শনিবার, ৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৩:৪০ পি.এম
সিলেটের গোয়াইনঘাটে মাদকবিরোধী সমাবেশ ও বিট পুলিশিং সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াল ছোবল থেকে রক্ষা করার উদ্দেশ্যে আয়োজন করা হয়।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) ১১নং মধ্য জাফলং ইউনিয়নের বাউরভাগ হাওর পূর্ব পাড় এলাকার বাসিন্দাদের উদ্যোগে এবং গোয়াইনঘাট থানা পুলিশের সহযোগিতায় এই সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
স্থানীয় মুরুব্বি আক্কাস আলীর সভাপতিত্বে এবং টেলিভিশন সাংবাদিক ইউনিয়ন বৃহত্তর জৈন্তার সাধারণ সম্পাদক সালমান শাহ’র সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক।
তিনি বক্তব্যে উল্লেখ করেন, "মাদক নির্মূলে পুলিশের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।" তিনি আরও বলেন, "এলাকায় মাদক সংক্রান্ত কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে সবাই পুলিশকে জানাবেন।"
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ইদ্রিস আলী খাঁন, গোয়াইনঘাট উপজেলা বিএনপির সমবায় বিষয়ক সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন তালুকদার, টেলিভিশন সাংবাদিক ইউনিয়ন বৃহত্তর জৈন্তার সভাপতি হুমায়ুন আহমেদ, স্থানীয় মুরুব্বি খাঁন বাহাদুর এবং বাদশা মিয়া।
বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, "মাদক শুধু একজন ব্যক্তির জীবনই ধ্বংস করে না, এর প্রভাব পড়ে পুরো পরিবার ও সমাজের ওপর।" তারা উল্লেখ করেন যে, মাদক নির্মূলে আইনি ব্যবস্থার পাশাপাশি সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা জরুরি।
এ সময় বক্তারা পুলিশকে মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের বিষয়ে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার পাশাপাশি এলাকায় অপরাধ প্রতিরোধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
সভায় বক্তারা মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি মাদক প্রতিরোধে নিয়মিত সামাজিক সচেতনতা কার্যক্রম চালানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একইসঙ্গে বাউরভাগ হাওর পূর্ব পাড় এলাকাকে মাদকমুক্ত করতে পুলিশ ও এলাকাবাসীর মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করার এবং মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
সভায় উপস্থিত এলাকাবাসী বলেন, "মাদকের বিরুদ্ধে এখন আর নীরব থাকার সুযোগ নেই।" তারা প্রত্যেকেই নিজ নিজ অবস্থান থেকে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
নরসিংদী থেকে একটি মরদেহ নিয়ে বাড়ি ফেরার সময় সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কের পাশে একটি অ্যাম্বুলেন্স খাদে পড়ে যায়, যার ফলে নারী ও শিশুসহ ১৩ জন আহত হয়েছেন।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টার দিকে শান্তিগঞ্জ উপজেলার সদরপুর এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন ফেনারবাঁক গ্রামের হেলাল মিয়া (৫৫), তার স্ত্রী হেনা আক্তার (৩৫), সাদিয়া আক্তার (১৫), তানিসা আক্তার (৮), ছেলে আরিফুল ইসলাম ফয়েজ (২০), আবু সুফিয়ান (১৩), ফয়েজের স্ত্রী রহিমা বেগম (১৯), ছেলে মো. রাইয়ান মিয়া (২), হেলাল মিয়ার ছোট ভাই বিল্লাল হোসেন (২২), বিল্লাল হোসেনের স্ত্রী তানজিনা বেগম (২০), তাদের মেয়ে সাবিনা বেগম (৪), ছেলে ফুয়াদ আহমেদ (২) এবং অ্যাম্বুলেন্স চালক রনক হাসান হৃদয় (৩৮)।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার ফেনারবাঁক গ্রামের হেলাল মিয়ার মেয়ে নাদিয়া আক্তার (১৭) শুক্রবার রাতে নরসিংদীর গাউছিয়া এলাকায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান। শনিবার সকালে নরসিংদী থেকে অ্যাম্বুলেন্সে সেই মরদেহ নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন তার বাবা ও চাচা। এই সময় অ্যাম্বুলেন্সে নারী ও শিশুসহ দুই পরিবারের ১২ জন যাত্রী উপস্থিত ছিলেন।
পথে শান্তিগঞ্জ উপজেলার সদরপুর এলাকায় অ্যাম্বুলেন্সটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে খাদে পড়ে যায়। পরে স্থানীয় এক পথচারী ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিলে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা মরদেহসহ সবাইকে উদ্ধার করেন। এরপর আহতদের শান্তিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং পরে তাদের আরেকটি অ্যাম্বুলেন্স ও গাড়িতে করে বাড়ি পাঠানো হয়।
নিহত নাদিয়া আক্তারের চাচা কাজল মিয়া বলেন, "আমার দুই ভাই পরিবার নিয়ে নরসিংদীতে থাকেন। এর মধ্যে বড় ভাইয়ের মেয়ে নাদিয়া গতকাল রাতে বাসার ছাদে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যায়। আজ সকালে তার মরদেহ নিয়ে বাড়িতে আসার সময় অ্যাম্বুলেন্সটি সড়কের পাশে খাদে পড়ে যায়। এতে অ্যাম্বুলেন্সে থাকা সবাই আহত হয়। তবে আল্লাহ আমাদের রক্ষা করেছেন। যেভাবে অ্যাম্বুলেন্স খাদে পড়েছিল, বড় দুর্ঘটনার আশংকা ছিল।"
শান্তিগঞ্জ উপজেলা ফায়ার স্টেশনের ইনচার্জ মো. ফজল মিয়া জানান, "জামালগঞ্জ উপজেলার ফেনারবাঁক গ্রামের একটি মেয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নরসিংদীতে মারা যায়। পরে স্বজনরা অ্যাম্বুলেন্স করে তার মরদেহ নিয়ে আজ সকালে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে অ্যাম্বুলেন্সটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সদরপুর এলাকায় সড়কের পাশে খাদে পড়ে যায়।"
তিনি আরও বলেন, "একজন পথচারীর মাধ্যমে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে মরদেহসহ সবাইকে উদ্ধার করা হয়। অ্যাম্বুলেন্সে মরদেহের সঙ্গে ১২ জন যাত্রী ছিলেন। তারা সবাই আহত হয়েছেন। এ ছাড়া অ্যাম্বুলেন্স চালকও আহত হয়েছেন। তাদের শান্তিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়ি পাঠানো হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঢাকার মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রে বি১/বি২ ভ্রমণ ভিসা নিয়ে গিয়ে কিছু নির্দিষ্ট কাজ করা যাবে না। এর মধ্যে সন্তান জন্ম দেওয়া, চাকরি করে পারিশ্রমিক নেওয়া এবং অন্যান্য কিছু কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) মার্কিন দূতাবাসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ বিষয়ে একটি সতর্কবার্তা প্রকাশ করা হয়।
দূতাবাসের সতর্কবার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে, ‘বার্থ ট্যুরিজম’, অর্থাৎ শুধুমাত্র সন্তানের যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব লাভের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়া এ ভিসার আওতায় অনুমোদিত নয়।
এছাড়াও, যুক্তরাষ্ট্রের কোনো নিয়োগকর্তা বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে পারিশ্রমিক পাওয়া যায় এমন কাজ করা যাবে না। ডিগ্রি বা অ্যাকাডেমিক ক্রেডিটের জন্য পড়াশোনা এবং পারিশ্রমিকের বিনিময়ে পারফরম্যান্স করাও ভ্রমণ ভিসায় নিষিদ্ধ বলে জানিয়েছে দূতাবাস।
যুক্তরাষ্ট্রের বি১/বি২ ভিজিটর ভিসা মূলত অস্থায়ী ভ্রমণ কার্যক্রমের জন্য ব্যবহৃত হয়। সাধারণত স্বল্পমেয়াদি ব্যবসায়িক কার্যক্রম, পর্যটন, অবকাশযাপন এবং চিকিৎসার মতো নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ে এই ভিসা ব্যবহার করা হয়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
দুই দিন বন্ধ থাকার পর রাজশাহী থেকে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে আন্তঃজেলা ও দূরপাল্লার বাস চলাচল আবার স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার পর ঢাকাসহ বিভিন্ন রুটে বাস চলাচল শুরু হয়। দীর্ঘ সময় পরিবহন বন্ধ থাকায় যাত্রীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
পরিবহন সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী ও নাটোরের পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের মধ্যে বিরোধের কারণে গত শুক্রবার প্রথমে রাজশাহী থেকে আন্তঃজেলা বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এর পরদিন শনিবার সকালে দূরপাল্লার বাস চলাচলও বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াতকারী যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
সূত্র জানায়, রাজশাহী থেকে দর্শনাগামী রাব্বি পরিবহনের একটি বাস নাটোরে আটকে দেওয়ার অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুই জেলার পরিবহন সংশ্লিষ্টদের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত ঘটে। পরে পাল্টাপাল্টি বাস আটকের ঘটনা ঘটে।
শনিবার সকালে নাটোরে রাজশাহী থেকে ঢাকাগামী দেশ ট্রাভেলস ও ন্যাশনাল ট্রাভেলসের কয়েকটি বাস আটকে রাখার অভিযোগ ওঠে। এর প্রতিবাদে রাজশাহী থেকে ঢাকাসহ বিভিন্ন রুটে দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ রাখেন পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা।
বাস চলাচল বন্ধ থাকায় রাজশাহীর বিভিন্ন বাস কাউন্টারে যাত্রীদের ভিড় দেখা যায়। অনেক যাত্রী আগে থেকেই টিকিট কেটে বাসের অপেক্ষায় ছিলেন। কেউ কেউ জরুরি প্রয়োজনে বিকল্প যানবাহনে গন্তব্যে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
ঢাকাগামী যাত্রী রফিকুল ইসলাম বলেন, "বাস চলাচল বন্ধ থাকায় নির্ধারিত সময়ে ঢাকায় যেতে পারিনি। আবার বাস চলাচল শুরু হওয়ায় এখন কিছুটা স্বস্তি লাগছে।"
আরেক যাত্রী শাহিন আলম বলেন, "হঠাৎ পরিবহন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সাধারণ যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন। মালিক-শ্রমিকদের বিরোধের কারণে যেন ভবিষ্যতে যাত্রীদের এভাবে ভোগান্তিতে পড়তে না হয়।"
রাজশাহী সড়ক পরিবহন গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম হেলাল বলেন, "ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনুর হস্তক্ষেপে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। আলোচনার মাধ্যমে বিরোধের অবসান হওয়ায় শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে রাজশাহী থেকে সারাদেশে বাস চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
কারাগারের চার দেয়ালের বন্দিজীবনে স্বজনদের সরাসরি দেখার আকুলতা দূর করার জন্য ভিডিও কলের বিশেষ সুবিধা চালু হতে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারে পাইলট প্রকল্প হিসেবে এই সুবিধাটি কার্যকর করা হয়েছে। কারা অধিদপ্তর জানিয়েছে, শিগগিরই সারা দেশে এই সুবিধা সম্প্রসারণ করা হবে।
কারা কর্তৃপক্ষের এই আধুনিক ও মানবিক উদ্যোগের ফলে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে কয়েদি ও হাজতিরা সপ্তাহে একবার ১০ মিনিট ভিডিও কলে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পাবেন।
ঢাকা কারা অধিদপ্তরের জেলার (লজিস্টিক অ্যান্ড মিডিয়া) মো. মাসুদ হাসান জুয়েল রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসস’কে জানান, সারা দেশে শিগগিরই কারাবন্দিরা স্বজনদের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলার সুযোগ পাবে। এ ক্ষেত্রে গোপনীয়তা বজায় রাখা হবে।
এদিকে, বন্দিদের সংশোধন ও পুনর্বাসনে ব্যাপক উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন কারাগারে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ধর্মীয় শিক্ষা, কাউন্সেলিং ও অন্যান্য মানসিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রম চালু করা হয়েছে।
মাসুদ হাসান জুয়েল জানান, বন্দিদের উৎপাদনশীল কাজে প্রশিক্ষণ এবং বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য দক্ষ করে তোলার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার ২-এ সাবান উৎপাদন কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং উৎপাদিত সাবান বন্দি ও স্টাফদের জন্য সরবরাহ করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে বন্দিদের প্রশিক্ষণ ও উৎপাদনমুখী কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, বন্দিদের মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কেরানীগঞ্জে কেন্দ্রীয় কারা হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কারা সদর দপ্তরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য প্যাথলজি ল্যাব চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া ৫৫ জন ডিপ্লোমা নার্সের সুপারিশ পাওয়া গেছে এবং তাদের পদায়নের মাধ্যমে কারাগারের স্বাস্থ্যসেবার সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে।
কারা অধিদপ্তর জানায়, বন্দি ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপদ পানি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার ২-এ মিনারেল ড্রিংকিং ওয়াটার প্লান্ট স্থাপনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং পানি সরবরাহ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
কারাগারের মৌলিক সেবাগুলোর মান উন্নয়নের বিষয়টি ভবিষ্যতেও অগ্রাধিকার পাবে। একটি আধুনিক কারা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে প্রযুক্তিনির্ভর ও প্রশিক্ষিত জনবল অপরিহার্য বলে জানায় কারা অধিদপ্তর।
কারা অধিদপ্তর আরও জানায়, কারা বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। এই লক্ষ্যে বিভিন্ন পর্যায়ের কারারক্ষী, প্রধান কারারক্ষী, সার্জেন্ট ইন্সট্রাক্টর, ডেপুটি জেলার, জেলার ও জেল সুপারদের পেশাগত প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার ফারুক আহমেদ বাসস’কে বলেন, ঢাকা জেলে রুটি তৈরির কার্যক্রমকে আধুনিক ও সুশৃঙ্খল করার লক্ষ্যে চায়না থেকে আমদানি রুটি মেকার স্থাপন করা হয়েছে। এর ফলে বৃহৎ সংখ্যক বন্দির জন্য কম সময়ে একই মানের রুটি স্বাস্থ্যসম্মত ও দক্ষতার সঙ্গে প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং প্রচলিত পদ্ধতির ওপর নির্ভরতা কমছে।
তিনি বলেন, কারাগারে বিশেষ দিবসে খাবার পরিবেশনের জন্য বিশেষ বরাদ্দ রাখা আছে। বন্দিদের খাবারের মান উন্নত করার জন্য বিভিন্ন কারাগারে খাদ্য প্রস্তুত ও পরিবেশন ব্যবস্থাকে আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এছাড়াও বন্দিদের বিভিন্ন পোশাক ও জুতা-সেন্ডেল তৈরি ও বেকারির প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। বন্দিদের খেলাধুলার পাশাপাশি ধর্মীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। কারাগারে বিভিন্ন দিবস উপলক্ষ্যে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে।
কারা অধিদপ্তর জানায়, কারা বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের একটি যৌক্তিক প্রত্যাশা ছিল অবসর-পরবর্তী কল্যাণ। এই বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে অবসরপ্রাপ্ত কারারক্ষীদের আজীবন রেশন প্রদানের বিষয়টি সরকার নীতিগতভাবে অনুমোদন করেছে এবং তা বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এছাড়াও কারাগারের নিরাপত্তা রক্ষা, বন্দি পালানো প্রতিরোধ, অনিয়ম প্রতিরোধ, দুর্যোগ মোকাবিলা, মানবিক সেবা এবং দায়িত্ব পালনে অসাধারণ অবদান রাখা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজ যথাযথভাবে মূল্যায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যোগ্য সদস্যদের পদক, প্রশংসাপত্র ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি প্রদানের ব্যবস্থা আরও কার্যকর করারও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, কারাগারে মাদক প্রবেশ ও মাদকসংক্রান্ত কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। কারা সদর দপ্তরে ড্রাগ পরীক্ষার মেশিন সংগ্রহ করা হয়েছে, যা মাদকবিরোধী কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করবে।
কারাগারকে আরও স্বাস্থ্যকর ও পরিবেশবান্ধব করার লক্ষ্যে ব্যাপক সবুজায়ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে সিলেট-১, কিশোরগঞ্জ-১ ও খুলনা নতুন কারাগারে প্রায় ১৮ হাজার গাছ রোপণের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
যোগ্যতার ভিত্তিতে পদোন্নতি, আধুনিক প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা, বন্দিদের সংশোধন ও পুনর্বাসন, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কল্যাণ, ভালো কাজের যথাযথ স্বীকৃতি, পরিবেশবান্ধব কারা ব্যবস্থাপনা এবং একটি আধুনিক ও পেশাদার সংশোধনমূলক পরিষেবা সৃষ্টির কাজ করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে কারা অধিদপ্তর জানায়, কারাগার সম্পর্কে মানুষের প্রচলিত ধারণায় একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। কারাগার হবে নিরাপদ ও মানবিক। কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা হবেন দক্ষ, সৎ ও মর্যাদাবান। বন্দিরা পাবেন সংশোধন ও পুনর্বাসনের সুযোগ। আর পুরো প্রতিষ্ঠানটি হবে স্বচ্ছ, প্রযুক্তিনির্ভর ও জবাবদিহিমূলক।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ