ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

খুলনায় জোড়া হত্যা মামলায় ৮ জনকে যাবজ্জীবন সাজা


খুলনায় জোড়া হত্যা মামলায় ৮ জনকে যাবজ্জীবন সাজা

খুলনায় দুলাভাই-শ্যালক হত্যা মামলায় ৮ জনের জন্য আদালত যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডের রায় দিয়েছেন। পুনরায়, প্রত্যেক আসামীর জন্য ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ধার্য করা হয়েছে, এবং জরিমানা না প্রদান করলে এক বছর সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে, খুলনার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক নুসরাত জাবিন এ রায় ঘোষণা করেন।

এই আদালতের বেঞ্চ সহকারী শুভেন্দু রায় চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার

এদিকে কারাদণ্ড পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে থাকেন ফারুক শেখ ওরফে গাড়ি ফারুক, নুরুদ্দিন মো. রাজু ওরফে ইন্ডিয়ান রাজু, জাহাঙ্গীর হোসেন, সোহেল শিকদার, কালু শেখ ওরফে রাজিব, সিদ্দিক, ওয়াসিম ওরফে দাদা ওয়াসিম, এবং জব্বার। তাদের মধ্যে ফারুক আদালতে উপস্থিত ছিলেন, তবে বাকিরা পলাতক রয়েছেন।

আদালত সূত্রে জানা যায় যে, রূপসা উপজেলার খান মোহাম্মদপুর গ্রামের শেখ মহিউদ্দিনের ছেলে মো. হায়দার অনেকে জানেন কানা হায়দার, সোনাডাঙ্গা থানার বানরগাতি মাটিয়াপুল এলাকার ফারুকের মেয়ে মর্জিনা খাতুনের সঙ্গে বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকে হায়দার সেখানে বসবাস করতে থাকেন। তার সঙ্গে এজাহারভুক্ত আসামি রাজু, আবু বক্কর সিদ্দিক ওরফে কানা সিদ্দিক, সিদ্দিক, নাসির, মুক্তা ও বেটে রফিকের মধ্যে দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব ছিল।

২০১০ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি দুপুর ৩টার সময়, আসামিরা রামদা, ছুরি এবং অন্যান্য ধারালো অস্ত্র নিয়ে হায়দারের ঘরে প্রবেশ করে। তারা হায়দারের বুকসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে তাকে জখম করে। সে সময়, তার আর্তচিৎকার শুনে শ্যালক তরিকুল ইসলাম পিকু এগিয়ে আসলে তাকেও কুপিয়ে জখম করা হয়। ঘটনার সময়, হায়দারের স্ত্রী মর্জিনা খাতুন বাধা দিলে দুর্বৃত্তরা তাকেও কুপিয়ে জখম করে পালিয়ে যায়। পরে, হাসপাতালে নেওয়ার পথে হায়দার এবং তার শ্যালক তরিকুল ইসলাম পিকু মারা যান।

এই ঘটনায়, নিহত হায়দারের ভাই তৈয়ব আলী নগরীর সোনাডাঙ্গা থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ২০১০ সালের ১৩ আগস্ট ১৭ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন। ২০১১ সালের ২৭ জানুয়ারি আদালতে চার্জ গঠন করা হয়।

আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চট্টগ্রামে ডিডিএন কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় ৮ জন গ্রেপ্তার, ডেভিড ইমন অধরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:৩৪ পি.এম


চট্টগ্রামে ডিডিএন কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় ৮ জন গ্রেপ্তার, ডেভিড ইমন অধরা

চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল ডটনেটের (ডিডিএন) কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় পুলিশ আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়নি, যিনি এককালীন ২ কোটি ও মাসে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে হুমকি দিয়েছেন।

বুধবার (১৫ জুলাই) চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) মুহাম্মদ ফয়সাল আহমেদ এসব তথ্য তুলে ধরেন।

গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে মো. ইউনুস, ইমরান হোসেন চ্যাং, আকবর হোসেন, মো. সুমন, মো. মনির, মো. গিয়াস, মো. নয়ন ও মোহাম্মদ আবদুল নাহিদ ফরহাদ অন্তর্ভুক্ত। তাদের মধ্যে ইউনুসের বিরুদ্ধে পাঁচটি মামলা, ইমরান হোসেনের বিরুদ্ধে ১২টি মামলা, আকবর হোসেনের বিরুদ্ধে ছয়টি মামলা, মো. সুমনের বিরুদ্ধে ছয়টি মামলা, মনিরের বিরুদ্ধে সাতটি মামলা এবং মো. নয়নের বিরুদ্ধে আটটি মামলা রয়েছে। এসব মামলাগুলো চাঁদাবাজি, অস্ত্র, মাদক, ছিনতাই, মারামারির মতো বিভিন্ন অভিযোগে দায়ের করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত কমিশনার আরও জানান, গত ১১ জুলাই ডিডিএনের মালিক আদিল বিন মামুনের মুঠোফোনে কল করে ডেভিড ইমন নিজেকে পরিচয় দিয়ে চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ১৩ জুলাই বাকলিয়ার এক্সেস রোডে ৩০ থেকে ৪০ জন হামলা চালিয়ে ডিডিএনের কার্যালয়ে ভাঙচুর করেন। এ ঘটনায় চকবাজার থানায় মামলা হয় এবং মঙ্গলবার থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তিনি বলেন, গ্রেপ্তারদের ঘটনায় সম্পৃক্ততার বিষয়েও নিশ্চিত হয়েছি। যারা হামলা চালিয়েছিল তাদের নির্দেশদাতাদের সম্পর্কে জানার জন্য রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার জানান, হামলার সময় ৩০ থেকে ৪০ জন অংশ নেয় এবং বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতে ধারাবাহিক অভিযান চালানো হচ্ছে।

ডেভিড ইমনকে এখনো গ্রেপ্তার করতে না পারার ব্যাপারে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ ফয়সাল আহমেদ বলেন, তার অবস্থান এখনও জানা যায়নি। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন, "আপনারা যদি জানেন তার সম্পর্কে কোনো তথ্য, তাহলে দয়া করে আমাদের জানান।"

ইমনের নামে কতটি মামলা রয়েছে জানতে চাইলে তিনি জানান, এই মুহূর্তে সুনির্দিষ্ট সংখ্যা বলা সম্ভব নয়, তবে তার নামে অনেক মামলা রয়েছে।

চট্টগ্রামে নীরবে চাঁদাবাজির অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের পদক্ষেপ জানাতে গিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারদের নিরাপত্তায় পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে এবং কেউ হুমকি বা চাঁদা দাবি করলেই পুলিশকে জানাতে হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শ্রমিকের তালিকায় সভাপতির স্বজন, কাগজে দেখানো হয়েছে ১২৫ জন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:৩৬ পি.এম


শ্রমিকের তালিকায় সভাপতির স্বজন, কাগজে দেখানো হয়েছে ১২৫ জন

জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার তালোড়া-বাইগুনি খাল পুনঃখনন প্রকল্পে একাধিক অনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছে। প্রথমে শ্রমনির্ভর প্রকল্প হিসেবে কর্মরত ভেকু (এক্সকাভেটর) মেশিন দিয়ে অধিকাংশ কাজ সম্পন্ন করার পাশাপাশি প্রকৃত শ্রমিকের পরিবর্তে কাগজে অতিরিক্ত শ্রমিক দেখিয়ে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।

এবার সেই প্রকল্পের শ্রমিক তালিকা পর্যালোচনায় সামনে এসেছে নতুন অনিয়মের তথ্য। অভিযোগ রয়েছে, তালিকায় প্রকল্প সভাপতির ছোট ভাই, ভাতিজা, ভাগিনা, চাচাতো ভাই, মামাসহ একাধিক নিকট আত্মীয়-স্বজন এবং স্বচ্ছল পরিবারের সদস্যদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এদিকে, স্থানীয়দের দাবি, অন্যান্য এলাকার কয়েকজনের নামও শ্রমিক হিসেবে দেখানো হয়েছে।

এদিকে প্রকল্পের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে সক্ষম না হওয়ায় বরাদ্দকৃত অর্থের মধ্যে ৮ লাখ ২৫ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত হিসেবে জমা দেওয়া হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, তদন্তে অনিয়মের সত্যতা মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন (পিআইও) কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির (ইজিপিপি) অধীনে উদয়পুর ইউনিয়নের তালোড়া-বাইগুনি এলাকায় ২ হাজার ১০০ মিটার খাল পুনঃখননের জন্য প্রায় ৫২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। চলতি বছরের মে মাসে প্রকল্পটির উদ্বোধন করা হয় এবং ৩০ জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল। প্রকল্পের জন্য ১২৫ জন শ্রমিকের তালিকা জমা দেন প্রকল্প সভাপতি ও স্থানীয় বিএনপি নেতা আমজাদ হোসেন।

তবে সরেজমিনে গেলে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। খালের অধিকাংশ অংশই ভেকু মেশিন দিয়ে খনন করা হয়েছে। কোথাও কোথাও হাতে গোনা কয়েকজন শ্রমিককে কোদাল দিয়ে কাজ করতে দেখা গেলেও স্থানীয়দের দাবি, প্রকল্প চলাকালে কখনোই ৬০ থেকে ৬৫ জনের বেশি শ্রমিক মাঠে কাজ করেননি। অথচ সরকারি নথিতে প্রতিদিন ১২৫ জন শ্রমিক কাজ করেছেন বলে দেখানো হয়েছে।

শ্রমিক তালিকা পর্যালোচনায় দেখা যায়, ৩ নম্বর তুহিন মাহমুদ, ৮ নম্বর আবুল হোসেন, ১৮ নম্বর সাজ্জাদুল ইসলাম, ২১ নম্বর আনোয়ার হোসেন, ৪৩ নম্বর রমজান আলী প্রামাণিক, ৪৫ নম্বর রেজাউল হক, ৫৭ নম্বর এনামুল হক সরকার, ৬১ নম্বর রুবেল হোসেন, ৬৬ নম্বর মফিদুল ইসলাম, ৬৭ নম্বর মামুনুর রশিদ প্রামাণিক, ৭৮ নম্বর তারেকুল ইসলাম, ৮২ নম্বর তৌফিকুল ইসলাম, ৯৬ নম্বর এনামুল হক প্রামাণিক, ৯৭ নম্বর মাহমুদুল হাসান এবং ১১৬ নম্বর আবু জাহের ফকিরসহ একাধিক ব্যক্তির নাম যে পেশাদার দিনমজুর নয়, সেগুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

আপাতত তাঁদের নাম শ্রমিক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া আরো অভিযোগ রয়েছে, তালিকার ৩৯ ও ৫৫ নম্বরে থাকা আলমগীর এবং হোসেন আমিনুল ইসলাম প্রকল্প সভাপতি আমজাদ হোসেনের আপন ছোট ভাই। ২৪ নম্বর জিয়াউর রহমান ও ৩৪ নম্বর সুজাউল ইসলাম তাঁর চাচাতো ভাই, ৬৮ নম্বর সানাউল হক মণ্ডল তাঁর মামা এবং ৯৫ নম্বর এসআই পাশা তাঁর আপন ভাতিজা। একই তালিকার ৪২ নম্বরে থাকা এম এ ফারুক হোসেন স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতার শ্যালক বলেও অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয়রা আরো অভিযোগ করেন, শুধু আত্মীয়দের নাম অন্তর্ভুক্ত করেই ক্ষান্ত হননি প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা, শ্রমিকদের ব্যাংক হিসাবও নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন। তাঁদের দাবি, শ্রমিক তালিকার ৬১ নম্বর রুবেল হোসেনের ব্যাংক হিসাবের সঙ্গে প্রকল্প সভাপতির ছোট ভাই আরিফুল ইসলামের মোবাইল নম্বর ব্যবহার করা হয়েছে। একইভাবে ৬০ নম্বর হাফেজ আকন্দের চেকে আরিফুল ইসলাম স্বাক্ষর করে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করেন। ওই হিসাবের সঙ্গে আবার প্রকল্প সভাপতির মেয়ে আমিনা খাতুন তিশার মোবাইল নম্বর যুক্ত করা হয়েছে। বিষয়গুলো সরকারি অর্থ উত্তোলনে অনিয়মের সন্দেহকে আরো জোরালো করেছে মনে করছেন স্থানীয়রা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শ্রমিক তালিকাভুক্ত কয়েকজন ব্যক্তি জানিয়েছেন, ‘তাঁদের কখনোই ওই প্রকল্পে কাজ করতে দেওয়া হয়নি। তালিকায় নাম রাখার কথা বলে আগে থেকেই তাঁদের কাছ থেকে চেকে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। পরে ব্যাংক থেকে টাকা তুলে কারো হাতে ৫০০ টাকা, কারও হাতে এক থেকে দেড় হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। আবার কেউ কোনো টাকাই পাননি। অথচ তাঁদের ব্যাংক হিসাব থেকে দুই কিস্তিতে প্রায় ১০ হাজার টাকা করে উত্তোলন করা হয়েছে।

স্থানীয় বিএনপি নেতা ও তালোড়া-বাইগুনি গ্রামের বাসিন্দা সুমির জালাল বলেছেন, ‘শ্রমিক তালিকায় ব্যাপক অনিয়ম করা হয়েছে। আমজাদ হোসেন একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি হওয়ায়, তাঁর বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পান না। মাঠে সর্বোচ্চ ৬০ থেকে ৭০ জন শ্রমিক কাজ করেছে। বাকি অধিকাংশই প্রকল্প সভাপতির আত্মীয়-স্বজন ও পরিচিত লোকজন। পুরো বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রকল্প সভাপতি আমজাদ হোসেন বলেন, ‘এখন প্রকল্পের কাজ করবো না তো কি চুরি করে খাব? শ্রমিকের তালিকায় আমার ভাই, ভাতিজা ও স্বজনদের নাম আছে তো কী হয়েছে? কী লেখার আছে লিখেন তো?

১২৫ জন শ্রমিক নিয়মিত কাজ করেছেন—এমন দাবির পক্ষে ভিডিও বা অন্য কোনো প্রমাণ আছে কি না জানতে চাইলে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা হাসিবুল ইসলাম তা দেখাতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘শ্রমিক তালিকায় প্রকল্প সভাপতির কয়েকজন নিকট আত্মীয় এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতার আত্মীয়ের নাম থাকার বিষয়টি তাঁদের নজরে এসেছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ না হওয়ার কারণে বরাদ্দকৃত ৫২ লাখ টাকার মধ্যে ৮ লাখ ২৫ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে প্রকল্পটির কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীম আরা বলেছেন, ‘শ্রমিকের তালিকায় অনিয়ম হওয়ার কথা নয়। কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ না হওয়ায় বিলের একটি অংশ পরিশোধ না করে ফেরত দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নদীর ভাঙনে দুই সপ্তাহে গৃহহারা ২৫ পরিবার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:৩৮ পি.এম


নদীর ভাঙনে দুই সপ্তাহে গৃহহারা ২৫ পরিবার

 

কুড়িগ্রামের রাজারহাটের পশ্চিম চর বিদ্যানন্দ এলাকায় নদী ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়া একটি পরিবার। মঙ্গলবার তোলা। ছবি: সংগৃহীত

চলতি বর্ষা মৌসুমের মধ্যে দফায় দফায় বাড়া-কমার মধ্যে রয়েছে তিস্তা নদীর পানি। উজানের ঢল ও টানা বৃষ্টির প্রভাবে গত দুই সপ্তাহে কুড়িগ্রামের রাজারহাটের পশ্চিম চর বিদ্যানন্দ এলাকায় অন্তত ২৫টি বসতবাড়ি নদীতে হারিয়ে গেছে।

এরই মধ্যে নদীর ভাঙন অনেক বাড়ির দোরগোড়ায় এসে গেছে। এতে শতাধিক পরিবার ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।

ওই এলাকার বাসিন্দা সবুর আলী (৬৮) বলেন, ‘আমার বাড়ি ১৭ বার নদীতে ভাঙি গেছে। ত্রাণ পাইছি, এহন নদী বান্ধি দেন।’ আরেক বাসিন্দা শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘কয়েক দিনের ব্যবধানে ২৫টি বাড়ি নদীগর্ভে চলে গেছে। আমরা ত্রাণ চাই না, এমন ব্যবস্থা চাই যাতে আর ঘরবাড়ি হারাতে না হয়।’

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের পশ্চিম চর বিদ্যানন্দ দুর্গম এলাকা। তাই দীর্ঘদিন ধরে এলাকাটি অবহেলিত।

যোগাযোগ ব্যবস্থা দুর্বল হওয়ায় দুর্যোগের সময় কিছু ত্রাণ সহায়তা মিললেও নদী ভাঙন রোধে কোনো টেকসই ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

রাজারহাটের বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের সংরক্ষিত নারী সদস্য রাজিয়া বেগম জানান, তিস্তা নদীর পানি বাড়া-কমার সঙ্গে সঙ্গে তার এলাকায় ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের তুলনায় সরকারি সহায়তা খুবই কম। গত সোমবার (১৩ জুলাই) মাত্র ৫০টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে জিআরের চাল দেওয়া হয়েছে।

বিদ্যানন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. তাইজুল ইসলাম জানান, উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে শুকনো খাবার এবং সাত মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হয়েছে।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান বলেন, পশ্চিম চর বিদ্যানন্দে ভাঙন রোধে জিওব্যাগ ফেলার কাজ চলছে। পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নাটোরে চমক দেখাল জমজ তিন বোন, মিলল বৃত্তি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:৪১ পি.এম


নাটোরে চমক দেখাল জমজ তিন বোন, মিলল বৃত্তি

একসঙ্গে জন্ম ও একসঙ্গে বেড়ে ওঠার অভিজ্ঞতা নিয়ে নাটোরের একটি ইঙটিতে তিন বোন প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি পেয়েছে।

এই তিনটি বোন হলো তনোয়া ফাতেমা, তাসমিয়া মরিয়ম এবং আয়েশা সিদ্দিকা। তারা নাটোরের বড়াইগ্রামের জোনাইল এমএল উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রেজাউল করিম সরকার এবং গৃহিণী শিল্পী খাতুন দম্পতির সন্তান।

বাবা রেজাউল করিম সরকার জানিয়েছেন, তাদের একসঙ্গে জন্ম দিয়ে একসঙ্গে বেড়ে উঠার পথে তারা ছোটবেলা থেকেই লেখাপড়ায় খুব আগ্রহী ছিল। তারা নিয়মিতভাবে লেখাপড়া করছে এবং একে অপরকে সহযোগিতা করে যাচ্ছে। আল্লাহ তায়ালার রহমতের কারণে, স্বজনদের অনুপ্রেরণা, তাদের প্রচেষ্টা ও শিক্ষকদের দিকনির্দেশনাই তাদের এই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।

জোনাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা তাসলিমা খাতুন কেয়া বলেছেন, ছোটবেলা থেকেই তারা পড়াশোনায় যথেষ্ট ভালো এবং ভদ্র ও বিনয়ী।

তাদের এ সাফল্যে সবাই খুব খুশি হয়েছে। আশা করছি, তারা ভবিষ্যতে আরো ভালো ফলাফল করবে।

জোনাইল এমএম উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মাহতাব উদ্দিন জানিয়েছেন, তিনটি বোনই তাদের বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত। আশা করছি, তারা ভবিষ্যতে এই ধারাকে অব্যাহত রাখবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস বলেছেন, এটি একটি বিরল ঘটনা বলা চলে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%