বৃহস্পতিবার, ৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৪:৪৪ পি.এম
জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী মন্তব্য করেছেন যে, বিএনপি সরকার একটি নিরপেক্ষ, সৎ ও দক্ষ সিভিল সার্ভিস গঠনের জন্য প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস প্রশাসন একাডেমিতে ১৪৬, ১৪৭ ও ১৪৮তম আইন ও প্রশাসন কোর্সের সনদ প্রদান ও সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এই বক্তব্য প্রদান করেন।
মো. আব্দুল বারী উল্লেখ করেন, "গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে আমরা সচেষ্ট।" তিনি সতর্ক করে বলেন, "ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠা হলে দেশের সিভিল সার্ভিস আবারও নষ্ট হয়ে যাবে।" দীর্ঘ সময় ধরে ফ্যাসিজমের প্রভাব সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে সমস্যার সৃষ্টি করেছে এবং দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে গেছে। এই পরিস্থিতির কারণে কর্মকর্তারা তাদের আসল লক্ষ্য থেকে সরে আসতে বাধ্য হয়েছেন।
তিনি আরও জানান, "সরকারের রাজনৈতিক বিষয় বাস্তবায়ন করা সিভিল সার্ভিসের কাজ নয়।" বরং, সিভিল সার্ভিসের মূল কাজ হচ্ছে সরকারের নীতি বাস্তবায়ন করা।
জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বলেন, "ন্যায়পরায়ণতা ও নিরপেক্ষতা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।" হতাশ হওয়ার কোনো সুযোগ নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন, "এই দেশটা গড়ার দায়িত্ব আপনাদের।"
তিনি বলেন, "একটি ভঙ্গুর অর্থনীতির ওপর সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।" তবুও, সরকার কর্মকর্তাদের বেতন বৃদ্ধি করেছে। তিনি বলেন, "আমরা প্রত্যেকে কাজ করলেই দেশ এগিয়ে যাবে।"
আব্দুল বারী আরও বলেন, "জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শত শত মানুষ জীবন দিয়েছে, কারণ তারা চেয়েছে এদেশে যেন আর কখনো বৈষম্য ফিরে না আসে।" তিনি যোগ করেন, "নিজে কী পেলাম সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়, গুরুত্বপূর্ণ হলো সমাজকে কী দিতে পেরেছি।" সকল ক্ষেত্রে সততা ও দক্ষতাকে সামনে রেখেই এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস প্রশাসন একাডেমির রেক্টর ড. মোহাম্মদ আলতাফ উল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন দপ্তর ও অনুবিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
নওগাঁর আত্রাই উপজেলায় আকস্মিক বজ্রপাতে রোহান ইসলাম (৮) নামে এক শিশুর মৃত্যু ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার রায়পুর পারের ঘাট এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত রোহান ইসলাম কালিকাপুর ইউনিয়নের রায়পুর মধ্যপাড়া গ্রামের জামিরুল ইসলামের পুত্র।
স্থানীয় এবং পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দুপুরের দিকে আত্রাইয়ের ওই এলাকায় হঠাৎ করে ঝড়ো বাতাস ও ভারী বর্ষণের সঙ্গে বজ্রপাত শুরু হয়। শিশু রোহান স্থানীয় ভবানীপুর বাজার থেকে বাড়ির দিকে রওনা হয়েছিল। পথিমধ্যে সে রায়পুর পারের ঘাট এলাকায় পৌঁছালে তীব্র বজ্রপাতের শিকার হয়ে গুরুতর আহত হয়। পরে তার পরিবার ও স্থানীয়রা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন, কিন্তু পথিমধ্যে তার মৃত্যু ঘটে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে আত্রাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহাবুব আলম বলেন, "ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া নেওয়া হচ্ছে।"
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
‘মানবদেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন আইন-২০২৬’ কার্যকর হওয়ার ফলে দেশে লিভার ও কিডনির মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। নিকটাত্মীয়ের বাইরে ‘ইমোশনাল ডোনার’ বা নিঃস্বার্থবাদী দাতার অঙ্গ দানের আইনি সুযোগ তৈরি হওয়ায় রোগীদের বিদেশে যাওয়ার প্রবণতা কমবে এবং চিকিৎসা ব্যয়ও সাশ্রয় হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীরা।
আইনটি পাস হওয়ার পর কেবল সরকারের অনুমতি নিয়ে নির্দিষ্ট অনুমোদিত হাসপাতালগুলোই মানবদেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন করতে পারবে।
কে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দান করতে পারবেন
আইনের বিধান অনুযায়ী, সুস্থ ও স্বাভাবিক বুদ্ধিসম্পন্ন যে কোনো জীবিত ব্যক্তি যদি তার অঙ্গ বিযুক্তির ফলে নিজের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ব্যাঘাত ঘটার ঝুঁকি না থাকে, তাহলে তিনি নিকটাত্মীয়ের দেহে অঙ্গ দান করতে পারবেন। একই শর্তে নিঃস্বার্থবাদী দাতারাও নিকটাত্মীয়ের বাইরের গ্রহীতাকে অঙ্গ দান করতে পারবেন। তবে চক্ষু, চর্ম, টিস্যু ও অস্থিমজ্জা সংযোজন বা প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে নিকটাত্মীয় বা নিঃস্বার্থবাদী দাতা হওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকবে না।
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদার বলেন, "মানবদেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন আইন-২০২৬ পাস হওয়ার ফলে দেশে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ প্রতিস্থাপনে নতুন দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। কারণ আইন যদি আপনাকে সুরক্ষা দেয়, তাহলে কিন্তু কোনো কাজ করতে আর বাধা থাকে না।"
তিনি আরও বলেন, "পাস হওয়া আইনে ইমোশনাল ডোনার বা নিঃস্বার্থবাদী দাতার বিষয়টি যুক্ত হয়েছে। ফলে নিকটাত্মীয়ের বাইরে এখন নিঃস্বার্থবাদী দাতার অঙ্গদানের আইনি সুযোগ তৈরি হয়েছে।" তিনি উল্লেখ করেন, "আইনের কাঠামোর মধ্যে থেকে দেশে যদি কিডনি, লিভার প্রতিস্থাপন (ট্রান্সপ্লান্ট) অধিক হারে হতে থাকে, তাহলে এসব চিকিৎসায় বিদেশ যাওয়ার প্রবণতা কমবে।" ১০ আগস্ট বিএমইউতে প্রথমবারের মতো ‘ইমোশনাল ডোনার’ থেকে কিডনি প্রতিস্থাপন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
সরকারি অনুদানের অর্থে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বিএমইউতে ছয়টি লিভার প্রতিস্থাপন সম্পন্ন হয়েছে উল্লেখ করে অধ্যাপক ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদার বলেন, "একটি লিভার প্রতিস্থাপন করতে প্রায় দেড়শ ব্যাগ (কম-বেশি) রক্তের সঞ্চয় রাখতে হয়।" তিনি আরও জানান, "৩০ লাখ টাকার মত খরচ লাগতে পারে। এই টাকা দিয়ে যদি দেশে চিকিৎসার সুযোগ হয়, তাহলে মানুষ বিদেশে যাবে কেন?"
তিনি বলেন, "বিদেশে গেলে তো হোটেল ভাড়া, প্লেন ভাড়াসহ অনেক খরচ। দেশেই যদি মানুষ এক্ষেত্রে ভালো সার্ভিস পায় এবং আস্থার জায়গা তৈরি হয়, সেক্ষেত্রে মানুষের এসব চিকিৎসায় বিদেশমুখী হওয়া অবশ্যই কমে আসবে।"
ব্রেইন ডেথ ঘোষণার নিয়ম
আইনে উল্লেখ করা হয়েছে, কোনো ব্যক্তির ব্রেইন ডেথ ঘোষণা করতে হলে (কিছু শর্ত সাপেক্ষে) অন্যূন ১২ ঘণ্টা সুস্পষ্ট কারণে অবিরাম কোমা অবস্থায় থাকতে হবে। ২ বছর হতে ১৩ বছর বয়সী শিশুর ব্রেইন ডেথ ঘোষণা করতে হলে শিশুটিকে ইলেক্ট্রোএনসেফালোগ্রাম (ইইজি) পরীক্ষা দ্বারা অন্যূন ১২ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণ করতে হবে।
মেডিসিন, ক্রিটিক্যাল কেয়ার মেডিসিন, নিউরোলজি এবং এ্যানেসথেশিওলজি বিষয়ের বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক, সহকারী অধ্যাপক অথবা সমপদমর্যাদার অন্যূন তিনজন চিকিৎসকের সমন্বয়ে গঠিত কমিটি কোনো ব্যক্তির ব্রেইন ডেথ ঘোষণা করতে পারবে। তবে ব্রেইন ডেথ ঘোষণাকারী কমিটির কোনো চিকিৎসক বা তার কোনো নিকট আত্মীয় অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ প্রতিস্থাপন বা সংযোজন প্রক্রিয়ার সাথে কোনোভাবে জড়িত থাকতে পারবে না।
কখন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিযুক্ত করা যাবে
যদি কোনো ব্যক্তি জীবদ্দশায় স্বেচ্ছায় তার কোনো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দান করে থাকে কিংবা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দান করা ব্যক্তির ব্রেইন ডেথ ঘোষণা হলে তার আইনানুগ উত্তরাধিকারী অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিযুক্ত করার লিখিতভাবে অনুমতি প্রদান করলে অন্য কোনো ব্যক্তির দেহে সংযোজনের উদ্দেশ্যে বিযুক্ত করা যাবে। এছাড়া, ব্রেইন ডেথ ঘোষণার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কোনো দাবিদার না থাকলে ব্রেইন ডেথ ঘোষণাকারী হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্তৃত্ব পালনকারী ব্যক্তি অথবা চক্ষু, চর্ম, টিস্যু বিযুক্তকরণের ক্ষেত্রে মৃতদেহ অন্য কোনো ব্যক্তির নিকট কিংবা প্রতিষ্ঠান বা স্থানে থাকলে ওই ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা স্থান যে জেলা প্রশাসকের এখতিয়ারাধীন তিনি বা তার নিকট হতে এ ব্যাপারে ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তি বিযুক্তির জন্য লিখিত অনুমতি প্রদান করলে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিযুক্ত করা যাবে।
অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দাতা-গ্রহীতার যোগ্যতা
অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দাতা হিসাবে কোনো ব্যক্তি উপযুক্ত বিবেচিত হবে যদি, ব্রেইন ডেথ ঘোষিত ব্যক্তির ক্যাডাভেরিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংগ্রহের ক্ষেত্রে বয়স দুই বছর থেকে ৭০ বছরের মধ্যে হয়। জীবিত ব্যক্তির ক্ষেত্রে বয়স ১৮ বছর থেকে ৬৫ বছরের মধ্যে হলে তিনি দাতা হিসাবে উপযুক্ত হবেন। তবে বিশেষ প্রয়োজনে অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে দাতার বয়সসীমা শিথিলযোগ্য।
এছাড়া, মৃত্যুর পূর্বে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দানে ব্যক্তির পক্ষ হতে কোনো ধরনের লিখিত আপত্তি না করা থাকলে এবং কোনো ব্যক্তির অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কার্যকারিতা কোনো কারণে নষ্ট হবার সম্ভাবনা না থাকলে, তিনি দাতা হিসাবে উপযুক্ত হবেন। সেই সাথে আইনে উল্লিখিত কিছু রোগে আক্রান্ত না হয়ে থাকলে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দাতা হিসাবে যোগ্য হবেন।
অন্যদিকে, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ গ্রহীতা হিসাবে কোনো ব্যক্তি উপযুক্ত বিবেচিত হবে, যদি তার বয়স দুই বছর হতে ৭০ বছর বয়স সীমার মধ্যে হয়। তবে ১৫ বছর হতে ৫০ বছর পর্যন্ত বয়সসীমার ব্যক্তিরা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ গ্রহীতা হিসাবে অগ্রাধিকার পাবে বলে আইনে উল্লেখ রয়েছে। তবে কর্ণিয়া, চর্ম ও টিস্যু প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে এই বিধান প্রযোজ্য হবে না।
নিঃস্বার্থবাদী দাতার যোগ্যতা-অযোগ্যতা
আইন অনুযায়ী, নিঃস্বার্থবাদী দাতা হিসাবে কোনো ব্যক্তি উপযুক্ত বিবেচিত হবে যদি তার বয়স ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে হয়। তিনি যদি মানসিকভাবে সুস্থ হন এবং সজ্ঞানে সম্মতি প্রদানে সক্ষম হন। এছাড়া, যদি তিনি কোনো আর্থিক প্রলোভন বা চাপে না পড়ে স্বেচ্ছায় আগ্রহী হন কিংবা তিনি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ গ্রহীতার নিকট আত্মীয় না হন, তবে দীর্ঘদিনের পরিচিত হলে, তাহলে ওই ব্যক্তি নিঃস্বার্থবাদী দাতা হিসাবে উপযুক্ত বিবেচিত হবে।
এক্ষেত্রে অবশ্যই নিঃস্বার্থবাদী দাতা নির্ধারণ ও অনুমতি প্রদান কমিটির সুপারিশ প্রাপ্ত হতে হবে। অন্যদিকে, কোনো ব্যক্তি নিঃস্বার্থবাদী দাতা হওয়ার অযোগ্য হবেন যদি তিনি মাদকাসক্ত হন, বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে কিংবা আর্থিক প্রলোভনে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দানে আগ্রহী হয়ে থাকেন।
এদিকে, সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম জানিয়েছেন, "ডোনারের সংজ্ঞায় সংকীর্ণতার কারণে আগে শুধু নিকট আত্মীয়ের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ডোনেট করার সুযোগ ছিল।" তিনি বলেন, "আমরা চাচ্ছিলাম আইনে ইমোশনাল ডোনেশনের একটা পথ খুলে দিতে।" তিনি আরও বলেন, "হাইকোর্টের রায়ে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, যাচাই-বাছাই সাপেক্ষে ইমোশনাল ডোনার কিডনিসহ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দান করতে পারবেন।"
ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম বলেন, "হাইকোর্টের সেই রায়ের আলোকে অবশেষে ‘মানবদেহে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সংযোজন আইন-২০২৬’ পেয়েছি।" তিনি উল্লেখ করেন, "এখন এই আইনের সুবাদে রোগীদের বিদেশ যাওয়া কমবে এবং চিকিৎসা ব্যয় সাশ্রয় হবে।"
অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ
আইনের ১৮ ধারা অনুযায়ী, মানব দেহের যেকোনো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ক্রয়-বিক্রয় বা তার বিনিময়ে কোনো প্রকার সুবিধা লাভ কিংবা কোনো প্রকার বিজ্ঞাপন প্রদান বা অন্য কোনোরূপ প্রচারণা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
অপরাধের দণ্ড
যদি কোনো ব্যক্তি নিকট আত্মীয়তা সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য প্রদান করে অথবা এমন তথ্য প্রদানে উৎসাহিত, প্ররোচিত বা ভীতি প্রদর্শন করে, তাহলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এই অপরাধের জন্য তিনি অনধিক দুই বছর সশ্রম কারাদণ্ড বা অনধিক পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
এছাড়া, আইন লঙ্ঘন করলে বা লঙ্ঘনে সহায়তা করলে তিনি অনধিক তিন বছর সশ্রম কারাদণ্ড বা অনধিক ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। আর এই আইনের অধীন কোনো অপরাধের জন্য কোনো চিকিৎসক দণ্ডিত হলে বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল কর্তৃক প্রদত্ত তার রেজিস্ট্রেশন বাতিল হবে।
অন্যদিকে, কোনো হাসপাতালে এই আইনের অধীন কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে সে হাসপাতালের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজনের অনুমতি বাতিল হবে ও সংশ্লিষ্ট অপরাধের জন্য অর্থ দণ্ড আরোপ করা যাবে। আইন অনুযায়ী ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ হাসপাতালের লাইসেন্স স্থগিত করতে পারবে।
সূত্র: বাসস
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে ৮ বছর ৩ মাস বয়সী রামিন নাওয়াফ মুগ্ধ মাত্র ১১ মাসে পবিত্র কোরআন মাজিদ হিফজ সম্পন্ন করেছে।
মুগ্ধের গ্রামের বাড়ি ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার উত্তর কুহমা গ্রামে অবস্থিত। সে উপজেলার দারুল কুরআন মাদরাসা ও এতিমখানার হিফজুল কোরআন বিভাগের শিক্ষার্থী। তার বাবা মাসুদুল ইসলাম একজন ব্যবসায়ী, আর মা মোসাম্মাৎ রাবেয়া আক্তার মিরসরাই সরকারি কলেজের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রভাষক।
মাদরাসা সূত্রে জানা যায়, নিয়মিত অধ্যবসায়, শিক্ষকদের নিবিড় তত্ত্বাবধান এবং পরিবারের সহযোগিতায় মাত্র ১১ মাসে পবিত্র কোরআন মাজিদ হিফজ সম্পন্ন করে মুগ্ধ। তার এই সাফল্যে শিক্ষক, পরিবার এবং স্থানীয়দের মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে।
মুগ্ধ বলেন, "আমার পরিবার ও হুজুরদের কঠোর পরিশ্রমের ফলেই আজ আমি হাফেজ হতে পেরেছি। এজন্য আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি। ভবিষ্যতে আমার হাফেজ ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন রয়েছে। বড় হয়ে হাফেজদের বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দিতে চাই। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।"
মাদরাসার মোহতামিম আবু নাছির মোহাম্মদ ইউসুফ মন্তব্য করেন, মুগ্ধ নিয়মিতভাবে পরিবারের সাথে মাদরাসায় এসে হিফজ সম্পন্ন করেছে। তার বাবা প্রতিদিন রাত ৩টার দিকে তাকে মাদরাসায় পৌঁছে দিতেন। মুগ্ধের এই সাফল্যের পেছনে তার বাবা-মায়ের ত্যাগ ও শিক্ষকদের কঠোর পরিশ্রম রয়েছে। তিনি অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র। মাত্র ১১ মাসে কোরআন হিফজ সম্পন্ন করেছে। আমরা তার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করছি।
মুগ্ধের বাবা মাসুদুল ইসলাম বলেন, "ছোটবেলা থেকেই আমার ছেলে ইসলামের প্রতি আগ্রহী ছিল। কোথাও মসজিদ হয়েছে শুনলে সে আমাকে সেখানে নিয়ে যেতে চাইত এবং নামাজ আদায় করতে চাইত। পরে তাকে হাফেজ করার জন্য মাদরাসায় ভর্তি করাই। আল্লাহর রহমত এবং শিক্ষকদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় মাত্র ৮ বছর বয়সে ১১ মাসে সে হাফেজ হতে পেরেছে। এজন্য মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি।"
তিনি আরও বলেন, "আমার ছেলের স্বপ্ন বড় হয়ে হাফেজ ডাক্তার হওয়া এবং হাফেজদের বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়া। মহান আল্লাহ যেন তাকে কবুল করেন এবং তার স্বপ্ন পূরণ করেন এ জন্য সবার কাছে দোয়া চাই।"
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আন্তর্জাতিক লজিস্টিকস প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল (ফ্রি ট্রেড জোন) এবং রেলভিত্তিক ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো (আইসিডি) স্থাপনের জন্য প্রতিষ্ঠানটির প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করেন।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সচিবালয়ে ডিপি ওয়ার্ল্ডের বোর্ড অব ডিরেক্টরসের চেয়ারম্যান এসা কাজিমের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব একেএম নাজমুল হক এ তথ্য জানান।
সহকারী প্রেস সচিবের তথ্য অনুযায়ী, সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, বন্দর ব্যবস্থাপনা ও লজিস্টিকস খাতের উন্নয়ন এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনা ও আধুনিকায়নে বাংলাদেশ ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের মধ্যে স্বাক্ষরিত ১৫ বছর মেয়াদি কনসেশন চুক্তি নিয়েও আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
তিনি জানান, চুক্তির আওতায় চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল এবং এর ওভারফ্লো কনটেইনার ইয়ার্ডের পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করবে ডিপি ওয়ার্ল্ড।
তিনি আরও বলেন, সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এ অংশীদারিত্বের মাধ্যমে টার্মিনালটির আধুনিকায়ন, পরিচালন দক্ষতা বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশের বন্দর ও লজিস্টিকস অবকাঠামোর সক্ষমতা আরও বাড়বে।
সহকারী প্রেস সচিব বলেন, সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে ফ্রি ট্রেড জোন এবং রেলভিত্তিক ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো স্থাপনসহ নতুন বিনিয়োগের বিষয়ে ডিপি ওয়ার্ল্ডের প্রতিনিধিদলের আগ্রহের কথা জানতে চান। প্রতিনিধিদল এসব খাতে সহযোগিতা ও বিনিয়োগের বিষয়ে তাদের আগ্রহ প্রকাশ করে।
নাজমুল হক বলেন, প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগ কাজে লাগাতে ডিপি ওয়ার্ল্ডসহ আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের প্রতি আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশের বন্দর অবকাঠামো উন্নয়ন, আঞ্চলিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং লজিস্টিকস ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, দক্ষ ও কার্যকর করার বিভিন্ন সম্ভাবনা নিয়েও মতবিনিময় হয়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ