বৃহস্পতিবার, ৩০শে জুলাই, ২০২৬ ইং
০২:১৮ পি.এম
নেত্রকোণা, ৩০ জুলাই, ২০২৬: জেলার কলমাকান্দার মহাদেও নদে অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে ৮টি নৌকা জব্দ করা হয়। ৭ জনকে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং ১ জনকে কারাদণ্ড প্রদান করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে গতকাল বুধবার রাতে উপজেলার রংছাতি ইউনিয়নের সতেরহাতী মহাদেও এলাকায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শামছুজ্জামান আসিফ-এর নেতৃত্বে একটি মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়।
অভিযান সূত্রে জানা যায়, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে ৬ জনকে ৬টি পৃথক মামলায় ৫০ হাজার টাকায় মোট ৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
এছাড়া অন্য একজনকে ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। আরও অপর একজনকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
অভিযান চলাকালে বালু উত্তোলনের জন্য ব্যবহৃত ৮টি স্টিলের নৌকা এবং আনুমানিক ১ হাজার ঘনফুট বালু জব্দ করা হয়। পরে জব্দ করা বালু জনসম্মুখে পুনরায় নদীতে ফেলে দেয়া হয়। জব্দ স্টিলের নৌকাগুলো পুলিশ সদস্য এসআই মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের জিম্মায় রাখা হয়েছে।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শামছুজ্জামান আসিফ ও উপজেলা প্রশাসন জানালেন, নদী রক্ষা, পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখা এবং সরকারি সম্পদ সংরক্ষণের স্বার্থে মহাদেও নদে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
নরসিংদী, ৩০ জুলাই, ২০২৬ : জেলা সদরের উপজেলা মোড়ে অবস্থিত ‘লেডি জোন বিউটি পার্লার’-এ বিভিন্ন অনিয়মের কারণে ভ্রাম্যমাণ আদালত ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে।
গতকাল বুধবার নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মধ্যে অভিযানে দেখা গেছে, প্রতিষ্ঠানটির ট্রেড লাইসেন্স হালনাগাদ নেই।
এছাড়া, একাধিক পণ্যে মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ উল্লেখ না থাকা এবং কয়েকটি মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে প্রদর্শনের প্রমাণ পাওয়া যায়।
এসব অপরাধের জন্য ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় একটি মামলা দায়ের করা হয় এবং প্রতিষ্ঠানটিকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এই জরিমানার অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়েছে।
মামলায় প্রসিকিউশন পরিচালনা করেন এসআই মো. মান্নান।
অভিযানের পর সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মানবিক আচরণপূর্বক প্রচলিত আইন ও বিধিবিধান সম্পর্কে অবহিত করা হয় এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম থেকে বিরত থাকার জন্য সতর্ক করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন নরসিংদীর সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাদিয়া চৌধুরী।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
যশোরে ছিনতাইকালে স্থানীয়দের ধাওয়ার মুখে এসে এক যুবক ভৈরব নদীতে ঝাঁপ দেয়ার পরও শেষ রক্ষা হয়নি তার জন্য। নদী থেকে স্থানীয় লোকজন তাকে ধরে তুলে নিয়ে এসে ধারালো চাকুসহ পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। এই ঘটনায় তার এক সহযোগী পালাতে সক্ষম হলেও আটক যুবকের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে মামলার প্রস্তুতি চলছে।
এ ঘটনার সময় বুধবার (২৯ জুলাই) রাত ১০টার দিকে ঘটনা ঘটে। আটক যুবক হাসিব বেজপাড়া তালতলা এলাকার বাসিন্দা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, হাসিব ও তার এক সহযোগী শহরের দড়াটানা মোড়সংলগ্ন ভৈরব পার্কের পাশে একজন মাঠা ব্যবসায়ীর টাকা ছিনতাইয়ের চেষ্টা করছিল। বিষয়টি নজরে আসার সাথে সাথেই আশপাশের লোকজন তাদের ধাওয়া করতে শুরু করেন। ধাওয়া খেয়ে হাসিব তখন ভৈরব নদীতে ঝাঁপ দেন।
এ সময় স্থানীয় যুবকরা তাকে নদী থেকে উদ্ধার করে নিয়ে আসেন। পরে আটক হাসিবের কাছ থেকে একটি ধারালো চাকু উদ্ধার করা হয় এবং পুলিশে সোপর্দ করা হয়।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বেজপাড়া এলাকার বাসিন্দা তানভীর ইসলাম বলেন, পালানোর জন্য ওই যুবক চাকুসহ ভৈরব নদীতে ঝাঁপ দেয়। পরে তাকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিই। তবে তার আরেক সহযোগী ওই সময় পালাতে সক্ষম হয়।
পুরাতন কসবা পুলিশ ফাঁড়ির এসআই আবু বক্কার বলেন, দড়াটানা ভৈরব পার্কের পাশে নোয়াখালীর এক মাঠা ব্যবসায়ীর গলায় চাকু ঠেকিয়ে টাকা ছিনতাইয়ের চেষ্টা করছিল এই দুই যুবক। ঠিক সেই সময় আশপাশের লোকজন দেখতে পেয়ে তাদের ধাওয়া করেন। হাসিব পালানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে পড়ে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে তাকে চাকুসহ হেফাজতে নেয়।
যশোর কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী বাবুল হোসেন বলেছেন, আটক হাসিব এখন থানার হেফাজতে রয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে মামলার প্রস্তুতি চলছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
৩০ জুলাই, ২০২৬ : খাল পুনঃখনন প্রকল্পে সরকারী অর্থের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতামূলক ব্যবহার নিশ্চিত করে সাশ্রয় হওয়া ১ কোটি ২ লাখ ৩৫ হাজার ২৪৯ টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিয়েছে চরফ্যাশন উপজেলা প্রশাসন। প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত মান বজায় রেখে সম্পন্ন হলেও, প্রাক্কলনের তুলনায় কম অর্থ ব্যয় হওয়ার কারণে অবশিষ্ট টাকা সরকারি বিধি অনুযায়ী ট্রেজারিতে জমা দেয়া হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ‘অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি (ইজিপিপি)’ এর আওতায় চরফ্যাশন উপজেলায় সুবল ডাক্তার বাড়ি থেকে সুন্দরী নামক ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় ৩ দশমিক ৭ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ২ কোটি ৬ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছিল।
প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় সরকারি নির্দেশনা ও নির্ধারিত কারিগরি মান কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয়। তবে, খালের বিভিন্ন অংশের প্রস্থ ও খননের গভীরতা প্রাক্কলনের তুলনায় কম প্রয়োজন হওয়ায় বরাদ্দের পুরো অর্থ ব্যয় না করেই কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়। এর থেকেই ১ কোটি ২ লাখ ৩৫ হাজার ২৪৯ টাকা সাশ্রয় হয়; যা সরকারি আর্থিক বিধিমালা অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দেয়া হয়েছে।
চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রোমানা আফরোজ বাসস’কে বলেন, ‘দীর্ঘদিনের অবহেলায় উক্ত খালটি ভরাট হয়ে কার্যত অকেজো হয়ে পড়েছিল। স্থানীয়দের জলাবদ্ধতা নিরসন, পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখা এবং পরিবেশগত ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে বর্তমান বিএনপি সরকারের উদ্যোগে খালটি পুনঃখনন করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘সরকারি অর্থের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিমূলক ব্যবহারের অংশ হিসেবে সাশ্রয় হওয়া প্রতিটি টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেয়া হয়েছে। সরকারি অর্থের অপচয় রোধ এবং আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে উপজেলা প্রশাসন সবসময় দায়িত্বশীলভাবে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে, উপজেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগের ফলে সরকারি অর্থের সাশ্রয়, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার এই পদক্ষেপটি একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশংসিত হয়েছে। বিশেষ করে ওই উপজেলার সাধারণ মানুষ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রোমানা আফরোজের সততা ও রাষ্ট্রের প্রতি দায়বদ্ধতার নজির স্থাপনে তাকে সাধুবাদ জানান।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ছোট ফেনী নদীর অব্যাহত ভাঙনে স্থানীয় বাসিন্দারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন, সোনাগাজীর চরদরবেশ ইউনিয়নের নদী তীরবর্তী এলাকায়। প্রতিদিনই নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে তাদের ফসলি জমি ও বসতবাড়ি। এই ভয়াবহ ভাঙনের হাত থেকে এলাকা রক্ষার জন্য মানববন্ধনের আয়োজন করেছেন নদীভাঙন কবলিত এলাকাবাসী।
বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেলে চরদরবেশ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর চরদরবেশে ইতালি মার্কেটের দক্ষিণ পাশে, বায়তুন নুর জামে মসজিদের পশ্চিম ও দক্ষিণ অংশে, দুলা হাজী বাড়ির দরজা থেকে তালতলী পর্যন্ত নদী ভাঙন রোধে অনুষ্ঠিত হয় এই মানববন্ধন। নদী ভাঙনের বিরুদ্ধে এই মানববন্ধনের আয়োজন করেছে ইতালি মার্কেট একতা যুব সংঘ এবং নদীভাঙন কবলিত এলাকাবাসী।
মানববন্ধনে নদীতীরবর্তী শত শত নারী ও পুরুষ অংশ নেন। তারা দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে নদীভাঙনে তাদের দুর্দশার চিত্র তুলে ধরেন এবং দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান। অংশগ্রহণকারীদের হাতে থাকা ব্যানারগুলোতে ভাঙন প্রতিরোধ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সুরক্ষায় জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
বক্তারা জানান, মুছাপুর রেগুলেটরটি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে ছোট ফেনী নদীর ভয়াবহ ভাঙনে ইতোমধ্যে দাগনভুইয়া, সোনাগাজী ও কোম্পানিগঞ্জ উপজেলার মানচিত্র পালটে যাচ্ছে। শত শত বিঘা আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বহু ঘরবাড়ি ইতোমধ্যে নদীতে চলে গেছে। অনেক পরিবার তাদের বসতভিটা হারানোর শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছে। ভাঙনের গতি অব্যাহত থাকলে চরদরবেশ ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা অস্তিত্ব সংকটে পড়তে পারে বলেও তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
তারা অবিলম্বে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের এবং নদীর বাঁকা অংশ ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে সোজা করে স্থায়ী নদীশাসন প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি করেছেন। অন্যথায়, পুরো চরদরবেশ ইউনিয়নের একটি বড় অংশ ভবিষ্যতে মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে পারে বলেও সতর্ক করেন তারা।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন চরদরবেশ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ, উপজেলা বিএনপি নেতা সেলিম রেজা, চরদরবেশ ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নুর আলম রিয়াদ, সাবেক ইউপি সদস্য আবুল কাশেম, স্থানীয় মাহবুবুল হক, সফি উল্লাহ, মো. ইয়াসিন এবং আব্দুর রহিমসহ নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দারা।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ