১২:১৮ এম
বরগুনার আমতলীতে গভীর রাতের ছায়ায় একটি মাজারে ঢুকে অপরাধীরা আগুন দিয়েছে। বিষয়টি টের পাওয়ার পর ভক্তদের ধাওয়া খেয়ে তারা পালিয়ে গেছে। শুক্রবার রাত ৩টার দিকে আমতলী পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত হজরত ইসমাইল শাহের (র.) মাজারে এই ঘটনা ঘটে। এ সময় কবরের ওপরে থাকা গিলাফটি পুড়ে গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানাচ্ছে, যে মাজারের কর্মকাণ্ডকে ইসলামবিরোধী আখ্যা দিয়ে ২০২৫ সালের ১৮ মার্চ রাতে সেখানে হামলা, ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগ করে অপরাধীরা। মাজারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, ইসলামী আন্দোলনের স্থানীয় কিছু নেতার নেতৃত্বে ওই হামলা সংঘটিত হয়েছিল।
গত শুক্রবার রাতের হামলার প্রত্যক্ষদর্শী মো. সেকান্দার আলী বয়াতি। তিনি মাজারের পাশেই বসবাস করেন। সেকান্দার আলী রাত ৩টার দিকে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ঘরের বাইরে বের হন। এসময় তিনি দেখেন, মাজারের উত্তর পাশের জানালা দিয়ে একদল অপরাধী ভেতরে গিলাফে আগুন ধরিয়ে দিতে যাচ্ছে। তখন তিনি চিৎকার শুরু করলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। প্রতিবেশী কয়েকজন এগিয়ে এলে তাদের নিয়ে তিনি আগুন নেভান। এর আগেই গিলাফের কিছু অংশ পুড়ে যায়।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
মাজারের খাদেম অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল বলেন, ‘খবর পেয়ে রাতেই মাজারে গিয়ে দেখি কবরের ওপরে ঢেকে দেয়া গিলাফের একটি অংশ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। কেরোসিন ঢেলে অগ্নিসংযোগের চেষ্টা করেছিল অপরাধীরা। মেঝেতে কেরোসিন ছড়িয়ে রাখার আলামত পাওয়া গেছে।’ তিনি বলেন, কারা এই অগ্নিসংযোগে জড়িত ছিল, তা তিনি জানেন না। থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
খাদেম আরও জানান, আমতলী পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডে ১৯৯৬ সালে হজরত ইসমাইল শাহের (র.) মাজার প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতি চৈত্র মাসের ২ ও ৩ তারিখে এখানে ওরস অনুষ্ঠিত হয়। এতে ভক্ত-অনুরাগী, দর্শনার্থীসহ বিপুল মানুষের সমাগম ঘটে।
আমতলী থানার ওসি মো. ইয়াকুব হোসাইন জানিয়েছেন, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্তে যাদের বিরুদ্ধে প্রমাণ পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধেই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন