০৪:০২ পি.এম
একসময় ধান-চাল, ডাল, তেলসহ বিভিন্ন পণ্যের পাইকারি বেচাকেনায় দিন-রাত সরগরম থাকত ঐতিহ্যবাহী মিরকাদিম বন্দর। দেশের অন্যতম ব্যস্ত এই নৌ-বাণিজ্য কেন্দ্রটি বর্তমানে নাব্য সংকট, অভ্যন্তরীণ খাল দখল-দূষণ এবং দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনায় নিজের জৌলুশ হারিয়ে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে।
মুন্সীগঞ্জের মিরকাদিম এলাকার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নাব্য সংকটের কারণে ভরা বর্ষা মৌসুমেও মিরকাদিম লঞ্চঘাটে লঞ্চ ভিড়ছে না। নিয়মিত নৌযান চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বন্দরের সঙ্গে সংযুক্ত অভ্যন্তরীণ খালগুলো দখল ও দূষণের কারণে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। জলপথে পণ্য পরিবহন কমে যাওয়ার পাশাপাশি স্থলপথে সরু ও ভাঙাচোরা সড়কের কারণে ভারী যানবাহন চলাচলে নানাবিধ প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে।
এসব সমস্যার কারণে মিরকাদিমকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা ব্যবসা-বাণিজ্যে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। একসময়ের তিন শতাধিক ধানের চাতাল ও চালের আড়তের অধিকাংশই বন্ধ হয়ে গেছে। একইভাবে ডাল, তেল, আটা-ময়দাসহ বিভিন্ন শিল্পকারখানা ও পাইকারি ব্যবসাও সংকুচিত হয়েছে। মাছের আড়তেও আগের তুলনায় সরবরাহ অনেক কমে গেছে। একসময় ২৪ ঘণ্টা কর্মচাঞ্চল্যে মুখর থাকা ঘাট এখন অনেকটা নির্জীব হয়ে পড়েছে।
আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার
ব্যবসায়িক কার্যক্রম কমে যাওয়ায় এলাকায় থাকা চারটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের শাখাও কমলাঘাট এলাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষায়, একসময় ‘দ্বিতীয় কলকাতা’ নামে পরিচিত মিরকাদিম এখন তার ঐতিহ্য ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে।
এদিকে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) জানিয়েছে, ২০০৫ সালের রোববার (২৫ সেপ্টেম্বর) রিকাবীবাজার থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে মিরকাদিমের কাঠপট্টি এলাকায় লঞ্চঘাট স্থানান্তরের পর থেকেই নাব্য সংকট প্রকট হয়ে ওঠে। বর্তমানে ঘাটটি ধলেশ্বরী নদীর মূল চ্যানেল থেকে দূরে থাকায় বারবার ড্রেজিং করেও পর্যাপ্ত নাব্য ধরে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে নিয়মিত লঞ্চ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা উদ্ধৃতি দিয়ে জানান, দ্রুত নদীর নাব্য ফিরিয়ে আনা, খালগুলো উদ্ধার করে নৌচলাচল চালু এবং সড়ক যোগাযোগের উন্নয়নের দাবি জানাচ্ছেন। তাদের মতে, এসব সমস্যার সমাধান না হলে প্রাচীন এই নদীবন্দরের অর্থনৈতিক গুরুত্ব আরও কমে যাবে।
এ বিষয়ে মিরকাদিম পৌরসভার প্রশাসক ও মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘মিরকাদিম বন্দরের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে সমন্বিত উদ্যোগ নেয়া হবে। এরই মধ্যে নয়নের খাল উদ্ধার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য সমস্যার সমাধানেও সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হবে।’
আরও পড়ুন: ধামরাইয়ে দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় প্রশাসনের তৎপরতা: বিভাগীয় কমিশনার
মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান রতন বলেন, ‘মিরকাদিমের ঐতিহাসিক গুরুত্ব পুনরুদ্ধারে সরকার আন্তরিক। নৌপথ, খাল ও সড়ক অবকাঠামোর উন্নয়নের মাধ্যমে বন্দরের ব্যবসায়িক কার্যক্রম আবারও সচল করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া হবে।’
স্থানীয়দের আশা, দীর্ঘদিনের নাব্য সংকট দূর, খাল পুনরুদ্ধার এবং আধুনিক অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে প্রাচীন নদীবন্দর মিরকাদিম আবারও দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যকেন্দ্র হিসেবে তার হারানো গৌরব ফিরে পাবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন