০৫:৩৬ পি.এম
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় খদরে (বরের জন্য সাজানো খাবারের থালা) খাসি না থাকায় বিয়ে না করে চলে যাওয়ার ঘটনায় এবার নতুনভাবে পাল্টা অভিযোগ তুলেছেন জাপানপ্রবাসী বর জুনায়েদ মিয়া। কনেপক্ষের বিরুদ্ধে তিনি পূর্বনির্ধারিত কাবিনের চেয়ে ১০ গুণ বেশি কাবিন দাবি, যোগাযোগে বাধা এবং তাকে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেছেন। পাশাপাশি তিনি ঘটনাটি নিয়ে টাকা দিয়ে ‘ভুয়া সাংবাদিক’ ভাড়া করে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচারের অভিযোগও তুলেছেন।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকালে নিজের ফেসবুক আইডিতে এক পোস্টে এসব অভিযোগ প্রকাশ করেন তিনি।
জুনায়েদ মিয়া বলেন, সোমবার (১৭ আগস্ট) থেকে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ ধেয়ে আসছে। টাকা দিয়ে ভুয়া সাংবাদিক ভাড়া করে এসব বানানো হচ্ছে। তিনি জানান, বিয়ের আসরে বসে খাওয়া-দাওয়া শেষে মেয়েপক্ষ তার কাছে পূর্ব নির্ধারিত অ্যামাউন্টের চেয়ে ১০ গুণ অতিরিক্ত কাবিন দাবি করে। তিনি এবং তার পরিবার তা দিতে অস্বীকার করলে এবং কথোপকথন শুরু হলে তারা বিয়ের আসর থেকে তাদের বের করে দেয়। পরে তাদের সকল লাগেজ, যা তারা মেয়ের জন্য নিয়ে গিয়েছিল, সেটাও ফেরত পাঠানো হয়।
আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার
মেয়ের সঙ্গে তাকে কোনো রকম যোগাযোগ করতে দেওয়া হয়নি এবং বাবার নির্দেশে মেয়েটিকে যোগাযোগ থেকে নিরুত্সাহিত করা হয়েছে। রাতে তারা তার সঙ্গে যোগাযোগ করে বিয়ে করার জন্য বললেও তিনি রাজি হননি। এর ফলশ্রুতিতে তাকে হুমকি দেওয়া হয়েছে যে, জ-বা-ই করে দেওয়া হবে।
পরে তারা রাত থেকে টাকা দিয়ে ভাড়া করা সাংবাদিক দিয়ে নিজের ইচ্ছামত ভুয়া পোস্ট করিয়ে তার সম্মানহানির চেষ্টা চালাচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে, মানুষ এসব অভিযোগে বিচলিত হবে না। ধন্যবাদ।
তবে জুনায়েদের এসব অভিযোগের বিষয়ে কনেপক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
এর আগে সোমবার (১৭ আগস্ট) ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার ধরখার ইউনিয়নের তোলাতালা গ্রামে বিয়ে না করেই অনুষ্ঠান থেকে বর জুনায়েদ মিয়া চলে যান।
আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জাপানপ্রবাসী জুনায়েদ কসবা উপজেলার নিয়ামতপুর গ্রামের আব্দুল জলিলের ছেলে। যখন বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা উপলক্ষে কনের বাড়িতে পৌঁছালে, ফুল দিয়ে তাকে বরণ করা হয়। এ সময় তিনি ফুল নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং উপস্থিত লোকজনের সামনে বিরূপ মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরবর্তীতে ফুল ও গেটের আনুষ্ঠানিকতার পর তাকে নির্ধারিত স্থানে নেওয়া হয়। আত্মীয়-স্বজনদের খাওয়া-দাওয়া শেষে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতার অংশ হিসেবে বরপক্ষের জন্য খদরে খাবার পরিবেশন করা হয়। কিন্তু সেখানে খাসি না থাকায় জুনায়েদ তার আপত্তি জানান। তিনি জানান, তিনি খাসি ছাড়া খাবেন না এবং খাসি না দিলে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতাও করবেন না। কনেপক্ষের আত্মীয়-স্বজনসহ উপস্থিত লোকজন তাকে বোঝানোর চেষ্টা করলেও তিনি সিদ্ধান্তে অনড় থাকায় শেষ পর্যন্ত বিয়ে না করেই কনের বাড়ি থেকে ফিরে যান বলে স্থানীয়রা জানায়।
কনের বাবা শফিক মিয়া বলেন, আমাকে আগে জানানো হলে খদরে খাসির ব্যবস্থা করতাম। এ বিষয়টি আমাকে আগে কোনও কিছু বলা হয়নি। এরপরও আত্মীয়-স্বজনসহ সবাই জুনায়েদকে বোঝানোর চেষ্টা করেছেন বলে তিনি দাবি করেন।
এদিকে, স্থানীয় ইউপি সদস্য আশিক মিয়াও ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এটি একটি দুঃখজনক ঘটনা। খাসির বিষয়টি উঠার পর জুনায়েদকে অনেকভাবে বোঝানোর চেষ্টা করা হলেও তিনি খাসি ছাড়া বিয়ে করতে রাজি হননি।
আরও পড়ুন: ধামরাইয়ে পরিত্যক্ত গোডাউনে আগুন, ৫ লাখ টাকার সম্পদ উদ্ধার
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন