বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০২:৫২ পি.এম
সাতক্ষীরার কলারোয়ায় ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে মো. জিয়ারুল ইসলাম (৩৫) নামের একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গ্রেপ্তারের পর আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার কথা জানিয়েছে পিবিআই।
পিবিআই সাতক্ষীরা জেলা কার্যালয়ের প্রেস রিলিজের মাধ্যমে জানায়, গত ২৩ সেপ্টেম্বর দুপুরে ওই কিশোরী (ছদ্মনাম রুবিনা) গরুর জন্য ঘাস কাটতে মাঠে যায়। এ সময় কলারোয়া থানার হেলাতলা গ্রামের একটি কুল-বরই বাগানে তাকে ধর্ষণের শিকার হতে হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। কিশোরীর চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্ত ব্যক্তি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
এ ঘটনার পর কিশোরীর পরিবারের পক্ষ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর কলারোয়া থানায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটি পিবিআইয়ের সিডিউলভুক্ত হওয়ায় তদন্তের দায়িত্ব পায় পিবিআই সাতক্ষীরা।
পিবিআই জানিয়েছে, তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযুক্তের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। এরপর ২৮ সেপ্টেম্বর ভোর ৪টা ১০ মিনিটের দিকে যশোর জেলার ঝিকরগাছা থানার শ্রীরামকাঠী গ্রাম থেকে জিয়ারুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে পিবিআইয়ের একটি দল।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত ধর্ষণের সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেন বলে পিবিআই জানিয়েছে। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) তাকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
এ ঘটনায় কলারোয়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার তদন্ত এখনও চলছে বলে জানিয়েছে পিবিআই।
কলারোয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান রিমু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী এবং বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মীর শাহে আলম মন্তব্য করেছেন যে, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার জন্য গুপ্ত ও নিষিদ্ধদের ষড়যন্ত্র চলছে।
তিনি মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাতে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা ও পৌর বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত মশাল মিছিল ও সমাবেশে এ কথা বলেন। এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র, পরিকল্পিত সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য সৃষ্টির প্রতিবাদে।
মীর শাহে আলম বলেন, দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি এবং জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য বিভিন্ন ষড়যন্ত্র চলছে। তবে তিনি উল্লেখ করেন, “এ দেশের জনগণ শেখ হাসিনাকে আর মেনে নেবে না।”
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বিএনপি রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম করে রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েছে। দীর্ঘ আন্দোলন ও ত্যাগের মাধ্যমে জনগণের সমর্থন নিয়ে বিএনপি সরকার গঠন করেছে। তাই বিএনপিকে পতনের হুমকি দিয়ে কিছু লাভ হবে না। ষড়যন্ত্র কিংবা ভয়ভীতি দেখিয়ে বিএনপিকে দমিয়ে রাখা যাবে না।
তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণ, গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং শান্তিশৃঙ্খলা সমুন্নত রাখা। এ অগ্রযাত্রা ব্যাহত করতে কোনো ধরনের সন্ত্রাস, নৈরাজ্য কিংবা ষড়যন্ত্র বরদাশত করা হবে না।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা করে বিএনপির ওপর দায় চাপানো হয়েছে। অথচ এ ঘটনায় জামায়াতের একজন সংসদ সদস্যের জামাই গ্রেপ্তার হয়েছেন। এসব ঘটনা থেকে ষড়যন্ত্রের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
এর আগে শিবগঞ্জ উপজেলা চত্বর থেকে বের করা মশাল মিছিলে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা অংশ নেন। সমাবেশে বক্তারা ষড়যন্ত্র, সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা কলেজের কর্তৃপক্ষ অনিয়ম ও শৃঙ্খলা পরিপন্থি কর্মকাণ্ডের কারণে এইচএসসির ৯ জন শিক্ষার্থীর ভর্তি বাতিল করেছে। একই সময়ে, ৪২ জনকে ট্রান্সফার সার্টিফিকেট (টিসি) প্রদান করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক এ কে এম ইলিয়াসের সই করা একটি বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য প্রকাশিত হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ঢাকা কলেজের একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ঘটনায় এবং আইনশৃঙ্খলা পরিপন্থি কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে ৯ জন শিক্ষার্থীর ভর্তি বাতিল করা হয়েছে এবং ৪২ জন শিক্ষার্থীকে ছাড়পত্র বা ট্রান্সফার সার্টিফিকেট (টিসি) দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া, বিজ্ঞপ্তিতে সতর্ক করে বলা হয়, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন উদ্ধত ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার সংবাদ পাওয়া যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে তাদের আইনশৃঙ্খলা পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে জড়িত না হওয়ার জন্য সতর্ক করা হলো।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মরক্কোর ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ফাতিমা জাহরা মানসুরি নিয়োগ পেয়েছেন। ৫০ বছর বয়সী এই নগর পরিকল্পনামন্ত্রী এবং আইনজীবীকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে দেশটির রাজা ষষ্ঠ মোহাম্মদ কর্তৃক, যা মরক্কোর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
রাজপ্রাসাদ থেকে প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, নতুন সরকার গঠনের দায়িত্ব সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত এই প্রধানমন্ত্রীকে দেওয়া হয়েছে। উল্লেখযোগ্য যে, এই ঘোষণা এসেছে সদ্য সমাপ্ত সংসদীয় নির্বাচনের চার দিন পর, যেখানে ফাতিমা জাহরার মধ্যপন্থী দল ‘অথেন্টিসিটি অ্যান্ড মডার্নিটি পার্টি (প্যাম)’ সর্বাধিক ভোট পেয়ে বিজয় অর্জন করেছে। তিউনিসিয়ার নাজলা বুদেনের পর ফাতিমা জাহরা মানসুরি আরব বিশ্বের দ্বিতীয় নারী, যিনি প্রধানমন্ত্রীর পদে আসীন হলেন।
মরক্কোর নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে কোনো একটি রাজনৈতিক দলের পক্ষে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করা বেশ কঠিন। তাই আশা করা হচ্ছে, ফাতিমা জাহরা আগামী দিনগুলোতে একটি জোট সরকার গঠন করবেন। তার নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের কাঁধে এখন বিশাল দায়িত্ব রয়েছে।
বিশেষ করে ২০৩০ সালের ফিফা বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ তদারকির পাশাপাশি দেশের মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, মজুরি বৃদ্ধি এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির মতো নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণে কাজ করবে তার প্রশাসন।
২০১১ সালের আরব বসন্তের পর মরক্কোর সংবিধানে আনা সংস্কারের ফলে, রাজা দেশের সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী হলেও, সংসদীয় নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি আসন পাওয়া দল থেকেই প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন করতে হয়। এর আগে, রাজা কোনো বিধিনিষেধ ছাড়াই প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দিতে পারতেন।
২০০৮ সালে রাজার বাল্যবন্ধু ও ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা ফুয়াদ আলী এল হিম্মার হাত ধরে 'প্যাম' গঠিত হলে ফাতিমা জাহরা এই দলে যোগ দেন। ফ্রান্সের মন্টপিলিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে স্নাতক সম্পন্ন করা ফাতিমা ২০২৪ সালে দলের অন্যতম প্রধান নেতা হয়ে ওঠেন। এর আগে তিনি মারাকেশের মেয়র এবং সংসদ সদস্য হিসেবে দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেছেন।
তার বাবা আবদেররহমান এল মানসুরি সংযুক্ত আরব আমিরাতে মরক্কোর সাবেক রাষ্ট্রদূত এবং মারাকেশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ছিলেন, যিনি ‘মারাকেশের পাশা’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ফাতিমা জাহরা সম্প্রতি মারাকেশে জমি লেনদেনের বিষয়ে ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে অজ্ঞাত হ্যাকারদের দ্বারা সমালোচিত হয়েছিলেন। তবে তিনি এই অভিযোগগুলোকে মানহানিকর আখ্যা দিয়ে তা অস্বীকার করেছেন এবং আইনি ব্যবস্থা নিয়েছেন।
গত সপ্তাহের নির্বাচনে মরক্কোর ১ কোটি ৫৮ লাখ নিবন্ধিত ভোটারের মধ্যে প্রায় ১০ লাখ ভোটার প্যামকে সমর্থন করেছেন, যা দলটির প্রতিষ্ঠার পর প্রথম বড় বিজয়। গত জুলাইয়ে সিউটা অভিবাসন সংকট এবং গত বছর তরুণদের নেতৃত্বে হওয়া প্রাণঘাতী বিক্ষোভের পর এটিই ছিল দেশের প্রথম নির্বাচন। এখন সবার দৃষ্টি পরবর্তী সরকার গঠনের দিকে।
প্যাম সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করলেও, মধ্যপন্থী ইসলামি দল ‘জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি’ এবং বামপন্থী ‘ফেডারেশন অব ডেমোক্রেটিক লেফট’-এর মতো কয়েকটি দল এরই মধ্যে বিরোধী দলে থাকার ঘোষণা দিয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশসহ বিশ্বের ২০টি দেশ ও অঞ্চল থেকে আমদানি করা কিছু বিশেষায়িত ওষুধে শতভাগ শুল্ক ছাড় দেওয়ার ঘোষণা করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগের ব্যুরো অব ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড সিকিউরিটি (বিআইএস) সম্প্রতি একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে শূন্য শুল্কের আওতাভুক্ত দেশ ও অঞ্চলের তালিকা প্রকাশ করেছে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) থেকে এই সুবিধা কার্যকর হতে যাচ্ছে যোগ্য পণ্যের জন্য। তবে উল্লেখ্য, বাংলাদেশের সব ওষুধ এই শুল্ক ছাড়ের আওতায় পড়বে না।
সরকারি নথি ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত তালিকায় বাংলাদেশের পাশাপাশি আর্জেন্টিনা, কম্বোডিয়া, ইকুয়েডর, এল সালভাদর, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, গুয়াতেমালা, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, জাপান, জর্ডান, মালয়েশিয়া, উত্তর মেসিডোনিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, সুইজারল্যান্ড ও লিশটেনস্টাইন, তাইওয়ান, থাইল্যান্ড, যুক্তরাজ্য এবং ভিয়েতনাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে সুইজারল্যান্ড ও লিশটেনস্টাইনকে একসঙ্গে উল্লেখ করা হয়েছে।
ছাড়ের আওতায় রয়েছে বিরল রোগের নির্দিষ্ট ওষুধ, নিউক্লিয়ার মেডিসিন, রক্তরস থেকে তৈরি চিকিৎসাপণ্য, বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধ এবং সেল ও জিন থেরাপির পণ্য। তালিকায় কিছু অ্যান্টিবডিভিত্তিক ওষুধ ও পশুচিকিৎসার পণ্যও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গত এপ্রিলের ঘোষণায় নির্দিষ্ট পেটেন্টযুক্ত ওষুধ ও সংশ্লিষ্ট উপাদান আমদানিতে নতুন শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। সেই সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে তালিকাভুক্ত বিশেষায়িত পণ্যগুলোর জন্য শূন্য শুল্কের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
বাণিজ্য বিভাগের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বর্তমানে জেনেরিক ওষুধ ও সংশ্লিষ্ট উপাদানের ওপর ওই নির্দিষ্ট শুল্ক প্রযোজ্য নয়। কোনো পণ্য নতুন ছাড় পাবে কি না, তা বিজ্ঞপ্তিতে নির্ধারিত ধরন ও শর্ত পূরণের ওপর নির্ভর করবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ