মঙ্গলবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৭:২৯ পি.এম
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী মন্তব্য করেছেন যে, জ্বালানি সংকটের পরিস্থিতির মধ্যে বিরোধী দলের কিছু গাড়ি রংপুরে লংমার্চের সময় টোল পরিশোধ করেনি, যেখানে সাড়ে চারশো গাড়ি নিয়ে তারা সেখানে গিয়েছিল।
তিনি মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ‘গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সরকার ও বিরোধী দলের ভূমিকা’ শীর্ষক একটি আলোচনা সভায় এই তথ্য জানান।
রিজভী বলেন, জ্বালানি সংকটের সময় বিরোধী দল সাড়ে চারশো গাড়ি নিয়ে রংপুরে লংমার্চে অংশগ্রহণ করেছে। বিশ্ব রাজনৈতিক পরিস্থিতি বুঝে, জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে তারা এই কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, যাওয়ার পথে কিছু গাড়ির টোলও তারা পরিশোধ করেনি।
জ্বালানি তেলের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, দেশের অধিকাংশ তেল হরমুজ প্রণালী দিয়েই আসে।
মূল্য সমন্বয়ের পরেও সরকারকে ৭০ টাকা ভর্তুকি দিতে হবে, কিন্তু বিরোধী দল জনগণকে বিভ্রান্তকর তথ্য প্রদান করছে।
রুহুল কবির রিজভী বিগত সরকারের আমলের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, শেখ হাসিনা গুম, খুন ও মিডিয়া কন্ট্রোলের মাধ্যমে শাসন করতেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, আবারও কি বিরোধীরা সেই পথে হাঁটছে?
তিনি বলেন, বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ ও অগ্নিসংযোগ ঘটছে। এসব কর্মকাণ্ড কেবল পতিত স্বৈরাচারের কাজ নয়, বরং সন্ত্রাসী কার্যক্রমের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করা হচ্ছে।
জামায়াতে ইসলামীর সমালোচনা করে বিএনপির এই নেতা বলেন, জনগণের পক্ষে কোনো আন্দোলনে জামায়াতের কোনো ভূমিকা নেই। তাদের নীতি ও নৈতিকতা অনুপস্থিত। তারা মোনাফেকি করছে, যা কাফেরের চেয়েও খারাপ। জনগণের সঙ্গে বারবার প্রতারণার ফলে তাদের চূড়ান্ত সফলতা আসেনি।
বর্তমান সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরে রুহুল কবির রিজভী বলেন, অপপ্রচারের ঘেরাটোপের মধ্যে ন্যায়সংগত সরকারের কর্মকাণ্ডকে বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
পেট্রোলিয়াম লেভির বিরুদ্ধে রাজধানী ইসলামাবাদমুখী লং মার্চ স্থগিত রাখার জন্য পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ জামায়াতে ইসলামীর আমির হাফিজ নাঈমুর রহমানকে অনুরোধ করেছেন। একইসঙ্গে, তিনি জ্বালানি কর নিয়ে জামায়াতের সঙ্গে অর্থবহ আলোচনা করার প্রস্তাবও দিয়েছেন।
পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম দ্য নিউজ ইন্টারন্যাশনালের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তানের এক মুখপাত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইসলামাবাদমুখী মার্চের সময় জামায়াতের আমির মুলতানে পৌঁছানোর পর শেহবাজ তাকে ফোন করেন। এ সময় তিনি জামায়াতের ইসলামাবাদমুখী মার্চ স্থগিত রাখার অনুরোধ করেন।
যদিও লং মার্চ স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, তবুও প্রতিবাদ করার অধিকার জামায়াত ছাড়বে না বলে জানিয়েছেন দলটির আমির।
হাফিজ নাঈম এ বিষয়ে বলেন, সরকারকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির বা সংঘাতের মুখে ফেলা জামায়াতের উদ্দেশ্য নয়। তবে জনগণের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরার জন্য তারা রাস্তায় নেমেছেন এবং প্রতিবাদ করার অধিকার সরকারকে সম্মান করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রীর অনুরোধের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে বিষয়টি দলের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী পরিষদ শুরার সঙ্গে আলোচনা করা হবে বলেও জানান জামায়াতের আমির। তিনি বলেন, সরকারের অনুরোধে মার্চ স্থগিত করা হলেও প্রতিবাদ করার অধিকার জামায়াত ছাড়বে না।
পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, পেট্রোলিয়াম লেভির বিরুদ্ধে হাফিজ নাঈমের নেতৃত্বে জামায়াতের ট্রেন মার্চ সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে মুলতানে পৌঁছায়। সেখানে রেলস্টেশনে সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন জামায়াতের আমির।
তিনি জানান, ট্রেনটি চার ঘণ্টা দেরিতে মুলতানে পৌঁছেছে। তবে এই বিলম্বও সমর্থকদের মার্চকে স্বাগত জানাতে আসা ঠেকাতে পারেনি। হাফিজ নাঈম বলেন, “যারা ষড়যন্ত্র করেছিল, তারা মুলতানে আমাদের স্বাগত জানাতে কত মানুষ বেরিয়ে এসেছে, তা দেখুক।”
বেলুচিস্তান ও খাইবার পাখতুনখাওয়ার বিভিন্ন শহর ও জনপদেও একইভাবে মানুষ জামায়াতের এই মার্চকে স্বাগত জানাচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। তিনি জানান, এই মার্চ দক্ষিণ পাঞ্জাব হয়ে মধ্য পাঞ্জাবে যাবে।
সরকারের উদ্দেশে পাকিস্তান জামায়াতের আমির বলেন, রাস্তায় কনটেইনার ফেলে, বাধা দিয়ে এই মার্চ থামানো যাবে না। তিনি পেট্রোলিয়াম লেভির মধ্যে থাকা কথিত ‘চাঁদাবাজির কর’ প্রত্যাহার এবং জনগণকে স্বস্তি দেয়ার দাবি জানান।
জামায়াতের আমির বলেন, তারা দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত মানুষের সমস্যাগুলো তুলে ধরছেন। তার অভিযোগ, সাধারণ মানুষের সমস্যাগুলো রাজনৈতিক দলগুলো যথাযথভাবে গুরুত্ব দিচ্ছে না। ভোক্তাদের ওপর অর্থনৈতিক চাপের উদাহরণ হিসেবে গম, আটা ও চিনির দাম বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করেন তিনি।
হাফিজ নাঈম অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আটা ও চিনি ব্যবসায়ীদের প্রভাব রয়েছে। তিনি সরকারের নীতিতে অসঙ্গতি রয়েছে বলেও সমালোচনা করেন।
স্বাধীন বিদ্যুৎ উৎপাদনকারীদের সঙ্গে সরকারের চুক্তি নিয়েও জামায়াতের আগের আন্দোলনের কথা তুলে ধরেন তিনি। ওই ক্ষেত্রেও দলটি জনগণের স্বার্থ তুলে ধরেছিল বলে দাবি করেন জামায়াতের আমির।
সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, গত রোববার পেট্রোলিয়াম লেভির বিরুদ্ধে করাচি থেকে লং মার্চ শুরু করে জামায়াতে ইসলামী। পরে ট্রেন ও সড়কপথে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে সেই আন্দোলন ইসলামাবাদের দিকে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
সম্প্রতি দলটি দেশের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভও করেছে। এর আগে দাবিগুলো নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে কয়েক দফা আলোচনাও করেছে জামায়াত।
এদিকে মুলতানে পৌঁছানোর পর জামায়াতের এই বহর লাহোরের দিকে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছে। এরপর লং মার্চের শেষ ধাপে ইসলামাবাদের দিকে অগ্রসর হবেন জামায়াতের নেতাকর্মীরা।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বলিউডের অভিনেত্রী রানি মুখার্জির মা কৃষ্ণা মুখার্জি আর বেঁচে নেই।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ৭৫ বছর বয়সে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। রানি মুখার্জির প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান যশ রাজ ফিল্মস তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। তবে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে এখনও কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
যশ রাজ ফিল্মসের একটি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, তারা অত্যন্ত ভারাক্রান্ত হৃদয়ে রানি মুখার্জির মা মিসেস কৃষ্ণা মুখার্জির মৃত্যুর খবর জানাচ্ছে। এই কঠিন সময়ে পরিবারের প্রতি ভালোবাসা, প্রার্থনা ও সমর্থনের জন্য সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। একই সঙ্গে পরিবারের ব্যক্তিগত পরিসরকে সম্মান করার অনুরোধও জানানো হয়েছে।
কৃষ্ণা মুখার্জিকে বিভিন্ন সময় তার মেয়ের সঙ্গে প্রকাশ্যে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দেখা গেছে। রানি মুখার্জি বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে মায়ের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেছেন।
শুধুমাত্র রানি মুখার্জির মা হিসেবেই নয়, কৃষ্ণা মুখার্জি বাংলা চলচ্চিত্র অঙ্গনের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। তিনি প্লেব্যাক শিল্পী হিসেবেও কাজ করেছেন।
মায়ের মৃত্যুর পর মুখার্জি পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে এই কঠিন সময়ে সবার ভালোবাসা, প্রার্থনা ও সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানানো হয়েছে।
রানি মুখার্জি ‘গুলাম’, ‘কুচ কুচ হোতা হ্যায়’, ‘সাথিয়া’, ‘হাম তুম’ ও ‘ব্ল্যাক’-এর মতো জনপ্রিয় সিনেমায় অভিনয় করে বলিউডে তার শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন। সর্বশেষ ২০২৬ সালে মুক্তি পাওয়া ‘মারদানি ৩’ সিনেমায় তাকে দেখা গেছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জ্বালানি তেলের দাম আবারও বেড়ে গেল। ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রল ও অকটেন—এই চার ধরনের তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বৃদ্ধি করা হয়েছে।
রোববার প্রকাশিত এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, নতুন দাম কার্যকর হবে আগামীকাল সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর থেকে। এর ফলে ডিজেলের নতুন দাম হবে ১৩৫ টাকা, কেরোসিনের ১৫৫, পেট্রলের ১৬০ এবং অকটেনের ১৬৫ টাকা লিটার।
পূর্বে ডিজেলের দাম ছিল ১১৫, কেরোসিন ১৩৫, পেট্রল ১৪০ এবং অকটেন ১৪৫ টাকা লিটারে। অর্থাৎ, একদিনেই চার ধরনের জ্বালানির দাম ২০ টাকা করে বেড়ে গেল।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে মার্চ মাস থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও ফ্রেইট চার্জ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
যদিও আন্তর্জাতিক বাজারে দাম দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে, তবে জনস্বার্থে দেশে তা পুরোপুরি সমন্বয় করা হয়নি। এর ফলে মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) প্রায় ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে।
এর আগে ১৯ এপ্রিল ডিজেলের দাম ১৫ টাকা বাড়িয়ে ১১৫ টাকা করা হয়েছিল। একই সময়ে কেরোসিন, পেট্রল ও অকটেনের দাম যথাক্রমে ১৮, ১৯ এবং ২০ টাকা বৃদ্ধি করা হয়। জুন মাসে কেরোসিন, পেট্রল ও অকটেনের দাম আরও ৫ টাকা করে বাড়ানো হয়। এরপর জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত দাম অপরিবর্তিত ছিল।
প্রজ্ঞাপনের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান আন্তর্জাতিক বাজারদরে ডিজেলে প্রতি লিটারে বিপিসির লোকসান প্রায় ৮৯ টাকা। এতে দৈনিক লোকসান প্রায় ১০৯ কোটি টাকা। শুধুমাত্র ডিজেলেই বছরে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা লোকসান হতে পারে।
লিটারপ্রতি ২০ টাকা দাম বৃদ্ধির ফলে বছরে বিপিসির লোকসান প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা কমানো সম্ভব হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
নতুন দাম কার্যকর হলে পরিবহন, কৃষি ও পণ্য পরিবহনের ব্যয় বৃদ্ধি পেতে পারে। এর ফলে নিত্যপণ্যের বাজারেও প্রভাব পড়তে পারে।
তেলের দাম বৃদ্ধির পেছনে বিপিসির বড় আর্থিক চাপ রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় আমদানি ব্যয় কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। অন্যদিকে, দেশে তুলনামূলক কম দামে তেল বিক্রি করায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) বড় লোকসান গুনছে।
এ কারণে সংস্থাটির নিজস্ব তহবিল দ্রুত কমে আসছে। তেল আমদানি স্বাভাবিক রাখতে সরকার বর্তমানে বিপিসিকে ৪ থেকে ৫ হাজার কোটি টাকা সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিপিসির ব্যাংক হিসাবে বর্তমানে প্রায় ১২ হাজার ৩৬৮ কোটি টাকা রয়েছে। এই অর্থ দিয়ে সেপ্টেম্বরের আমদানি ব্যয় মেটানো গেলেও অক্টোবরে তেল আমদানি অব্যাহত রাখতে অর্থসংকট তৈরি হতে পারে।
বছরের শুরু থেকে তেলের দাম
চলতি বছরের শুরুতে জ্বালানি তেলের দাম দুই দফায় কমানো হয়েছিল। ফেব্রুয়ারিতে ডিজেলের দাম ১০০, কেরোসিন ১১২, পেট্রল ১১৬ ও অকটেন ১২০ টাকা হয়। মার্চ মাসে দাম অপরিবর্তিত ছিল।
এপ্রিলে বড় ধরনের সমন্বয়ে ডিজেলের দাম ১৫ টাকা বা ১৫ শতাংশ, কেরোসিন ১৮ টাকা বা ১৬ দশমিক ০৭ শতাংশ, পেট্রল ১৯ টাকা বা ১৬ দশমিক ৩৮ শতাংশ এবং অকটেন ২০ টাকা বা ১৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ বৃদ্ধি পায়।
জুন মাসে কেরোসিন, পেট্রল ও অকটেনে আরও ৫ টাকা করে বৃদ্ধি করা হয়। এই বৃদ্ধির হার ছিল যথাক্রমে ৩ দশমিক ৮৫, ৩ দশমিক ৭০ ও ৩ দশমিক ৫৭ শতাংশ। এরপর জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত দাম অপরিবর্তিত ছিল।
বর্তমানে ডিজেলের দাম ১১৫ টাকা, কেরোসিন ১৩৫ টাকা, পেট্রল ১৪০ টাকা এবং অকটেন ১৪৫ টাকা লিটার। জানুয়ারির তুলনায় বর্তমানে ডিজেলের দাম ১২ দশমিক ৭৫ শতাংশ, কেরোসিন ১৮ দশমিক ৪২ শতাংশ, পেট্রল ১৮ দশমিক ৬৪ শতাংশ এবং অকটেন ১৮ দশমিক ৮৫ শতাংশ বেশি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) এক বছরের দায়িত্ব পালনের সময় ৩৩৮টি কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়ন করেছে। এই উন্নয়ন ও শিক্ষার্থী কল্যাণমূলক কার্যক্রমের মোট আর্থিক মূল্য প্রায় ৩ কোটি ৫২ লাখ টাকা। তবে, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জাকসু মাত্র ১৮ লাখ টাকা পেয়েছে। বাকি অর্থের একটি বড় অংশ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ফার্মের স্পনসরশিপ এবং সহযোগিতার মাধ্যমে এসেছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকালে জাকসু ভবনের সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য উপস্থাপন করেন জাকসুর সদ্য সাবেক সহকারী সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) ফেরদৌস আল হাসান।
জাকসুর তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে সভা-সেমিনার, প্রশিক্ষণ, আবাসিক হলের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যসেবা, গবেষণা, ক্যারিয়ার উন্নয়ন, পরিবহণ ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমসহ বিভিন্ন খাতে এসব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
ফেরদৌস আল হাসান উল্লেখ করেন, ২০২৫ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর জাকসুর নির্বাচিত প্রতিনিধিরা শপথ নিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন ফার্মের সহযোগিতা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করা সত্ত্বেও বাজেট সংকটের কারণে প্রত্যাশিত সমাধান পাওয়া যায়নি। পরে স্পনসরশিপ ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়।
জাকসুর দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টার আধুনিকায়নে প্রায় ২৫ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। ২১টি আবাসিক হলে ডেস্কটপ কম্পিউটার সেটআপ ও টেবিল সরবরাহে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। হলগুলোতে গরম ও ঠান্ডা পানির সুবিধাসহ আধুনিক ফিল্টার স্থাপনে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৭ লাখ টাকা। প্রতিটি হলে বুস্টার স্থাপনে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৪৭ হাজার টাকা। এছাড়া ১৬টি আবাসিক হল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মন্দিরে ধর্মীয় পাঠাগার স্থাপনে প্রায় ৮ লাখ ৮৯ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সেবা সহজ করতে ‘টিউটর হাব’ ওয়েবসাইট তৈরিতে ৪৫ হাজার টাকা, ‘জাবি’ ওয়েবসাইটে ৫০ হাজার টাকা এবং রক্তদানবিষয়ক ওয়েবসাইট তৈরিতে ৩৫ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে ট্র্যাকার মেশিন স্থাপন ও বাস ট্র্যাকিং ব্যবস্থা চালু করতে প্রায় ২ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। তবে স্পনসরশিপের কারণে এ খাতে জাকসুর প্রকৃত ব্যয় কমেছে। জাকসুর নিজস্ব ওয়েবসাইট তৈরিতেও ৫০ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। এটিও স্পনসরনির্ভর বলে জানিয়েছে জাকসু।
ক্যারিয়ার ও উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের ধারণা দিতে ‘ক্যারিয়ার পাথ অ্যান্ড হায়ার এডুকেশন এক্সপো’ আয়োজন করা হয়। এতে দুই হাজারের বেশি শিক্ষার্থী অংশ নেন। কর্মসূচিটির আর্থিক মূল্য প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে এতে কোনো অর্থ ব্যয় করা হয়নি। ‘ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশন এক্সপো’তে অংশ নেন প্রায় ২ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থী। কর্মসূচিটির আর্থিক মূল্য প্রায় ৪ লাখ টাকা। এর বিপরীতে জাকসু থেকে দেওয়া হয় ২৫ হাজার টাকা।
দুই ধাপে বিনামূল্যে আইইএলটিএস কোর্সে ৭০০-এর বেশি শিক্ষার্থী অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। প্রথম ধাপে ৩০০-এর বেশি এবং দ্বিতীয় ধাপে প্রায় ৪০০ শিক্ষার্থী অংশ নেন। কোর্স দুটির আর্থিক মূল্য যথাক্রমে প্রায় ৩ লাখ ও ৪ লাখ টাকা। তবে এসব কর্মসূচিতে জাকসুর কোনো অর্থ ব্যয় হয়নি।
বেসিক কম্পিউটার কোর্সে প্রায় এক হাজার এবং ‘অ্যাডভান্স কম্পিউটার স্কিল ফর একাডেমিক ইউজ’ কোর্সে এক হাজারের বেশি শিক্ষার্থী অংশ নেন। কোর্স দুটির আর্থিক মূল্য যথাক্রমে প্রায় ৫ লাখ ১৫ হাজার ও ২ লাখ টাকা। ‘ফ্লুয়েন্ট ফিউচার ল্যাঙ্গুয়েজ কোর্স’-এ ইংরেজি, জাপানি ও সফট স্কিল বিষয়ে ৬০০-এর বেশি শিক্ষার্থী প্রশিক্ষণ পেয়েছেন। এ কর্মসূচির আর্থিক মূল্য প্রায় ১২ লাখ টাকা। ‘নেক্সট জেনারেশন রিসার্চ মেথডোলজি কোর্স উইথ রিসার্চ প্রজেক্ট’-এ বিজ্ঞান, আইবিএ, ব্যবসা এবং কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান শাখার প্রায় ৪৫০ শিক্ষার্থী অংশ নেন। এ কর্মসূচির আর্থিক মূল্য প্রায় ১৬ লাখ টাকা।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, জাকসুর উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে বড় পরিসরে জব ফেয়ার আয়োজন করা হয়েছে। এতে প্রায় ৭ হাজার শিক্ষার্থী অংশ নেন। কর্মসূচিটির আর্থিক মূল্য প্রায় ১৬ লাখ টাকা। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের স্পনসরশিপের কারণে জাকসুর নিজস্ব ব্যয় ছিল প্রায় ১ থেকে দেড় লাখ টাকা। শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যসেবা দিতে ‘মেন্টাল হেলথ ফ্রি কাউন্সেলিং ক্যাম্প’ আয়োজন করা হয়। এতে ৮০০-এর বেশি শিক্ষার্থী সেবা নেন। প্রায় ২০ জন চিকিৎসক এতে অংশ নেন। কর্মসূচিটির আর্থিক মূল্য ছিল প্রায় ৯ লাখ ৭৮ হাজার টাকা। শিক্ষার্থীদের বিনোদনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনটি স্থানে বিশ্বকাপ ফুটবল ম্যাচ বিনামূল্যে দেখানোর ব্যবস্থা করা হয়। জাকসুর হিসাবে এ আয়োজনের আর্থিক মূল্য প্রায় ৩৮ লাখ টাকা। এ ছাড়া ‘জাগরণ’ ও জাকসুর ম্যাগাজিন প্রকাশে পৃথকভাবে প্রায় ২ লাখ টাকা করে ব্যয় হয়েছে। জিমনেশিয়াম আধুনিকায়ন প্রকল্পেও ৫ লাখ টাকার স্পনসর সংগ্রহ করা হয়েছে। নারী শিক্ষার্থীদের জন্য সাত দিনব্যাপী সাইকেল ও স্কুটি প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়। এতে প্রায় ৫৫০ জন নারী শিক্ষার্থী অংশ নেন। স্পনসরের মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হলেও সংবাদ সম্মেলনে স্পনসর প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবদানের পূর্ণাঙ্গ পরিমাণ জানানো হয়নি।
ফেরদৌস আল হাসান বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর শিক্ষার্থীদের সরাসরি উপকারে আসে—এমন প্রকল্পকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব বরাদ্দের পাশাপাশি স্পনসরশিপ ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় এসব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ