বৃহস্পতিবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০১:৫৮ পি.এম
স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্মসচিব আবুল খায়ের মোহাম্মদ হাফিজুল্লাহ খান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন।
এই নিয়োগের জন্য বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে, যার মাধ্যমে তার চাকরি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে।
একই সময়ে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বর্তমান মহাপরিচালক ড. আহমেদ উল্লাহকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে বদলি করা হয়েছে।
এছাড়া, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একটি আলাদা প্রজ্ঞাপনে যুগ্মসচিব মো. হুসাইন শওকতকে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের খুলনা আঞ্চলিক পরিচালকের কার্যালয়ের পরিচালক পদ থেকে বদলি করে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ের উপ-রেজিস্ট্রার জেনারেল করা হয়েছে।
তিনি জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের সদস্য পদে বদলির আদেশাধীন ছিলেন, তাই তার চাকরি স্থানীয় সরকার বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে।
শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত যুগ্মসচিব মুহাম্মদ আশরাফ হোসেনকে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের সদস্য পদে বদলি করা হয়েছে। এজন্য তাকে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
কাঁধে বইয়ের ব্যাগ এবং হাতে বই নিয়ে প্রতিদিন বিদ্যালয়ের পথে রওনা হন ফয়েজ হোসেন (১৬)। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তার চলার পথে বাধা সৃষ্টি করেছে, তবে তার স্বপ্নকে থামাতে পারেনি। সীমাবদ্ধতার মধ্যেও অদম্য ইচ্ছাশক্তি, সাহস ও মনোবল নিয়ে নিয়মিত লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছে সে।
ফয়েজ হোসেন চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার তুলপাই দারাশাহী উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও সে নিজেকে কখনো অন্যদের চেয়ে ছোট মনে করে না। বরং, নিজের ভবিষ্যৎকে সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে পড়াশোনাকেই সবচেয়ে বড় অবলম্বন হিসেবে গ্রহণ করেছে।
প্রতিদিন কাঁধে বইয়ের ব্যাগ নিয়ে বিদ্যালয়ে পৌঁছান ফয়েজ। বিদ্যালয়ে পৌঁছানোর পর সহপাঠীদের সঙ্গে আনন্দে সময় কাটান এবং ক্লাসে মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করেন। শিক্ষক ও সহপাঠীরা তাকে আপনজনের মতো ভালোবাসে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সহযোগিতা করে। তাদের আন্তরিকতা ফয়েজের চলার পথকে আরও সহজ করে তুলেছে।
ফয়েজের পরিবারও তার স্বপ্ন পূরণে পাশে রয়েছে। তার বাবা দুলাল মুন্সি একজন দরিদ্র মানুষ। নানা অভাব-অনটনের মধ্যেও ছেলের লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। ছেলেকে একদিন উচ্চশিক্ষিত করে সরকারি চাকরিতে দেখতে চান বাবা। তবে আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে ছেলের পড়াশোনা ও প্রয়োজনীয় সহায়তার জন্য সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি।
ফয়েজের সহপাঠীরা জানান, শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে তারা কখনো তাকে আলাদা চোখে দেখে না। সে তাদের কাছে একজন ভাই ও বন্ধুর মতো। পড়াশোনা, খেলাধুলা কিংবা বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে ফয়েজকে তারা নিজেদের একজন হিসেবেই মনে করে। তার পরিশ্রম, মনোবল ও আগ্রহ তাদেরও অনুপ্রাণিত করে।
নিজের স্বপ্নের কথা বলতে গিয়ে শারীরিক প্রতিবন্ধী ফয়েজ হোসেন বলেন, ছোটবেলা থেকেই তার পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ রয়েছে। নানা প্রতিকূলতা জয় করে তিনি ভালো কিছু করতে চান। উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে ভবিষ্যতে চাকরি করার স্বপ্ন তার। এই স্বপ্ন পূরণে সবার সহযোগিতা ও পরামর্শ প্রত্যাশা করেন তিনি।
ফয়েজের সফলতা কামনা করে তুলপাই দারাশাহী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, ফয়েজের অদম্য মনোবল ও আত্মশক্তি সত্যিই প্রশংসনীয়। বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে তাকে সার্বিক সহযোগিতা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতেও তার পড়াশোনা চালিয়ে যেতে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. নাহিদ ইসলাম বলেন, কচুয়া উপজেলায় প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা উপবৃত্তির ব্যবস্থা রয়েছে। ফয়েজ যদি নির্ধারিত যোগ্যতার আওতায় থাকে, তাহলে তাকে শিক্ষা উপবৃত্তিসহ সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার আওতায় সহযোগিতা করা হবে।
ফয়েজের গল্প শুধুমাত্র একজন শিক্ষার্থীর গল্প নয়— এটি প্রতিকূলতার কাছে হার না মানা এক কিশোরের স্বপ্নযাত্রার গল্প। শারীরিক সীমাবদ্ধতা যেখানে অনেকের পথ থামিয়ে দিতে পারে, সেখানে ফয়েজ বই-খাতা আর অদম্য মনোবলকে সঙ্গী করে ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে চলেছেন। তার চোখে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন, এবং সেই স্বপ্ন পূরণে প্রয়োজন পরিবার, বিদ্যালয় ও সমাজের সম্মিলিত সহায়তা।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি) আন্তর্জাতিক অণুজীব দিবস-২০২৬ উদযাপন করছে। এ উপলক্ষে মাইক্রোবায়োলজি অলিম্পিয়াড, সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন, ইনোভেশন শোকেস, গবেষণা সম্মেলনসহ নানা বিজ্ঞান ও গবেষণাভিত্তিক আয়োজন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
মাসব্যাপী এ আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ ‘ইন্টারন্যাশনাল মাইক্রোবায়োলজি ডে গ্র্যান্ড সেলিব্রেশন’ আগামী শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত হবে। দিনব্যাপী আয়োজনে র্যালি, বৃক্ষরোপণ, বায়োফার্টিলাইজার প্রদর্শনী, ইনোভেশন শোকেস, ‘মাইক্রোবস ডিসকভারি কর্নার’ এবং মাইক্রোবায়োলজি অলিম্পিয়াডের গ্র্যান্ড ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে।
শনিবারের আয়োজনের মাধ্যমে অণুজীববিজ্ঞানকে কেন্দ্র করে মাসব্যাপী কর্মসূচির একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্ব সম্পন্ন হবে। গ্র্যান্ড সেলিব্রেশনে অণুজীববিজ্ঞানের বিভিন্ন ব্যবহারিক দিক, গবেষণা ও উদ্ভাবন তুলে ধরা হবে, এবং শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে নানা কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে মাইক্রোবায়োলজি অলিম্পিয়াডের প্রাথমিক পর্ব পেরিয়ে আসা প্রতিযোগীরা গ্র্যান্ড ফাইনালে অংশগ্রহণ করবেন।
এর আগে ১ থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যশোরের বিভিন্ন স্কুল-কলেজে মাইক্রোবায়োলজি অলিম্পিয়াডের প্রাথমিক রাউন্ড অনুষ্ঠিত হয়েছে। অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে বিশেষ ক্যাম্পেইনও পরিচালিত হয়েছে। যবিপ্রবির অণুজীববিজ্ঞান বিভাগ, বাংলাদেশ সোসাইটি অব মাইক্রোবায়োলজিস্টস এবং যবিপ্রবি মাইক্রোবায়োলজি ক্লাবের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এসব কর্মসূচিতে যশোরের ১১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সহস্রাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন।
মাসব্যাপী আয়োজনের পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ পর্ব হিসেবে ২৬ সেপ্টেম্বর ‘নেক্সটজেন মাইক্রোবায়োলজি ২—ইমার্জিং হরাইজনস ইন মাইক্রোবায়োলজি’ শীর্ষক গবেষণা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সম্মেলনে দেশের ১০টি বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানের ২৩টি বিভাগ থেকে প্রায় ২২৫ জন শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণের কথা রয়েছে।
সম্মেলনে তিনটি সমান্তরাল সেশনে অণুজীববিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখা ও গবেষণার বিষয় নিয়ে ২১টি মৌখিক গবেষণা উপস্থাপনা এবং ৯০টি পোস্টার উপস্থাপনা অনুষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি তিনজন দেশবরেণ্য গবেষক তাদের গবেষণা ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরবেন। এর মাধ্যমে গবেষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ তৈরি হবে।
সবশেষে ২৭ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে দুটি হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ কর্মশালা। এর মধ্যে ২৭ ও ২৮ সেপ্টেম্বর ‘অ্যাডভান্সড মাইক্রোস্কোপি’ এবং ২৯ ও ৩০ সেপ্টেম্বর ‘অ্যাডভান্সড মলিকুলার টেকনিকস’ শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হবে। যবিপ্রবির অণুজীববিজ্ঞান বিভাগ ও জিনোম সেন্টারের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত কর্মশালা দুটিতে আধুনিক মাইক্রোস্কোপি ও মলিকুলার গবেষণার বিভিন্ন ব্যবহারিক কৌশল নিয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকবে।
আন্তর্জাতিক অণুজীব দিবস-২০২৬ উপলক্ষে যবিপ্রবির এ মাসব্যাপী আয়োজনে শিক্ষা, গবেষণা, উদ্ভাবন ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমকে একসঙ্গে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও তরুণ গবেষকদের অণুজীববিজ্ঞানে আগ্রহী করে তোলা এবং অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্সসহ জনস্বাস্থ্যের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির বিষয়টি এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মুঠোফোনে কিছু শব্দ লিখলেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দ্রুত চমৎকার ছবি তৈরি করে। সাম্প্রতিক সময়ে আশির দশকের আবহে ছবি তৈরির ট্রেন্ডটি বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। তবে এই সহজ প্রযুক্তির আড়ালে বিদ্যুৎ ও পানির ব্যবহার বিপুল পরিমাণে ঘটে।
ব্যবহারকারীর স্মার্টফোনে সরাসরি পানি বা উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিদ্যুৎ খরচ না হলেও, এআইয়ের কাজটি সম্পন্ন হয় দূরের ডেটা সেন্টারে। এসব ডেটা সেন্টারে থাকা হাজার হাজার শক্তিশালী সার্ভার একসঙ্গে জটিল হিসাব-নিকাশ করে ছবি তৈরি করে। ফলে সার্ভারগুলো প্রচণ্ড গরম হয়ে ওঠে, এবং এগুলো ঠান্ডা রাখতে বিপুল পরিমাণ পানি ও বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয়।
বড় ডেটা সেন্টারগুলোর অনেকগুলোতে সার্ভার ঠান্ডা রাখতে ‘ইভাপোরেটিভ কুলিং’ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। এই পদ্ধতিতে গরম পানি কুলিং টাওয়ারের মাধ্যমে ঠান্ডা করার সময় একটি অংশ বাষ্প হয়ে বাতাসে মিশে যায়। পাশাপাশি পানিতে থাকা খনিজ ও লবণের ঘনত্ব বেড়ে যাওয়ায় নির্দিষ্ট সময় পর সেই পানি ফেলে দিয়ে নতুন পানি যোগ করতে হয়।
একটি এআই ছবিতে কত পানি লাগে?
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত একটি বিশ্লেষণে ২০২৩ সালের গবেষণার তথ্য তুলে ধরে বলা হয়, জিপিটি-৩ দিয়ে ১৫০ থেকে ৩০০ শব্দের একটি সাধারণ লেখা তৈরি করতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি গড় ডেটা সেন্টারে প্রায় ১৭ মিলিলিটার পানি খরচ হতে পারে। এর একটি অংশ সরাসরি সার্ভার ঠান্ডা করতে এবং বাকি অংশ বিদ্যুৎ উৎপাদনের সঙ্গে সম্পর্কিত।
এআই দিয়ে ছবি তৈরির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট হিসাব এক নয়। বিভিন্ন বিশ্লেষণে একটি ছবি তৈরিতে কয়েক মিলিলিটার থেকে কয়েক দশ মিলিলিটার পানি ব্যবহারের হিসাব পাওয়া যায়। কোথাও গড়ে প্রায় ২৩ মিলিলিটার পানির কথা বলা হয়েছে, আবার কিছু হিসাবে ৫ থেকে ৬০ মিলিলিটার বা তারও বেশি ধরা হয়েছে। হিসাবের পার্থক্যের প্রধান কারণ হলো—শুধু ডেটা সেন্টারের কুলিংয়ের পানি ধরা হচ্ছে, নাকি বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত পানিও হিসাবের মধ্যে রাখা হচ্ছে।
একটি সাধারণ গুগল সার্চে পানি ব্যবহারের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে অনেক কম—বিভিন্ন হিসাবে তা শূন্য দশমিক ২ থেকে শূন্য দশমিক ৬ মিলিলিটারের মধ্যে।
একটি ছবির ক্ষেত্রে এই পরিমাণ খুব বেশি মনে না হলেও, প্রতিদিন বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি এআই অনুরোধ করা হলে মোট পানির ব্যবহার বড় আকার ধারণ করে। যুক্তরাষ্ট্রের এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড এনার্জি স্টাডি ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, একটি মাঝারি আকারের ডেটা সেন্টারে বছরে প্রায় ১১ কোটি গ্যালন পানি প্রয়োজন হতে পারে। বড় ডেটা সেন্টারে দৈনিক পানির ব্যবহার ৫০ লাখ গ্যালন পর্যন্তও হতে পারে।
বিদ্যুতের সঙ্গে পানির সম্পর্ক
এআইয়ের পানি ব্যবহারের হিসাব শুধু সার্ভার ঠান্ড করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ডেটা সেন্টার চালাতে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয়। সেই বিদ্যুতের একটি অংশ তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে এলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও কেন্দ্রের যন্ত্রপাতি ঠান্ডা করতেও পানি লাগে। ফলে এআইয়ের বিদ্যুৎ চাহিদা যত বাড়ে, পরোক্ষভাবে পানির ব্যবহারও বাড়তে পারে।
কোথা থেকে আসে এই পানি?
ডেটা সেন্টারগুলো সাধারণত স্থানীয় পানি সরবরাহ ব্যবস্থা, নদী বা ভূগর্ভস্থ উৎস থেকে পানি সংগ্রহ করে। অনেক ক্ষেত্রে এসব উৎসের মিঠাপানি ব্যবহারের ফলে স্থানীয় বাসিন্দা ও কৃষির জন্য পানির ওপর চাপ তৈরি হতে পারে। গ্রীষ্মকালে পানির সংকটপ্রবণ এলাকায় এ চাপ আরও বাড়তে পারে।
এই পরিস্থিতিতে বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো বিকল্প পানির উৎস ব্যবহারের দিকে যাচ্ছে। মাইক্রোসফট জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস, ওয়াশিংটনের কুইন্সি, ক্যালিফোর্নিয়া ও সিঙ্গাপুরের মতো এলাকায় তারা পরিশোধিত বর্জ্যপানির ব্যবহার বাড়িয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, সিঙ্গাপুরে তাদের ডেটা সেন্টারে প্রায় ৯৯ শতাংশ পানি অ-সুপেয় উৎস থেকে আসে।
অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেসও জানিয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ১২০টির বেশি ডেটা সেন্টারে পরিশোধিত বর্জ্যপানি ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির হিসাবে এতে বছরে প্রায় ৫৩ কোটি গ্যালন সুপেয় পানি সাশ্রয় হতে পারে।
গুগল ও মাইক্রোসফট ২০৩০ সালের মধ্যে ‘ওয়াটার পজিটিভ’ হওয়ার লক্ষ্য জানিয়েছে। অর্থাৎ তারা যত পানি ব্যবহার করবে, তার চেয়ে বেশি পানি সংরক্ষণ বা পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে পরিবেশে ফিরিয়ে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েছে। অ্যামাজনও একই ধরনের অঙ্গীকার করেছে।
সমুদ্রের তলদেশে ডেটা সেন্টার
পানি ও বিদ্যুতের ব্যবহার কমাতে সমুদ্রের তলদেশে ডেটা সেন্টার স্থাপনের ধারণাও সামনে এসেছে। সমুদ্রের পানি প্রাকৃতিকভাবেই ঠান্ডা হওয়ায় সার্ভার ঠান্ডা করতে এটি ব্যবহার করা যেতে পারে।
২০১৮ সালে স্কটল্যান্ডের অর্কনি দ্বীপপুঞ্জের উপকূলে ‘প্রজেক্ট নেটিক’ নামে পরীক্ষামূলক একটি পানির নিচের ডেটা সেন্টার স্থাপন করেছিল মাইক্রোসফট। প্রায় দুই বছর পর সেটি তুলে পরীক্ষা করে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, একই সংখ্যক সার্ভারের স্থলভাগের ব্যবস্থার তুলনায় পানির নিচের সার্ভারগুলো আট গুণ কম নষ্ট হয়েছে। তবে রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের ব্যবহারিক জটিলতার কারণে প্রকল্পটি বাণিজ্যিকভাবে এগোয়নি।
চীনা প্রতিষ্ঠান হাইল্যান্ডার অবশ্য এই ধারণায় এগিয়েছে। চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিসিটিভির তথ্য অনুযায়ী, হাইনান দ্বীপের উপকূলে বাণিজ্যিক পানির নিচের ডেটা সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। প্রায় ১ হাজার ৩০০ টন ওজনের স্থাপনাটি সমুদ্রের ৩৫ মিটার গভীরে বসানো হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, পরিকল্পনা অনুযায়ী ১০০টি মডিউল স্থাপন করা গেলে স্থলভাগের একই ক্ষমতার ডেটা সেন্টারের তুলনায় বছরে প্রায় ১২ কোটি ২০ লাখ কিলোওয়াট ঘণ্টা বিদ্যুৎ এবং ১ লাখ ৫ হাজার টন সুপেয় পানি সাশ্রয় হতে পারে।
কেন পানি বারবার ব্যবহার করা যায় না?
ইভাপোরেটিভ কুলিং ব্যবস্থায় পানি বাষ্প হয়ে উড়ে যাওয়ার পর অবশিষ্ট পানিতে লবণ, ক্যালসিয়াম, আয়রনসহ বিভিন্ন খনিজের ঘনত্ব বেড়ে যায়। এই পানি দীর্ঘ সময় পুনর্ব্যবহার করলে পাইপ ও যন্ত্রপাতিতে ‘স্কেল’ বা খনিজের আস্তরণ জমতে পারে। এতে পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি যন্ত্রপাতির ক্ষতির ঝুঁকি বাড়ে।
এ কারণে নির্দিষ্ট সময় পর ওই ঘন পানি বের করে দিয়ে নতুন পানি যোগ করতে হয়।
বিকল্প হিসেবে ক্লোজড-লুপ ও ইমারশন কুলিং
পানির অপচয় কমাতে এখন ‘ক্লোজড-লুপ’ ও ‘ইমারশন কুলিং’ প্রযুক্তি নিয়ে কাজ হচ্ছে। ক্লোজড-লুপ ব্যবস্থায় পানি বা বিশেষ তরল একটি বদ্ধ পাইপের ভেতরে ঘুরতে থাকে। ফলে তা বাষ্প হয়ে হারিয়ে যায় না এবং বারবার ব্যবহার করা যায়।
অন্যদিকে ইমারশন কুলিংয়ে পুরো সার্ভারকে বিদ্যুৎ-অপরিবাহী বিশেষ তরলের মধ্যে ডুবিয়ে রাখা হয়।
তবে এসব ব্যবস্থারও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। বাষ্পীভবনের মাধ্যমে পানি থেকে তাপ সরানোর সুযোগ না থাকায় ব্যবহৃত তরল ঠান্ডা করতে শক্তিশালী চিলার, রেফ্রিজারেশন ব্যবস্থা বা বৈদ্যুতিক পাখার প্রয়োজন হতে পারে। এতে আবার বিদ্যুতের ব্যবহার বেড়ে যায়। পাশাপাশি এসব প্রযুক্তি স্থাপনও ব্যয়বহুল।
ফলে এআই অবকাঠামোর ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে পানি ও বিদ্যুতের মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করা। পানি কম ব্যবহার করতে গেলে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়তে পারে, আবার বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী কিছু কুলিং ব্যবস্থায় পানির ব্যবহার তুলনামূলক বেশি হতে পারে। এ কারণে এআইয়ের দ্রুত সম্প্রসারণের সঙ্গে সঙ্গে কম পানি ও কম বিদ্যুৎ ব্যবহার করে ডেটা সেন্টার পরিচালনার প্রযুক্তি খুঁজে বের করাই এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
তথ্যসূত্র: আইইইই স্পেকট্রাম
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক প্রধান ‘অর্থনীতিবিদ’ পদে নিয়োগের জন্য একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। এই পদে নিয়োগ দেওয়া হবে চুক্তিভিত্তিক ভিত্তিতে। আবেদন করার শেষ তারিখ নির্ধারিত হয়েছে ১১ অক্টোবর।
চাকরির বিবরণ
পদের নাম: প্রধান অর্থনীতিবিদ
পদসংখ্যা: ১
শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার ক্ষেত্রে প্রার্থীদের অর্থনীতিতে পিএইচডি ডিগ্রি থাকতে হবে। এছাড়া, প্রয়োগমূলক সামষ্টিক অর্থনীতিবিদ হিসেবে কমপক্ষে ১৫ বছরের কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা প্রয়োজন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকলে তা অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচিত হবে।
এছাড়া, আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বহুপক্ষীয় বা উন্নয়ন ব্যাংক, অর্থ মন্ত্রণালয়, কেন্দ্রীয় ব্যাংক অথবা এ ধরনের প্রতিষ্ঠানে সামষ্টিক অর্থনীতি ও আর্থিক বিশ্লেষণ এবং নীতি প্রণয়নে কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
বেতন ও সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে বাজারভিত্তিক প্রতিযোগিতামূলক বেতন এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা হবে।
নিয়োগের মেয়াদ: ৩ বছর
আবেদন প্রক্রিয়া: আগ্রহী প্রার্থীদের সর্বোচ্চ দুই পৃষ্ঠার একটি কভার লেটার এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা, কর্ম-অভিজ্ঞতা ও সংশ্লিষ্ট দক্ষতার বিস্তারিত উল্লেখ করে সিভি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হবে।
আবেদনের ঠিকানা: পরিচালক (এইচআরডি-১), মানবসম্পদ বিভাগ-১, বাংলাদেশ ব্যাংক, প্রধান কার্যালয়, ঢাকা-১০০০।
ই-মেইল: [email protected]
আবেদনের শেষ তারিখ: ১১ অক্টোবর ২০২৬
বিস্তারিত দেখুন এই ঠিকানায় ।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ