১২:৩৭ পি.এম
বান্দরবান জেলার সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি নেমে যাওয়ার ফলে পুনরায় ভেসে উঠেছে ক্ষতচিহ্ণ। আশ্রয় কেন্দ্র ও নিরাপদ স্থানে অবস্থান করা বন্যাকবলিত মানুষেরা তাদের নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে আসা শুরু করেছেন। কিন্তু কাদামাটি, ক্ষতিগ্রস্ত কাঁচা ঘরবাড়ি এবং প্রয়োজনীয় সামগ্রী নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণে তাদের চরম দুর্ভোগ ভোগ করতে হচ্ছে। এখনও অনেক জায়গায় কাদামাটি জমাট হয়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে এবং অবোরোধী সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক না হওয়ার কারণে দুর্গত অঞ্চলে জনগণের দুর্ভোগ বেড়ে চলেছে।
এদিকে, সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক রাখতে সেনাবাহিনী নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তারা ঝুঁকিপূর্ণ সড়কগুলোতে জমে থাকা মাটি ও উপড়ে পড়া গাছপালা অপসারণ করছেন। রুমা, রোয়াংছড়ি, থানচি, আলীকদম সড়কে বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। ফলে জেলা সদরের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের ভোগান্তি বেড়ে গেছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা দ্রুত স্বাভাবিক রাখতে সেনাসদস্যরা স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে স্বেচ্ছায় উদ্ধার ও অপসারণ কার্যক্রম পরিচালনা করে চলেছেন।
টানা অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল এবং পাহাড় ধসের কারণে ভয়াবহ দুর্যোগ পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে। বান্দরবানে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন প্রায় ১০জন। এছাড়া, বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ায় প্রায় অর্ধ-লক্ষাধিক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
বান্দরবানের জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ৮ হাজার ৫শত পরিবার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই দুর্যোগে বান্দরবানে ৬ জন মারা যাওয়ার খবর রয়েছে। লামায় পাহাড় ধসে ৫ জন এবং বাইশারী পানিতে ভেসে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। জেলার ২৬টি পয়েন্টে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। পুরো জেলায় ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৬ হাজার ২শত ৫০ জন আশ্রয় নিয়েছেন, আর পানিবন্দী হয়েছে প্রায় ৮ হাজার ৫শত পরিবার। জেলা প্রশাসন ইতোমধ্যে বন্যার্তদের জন্য নগদ ৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা অনুদান প্রদান করেছে বলে জানা গেছে।
প্রসঙ্গত, বান্দরবানের সাঙ্গু-মাতামুহুরী নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় গেল এক সপ্তাহ ধরে জেলার সাতটি উপজেলা, দুইটি পৌরসভা এবং ৩৪টি ইউনিয়নের প্রায় অর্ধ-লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। জেলা শহরের নিম্নাঞ্চলসহ নদী তীরবর্তী বসতবাড়িগুলো পানিতে ডুবে গেছে। পাহাড় ধসের কারণে বান্দরবানের সঙ্গে সারাদেশের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন