০৩:৩৬ এম
ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে মো. সিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ পাওয়া গেছে যে, রুমা বেগম নামের একজন নারীর কাছ থেকে এই টাকা নেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রধান সহকারী মো. সিরাজুল ইসলাম। তিনি জানিয়েছেন যে, তদন্ত হলে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে বলা হয়েছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ২৫ জন জনবল নিয়োগের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। টাঙ্গাইলের মেসার্স এইচ আর কে জনবল সরবরাহের দায়িত্ব পেয়েছে।
সরকারি নথি অনুযায়ী, নিয়োগ কার্যক্রম ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়ার কথা। অভিযোগকারী রুমা বেগম বলেছেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালে আয়ার কাজ করে আসছেন এবং নতুন নিয়োগের খবর পেয়ে এক্স-রে বিভাগের টেকনোলজিস্ট দিলীপ কুমারের সহযোগিতা চান। তাঁর অভিযোগ, পরে প্রধান সহকারী মো. সিরাজুল ইসলামের কাছে বিষয়টি যায়। প্রথমে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হলে পরে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকার জন্য তারা সমঝোতা করেন। গত জুন মাসে তিনি জেলা ঝালকাঠির মোরশেদ মেডিকেল সেন্টারে ওই টাকা সিরাজুল ইসলামের হাতে দিয়েছেন। তিনি দাবী করেন যে, টাকা লেনদেনের প্রমাণ মোরশেদ মেডিকেল সেন্টারের সিসিটিভি ফুটেজে পাওয়া যাবে। এই বিষয়ে তাঁর একটি ভিডিও বক্তব্যও আজকের পত্রিকার ব্যবহারে রয়েছে। তবে ১ জুলাই নিয়োগপ্রাপ্ত ২৫ জনের তালিকায় রুমা বেগমের নাম পাওয়া যায়নি। অনুসন্ধানে জানা যায়, মো. সিরাজুল ইসলাম সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রধান সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি মোরশেদ মেডিকেল সেন্টারে খণ্ডকালীন জেনারেল ম্যানেজারের দায়িত্বও রেখেছেন। দিলীপ কুমার জানিয়েছেন, ‘আমি কোনো অর্থলেনদেনে জড়িত নই।
মানবিক কারণে রুমা বেগমকে সহায়তা করতাম। চাকরির বিষয়টি সিরাজুল ভাইকে জানিয়েছিলাম মাত্র।’ ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মাসুম ইফতেখার বলেন, জনবল নিয়োগ সম্পূর্ণ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে হয়, এবং হাসপাতালের কেউ যদি অনিয়মে জড়িত থাকে তবে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সিভিল সার্জন মোহাম্মদ হুমায়ূন কবীর বলেন, আউটসোর্সিং নিয়োগে সিভিল সার্জন কার্যালয় বা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সম্পৃক্ততার সুযোগ নেই। যদিও অভিযোগ প্রমাণিত হলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রধান সহকারী মো. সিরাজুল ইসলাম অভিযোগটিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন।
আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার
তিনি জানান, চাকরি দেওয়ার নামে কারও কাছ থেকে কোনো টাকা নেওয়া হয়েছে এমন কোনও বিষয় নেই। জনবল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স এইচ আর কের স্বত্বাধিকারী হামিদুর রহমান তুহিনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) এর সভাপতি সত্যবান সেনগুপ্ত আজকের পত্রিকাকে বলেছেন, নিয়োগকে কেন্দ্র করে অর্থলেনদেনের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত। প্রমাণ মিললে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও তিনি প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির নিশ্চয়তা প্রয়োজন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন