মঙ্গলবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:৩৭ পি.এম
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, দেশের ২ হাজার ৩১৮টি কলেজের অধ্যক্ষদের নিয়ে আগামী অক্টোবরের মাঝামাঝি ‘অধ্যক্ষ সম্মিলন ২০২৬’ আয়োজনের পরিকল্পনা করছে।
ঢাকার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এ সম্মিলন অনুষ্ঠিত হবে। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ মনিটরিং অ্যান্ড ইভালুয়েশন দপ্তরের পরিচালক মো. সাহাব উদ্দিন আহাম্মদের সই করা চিঠিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার বর্তমান রূপান্তরমুখী অভিযাত্রা এবং পরিবর্তিত জাতীয় ও বৈশ্বিক বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে এ সম্মিলন বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। দেশের কলেজ শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন, সুশাসন নিশ্চিতকরণ, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং যুগোপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থার বিকাশে অধ্যক্ষবৃন্দের ভূমিকা আরও কার্যকর ও ফলপ্রসূ করার লক্ষ্যে এ সম্মিলন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে। এটির মাধ্যমে অধ্যক্ষ ও শিক্ষকবৃন্দ জাতীয় শিক্ষানীতি, সরকারের শিক্ষা-দর্শন, উচ্চশিক্ষা উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত শিক্ষা সংক্রান্ত অঙ্গীকার ও কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা ও প্রেরণা লাভ করবেন।
এতে আরও জানানো হয়েছে, অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য নির্ধারিত লিংকে (https://collegeportal.nu.ac.bd/) প্রবেশ করে কলেজ কোড ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করে ড্যাশবোর্ড থেকে অধ্যক্ষ সম্মিলন ২০২৬ ক্লিক করে যথাযথভাবে ফরম পূরণ করে আগামী ১০ অক্টোবরের মধ্যে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হলে পরবর্তীতে আমন্ত্রণপত্র প্রেরণ করা হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলরের নির্দেশক্রমে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে অনুষ্ঠানে অংশ নিতে অধ্যক্ষদের অনুরোধ করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, অনুষ্ঠানে যোগদানের জন্য অধ্যক্ষ ও শিক্ষকদের বিধি মোতাবেক প্রতিষ্ঠান থেকে টিএ/ডিএ প্রদান করা হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত একমাত্র নারী, ক্রিস্টা পাইক, জানিয়েছেন যে, মৃত্যুর ভয় তার নেই। তবে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার পদ্ধতি নিয়ে তিনি কিছুটা উদ্বিগ্ন। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) প্রাণঘাতী ইনজেকশনের মাধ্যমে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এমন তথ্য প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজ .
৫০ বছর বয়সী পাইক তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে মৃত্যুদণ্ডের অপেক্ষায় কারাগারে রয়েছেন। তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে টেনেসিতে দুই শতাব্দীরও বেশি সময় পর প্রথম কোনো নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবে।
পাইক ১৯৯৫ সালে ১৮ বছর বয়সে সহপাঠী ১৯ বছর বয়সী কলিন স্লেমারকে হত্যার ঘটনায় জড়িত ছিলেন। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, পাইক ও তার দুই সহযোগী স্লেমারকে টেনেসি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে একটি পরিত্যক্ত বিদ্যুৎকেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন ও মারধর করেন। পরে স্লেমার মারা যান।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডটির সঙ্গে তন্ত্রসাধনার যোগ ছিল। স্লেমারের বুকে একটি বিশেষ চিহ্ন খোদাই করা হয়েছিল এবং পাইক তার মাথার খুলির একটি অংশ স্মারক হিসেবে রেখে দেওয়ার কথা অন্য এক সহপাঠীকে বলেছিলেন বলে তদন্তে উঠে আসে।
পাইক তার ভূমিকার কথা অস্বীকার করেননি। তবে, তার আইনজীবীরা দাবি করেছেন, শৈশব থেকেই তিনি দীর্ঘদিন শারীরিক ও যৌন নির্যাতন এবং অবহেলার শিকার হয়েছেন। এসব তথ্য তার মৃত্যুদণ্ডের বিচার চলাকালীন জুরিদের সামনে যথাযথভাবে তুলে ধরা হয়নি বলে তাদের দাবি।
পাইকের আইনজীবীরা যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালতের কাছে মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করার আবেদন করেছেন। তাদের বক্তব্য, শৈশবের নির্যাতনের কারণে পাইক গুরুতর মানসিক আঘাতজনিত সমস্যায় ভুগছেন। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় তাকে আটকে রাখার প্রক্রিয়া তার ওপর অতিরিক্ত মানসিক যন্ত্রণা তৈরি করতে পারে।
তবে, টেনেসির অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তর বলেছে, প্রাণঘাতী ইনজেকশন দেওয়ার পদ্ধতির কারণে পাইকের অতিরিক্ত মানসিক ক্ষতি হবে—এমন ধারণার পক্ষে যথেষ্ট ভিত্তি নেই।
এদিকে, টেনেসির গভর্নর বিল লি পাইকের মৃত্যুদণ্ডে হস্তক্ষেপ না করার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন। ফলে, মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ আদালতের সিদ্ধান্তই তার শেষ সুযোগ।
সহযোগীদের সাজা ছিল ভিন্ন
পাইককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলেও একই ঘটনায় জড়িত অন্যদের সাজা ছিল ভিন্ন। তার প্রেমিক তাদারিল শিপ ঘটনার সময় ১৭ বছর বয়সী ছিলেন। অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয় এবং তিনি ভবিষ্যতে মুক্তির জন্য আবেদন করার সুযোগ পাবেন।
অন্য সহযোগী শাদোলা পিটারসন তখন ১৮ বছর বয়সী ছিলেন। তিনি হত্যাকাণ্ডের সময় পাহারার দায়িত্বে ছিলেন এবং তদন্তে সহযোগিতা করার বিনিময়ে প্রবেশন পান।
পাইকের আইনজীবীরা বলছেন, ঘটনার সময় তার বয়স মাত্র ১৮ বছর হওয়াও বর্তমানে তরুণদের মস্তিষ্কের বিকাশ ও আচরণ নিয়ে বৈজ্ঞানিক গবেষণার আলোকে নতুন করে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
তারা আরও দাবি করেছেন, সে সময় প্রসিকিউটররা প্যারোলে মুক্তির সুযোগ ছাড়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিনিময়ে দোষ স্বীকারের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই সমঝোতা গ্রহণ করা হয়নি।
শৈশবের নির্যাতনের তথ্য সামনে
মনোবিজ্ঞানী বেথানি ব্র্যান্ড তিন বছর আগে পাইকের মানসিক অবস্থা মূল্যায়ন করেন। তিনি পুলিশি নথি, চিকিৎসা প্রতিবেদন ও মামলার অন্যান্য কাগজপত্র পর্যালোচনা করেন।
ব্র্যান্ডের প্রতিবেদনে উঠে আসে, ছোটবেলা থেকেই পাইক যৌন ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তার পরিবারেও স্থিতিশীল পরিবেশ ছিল না। ১৭ বছর বয়সে ধর্ষণের শিকার হওয়ার অভিযোগও তিনি পুলিশকে জানিয়েছিলেন। ওই ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।
ব্র্যান্ডের মতে, পাইকের শৈশবের মানসিক আঘাত ছিল অত্যন্ত গুরুতর। কারাগারে চিকিৎসা ও ওষুধ পাওয়ার পর তার অবস্থার অনেক উন্নতি হয়েছে এবং বর্তমানে তিনি নিজের কর্মকাণ্ডের জন্য অনুতপ্ত ও অন্যের প্রতি সহানুভূতিশীল বলে জানান তিনি।
তবে, নিহত স্লেমারের মা মে মার্টিনেজ মেয়ের হত্যার জন্য পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়াকেই ন্যায়বিচার হিসেবে দেখছেন। তিনি জানিয়েছেন, মামলার প্রমাণ হিসেবে সংরক্ষিত মেয়ের দেহের বিভিন্ন অংশ পরবর্তী সময়ে পরিবারের কাছে ফেরত দেওয়া হয়েছিল, যা তার জন্য অত্যন্ত কষ্টকর ছিল।
মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের নারী সদস্যদের গুরুত্ব
পাইক নারী হওয়ায় টেনেসির কারা কর্তৃপক্ষ তার কিছু বিশেষ অনুরোধ বিবেচনা করছে। তাকে ন্যাশভিলের নারী কারাগার থেকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জন্য নির্ধারিত কারাগারে নেওয়ার সময় নারী প্রহরী রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দলেও নারী সদস্যদের রাখার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে, একজন পুরুষ চিকিৎসক এতে অংশ নিতে পারেন। এর আগে ব্যর্থ হওয়া একটি প্রাণঘাতী ইনজেকশন কার্যকরের সময় তিনি চিকিৎসক হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন।
পাইকের আধ্যাত্মিক পরামর্শদাতা মিকি নোয়েশেলকেও মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কক্ষে থাকার অনুমতি দেওয়া হবে। তিনি পাইকের সঙ্গে প্রার্থনা, ধ্যান ও আধ্যাত্মিক বিষয় নিয়ে সময় কাটাচ্ছেন।
মৃত্যুর আগে এক চিঠিতে পাইক লিখেছেন, তার প্রতি পাওয়া সমর্থনের জন্য তিনি কৃতজ্ঞ। তিনি জানান, জীবনের অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় সাম্প্রতিক দুই সপ্তাহে তিনি বেশি ভালোবাসা অনুভব করেছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ফরিদপুরের সদরপুরে চলন্ত ভ্যানের চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে জামিলা (১৩) নামে এক কিশোরীর মৃত্যু ঘটেছে।
এটি সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঘটে, যখন জামিলা ঢেউখালী ইউনিয়নের চর কুমারিয়া থেকে মোল্লা গ্রামে যাওয়ার পথে ছিল।
নিহত জামিলা ঢেউখালী ইউনিয়নের চর কুমারিয়া গ্রামের সৌদি প্রবাসী মো. মহিউদ্দিন সিকদারের কন্যা।
পুলিশ এবং স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, জামিলা ভ্যানযোগে তার ভগ্নিপতি মো. রিয়াজুল শেখের বাড়ি মোল্লা গ্রামে যাচ্ছিল। মোল্লা গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক মাতুব্বরের বাড়ির কাছে একটি শাখা সড়কে অসাবধানতাবশত তার পরনের ওড়না ভ্যানের চাকায় পেঁচিয়ে যায়। এর ফলে সে গুরুতর আহত হয়।
ঘটনার খবর পাওয়ার পর আশপাশের লোকজন জামিলাকে উদ্ধার করে দ্রুত সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
সদরপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে এবং পরে মরদেহটি পুলিশ হেফাজতে নেয়। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ থেকে আমদানি করা নির্দিষ্ট বিশেষায়িত ওষুধ এবং ওষুধ তৈরির উপাদানে শুল্কছাড় প্রদান করেছে। এই সুবিধাটি বিরল ও জটিল রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধসহ ২০টি দেশের পণ্যের জন্য প্রযোজ্য।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) এনডিটিভি র প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগের তালিকা অনুসারে, বিরল রোগ, বন্ধ্যত্বের চিকিৎসা, কোষভিত্তিক থেরাপি এবং জিন থেরাপির ওষুধগুলো শূন্য শুল্কের আওতায় থাকবে। এই ওষুধগুলো তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় উপাদানও এই সুবিধার আওতায় আসবে।
বাংলাদেশের পাশাপাশি শূন্য শুল্ক হারের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত অন্যান্য দেশগুলো হলো- ভারত, আর্জেন্টিনা, বাংলাদেশ, কম্বোডিয়া, ইকুয়েডর, এল সালভাদর, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, গুয়াতেমালা, ইন্দোনেশিয়া, জাপান, জর্ডান, মালয়েশিয়া, উত্তর মেসিডোনিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, সুইজারল্যান্ড, লিশটেনস্টাইন, তাইওয়ান, থাইল্যান্ড, ব্রিটেন এবং ভিয়েতনাম।
বাণিজ্য সম্প্রসারণ আইনের ২৩২ ধারা অনুযায়ী, ওষুধ এবং ওষুধের কাঁচামালের আমদানি সমন্বয়ের জন্য ট্রাম্পের এপ্রিল মাসের ঘোষণার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এই শুল্কছাড় প্রদান করা হয়েছে। ঘোষণাপত্রে নির্দিষ্ট পেটেন্টকৃত ঔষধ এবং কাঁচামালের ওপর শতভাগ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। এই শুল্ক ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হবে।
তবে কিছু নির্দিষ্ট পেটেন্ট করা ওষুধ এবং সংশ্লিষ্ট উপাদানের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রস্তুতি চলছে।
মার্কিন বাণিজ্য বিভাগের নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান বা আসন্ন বাণিজ্য ও নিরাপত্তা কাঠামোর ভিত্তিতে এই শুল্কছাড় প্রদান করা হয়েছে।
বাণিজ্য বিভাগের বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, জেনেরিক ঔষধ এবং এর সংশ্লিষ্ট উপাদানগুলো ধারা ২৩২-এর ঔষধ শুল্কের আওতাভুক্ত নয়।
বিজ্ঞপ্তিতে মূল ঘোষণাপত্রে বেশ কিছু প্রযুক্তিগত সংশোধন করা হয়েছে, যার মধ্যে ‘জেনেরিক ঔষধ সামগ্রী’র সংজ্ঞা সংশোধন করে বিশেষভাবে পেটেন্টবিহীন পশু স্বাস্থ্য পণ্যগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এতে আরও স্পষ্ট করা হয়েছে, ‘ঔষধ সামগ্রী’-এর সংজ্ঞার মধ্যে শুধুমাত্র প্রস্তুতকৃত ঔষধ, সেগুলোর সক্রিয় ঔষধীয় উপাদান এবং এই জাতীয় উপাদানগুলোর মূল কাঁচামাল অন্তর্ভুক্ত।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
আজ ২৯ সেপ্টেম্বর, বিশ্ব হার্ট দিবস। প্রতি বছর এই দিনে হৃদরোগ এবং রক্তনালির রোগ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করার জন্য বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। ২০২৬ সালের বিশ্ব হার্ট দিবসে হৃদরোগের কিছু লক্ষণ এবং ঝুঁকির দিক তুলে ধরা হচ্ছে, যেগুলো প্রায়ই মানুষের দৃষ্টির অগোচরে থেকে যায়।
এ বছরের প্রচারের মূল বার্তা হলো ‘একটি হৃদস্পন্দনও উপেক্ষা করবেন না’। বিশ্ব হার্ট ফেডারেশনের উদ্যোগে পরিচালিত এই প্রচারে হৃদরোগের লক্ষণ দ্রুত চিহ্নিত করা, হৃদযন্ত্রের যত্ন নেওয়া এবং হৃদরোগ প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
নীরব থাকতে পারে হৃদরোগ
বিশ্ব হার্ট ফেডারেশনের তথ্য অনুযায়ী, হৃদরোগের অনেক লক্ষণ সব সময় স্পষ্টভাবে দেখা যায় না। আবার উচ্চ রক্তচাপের মতো কিছু ঝুঁকি দীর্ঘ সময় ধরে কোনো উপসর্গ ছাড়াই থাকতে পারে। তাই অসুস্থ বোধ করার আগে থেকেই নিজের হৃদ্স্বাস্থ্যের দিকে নজর দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, ২০২২ সালে বিশ্বজুড়ে প্রায় ১ কোটি ৯৮ লাখ মানুষ হৃদরোগ এবং রক্তনালির রোগে মারা যান, যা ওই বছরের মোট মৃত্যুর প্রায় ৩২ শতাংশ। এসব মৃত্যুর ৮৫ শতাংশের জন্য দায়ী ছিল হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়া এবং স্ট্রোক।
কীভাবে হৃদযন্ত্রের যত্ন নেবেন
হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যেমন—
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা, তামাক সেবন এবং অতিরিক্ত মদ্যপানসহ বিভিন্ন আচরণগত ঝুঁকি হৃদরোগের সম্ভাবনা বাড়ায়। এসব ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে আনা গেলে হৃদরোগের ঝুঁকিও কমানো সম্ভব।
প্রতিদিন একটু বেশি নড়াচড়া
বিশ্ব হার্ট ফেডারেশনের এবারের কর্মসূচিতে নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রমের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সেপ্টেম্বরজুড়ে প্রতিদিন অন্তত ২০ মিনিট হাঁটা, দৌড়ানো, সাইকেল চালানো, খেলাধুলা বা অন্য কোনো শারীরিক কার্যকলাপে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
তবে দীর্ঘ সময় ধরে শারীরিকভাবে নিষ্ক্রিয় থাকলে হঠাৎ করে কঠোর ব্যায়াম শুরু না করে ধীরে ধীরে অভ্যাস গড়ে তোলার পরামর্শ দেওয়া হয়।
কোন লক্ষণে দ্রুত চিকিৎসা নেবেন
তীব্র বা দীর্ঘস্থায়ী বুকব্যথা, শ্বাসকষ্ট, অতিরিক্ত ঘাম, বমি বমি ভাব, মাথা ঘোরা অথবা হাত, কাঁধ, পিঠ, ঘাড় বা চোয়ালে ব্যথা ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়। এসব লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণ করা জরুরি।
কারণ হৃদরোগের ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসা পাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আবার সবার ক্ষেত্রে লক্ষণ একই রকম নাও হতে পারে।
হৃদরোগ প্রতিরোধে সচেতনতার আহ্বান
বিশ্ব হার্ট ফেডারেশন জানাচ্ছে, হৃদরোগ এবং রক্তনালির রোগ বিশ্বে মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হলেও এর অনেক ঝুঁকি প্রতিরোধ বা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। তাই এবারের বিশ্ব হার্ট দিবসে মানুষের প্রতি নিজের হৃদস্বাস্থ্যের লক্ষণ এবং ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিশ্ব হার্ট দিবসের বার্তা শুধুমাত্র এক দিনের জন্য নয়—প্রতিদিনের খাদ্য, শারীরিক পরিশ্রম, ঘুম, তামাক থেকে দূরে থাকা এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা—এসব অভ্যাসের মাধ্যমে হৃদযন্ত্রের যত্ন নেওয়া সম্ভব।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ