মঙ্গলবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১০:১৯ পি.এম
সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা এবং এর গঠন প্রক্রিয়া নিয়ে বিভিন্ন মতামত ও প্রস্তাব এসেছে।
তিনি উল্লেখ করেন, বিষয়টি নিয়ে আরও উন্মুক্ত আলোচনা প্রয়োজন। জনগণের জন্য যে প্রক্রিয়া সংসদ বিবেচনা করবে, সেটিই গ্রহণ করা হবে। তবে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার কীভাবে এবং কাদের নিয়ে গঠন করা হবে, সে বিষয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির চতুর্থ বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, বৈঠকে ইলেকট্রনিক মিডিয়া, টেলিভিশন চ্যানেল, অনলাইন পোর্টাল, বার্তা সংস্থা এবং বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সাংবাদিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের মতামত নেওয়া হয়েছে। আলোচনায় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও বিকেন্দ্রীকরণ, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ, সংবিধানের প্রস্তাবনা এবং রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে মতামত উঠে এসেছে।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জুলাই জাতীয় সনদে এ বিষয়ে কিছু প্রস্তাব ও ভিন্নমত রয়েছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের জন্য কোন কোন ধাপ অনুসরণ করা হবে, সে বিষয়ে একাধিক বিকল্প প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হতে পারে। রাজনৈতিক দলসহ সংশ্লিষ্ট সবার কাছ থেকে প্রস্তাব আহ্বান করা হয়েছে।
সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগকে অংশগ্রহণমূলক করতে কমিটি সব রাজনৈতিক দলকে আলোচনায় আসার আহ্বান জানিয়েছে। বিরোধী দলের কোনো বক্তব্য বা প্রস্তাব থাকলে তা আলোচনা মাধ্যমে বিবেচনা করা যেতে পারে।
তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের সর্বোচ্চ ১০ বছর নির্ধারণের প্রস্তাব নিয়েও বৈঠকে মতামত এসেছে। কেউ কেউ মনে করেন, প্রধানমন্ত্রীর পদে থাকার সময়সীমা নির্ধারণ করা গণতান্ত্রিক অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। জনগণ যদি কোনো নেতাকে পুনরায় দায়িত্বে দেখতে চায়, তাহলে সেই সুযোগ থাকা উচিত-এমন মতামতও এসেছে। তবে ব্যক্তিকেন্দ্রিক বা কর্তৃত্ববাদী শাসন প্রতিষ্ঠার সুযোগ যেন তৈরি না হয়, সে বিবেচনায় ১০ বছরের সীমা নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বিএনপি ১০ বছরের সীমা নির্ধারণের যে প্রস্তাব জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়নের সময় দিয়েছিল, সে অবস্থান থেকে তারা এখনও সরে আসেনি।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ যেভাবে প্রণীত ও স্বাক্ষরিত হয়েছে, কমিটি সেটি বাস্তবায়নে অঙ্গীকারবদ্ধ। তবে কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে সনদের কোনো বিষয়ে ভিন্ন প্রস্তাব থাকলে আলোচনা মাধ্যমে তা বিবেচনা করা যেতে পারে।
দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশ একক রাষ্ট্র হওয়ায় দেশের জন্য দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ প্রয়োজন কিনা, সে বিষয়ে বৈঠকে প্রশ্ন উঠেছে। তবে জুলাই জাতীয় সনদে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ গঠনের বিষয়ে ঐকমত্য হওয়ায় কমিটি সেই সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে এগোতে চায়। সংসদে এ বিষয়ে নতুন প্রস্তাব এলে তা বিবেচনার সুযোগ থাকবে।
কমিটির সভাপতি জানান, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত নেওয়ার পর সংবিধান বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রণয়ন করা হবে। পরে সেই প্রতিবেদন জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হবে এবং এর ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধনের বিল সংসদে আসবে। সংসদে বিল নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি সংসদের বাইরেও মতামত নেওয়ার সুযোগ থাকবে। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সাবেক সদস্য ও জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়নে ভূমিকা রাখা ব্যক্তিদের সঙ্গেও কমিটি আলোচনা করবে। এ বিষয়ে আগেই সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়নের ভিত্তি ছিল ছয়টি সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন। এসব কমিশনের সঙ্গে প্রায় সব রাজনৈতিক দলের আলোচনা হয়েছে এবং পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনগুলোর ভিত্তিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন কাজ করেছে। অন্য সংস্কার কমিশনগুলোর প্রতিবেদন বর্তমানে সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়ার বাধ্যতামূলক অংশ নয়। তবে সরকার প্রয়োজন মনে করলে ভবিষ্যতে কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে নতুন সংস্কার কমিশন গঠন করে সুপারিশ নিতে পারে। যেমন, গণমাধ্যম সংস্কার নিয়ে আলাদা কমিশন গঠন করা হলে তার বাস্তবায়নযোগ্য সুপারিশও পরবর্তীতে বিবেচনা করা সম্ভব।
তিনি আরও যোগ করেন, সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি পর্যায়ক্রমে সংবিধান বিশেষজ্ঞ, আইনজীবী, বিচারক ও সাবেক বিচারক, শিক্ষাবিদ, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সামাজিক শক্তি, সংগঠন ও ব্যক্তিত্ব এবং গত ১৭ বছরে বিভিন্নভাবে নিপীড়নের শিকার ব্যক্তিদের পরিবার ও জীবিত ব্যক্তিদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করবে। জুলাইয়ের শহীদদের পরিবারের সঙ্গেও মতবিনিময় করা হবে।
বৈঠকে কমিটির সদস্য ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীন, কমিটির সদস্য ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, কমিটির সদস্য ও প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক, কমিটির সদস্য ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, কমিটির সদস্য ও সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন এবং কমিটির সদস্য মো. মাহমুদুল হক রুবেল উপস্থিত ছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঢাকায় নিযুক্ত রুশ ফেডারেশনের রাষ্ট্রদূতের প্রেস সেক্রেটারি সোফিয়া কুতেপোভা মন্তব্য করেছেন যে, ইরানকে ঘিরে সংঘাত শুরু হওয়ার পূর্বে সামরিক, রাজনৈতিক ও প্রচারণামূলক প্রস্তুতির মাধ্যমে বড় ধরনের সংঘাতের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছিল।
তিনি মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ ও বিশ্ব মিডিয়া: নৈতিক দায়বদ্ধতা ও আত্মপর্যালোচনা’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সেমিনারে এ কথা বলেন।
সোফিয়া কুতেপোভার মতে, সংঘাতের সূচনার আগে সামরিক ও রাজনৈতিক প্রস্তুতির পাশাপাশি প্রচারণার যে মাত্রা দেখা গিয়েছিল, তা বড় ধরনের সংঘাতের সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছিল। সংঘাত শুরু হওয়ার ঘটনায় রাশিয়া গভীরভাবে মর্মাহত হয়েছিল বলেও তিনি জানান।
ইরানের সক্ষমতা সম্পর্কে তিনি বলেন, সংঘাতের পর ইরান নিজেকে একটি শক্তিশালী ও স্থিতিস্থাপক রাষ্ট্র হিসেবে তুলে ধরেছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে সহজ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করার ক্ষেত্রে সফল হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সাংবাদিকতায় আগ্রহী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে সোফিয়া কুতেপোভা তথ্য যাচাইয়ের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তার মতে, পাঠক ও দর্শকদের সঠিক তথ্য প্রদান করতে সাংবাদিকদের প্রতিটি তথ্যের সত্যতা যাচাই করা জরুরি।
রুশ দূতাবাসের প্রেস সেক্রেটারি জানান, দূতাবাসে দায়িত্ব গ্রহণের আগে তিনি রাশিয়ার একটি সংবাদমাধ্যমে কাজ করেছেন। নিজের পেশাগত অভিজ্ঞতা থেকে সাংবাদিকতায় সত্য ও তথ্য যাচাইকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
উল্লেখ্য, উক্ত সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের চেয়ারম্যান ড. শাহ মো. নিসতার জাহান কবীর। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সুইডেনের উপসালা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক গ্রেগরি জে. সিমনস। অনুষ্ঠানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন, ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমী জাহানাবাদী, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সাবিনা শারমীনসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
খাদ্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক সুকুমার রায়। ২০১৭ সালে সরকারের তৃতীয় গ্রেডের এই কর্মকর্তা চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করেন। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, তার চাকরির শেষ সময়ে মাসিক বেতন ও ভাতা মিলিয়ে প্রায় ৯০ হাজার টাকা ছিল। এই বেতনের চাকরি করে তিনি একটি বিশাল সম্পদের সাম্রাজ্য গড়েছেন।
সম্প্রতি একটি অনুসন্ধানে তার এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নামে বিপুল পরিমাণ ব্যাংক আমানত, সঞ্চয়পত্র, জমি ও ফ্ল্যাটের তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
অনুসন্ধান থেকে জানা যায়, সোনালী ব্যাংকে সুকুমার রায়ের নামে অন্তত ৫১ কোটি টাকার আমানত রয়েছে। তার নিজের নামে ১ কোটি ২২ লাখ ৫১ হাজার টাকার সঞ্চয়পত্র রয়েছে। ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার রামদিয়া মৌজায় তার নামে ২২০ শতাংশ ও ৩০ শতাংশ—দুটি জমির তথ্যও পাওয়া গেছে। ঢাকার পল্টন এলাকায় একটি ফ্ল্যাট এবং ফরিদপুর সদর এলাকায় আরেকটি ফ্ল্যাট রয়েছে।
সুকুমার রায় খাদ্য অধিদপ্তরের পরিচালক পদ থেকে ২০১৭ সালে অবসরে যান। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা গেছে, অবসরের পর তিনি এককালীন প্রায় ৮০ লাখ টাকা পেনশন পেয়েছেন। চাকরির সময়ে তার মোট বেতন-ভাতা প্রায় ১ কোটি টাকা ছিল।
অর্থাৎ, চাকরিকালীন আয় ও পেনশন মিলিয়ে একজন তৃতীয় গ্রেডের কর্মকর্তার সর্বোচ্চ ২ কোটি টাকা আয় হওয়ার কথা। কিন্তু তার ব্যাংক হিসাবে কমপক্ষে ৫১ কোটি টাকা আমানত রয়েছে বলে জানা গেছে।
এত টাকা ও জমি তিনি কিভাবে অর্জন করেছেন, তার সঠিক ব্যাখ্যা নেই। সুকুমার রায়ের আয়কর নথিতে এসব সম্পদের কোনো তথ্য নেই।
এসব অভিযোগের বিষয়ে দেশের একটি বেসরকারি গণমাধ্যমকে সুকুমার জানিয়েছেন, "আমার ৫০০ কোটি টাকার সম্পদ আছে। তাতে আপনাদের কী? আপনি খুঁজে দেখেন আমার আরো অনেক সম্পদ রয়েছে।" এরপর তিনি ফোন কেটে দেন।
এদিকে, সুকুমার রায়ের স্ত্রী বনশ্রী বোস নিজেকে গৃহিণী হিসেবে দাবি করলেও তার নামে থাকা সোনালী ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে ২৫ কোটি ৫০ লাখ টাকার আমানত রয়েছে। এছাড়া আইএফআইসি ব্যাংকে তার একটি হিসাবও রয়েছে, যার নাম্বার ০১৯০৩১৫২৭৩-৮১১। এই হিসাবটি খুলতে তিনি নিজেকে চাকরিজীবী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন, কিন্তু কোথায় চাকরি করেন সে সম্পর্কে কোনো তথ্য দিতে পারেননি।
জানা গেছে, বনশ্রী বোসের নামে ৫৫ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র রয়েছে। এর মধ্যে ৩ মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র আমানত রয়েছে ৫ লাখ টাকার। এছাড়া পরিবার সঞ্চয়পত্র হিসেবে ৩০ লাখ টাকা এবং ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংক আমানত হিসেবে ১০ লাখ টাকা রয়েছে। বনশ্রী বোসের নামে ফরিদপুর সদরের শ্রীঅংগন দক্ষিণ পল্লী এলাকায় একটি বাড়ি রয়েছে।
এছাড়া, বনশ্রী বোসের সোনালী ব্যাংকের ৪টি অ্যাকাউন্টের তথ্য থেকে জানা যায়, হিসাব নাম্বার ২০১১০৫০৫০০০৭৪০ এর বিপরীতে ২ কোটি টাকা ফিক্সড ডিপোজিট (এফডিআর) রয়েছে। ২০১১০৫০৫০০০৮১৩ হিসাব নাম্বারের বিপরীতে ২ কোটি ৫০ লাখ টাকার এফডিআর রয়েছে। ২০১১০৫০৫০০০১৯১ হিসাব নাম্বারের বিপরীতে ১১ কোটি টাকা এবং ২০১১০৫০৫০০০২১৭ হিসাবে ১০ কোটি টাকার এফডিআর রয়েছে। এসব এফডিআর করার সময়ে দেখানো হয়েছে বাবার বাড়ি থেকে প্রাপ্ত সম্পদ এবং জমি বিক্রয়ের টাকা। কিন্তু বনশ্রী বোসের ট্যাক্স ফাইলে এসব সম্পদের কোনো বিবরণ নেই।
সুকুমারের স্ত্রী ছাড়াও তার বড় ছেলে সৌমেন রায়ের অ্যাকাউন্টে অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য বেরিয়ে এসেছে। জানা গেছে, সৌমেন রায়ের অ্যাকাউন্টে ৪০ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে তার মা বনশ্রী বোসের আইএফআইসি ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট থেকে।
ফলে খাদ্য অধিদপ্তরের সাবেক এই পরিচালকের বিপুল সম্পদের তথ্য নিয়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করার কথা জানিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মহাপরিচালক খোন্দকার ফরহাদ আহমেদ।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (মাভাবিপ্রবি) বৃক্ষরোপণের একটি কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে টাঙ্গাইল সচেতন নাগরিক ফোরামের উদ্যোগে এই কর্মসূচি আয়োজিত হয়।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক মো. আনিছুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল সচেতন নাগরিক ফোরামের উপদেষ্টা মনোয়ার মোহাম্মদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির সভাপতি আকিবুর রহমান ইকবাল।
এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করা হয়। আয়োজকরা জানান, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও ক্যাম্পাসের সবুজায়ন বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
অধ্যাপক মো. আনিছুর রহমান প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, ‘বর্তমানে সারা বিশ্বে বাস্তুতান্ত্রিক সংকট চলছে। যদি আমরা বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে এই ভারসাম্য ফিরিয়ে না আনি, তাহলে মানবজাতি হুমকির মধ্যে পড়বে। টাঙ্গাইল সচেতন নাগরিক ফোরামের ‘গ্রিন টাঙ্গাইল’ গড়ার প্রচেষ্টাকে আমরা স্বাগত জানাই। বৃক্ষরোপণে আমাদের সবাইকে সচেতন ও উৎসাহিত হতে হবে।’
সভাপতির বক্তব্যে আকিবুর রহমান ইকবাল বলেন, ‘গাছ হলো প্রকৃতি। এই গাছই আমাদের বাঁচিয়ে রেখেছে। তাই গাছকেও আমাদের বাঁচিয়ে রাখতে হবে। আমাদের সংগঠনের কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য ‘ক্লিন টাঙ্গাইল, গ্রিন টাঙ্গাইল’। এর অংশ হিসেবে আমরা বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গাছ লাগাচ্ছি এবং মানুষকে সচেতন করছি।’
কর্মসূচিতে সার্বিক সহযোগিতা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট পরিচালক ড. আবু জাফর শিবলী। এই সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং টাঙ্গাইল সচেতন নাগরিক ফোরামের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মিয়ানমার এবং তৎসংলগ্ন উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগর অঞ্চলে অবস্থানরত স্থল নিম্নচাপের প্রভাবে চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, এমনটি জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুসারে, মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগের কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও চট্টগ্রাম জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের সতর্কবার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে, এই সময়ে ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার পর্যন্ত ভারী এবং ৮৮ মিলিমিটারের বেশি অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে।
ভারী বৃষ্টির কারণে এসব জেলার পাহাড়ি এলাকায় কোথাও কোথাও অস্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে ভূমিধসের ঝুঁকিও রয়েছে, এমন সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ