা ঘটেছে। তিনি লেখেন, ‘তারা যদি আমাদের পর্যটন না চায়, তাহলে আমরা অন্য কোথাও যাব এবং আমাদের অর্থও সেখানেই ব্যয় করব।’

এলজিবিটিকিউ+ ভ্রমণ প্রতিষ্ঠান হারমিস হলিডেজের মালিক কাইল ওলসেনের মতে, তুরস্কের সিদ্ধান্তের পর মিশরও একই পথ অনুসরণ করেছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, ভবিষ্যতে অন্যান্য দেশগুলোও একই ধরনের পদক্ষেপ নিতে পারে।

ওলসেন বলেন, সরকারগুলোর অবস্থান সব সময় ওই দেশের সাধারণ মানুষের মনোভাবের প্রতিফলন নয়। অতীতে বহুবার তুরস্ক ও মিশরে ভ্রমণ করে তারা স্থানীয় মানুষের কাছ থেকে আন্তরিকতা ও উষ্ণ অভ্যর্থনা পেয়েছেন।

তিনি জানান, আলেকজান্দ্রিয়া সফরটি যাত্রীদের জন্য এই ভ্রমণের অন্যতম আকর্ষণ ছিল। অনেকেই ব্যক্তিগতভাবে পিরামিড ও জাদুঘর ঘুরে দেখার জন্য আগাম অর্থ ব্যয় করেছিলেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে সেই পরিকল্পনা ভেস্তে গেছে।

দুই দফা রুট পরিবর্তনের পর এখন জাহাজটি আজ শুক্রবার (১১ জুলাই) গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের খানিয়া বন্দরে নোঙর করবে এবং রোববার মন্টেনেগ্রোতে রওনা দেবে।

আটলান্টিস ইভেন্টসের প্রধান নির্বাহী রিচ ক্যাম্পবেল সিএনএনকে বলেন, তুরস্কের সিদ্ধান্ত ছিল বিস্ময়কর। তার মতে, ‘মূল কারণ ছিল এটি সমকামীদের একটি ভ্রমণ দল।’

তিনি জানান, গত ২৫ বছরে অন্তত ১৩ বার অ্যাটলান্টিস ইভেন্টস তুরস্কে ক্রুজ পরিচালনা করেছে এবং আগে কখনো এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়নি। এমনকি তুরস্কে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের হস্তক্ষেপেও সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে ৭৭ বছর বয়সি টনি অ্যাওয়ার্ডজয়ী শিল্পী প্যাটি লুপোন ইনস্টাগ্রামে নিজের হতাশা প্রকাশ করে লিখেছেন, ‘শুধু জাহাজে কারা আছেন, সেই কারণেই তুরস্ক আমাদের প্রবেশ করতে দেয়নি। আমি ক্ষুব্ধ। তবে আমরা অন্য বন্দরে যাব এবং যাত্রীদের জন্য নির্ধারিত অনুষ্ঠান করব।’

তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নকল করতে না দেওয়ায় এইচএসসি পরীক্ষাকেন্দ্রে হামলা-ভাঙচুর, আহত ১০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১১ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৮:৪৮ পি.এম


নকল করতে না দেওয়ায় এইচএসসি পরীক্ষাকেন্দ্রে হামলা-ভাঙচুর, আহত ১০

ভোলার চরফ্যাশনে এইচএসসি পরীক্ষায় নকল করতে না দেয়াকে কেন্দ্র করে একটি পরীক্ষা কেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে পরীক্ষার্থীরা। এই ঘটনায় শিক্ষক, কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি ও অন্যদের মধ্যে অন্তত ১০ জন আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য পুলিশ লাঠিচার্জ করার পাশাপাশি দুই রাউন্ড টিয়ারশেলও নিক্ষেপ করে। শনিবার (১১ জুলাই) দুপুর সোয়া ১টার দিকে উপজেলার ফাতেমা মতিন মহিলা মহাবিদ্যালয় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।

কলেজ কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সূত্র জানাচ্ছে, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ের পরীক্ষার পর পরীক্ষার্থীরা কেন্দ্রের বাহিরে প্রধান ফটকে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এক পর্যায়ে তারা ফটক ভেঙে ক্যাম্পাসে প্রবেশের চেষ্টা করেন। এতে ব্যর্থ হয়ে, পরবর্তীতে তারা পেছনের একটি ফটক ভেঙে এবং দেয়াল টপকে ক্যাম্পাসে ঢুকে অধ্যক্ষের কক্ষসহ বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর চালান। সেই সময় তারা পরীক্ষার উত্তরপত্রও ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেন। শিক্ষকদের বাধা দিতে গেলে, তাদের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়।

ফাতেমা মতিন মহিলা মহাবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. মহিউদ্দিন বাচ্চু জানান, কেন্দ্রে ৯০০ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৮৮৪ জন পরীক্ষায় অংশ নেন, যারা সবাই চরফ্যাশন সরকারি কলেজের ছাত্র।

এমসিকিউ পরীক্ষার সময় কিছু পরীক্ষার্থী অসদুপায় অবলম্বনের চেষ্টা করলে, কক্ষ পরিদর্শকরা বাধা দেন। এ কারণে তারা শিক্ষকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন। পরে পরিস্থিতি বিবেচনায় উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ ও শিক্ষা বোর্ডকে অবহিত করা হয় এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

তিনি আরও জানান, পরীক্ষা শেষে কিছু পরীক্ষার্থী সংঘবদ্ধ হয়ে কলেজে হামলা চালান। হামলার ফলে কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি হুমায়ুন কবির সিকদারসহ বেশকিছু শিক্ষক আহত হন। হামলাকারীদের ছোড়া ইটপাটকেলেও কয়েকজন পথচারী আহত হন। আহত শিক্ষকরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

অন্যদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কিছু পরীক্ষার্থী অভিযোগ করছেন, চরফ্যাশন সরকারি কলেজ ও ফাতেমা মতিন মহিলা মহাবিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে পূর্ব থেকেই বিরোধ রয়েছে। সেই বিরোধের প্রভাব পরীক্ষার্থীদের ওপর পড়েছে। তাদের দাবি, কক্ষ পরিদর্শকের দায়িত্বে থাকা কিছু শিক্ষক পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এছাড়াও, পুলিশের লাঠিচার্জ ও টিয়ারশেলে ১০ থেকে ১৫ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলেও তারা জানান।

চরফ্যাশন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহমুদ আল ফরিদ ভূঁইয়া জানিয়েছেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। যদি পরিস্থিতি অবনতির দিকে যায়, তবে দুই রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করা হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। যদি অভিযোগ পাওয়া যায়, তাহলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

ভোলার জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান বলেন, ‘পরীক্ষার হলে অসদুপায় অবলম্বন করতে না দেয়ায় চরফ্যাশনের ফাতেমা মতিন মহিলা কলেজ কেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্র সচিবসহ অন্যদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এছাড়াও কেন্দ্রের সিসি টিভির ফুটেজ সংগ্রহ করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফরিদপুরে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা, বাসের চাপায় নিহত ৫

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১১ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৮:৫২ পি.এম


ফরিদপুরে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা, বাসের চাপায় নিহত ৫

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় যাত্রীবাহী একটি বাসের চাপায় ৫ জন নিহত হয়েছেন।

শনিবার (১১ জুলাই) রাত পৌনে ৮টার দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের ভাঙ্গা উপজেলার সোয়াদী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আলিম সময় সংবাদকে জানান, তাৎক্ষণিকভাবে ৫ জনের মৃত্যুর খবর পেলেও, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় সম্পর্কে এখনও জানা যায়নি।

তিনি আরও জানান, একটি মুরগিবোঝাই পিকআপ ভ্যানের সাথে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। সংঘর্ষের মাধ্যমে ঘটনাস্থলেই পাঁচজনের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনাটির পর পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করেছে।

আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার কাজ চলমান রয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ এবং নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় সম্পর্কে জানার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান আব্দুল আলিম।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%