০২:৪৭ পি.এম
রাজধানীর আজিমপুর কবরস্থানকে কেন্দ্র করে সংঘবদ্ধ কঙ্কাল পাচারকারী দলের অভিযোগ উঠেছে। গণমাধ্যমের অনুসন্ধানে জানা যায় যে, কবর থেকে মৃতদেহের হাড় তুলে তা বড় অঙ্কের টাকার বিনিময়ে বিক্রি করা হচ্ছে। এর ফলে কবরস্থানে প্রিয়জনদের দাফন করা পরিবারগুলোর মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।
রাজধানীর একটি অন্যতম বৃহৎ কবরস্থান হিসেবে পরিচিত আজিমপুরে, প্রতিদিন গড়ে ২৫ থেকে ৩০টি মরদেহ দাফন করা হয়ে থাকে। এটি প্রায় ৩২ একর জায়গা জুড়ে বিস্তৃত এবং এখানে মোট প্রায় ৩০ হাজার কবর রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে যে, কিছু গোরখোদক ও তাদের সহযোগীরা নির্দিষ্ট কবরগুলো চিহ্নিত করে সুযোগ সুবিধার সময়ে সেখান থেকে মরদেহের হাড় তুলে পাচার করছে।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে যে, কঙ্কাল ক্রেতা হিসেবে যোগাযোগ করলে চক্রের সদস্যরা জানিয়েছেন, ৬ থেকে ৭ মাস পুরোনো এবং নামফলকবিহীন কবর থেকে হাড় সংগ্রহ করা তুলনামূলক সহজ। তাদের দাবি, প্রয়োজন হলে সাত থেকে ১০ দিনের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ কঙ্কাল সরবরাহ করাও সম্ভব।
আরও পড়ুন: সদরঘাটে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসানের আকস্মিক পরিদর্শন
চক্রের এক সদস্য জানান যে, একটি মানুষের ২০৬টি হাড় গুণে গুণে সরবরাহ করা হবে এবং এজন্য তারা ৪০ হাজার টাকা দাবি করেন। তাদের ভাষ্যমতে, কবর খননের কাজে যুক্ত ব্যক্তিরা এ ধরনের কাজ করে থাকেন।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায় যে, সন্ধ্যার পর কবর খুঁড়ে হাড় বের করে তা ঘাস ভর্তি বস্তায় করে নির্দিষ্ট স্থানে পাঠানো হয়। তাদের পুরো যোগাযোগ মোবাইল ফোনে সম্পন্ন হয় এবং লেনদেন শেষে এক পক্ষ আরেক পক্ষকে চিনতে পারে না—এমন ব্যবস্থাই নেওয়া হয়।
এক ব্যক্তি যিনি চক্রের সমন্বয়কারী হিসেবে পরিচিত, দাবি করেন যে, একটি মরদেহ থেকে সব হাড় পাওয়া যায় না। তাই দুটি বা তিনটি মরদেহের হাড় একত্রিত করে একটি পূর্ণাঙ্গ কঙ্কাল তৈরি করা হয়। তিনি আরো বলেন, পূর্বে অনেকের কাছে কঙ্কাল সরবরাহ করেছেন এবং এ কাজ থেকে প্রাপ্ত টাকার একটি অংশ এতিমখানায় দান করা হয়।
কবরস্থানের একজন গোরখোদক নাম প্রকাশ না করার শর্তে গণমাধ্যমকে জানান, প্রতিদিনের দাফনের মধ্যে কিছু কবর আগে থেকেই নজরদারিতে রাখা হয়। নির্ধারিত সময় পরে মরদেহ অন্য কবরে সরিয়ে রেখে পরে সেখান থেকে কঙ্কাল সংগ্রহ করা হয়।
আরও পড়ুন: ঢাকায় ২৪ ঘণ্টার অভিযানে পুলিশের হাতে ৪৮৪ জন গ্রেপ্তার
এ বিষয়ে লালবাগ থানার পুলিশ জানিয়েছে, কঙ্কাল চুরির অভিযোগ নতুন নয়। তবে যতক্ষণ পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ বা সাধারণ ডায়েরি জমা পড়বে না, ততক্ষণ আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করা যাবে না। লালবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ইয়াছিন আলী গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, কঙ্কাল পাচারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলে দ্রুত তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন লালবাগ বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন