০২:০২ পি.এম
ফরিদপুরের একটি ভবনের ফ্ল্যাট বাসা থেকে কোয়েল চৌধুরী (৪৫) নামে এক নিঃসঙ্গ ব্যক্তিকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই মৃত্যুর সংবাদ কানাডায় প্রবাসী তার একমাত্র বোনসহ অন্যান্য স্বজনদের জানানো হলেও কেউ স্থানীয় হাসপাতালে আসেনি। পরে, প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় শহরের আলীপুর কবরস্থানে দাফনের কাজ সম্পন্ন হয়।
রোববার (১২ জুলাই) দুপুরে ফরিদপুর শহরের পূর্ব খাবাসপুর এলাকার চৌধুরী ভিলা নামক একটি ভবন থেকে পুলিশ কোয়েল চৌধুরীকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে। ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরে ডাক্তার তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
মৃত কোয়েল চৌধুরী ওই ভবনের মালিক মৃত হাশমত আলী চৌধুরী ও চৌধুরী আছিয়া খানম দম্পতির ছেলে। তিনি দীর্ঘ দিন ধরে মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় ওই বাসায় বসবাস করছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ২০০০ সালের দিকে কোয়েল চৌধুরীর বাবা ওই তিনতলা বিশিষ্ট ভবনটি কিনে থাকার শুরু করেন। তার মধ্যে দুই ছেলে ও একটি মেয়ে রয়েছে, যার মধ্যে একমাত্র মেয়ে বর্তমানে কানাডায় বসবাস করছে। বাবার মৃত্যুর পর থেকেই কোয়েল চৌধুরী ও তার বড় ভাই বাবু চৌধুরী ওই ভবনের তৃতীয় তলায় অবস্থান করছিলেন। কোয়েল চৌধুরী বিয়ে করেছিলেন, কিন্তু মানসিক সমস্যা থাকায় তার স্ত্রী চলে যান, এরপর থেকে দুই ভাই ওই বাড়িতে থাকলেও প্রায় দেড় বছর আগে বড় ভাই বাবু চৌধুরী মারা যান। এরপর থেকে কোয়েল চৌধুরী নিঃসঙ্গভাবে ওই ফ্ল্যাটে থাকতেন।
আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার
দুই ভাইয়ের মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কিত বিষয়টি জানিয়ে প্রতিবেশীরা বলেন, কোয়েল চৌধুরীর বাবা-মা উভয়ই সরকারি কর্মকর্তা ছিলেন। তারা শিশু বেলায় সন্ধ্যার আগে ঘুমের ওষুধ খাওয়াতেন, তাই তারা মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছিলেন। তবে, তারা মানসিকভাবে অসুস্থ হলেও একে অন্যের প্রতি ভালোবাসা অটুট ছিল। শহরের বেশিরভাগ মানুষ তাদের চিনতেন, কারণ তারা সবসময় একসাথে ঘুরে বেরাতেন। বড় ভাই মারা যাবার পর লোকেরা কোয়েল চৌধুরীকে খাবার দিতেন।
অন্যদিকে, প্রতিবেশীরা আরো জানান, রোববার সকালে এক ভাড়াটিয়া খাবার দিতে গিয়েছিলেন, কিন্তু ডাকাডাকি করেও ভেতর থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছিল না। এরপর তারা পুলিশকে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে জানায়। পুলিশ এসে ঘরের দরজা ভেঙে কোয়েল চৌধুরীকে উদ্ধার করে। তখন তাকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে, প্রথমে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পর তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার মৃত্যুর পর তার বোনকে জানালে সে জানায় দাফন করতে। তবে অন্য কোনো স্বজন সেখানে আসেনি। পরে স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্যোগে জানাজার পর আলীপুর কবরস্থানে তার বাবা-মায়ের কবরের পাশে দাফন সম্পন্ন হয়।
ফরিদপুর কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহমুদুল হাসান জানিয়েছেন, ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুলিশ জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করে। স্থানীয়রা তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। তবে কোয়েল চৌধুরীর মৃত্যুর বিষয়ে তিনি অবগত নয়।
আরও পড়ুন: ধামরাইয়ে দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় প্রশাসনের তৎপরতা: বিভাগীয় কমিশনার
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন