০২:২১ পি.এম
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার কারণে লোকলজ্জার ভয়ে ঠেকা একটি স্কুলছাত্রী (১৪) এবং তার মা (৩৫) আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে অভিযুক্ত গৌর চন্দ্র রায়কে দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুরে দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার মোস্তফাপুর ইউনিয়নের কালিরহাট বাজারে একটি সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অঞ্চলের সর্বস্তরের জনগণের উদ্যোগে আয়োজনকৃত সংবাদ সম্মেলনে পাঁচ শতাধিক নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করেন। তারা অভিযুক্তের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং কঠোর শাস্তির দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নিহত ছবি রানীর স্বামী এবং স্কুলছাত্রীর বাবা রিপেন চন্দ্র রায়। তিনি অভিযোগ করেছেন, গত ১৯ জুন তার স্কুলপড়ুয়া মেয়েকে নিয়ে এক যুবক গৌর চন্দ্র রায় ঢাকায় পালিয়ে যায়। এই ঘটনা সম্পর্কে থানায় অভিযোগ করার পর পুলিশ ২৬ জুন দুজনকে উদ্ধার করে তাদের পরিবারে ফিরিয়ে দেয়।
আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার
রিপেন চন্দ্র রায় আরও দাবি করেন, পরবর্তীতে মেয়ের সাথে যোগাযোগ করতে না পেয়ে গৌর চন্দ্র রায় তাদের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। এর ফলস্বরূপ লোকলজ্জা এবং মানসিক চাপে গত ১৫ জুলাই তার স্ত্রী ও মেয়ে নিজেদের বাড়িতে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন।
তিনি আরো অভিযোগ করেন, ঘটনার প্রকৃত কারণ আড়াল করতে তার শ্যালক উজ্জ্বল চন্দ্র রায়সহ কিছু আত্মীয় এটিকে আত্মহত্যা না বলে হত্যাকাণ্ড হিসেবে প্রচার করছেন। এতে তাদের পরিবার আরও বেশি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। তিনি প্রশাসন ও গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করেন যেন প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হয় এবং মূল অভিযুক্তকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হয়।
অন্যদিকে নিহত ছবি রানীর ভাই উজ্জ্বল চন্দ্র রায় অভিযোগ করেন, রিপেন চন্দ্র রায়ের সঙ্গে একই গ্রামের একটি বিধবা নারীর সম্পর্ক ছিল। এই কারণে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। তার দাবি, পরিকল্পিতভাবে তার বোন ও ভাগনিকে হত্যা করে ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে সাজানো হয়েছে।
এদিকে ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত গৌর চন্দ্র রায় বলেছেন, ভিডিওটি একটি ভুয়া (ফেক) আইডি থেকে প্রকাশিত হয়েছে। তবে তার কাছে থাকা ব্যক্তিগত ভিডিও কীভাবে বাইরে এলো, এই বিষয়টি তিনি স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করতে পারেননি।
আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা
পার্বতীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল ওয়াদুদ জানিয়েছেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মা-মেয়ের মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। এছাড়া আত্মহত্যার পেছনে কোনোরকম প্ররোচনা, ব্ল্যাকমেইলিং বা অন্য কোনো অপরাধমূলক কারণ রয়েছে কি না, সেটির তদন্তও গুরুত্বের সাথে করা হচ্ছে। তদন্তের ফলস্বরূপ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন