০৭:৪৭ পি.এম
চলতি বছরের শুরু থেকেই অস্থিরতা চোখে পড়ছে স্বর্ণের বাজারে। যার ফলস্বরূপ চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসেই স্বর্ণের দাম সমন্বয় হয়েছে ৮৪ বার।
বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) জানিয়েছে, চলতি বছরের প্রথম ৬ মাসে দেশের বাজারে ৪১ বার বেড়েছে স্বর্ণের দাম, ৪২ দফা দাম কমানো হয়েছে এবং ১ দফা ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে। গত বছরের একই সময়ে স্বর্ণের দাম সমন্বয় হয়েছিল মাত্র ৪০ বার।
চলতি বছর শুরু হয়েছিল স্বর্ণের দাম পতনের মাধ্যমে। ১ জানুয়ারি ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরির দাম ১ হাজার ৪৫৮ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ২২ হাজার ৭২৪ টাকা। সেই মাসের মধ্যে মোট ১৯ বার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল, এর মধ্যে দাম বেড়েছিল ১৪ বার; এবং কমেছিল মাত্র ৫ বার।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
এর মধ্যে ৪ ও ৫ জানুয়ারি টানা ২ দফা বাড়ানো হয় স্বর্ণের দাম। এরপর ৮ জানুয়ারি স্বর্ণের দাম কমিয়ে মূল্যবান এই ধাতুর মূল্য নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ২৬ হাজার ৮০৬ টাকা। তবে এরপরেই স্বর্ণের বাজারে টানা দাম বৃদ্ধির দৃশ্য দেখা যায়। ১০, ১২, ১৪, ১৯, ২০ ও ২১ জানুয়ারি টানা ৬ দফা বাড়ানো হয়। ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরির দাম গিয়ে দাঁড়ায় ২ লাখ ৫২ হাজার ৪৬৭ টাকায়। এর মধ্যে ১২, ১৪, ১৯, ২০ ও ২১ তারিখে দাম বেড়ে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়।
গত ২২ জানুয়ারি ভরিতে ৩ হাজার ১৪৯ টাকা কমিয়ে স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ৪৯ হাজার ৩১৮ টাকা। তার পর ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ে গত ২৩ জানুয়ারি ৬ হাজার ২৯৯ টাকা বাড়িয়ে দেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ ২ লাখ ৫৫ হাজার ৬১৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়।
এরপর ২৫, ২৬, ২৮ ও ২৯ জানুয়ারি মূল্যবান এই ধাতুর দাম টানা বাড়ানো হয়। প্রতিবারেই নতুন রেকর্ড তৈরি হয়। গত ২৯ জানুয়ারি রেকর্ড ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বেড়ে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দাম ২ লাখ ৮৬ হাজার ১ টাকায় পৌঁছায়।
আবার এরপর ঘটে ছন্দপতন। গত ৩০ ও ৩১ জানুয়ারি টানা ২ দফায় মূল্যবান এই ধাতুর দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নেয় বাজুস। এই দুই দিনে যথাক্রমে দাম কমানো হয় ভরিতে ১৪ হাজার ৬৩৮ টাকা ও ১৫ হাজার ৭৪৬ টাকা। ফলে দুই দিনে মোট ৩০ হাজার ৩৮৪ টাকা কমে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নিযুক্ত হয় ২ লাখ ৫৫ হাজার ৬১৭ টাকায়।
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
তবে ৩১ জানুয়ারি সকালে দাম কমানোর ১২ ঘণ্টার মধ্যে আবারও মূল্যবান এই ধাতুর দাম বাড়ানো হয়। ভরিতে ৪ হাজার ৮২ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৯ হাজার ৬৯৯ টাকা।
ফেব্রুয়ারি মাসজুড়ে চলেছিল স্বর্ণের উত্থান-পতন। এই মাসে দাম সমন্বয় করা হয়েছে মোট ১৫ বার। যেখানে বেড়েছে ৮ বার, আর কমেছে ৭ বার। মার্চ মাসে দাম সমন্বয় করা হয়েছে মোট ১৬ বার। যেখানে বেড়েছে ৭ বার, আর কমেছে ৯ বার।
গত এপ্রিল মাসে মূল্যবান এই ধাতুর দাম সমন্বয় করা হয়েছে মোট ১০ বার। যেখানে বেড়েছে ৪ বার; আর কমেছে ৬ বার। এরপর মে মাসে দাম সমন্বয় করা হয়েছে মোট ৯ বার; যেখানে বেড়েছে ৪ বার এবং কমেছে ৫ বার।
চলতি জুন মাসে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে মোট ১৫ বার; যেখানে দাম বাড়ানো হয়েছে ৪ বার, কমেছে ১০ দফা এবং ১ দফা ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত
শেষে ৩০ জুন সকালে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সেদিন ভরিতে মূল্যবান এই ধাতুটির দাম ৩ হাজার ৩২৪ টাকা কমানো হয়েছে।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের বাজারে ভ্যাট নিয়ে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়ছে ২ লাখ ২১ হাজার ৯৬৬ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি দাম ২ লাখ ১১ হাজার ৯৯৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮২ হাজার ৭৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ ১ লাখ ৪৮ হাজার ৭৭৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
কেন এই অস্থিরতা?
বাজুস জানাচ্ছে, বিশ্ব বাজারে দাম ওঠা-নামা হলে এর প্রভাব পড়ে দেশের বাজারেও। এই কারণে দেশের বাজারে দাম সমন্বয়ের প্রয়োজন দেখা দেয়।
আরও পড়ুন: ডেঙ্গুতে মৃত্যু বেড়ে ৪, হাসপাতালে ভর্তি ১৮৫১ জন
সম্প্রতি বাজুস সভাপতি এনামুল হক খান উল্লেখ করেছেন, স্বর্ণের বাজারে অস্থিতিশীলতার জন্য বাজুস বা বাংলাদেশের কোনো ব্যক্তি দায়ী নয়। মূলত বিদেশে স্টক করা বা কাগজে কলমে লেনদেনের কারণে এই ওঠা-নামা ঘটছে। বাজুস কেবল দেশের বাজারে দাম সমন্বয় করে।
তিনি আরও বলেন, দাম সমন্বয়ের উদ্দেশ্য হচ্ছে পাচার রোধ করা এবং ব্যবসায়ীদের ক্ষতি না হওয়া নিশ্চিত করা। যদি দাম সমন্বয় না করা হয়, তাহলে দেশে দাম কম থাকলে স্বর্ণ পাচার হয়ে যাবে। তাই বিশ্ববাজারে ওঠানামার সঙ্গে সঙ্গে দেশের বাজারের দামও সমন্বয় করা হয়।
বাজুস সভাপতি জানিয়েছেন, বর্তমানে মানুষ স্বর্ণকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে গ্রহণ করছে। তবে বিশ্বের বাজারে বিক্রিত স্বর্ণের অনেকাংশই কাগজে কলমের মাধ্যমে (পেপার ট্রেডিং) মজুদ করা হয়। বাস্তবে কতটা ফিজিক্যাল স্বর্ণ আছে, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।
আরও পড়ুন: প্রাথমিক শিক্ষা সংস্কারে ৫ বিষয়ে অগ্রাধিকার ঘোষণা প্রতিমন্ত্রীর
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন