বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০৫:৩১ পি.এম
এলজিইআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, "রাজনৈতিক বিভাজনে আমরা বিশ্বাস করি না, আমরা বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী।" তিনি বলেন, "সকল ধর্মের সকল বর্ণের মানুষের অংশগ্রহণের বাংলাদেশ আমরা কামনা করি।"
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রাজধানীর স্বামীবাগে রথযাত্রার আয়োজন নিয়ে ঢাকা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল আরও জানান, আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অতি অল্প সময়ের মধ্যে মানুষের মন জয় করেছেন। তার কাজের প্রধান জায়গাই হলো সাধারণ মানুষের উন্নয়ন।
তিনি উল্লেখ করেন, ধর্মের উপর কাজ করতে চাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ইমাম, মুয়াজ্জিন ও পুরোহিতদের ভাতার জন্য তিনি চিন্তা করেছেন।
তিনি বলেন, নারী সংসদ সদস্যদের মধ্যে প্রত্যেক ধর্মের মানুষের প্রতিনিধিত্ব এনেছেন প্রধানমন্ত্রী এবং নৃ-তাত্ত্বিক মানুষের প্রতিনিধিও আছেন।
প্রত্যেক শ্রেণির উন্নয়নে আর্থ সামাজিক অবস্থার পরিবর্তনে কাজ করা হবে। আমরা বিভাজন করতে চাই না বলেও জানান তিনি।
মির্জা ফখরুল বলেন, "আমরা ৭১ সালে সকলে মিলে যুদ্ধ করে দেশকে স্বাধীন করেছিলাম, সেই বোধকে একটা অপশক্তি বারবার আঘাত করার চেষ্টা করে, তাদের ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ করতে হবে।"
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর আহ্বানে ইসলামি ৭টি দলের শীর্ষ নেতাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা হয়ে গেল।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকাল ১০টায় চট্টগ্রামের ফটিকছড়িস্থ ঐতিহ্যবাহী জামেয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসায় এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সভাটিতে দেশে চলমান সাম্প্রতিক পরিস্থিতি, ইসলামি অঙ্গনের ঐক্য এবং বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও মতবিনিময়ের কর্মকাণ্ড সম্পন্ন হয়।
আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অনেক উল্লেখযোগ্য নেতা অংশগ্রহণ করেন। হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির ও দারুল উলুম হাটহাজারীর মহাপরিচালক আল্লামা মুফতি খলীল আহমদ কাসেমী, নায়েবে আমির আল্লামা আব্দুল হামিদ (পীর সাহেব মধুপুর), মাওলানা সালাউদ্দিন নানুপুরী, মুফতি জসিম উদ্দিন, মাওলানা সাজিদুর রহমান, মাওলানা আব্দুল আওয়াল, মাওলানা মাহফুজুল হক, মাওলানা মহিউদ্দিন রাব্বানী, মাওলানা আইয়ুব বাবুনগরীসহ হেফাজতের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া ষোলহাজরির বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সভাপতি মাওলানা উবাইদুল্লাহ ফারুক, সহসভাপতি মাওলানা আব্দুর রব ইউসুফী, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমির মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম সোবহানী, ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আব্দুল কাদের, খেলাফত আন্দোলনের আমির মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী, খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির মাওলানা সাখাওয়াত হোসেন এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমানসহ মোট ৭টি ইসলামি দলের শীর্ষ নেতারা সভাটিতে অংশ নেন।
সভায় দীর্ঘ আলোচনা শেষে ইসলামি অঙ্গনের বৃহত্তর স্বার্থে পারস্পরিক সমন্বয় ও ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার বিষয়ে ৭ দলের নেতারা একটি নীতিগত ঐকমত্যে পৌঁছান। দেশের চলমান নানা ইস্যুতে পরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগ ও সহযোগিতা আরও জোরদারের উপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।
বৈঠকে সাম্প্রতিক বন্যা পরিস্থিতি বিশেষভাবে আলোচিত হয়। নেতৃবৃন্দের বক্তব্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামের সাতকানিয়া, বাঁশখালী, কক্সবাজারের চকরিয়া, হবিগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যায় অসংখ্য পরিবার ঘরবাড়ি, খাদ্যসামগ্রী ও জীবিকার উপকরণ হারিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছে। তাই ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন এখন সময়ের সবচেয়ে জরুরি মানবিক দায়িত্ব।
সভায় আলোচকদের মধ্যে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী হেফাজতের জেলা, মহানগর ও উপজেলা শাখাসমূহকে ত্রাণ বিতরণ দ্রুত করার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহযোগিতা এবং পুনর্বাসন কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে বলা হয়। এর উল্লেখযোগ্যভাবে দেশের বিত্তবান ব্যক্তি, ব্যবসায়ী, সামাজিক ও দাতব্য প্রতিষ্ঠান এবং সর্বস্তরের জনগণের প্রতি বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর উদাত্ত আহ্বান জানান।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন মুফতি সাখাওয়াত হোসেন রাজী, মাওলানা আলী ওসমান, মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, মাওলানা মুসা বিন ইজহার, মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী, মাওলানা মীর ইদ্রিস, মাওলানা মোখলেসুর রহমান কাসেমী, মাওলানা আতাউল্লাহ আমিন, মুফতি বশিরুল্লাহ, মাওলানা রেজাউল করিম আবরার, মাওলানা মোস্তফা কামাল জিহাদী, মাওলানা ইমরান সিকদার, মাওলানা ফারুক আহমদ ভূঁইয়া, আলহাজ জান্নাতুল ইসলামসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে পদস্থগিত উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহেদুল আলম জাহাঙ্গীরকে ভাড়াটে সন্ত্রাসী দিয়ে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় পুলিশ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে। এ সময় হত্যাকাণ্ডের জন্য ব্যবহৃত একটি চাপাতি উদ্ধার করা হয়।
বুধবার (১৫ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার সময় উপজেলা সদরের কামালপুরে নিজ বাড়ির সামনে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। ঘটনার পর পুলিশ ওই রাতেই ঘটনাস্থল থেকে একজনকে এবং করিমগঞ্জ উপজেলার বালিখোলা থেকে অপর দুজনকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারদের মাঝে রয়েছেন বরগুনা জেলার বামনা উপজেলার চালিতাবুনিয়া গ্রামের মৃত সুলতানের ছেলে মো. হেলাল (২৫), লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার দুধরাজপুর গ্রামের নূর হোসেনের ছেলে মো. মহিউদ্দিন (৩২), এবং একই উপজেলার মধ্যপাড়া গ্রামের রহমত উল্লাহ খোকনের ছেলে মো. শাকিল হোসেন ওরফে শাহীন (২৫)।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জেলা পুলিশ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।
পুলিশ সুপার জানালেন, গ্রেফতারকৃতরা পেশাদার অপরাধী। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের সময় তারা স্বীকার করেছেন যে, পরিকল্পিত এ হত্যাকাণ্ডের জন্য তাদের ঢাকা থেকে ভাড়া করে আনা হয়েছিল। তবে কারা নেপথ্যে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে এবং এর কারণ কী, সেই ব্যাপারে পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
তিনি আরো জানান, গ্রেফতারদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড আবেদন করে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। মিঠামইন থানায় এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
এদিকে, চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেফতারের জন্য কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ ফজলুর রহমান নেপথ্যের কারিগরদের অবিলম্বে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি তিন হত্যাকারীকে দ্রুত গ্রেফতার করায় পুলিশকে ধন্যবাদ জানান।
ফজলুর রহমান বলেন, ‘নিহত জাহাঙ্গীর বিএনপির জন্য একজন নিবেদিতপ্রাণ ছিলেন। তার জীবনাবসান পর্যন্ত তিনি দলের জন্য কাজ করে গেছেন। শান্তির হাওরে একজন ভালো মানুষকে ভাড়াটে খুনি দিয়ে হত্যা করা হলো, এটি কিছুতেই মেনে নেওয়া যায় না।’
জানা গেছে, বুধবার রাতে জাহেদুল আলম জাহাঙ্গীর মিঠামইন বাজারে দলীয় কর্মীদের সঙ্গে বৈঠক শেষে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন। বাড়ির সামনে পৌঁছালে, আগে থেকেই অপেক্ষা করা তিন দুর্বৃত্ত ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। এ সময় ঘটনাস্থলে থাকা বিএনপি কর্মী হাদিস মিয়া তাকে রক্ষা করতে গেলে তাকেও কুপিয়ে আহত করা হয়।
তাদের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা পালানোর চেষ্টা করে। তবে ঘটনাস্থল থেকেই চাপাতিসহ হেলালকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয় জনতা।
গুরুতর আহত অবস্থায় জাহাঙ্গীর ও হাদিস মিয়াকে প্রথমে মিঠামইন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জাহাঙ্গীরকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত হাদিস মিয়া হাসপাতলে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় বিএনপি নেতাদের দাবী, দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত এই নেতাকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ভাড়াটে খুনি দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তারা দ্রুত হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে মিঠামইন বেড়িবাঁধের গাছ কাটার অভিযোগে জাহেদুল আলম জাহাঙ্গীরের প্রাথমিক সদস্যপদসহ দলের সব পদ স্থগিত করেছিল বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
আলজেরিয়ার রাজধানী আলজিয়ার্সের উপকণ্ঠের মোহাম্মদিয়া এলাকায় একটি এতিমখানায় ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছে। এ অগ্নিকাণ্ডে আহত হয়েছে আরও ১৯ জন। এই তথ্য দেশটির সিভিল ডিফেন্স কর্মকর্তাদের মাধ্যমে জানিয়েছে রয়টার্স।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আজ বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ভোররাতে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। সংবাদ পাওয়ার পর দেশটির সিভিল ডিফেন্স, দমকল এবং উদ্ধারকারী বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আহত লোকদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, স্থানীয় সময় ভোর ৩টা ৩২ মিনিটের দিকে আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুন জ্বলে ওঠার পর ব্যাপক উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। ঘটনাস্থলে ১০টি ফায়ার ইঞ্জিন, ১৬টি অ্যাম্বুলেন্স, দুটি মইযুক্ত উদ্ধারযান, বিশেষ উদ্ধার ইউনিট এবং জাতীয় প্রশিক্ষণ ও হস্তক্ষেপ ইউনিটের সদস্যরা মোতায়েন করা হয়।
কর্তৃপক্ষের দেয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আহত ১৯ জনের মধ্যে ১৭ জন দগ্ধ হয়েছেন, যাদের রাজধানীর জেরালদা বার্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদিকে, আরও দুইজনকে আলজিয়ার্সের মুস্তাফা পাশা হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন পাঁচ শিশুকে নিরাপদে সরিয়ে অন্য একটি আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
এখনও পর্যন্ত আগুন লাগার সঠিক কারণ জানা যায়নি। সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসার পর এ ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু হয়েছে। হতাহতের সংখ্যা প্রাথমিক এবং তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে এটি পরিবর্তিত হতে পারে।
এদিকে, আলজেরিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের সম্প্রচারিত ফুটেজে দেখা গেছে, প্রধানমন্ত্রী সিফি ঘরিব আহতদের দেখতে হাসপাতালে গিয়েছেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে উদ্ধার ও চিকিৎসা কার্যক্রমে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক কয়েকদিন ধরে আলজেরিয়ায় তীব্র তাপপ্রবাহ চলছে। দেশটিতে শেষ এক সপ্তাহে প্রায় এক হাজার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা রেকর্ড হয়েছে, যদিও এতিমখানার এই আগুনের সঙ্গে তাপপ্রবাহের সরাসরি কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
৩২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সিরাজগঞ্জের সৈদাবাদ থেকে এনায়েতপুর পর্যন্ত আঞ্চলিক সড়কের সাব-লেনটি কোনো কাজে আসছে না। এ সড়কের ধীরগতির যানবাহন চলাচলের সুবিধার্থে ২০ কিলোমিটার সাবলেন নির্মাণ করা হলেও বর্তমানে তা গবাদিপশু পালন, খড়ের গাদা, কাঠের গুঁড়ি রাখাসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহার হচ্ছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, সড়ক ও জনপথ বিভাগের নজরদারির অভাবে সড়কটি বর্তমানে কাজে লাগছে না।
সিরাজগঞ্জের বেলকুচি ও এনায়েতপুর উপজেলা দুটি বাণিজ্যিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। কেননা এখানকার উৎপাদিত তাঁত পণ্যের সুনাম দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রয়েছে। উৎপাদিত এসব তাঁত পণ্য পরিবহনের সুবিধা, জেলা সদরের সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা দ্রুত করা এবং দুর্ঘটনা কমানোর লক্ষ্য নিয়ে যমুনা সেতুর পশ্চিশ সংযোগ মহাসড়কের সয়দাবাদ থেকে এনায়েতপুর পর্যন্ত আঞ্চলিক সড়কের পাশে ধীরগতির যান চলাচলের জন্য সাব-লেন নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছিল সড়ক ও জনপদ বিভাগ। ২০১৪ সালে প্রায় ৩২ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০ কিলোমিটার সড়ক সংস্কার ও সাবলেন নির্মাণ করা হয়। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কার কাজ না করায় সাবলেনটি কোনো কাজে আসছে না।
বেলকুচির ব্যবসায়ী আলতাফ হোসেন বলেন, ‘আমাদের ব্যবসায়ী কাজে নিয়মিত এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। তবে রাস্তার সাব-লেনটি যা অবস্থায় পড়ে রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে। এতে আমাদের বিভিন্ন সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। প্রায়ই যানজটে পড়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।’
কলেজ শিক্ষার্থী নুরুল হক জানান, সাব-লেনের কার্পেটিং উঠে গিয়ে নানা স্থানে বড় বড় গর্ত হয়েছে। সেই সাথে সড়কটি বর্তমানে গবাদিপশু পালন, খড়ের গাদা, কাঠের গুঁড়ি রাখাসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে বাধ্য হয়ে মূল রাস্তা দিয়ে ভারী যানবাহনের সাথে পাল্লা দিয়ে ধীর গতির যানবাহন চলাচল করছে। এতে মাঝে মধ্যেই ছোট বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। সমস্যা সমাধানে দ্রুত সাবলেনটির সংস্কার করে যান চলাচলের উপযোগী করার দাবি জানান তিনি।
যাই হোক, সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ইমরান ফারহান সুমেল জানান, সিরাজগঞ্জ থেকে এনায়েতপুর পর্যন্ত আঞ্চলিক এই সড়কের সাব-লেনটি দীর্ঘকাল অব্যবহৃত অবস্থায় রয়েছে, যা নানা সমস্যা সৃষ্টি করেছে।
অঞ্চলিক এই সড়কটি পাবনা পর্যন্ত মহাসড়কে রূপান্তরের জন্য একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে এলাকার মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থা আরও উন্নত ও সহজ হবে।
সিরাজগঞ্জ বেলকুচি এই আঞ্চলিক সড়ক দিয়ে বেলকুচি, চৌহালী ও শাহজাদপুর উপজেলার প্রায় ১০ লাখ মানুষের যাতায়াত করে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ