শনিবার, ১৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৮:২২ পি.এম
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ভেটেরিনারি অনুষদের ২৩তম ইন্টার্নশিপের উদ্বোধন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের (ডিভিএম-৬০) ১৭৯ জন শিক্ষার্থী ইন্টার্নশিপে অংশগ্রহণ করছে। এর মধ্যে ৩৫ জন শিক্ষার্থী বিশ্বের চারটি দেশে ইন্টার্নশিপে অংশ নিচ্ছেন।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ নজরুল ইসলাম সম্মেলন কক্ষে ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রামের উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. মাসুমা হাবিব। প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরদার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাকৃবির ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. জি এম মুজিবর রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ভেটেরিনারি অনুষদের ডিন ও ডিন কাউন্সিলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. বাহানুর রহমান।
এ বছর ভেটেরিনারি সায়েন্স অনুষদের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের ১৭৯ জন শিক্ষার্থী দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ইন্টার্নশিপে অংশগ্রহণ করছে। পাশাপাশি ৩৫ জন শিক্ষার্থী বিদেশেও ইন্টার্নশিপে অংশ নিচ্ছেন। তাদের মধ্যে মালয়েশিয়ায় ১৬ জন, থাইল্যান্ডে ১২ জন, জাপানে চারজন এবং নেপালে তিনজন শিক্ষার্থী ইন্টার্নশিপে অংশ নিচ্ছেন বলে জানা যায়।
অনুষ্ঠানে বাকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরদার বলেন, "বিশ্ববিদ্যালয়ের সব অনুষদে ইন্টার্নশিপ কার্যক্রম চালু হওয়া আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের বিষয়। ইউজিসি থেকে অর্থায়ন পাওয়া সহজ নয়, তবে আমরা সৌভাগ্যবান যে এ কার্যক্রম সফলভাবে পরিচালনা করতে পারছি। ডক্টর অব ভেটেরিনারি মেডিসিন (ডিভিএম) একটি অত্যন্ত সম্মানজনক ও চ্যালেঞ্জিং ডিগ্রি এবং ভেটেরিনারি সায়েন্স অনুষদ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম গৌরবময় অনুষদ।"
তিনি আরও বলেন, "ইন্টার্নশিপে অংশগ্রহণকারী নারী শিক্ষার্থীদের আবাসনসংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে আমরা উদ্যোগ নেব। আমাদের শিক্ষার্থীরা বিদেশে ইন্টার্নশিপে গিয়ে সাফল্য অর্জন করছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য গর্বের। শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান, তারা যেখানে ইন্টার্নশিপ করবে, সেখানে নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ শিখে আসবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম অক্ষুণ্ন রাখবে। কোনো ধরনের অনিয়মে জড়ানো থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে।"
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. মাসুমা হাবিব বলেন, "আমরা জানি, উন্নত দেশগুলোতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা ভেটেরিনারি সায়েন্সে পড়াশোনা করে। আমি ইন্টার্নশিপে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য গর্ববোধ করি। তবে ঢাকার বাইরে অবস্থানের কারণে আমাদের এই বিশ্ববিদ্যালয় অনেক সময় বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় পিছিয়ে পড়ছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে শিক্ষা, শিল্প ও অ্যাকাডেমিয়ার মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে হবে।"
তিনি আরও বলেন, "সরকার আগামী পাঁচ বছরে প্রতিবছর এক লাখ করে মোট পাঁচ লাখ শিক্ষার্থীকে ইন্টার্নশিপের আওতায় আনার পরিকল্পনা করছে। এতে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও দক্ষতা বিকাশের সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি সমস্যা সমাধানের দক্ষতা ও যোগাযোগ দক্ষতা বাড়াতে হবে। আমরা একটি জেন্ডার-ব্যালান্সড ক্যাম্পাস চাই। জীবনে সফলতার জন্য পরিশ্রম ও সঠিক পরিকল্পনার কোনো বিকল্প নেই। তাই প্রত্যেককে নিষ্ঠা ও পরিশ্রমের সঙ্গে নিজের দায়িত্ব পালন করতে হবে।"
সভাপতির বক্তব্যে ভেটেরিনারি সায়েন্স অনুষদের ডিন ও ডিন কাউন্সিলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. বাহানুর রহমান বলেন, "শিক্ষকরা যে নির্দেশনা দিয়েছেন, তোমাদের সেগুলো মেনে চলতে হবে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে আমরা বলতে চাই, বাকৃবির সব শিক্ষক তোমাদের সঙ্গে আছেন। জনগণের অর্থে অর্জিত জ্ঞান এখন কাজে লাগানোর সময়। কীভাবে কৃষক ও খামারিদের সেবা দেওয়া যায় এবং নিজেদের দক্ষ ও যোগ্য হিসেবে গড়ে তোলা যায়, সেদিকে তোমাদের সচেতন থাকতে হবে। সময়ের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। আমাদের নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে, তবে বিদ্যমান সুযোগগুলোকে সর্বোচ্চ কাজে লাগাতে হবে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, তোমরা ইন্টার্নশিপের এই সময়টুকু যথাযথভাবে কাজে লাগিয়ে নিজেদের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ করবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বর্তমান পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি রাস্তার দুই পাশে এবং অনিরাপদ ও নির্জন স্থানে গাড়ি পার্কিং না করার জন্য আহ্বান জানিয়েছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই আহ্বান জানানো হয়।
সমিতির মহাসচিব মো. সাইফুল আলম বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করেন যে, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে ঢাকাসহ সারাদেশের সকল ধরনের যানবাহন ও পণ্য পরিবহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য জরুরি নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। অনাকাঙ্ক্ষিত ক্ষতি বা ভাঙচুর এড়াতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। কোনো অবস্থাতেই পরিবহনগুলো রাস্তার দুই পাশে অথবা অনিরাপদ ও নির্জন স্থানে পার্কিং করা যাবে না।
এছাড়া, যানবাহনের দৈনিক চলাচল শেষে বাধ্যতামূলকভাবে নিজ নিজ ডিপো, নির্ধারিত গ্যারেজ অথবা টার্মিনালে নিরাপদে রাখার জন্য দেশের সব স্তরের মালিক ও শ্রমিকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে পরিবহন মালিক সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, যানবাহনের নিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাই এই নির্দেশনা যথাযথভাবে পালন করতে সংশ্লিষ্ট সকলকে আহ্বান জানানো হয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বর্তমান পরিস্থিতিতে পরিবহন খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন এবং যানবাহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ১৩ বছরের ছেলে অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ম্যাজিক প্যারাডাইস পার্কের পাশের জঙ্গল থেকে, নিখোঁজের দুইদিন পর। পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডটি আইফোনের জন্য ঘটেছে বলে তারা অনেকটা নিশ্চিত।
এই হত্যাকাণ্ডের কারণে দেশব্যাপী ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এই ঘটনাটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সরকারের সমালোচনা করেছেন।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টায় বগুড়ার মাটিডালি বিমান মোড়ে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চের পথসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদানকালে ‘অপ্রতীম হত্যা’ প্রসঙ্গটি তুলে ধরে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কটাক্ষ করেন তিনি।
জামায়াত আমির বলেন, "কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকার ১৩ বছরের সন্তানকে নিখোঁজের দুই দিন পর মৃত পাওয়া গেছে। আমরা আমাদের সন্তানদের নিরাপত্তা চাই। কিন্তু দুঃখের বিষয়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সর্বমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করলেও নিজের মন্ত্রণালয়ের খোঁজ রাখতে পারেন না।"
এরপর চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় বৈষম্যের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, "নতুন সংবিধানে রিটেনের চেয়ে ভাইভার মার্ক ডাবল করা হচ্ছে দলীয় ক্যাডার ও সন্ত্রাসীদের বসানোর জন্য। চব্বিশের আন্দোলনে আমাদের সন্তানরা চাকরির অধিকারের জন্য জীবন দিয়েছে, বৈষম্য দূর করতে প্রয়োজনে আমরা আবার জীবন দিতে প্রস্তুত।"
সরকারের সমালোচনায় ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, "সরকার বলেছিল এক কোটি মানুষকে চাকরি দেবে, কিন্তু এক কোটি মানুষের হাতে চাঁদাবাজির চাবি তুলে দিয়েছে। সারের দাম বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট চরমে। মন্ত্রী বলেন, বিদ্যুতের কোনো ঘাটতি নেই, তার লম্বা বলে বিদ্যুৎ চলে যায়। এমন অবাস্তব কথা লজ্জার।"
বিরোধীদলীয় নেতা সরকারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, "৭০ ভাগ জনগণ গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বলে রায় দিয়েছিল। আপনারা সেই ভোট চেয়েছেন, আমরাও চেয়েছি। কিন্তু আপনারা জায়গা পরিবর্তন করলেন কেন? জুলাইয়ের শহীদদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে সরকার গঠন করলেও আপনারা জুলাইয়ের সনদ বাস্তবায়ন করেননি।"
পরে জামায়াত আমির নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, "সরকার জুলাই আন্দোলনের সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করলে এবং আট দফা দাবি না মানলে এক দফার আন্দোলনে যাবো। তবে, আট দফা মানা হলে এক দফার দরকার নাই। কিন্তু, তা মানা না হলে এক দফার আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত থাকুন।"
তিনি বলেন, "এবারকার লংমার্চ হয়েছে ঢাকা থেকে রংপুরের দিকে। আগামী লংমার্চ হবে পঞ্চগড় থেকে ঢাকার দিকে। কোনো হুমকি-ধমকি বা নাটকের পারোয়া আমরা করি না। জনগণের অধিকার আদায় না করে আমরা ঘরে ফিরব না।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য নিশ্চায়ন ও মাইগ্রেশনের আবেদন প্রক্রিয়া শেষ হয়ে গেছে। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টায় এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। এখন শিক্ষার্থীদের জন্য জানানো হবে, কে কোন কলেজে ভর্তি হয়েছে, তার চূড়ান্ত ফলাফল।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টায় ভর্তি কমিটি এই ফল প্রকাশ করবে। শিক্ষার্থীরা একাদশে ভর্তির ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে ফল দেখতে পারবেন। এছাড়া, আবেদনের সময় শিক্ষার্থীদের দেওয়া নিবন্ধিত নম্বরে তাদের চূড়ান্ত মনোনয়নের ফল জানানো হবে।
বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি এবং ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, "আজ রাতে যে ফল প্রকাশিত হবে, তাতে কোন শিক্ষার্থী কোন কলেজ বা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির জন্য চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হলো, তা জানানো হবে।" ভর্তিপ্রক্রিয়া ২০ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হবে। ২০, ২১ ও ২২ সেপ্টেম্বর শিক্ষার্থীদের সশরীরে নির্বাচিত কলেজে গিয়ে ফি পরিশোধ করে ভর্তি হতে হবে।
অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান আরও জানান, আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে সারাদেশে একযোগে একাদশ শ্রেণিতে ক্লাস শুরু হবে। যেসব শিক্ষার্থী আবেদন করে কলেজ পাননি অথবা কোনো কারণে আবেদন করতে পারেননি, তাদের ২৪ সেপ্টেম্বরের পর পুনরায় আবেদন করার সুযোগ দেওয়া হবে। শিক্ষার্থীরা সর্বনিম্ন পাঁচটি এবং সর্বোচ্চ ১০টি কলেজে পছন্দক্রম দিলে কেউ বাদ পড়বে না।
এর আগে, গত ১৬ সেপ্টেম্বর একাদশে ভর্তির ফল প্রকাশ করা হয়েছিল। প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, এবারের ভর্তির জন্য মোট ৯ লাখ ৯৫ হাজার ২৩৪ জন শিক্ষার্থী আবেদন করেছেন। তাদের মধ্যে প্রথম ধাপে মোট ৯ লাখ ৮০ হাজার ৮১৫ শিক্ষার্থী কলেজে ভর্তির জন্য মনোনয়ন পেয়েছেন।
এদিকে, অনলাইনে আবেদন করেও ভর্তি সুযোগ থেকে ১৪ হাজার ৪১৫ জন শিক্ষার্থী বঞ্চিত হয়েছেন। বঞ্চিতদের মধ্যে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২ হাজার ২০৫ জন। দেশের ১১টি অনুমোদিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে কোনো শিক্ষার্থী পছন্দক্রম বা চয়েজ দেননি। আর ৪১৬টি প্রতিষ্ঠান কোনো শিক্ষার্থীকে ভর্তির জন্য মনোনয়ন দেয়নি। অর্থাৎ, এসব কলেজ ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একজন শিক্ষার্থীও পায়নি।
গত ২ সেপ্টেম্বর অনলাইনে একাদশ শ্রেণির ভর্তি আবেদন শুরু হয়। আবেদন গ্রহণ শেষ হয় ১৩ সেপ্টেম্বর রাত ৮টায়। ভর্তি নির্দেশিকা অনুযায়ী, একজন শিক্ষার্থী সর্বনিম্ন পাঁচটি এবং সর্বোচ্চ ১০টি কলেজ পছন্দ দিতে পেরেছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বিজ্ঞান লেখক ও গবেষক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইব্রাহীম মন্তব্য করেছেন যে, এআই সত্যকে গুজব এবং গুজবকে সত্যে পরিণত করছে। এছাড়া, বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থ চুরিতে এআই এর প্রভাব নিয়ে চিন্তা করা উচিত।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’র ছায়া সংসদের প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ। এই প্রতিযোগিতাটি আয়োজন করে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি।
তিনি আরও বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) প্রভাবে আজ আমাদের রাষ্ট্রের সিকিউরিটি, অর্থনৈতিক সিকিউরিটি এমনকি ব্যক্তিগত সিকিউরিটিও হুমকির সম্মুখীন। সাইবার সিকিউরিটি পরিস্থিতিও নাজুক। পূর্বে বাংলাদেশ ব্যাংকের যে অর্থ চুরি হয়েছে, তাতে এআই এর প্রভাব ছিলো কিনা তা নিয়ে ভাবতে হবে। ফেইক নিউজের মাধ্যমে আজ ব্যক্তিত্বকে বদলে ফেলা হচ্ছে। সত্যকে গুজব এবং গুজবকে সত্যে পরিণত করা হচ্ছে। এআই এর অপব্যবহারে বিশ্ব অচেনা হয়ে যাচ্ছে। এটি যেন একটি যুদ্ধের মতো। তবে এআই এর উপর জ্ঞানের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে হবে, যা হলো ‘কমনসেন্স’।
তিনি আরো বলেন, এআই এর অনেক সেন্স আছে, কিন্তু মানুষের মত কমনসেন্স নেই। সুপার এআই আসার আগেই তা নিয়ন্ত্রণে নতুন বিশ্বসংস্থার মাধ্যমে বিশ্ব সমঝোতা সৃষ্টি করা প্রয়োজন। বৈশ্বিক আইনি বিধানও প্রয়োজন। এআই আজ সব ক্ষেত্রে নিরাপত্তা হুমকি সৃষ্টি করছে। এমনকি যারা এটি তৈরি করেছে, তারাও নিরাপত্তা ঝুঁকিতে রয়েছে। বর্তমান অর্থনীতি এআই এর নয়, বরং এর মাধ্যমে নতুন অর্থনৈতিক ব্যবস্থা সৃষ্টি হবে। বিশ্বের অনেক মানুষের কাজ চলে যাবে। এআই বিকল্প কাজ সৃষ্টি করতে আসেনি। তবে এআই নিয়েই আমাদের বাঁচতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, প্রযুক্তি মানুষের জন্য আশির্বাদ হলেও এর অপব্যবহার সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চিকিৎসা বিজ্ঞান, রোগ নির্ণয়, নতুন ওষুধ উদ্ভাবন, কৃষিতে উৎপাদন বৃদ্ধি, দুর্যোগের পূর্বাভাস, মানব শ্রমের অপচয় কমানো, ব্যবসা-বাণিজ্য, গ্রাহক সেবা সহ জীবনের প্রায় সব ক্ষেত্রেই নানাভাবে সহযোগিতা করছে। কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহারের কারণে ভূয়া ছবি, ভূয়া ভিডিও, অডিও ক্লোনিং এর মাধ্যমে সমাজে ঘৃণা ছড়ানো হচ্ছে। কন্ঠ ও চেহারা নকল করে ভূয়া কনটেন্ট তৈরির মাধ্যমে প্রতারণা করা হচ্ছে। এআই প্রযুক্তির অপব্যবহারের মাধ্যমে যেভাবে অপসাংবাদিকতা শুরু হয়েছে, তা প্রতিরোধ করা না গেলে মূলধারার গণমাধ্যম হুমকির মুখে পড়বে। মানুষের সংবাদে বিশ্বাসযোগ্যতা হারাবে। অপসাংবাদিকতা গণমাধ্যমকে চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করাবে।
চৌধুরী কিরণ আরও বলেন, বাংলাদেশের মতো তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলো মারাত্মক সাইবার নিরাপত্তা হুমকিতে রয়েছে। অথচ আমাদের ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা অনেকাংশেই পার্শ্ববর্তী দেশের হাতে। আমাদের ব্যান্ডউইথ চাহিদার সিংহভাগই আসে ভারত থেকে। সেই দেশের বিভিন্ন গোয়েন্দা ও তদন্ত সংস্থা আমাদের ডিজিটাল ডেটা ও টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা নজরদারি করতে পারে। এতে আমাদের যোগাযোগবার্তা ও তথ্যাদি অন্যের হাতে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিকাশ মানবসভ্যতার জন্য আশির্বাদ নয়, অস্তিত্বের সংকট’ শীর্ষক ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়কে পরাজিত করে সরকারি তিতুমীর কলেজ বিজয়ী হয়। প্রতিযোগিতায় বিচারক হিসেবে ছিলেন অধ্যাপক আবু মুহাম্মদ রইস, সাংবাদিক মাঈনুল আলম, ড. শাকিলা জেসমিন, মাইদুর রহমান রুবেল ও আনোয়ার হোসেন। প্রতিযোগিতা শেষে অংশগ্রহণকারী দলকে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র প্রদান করা হয়। ছায়া সংসদটি আয়োজন করে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ