১১:২৪ পি.এম
শৈশব হেসেখেলে কাটলেও, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের মাথায় আসে নানা চিন্তা। প্রতিটি মুহূর্তে আমাদের মস্তিষ্ক কিছু না কিছু চিন্তা করেই চলেছে। এটি অবশ্যই অস্বাভাবিক নয়। তবে কিছু মানুষের জন্য এই সাধারণ চিন্তাগুলো ক্রমে গুরুতর আকার ধারণ করে। আমরা সবাই জানি, অতিরিক্ত চিন্তার ফলে মানসিক চাপ, উদ্বেগ এবং আরও গুরুতর মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিতে পারে। এতটাই যে, এটি শারীরিক ব্যথাতেও রূপান্তরিত হতে পারে। অতিরিক্ত চিন্তার কারণে বুকে এমন ব্যথা হতে পারে যা হার্ট অ্যাটাকের মতো অনুভূতি তৈরি করে। হ্যাঁ, আপনি ঠিকই শুনেছেন। বিভিন্ন কারণ এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী হতে পারে।
চলুন সরাসরি মূল প্রসঙ্গে আসা যাক। অতিরিক্ত চিন্তার ফলে কি বুকে ব্যথা হতে পারে? এর উত্তর হচ্ছে, হ্যাঁ, হৃৎপিণ্ড সুস্থ থাকা সত্ত্বেও অতিরিক্ত চিন্তার কারণে অনেক সময় বুকে সত্যিকারের ব্যথা অনুভূত হতে পারে। এর মূলে রয়েছে মন এবং শরীরের ঘনিষ্ঠ সংযোগ। ক্রমাগত দুশ্চিন্তা, উদ্বেগ এবং মানসিক চাপ শরীরের ফাইট অর ফ্লাইট প্রতিক্রিয়াকে সক্রিয় করে, ফলে অ্যাড্রেনালিন এবং কর্টিসলের মতো স্ট্রেস হরমোন নিঃসৃত হয়ে থাকে। এই ধরনের হরমোনগুলো হৃৎস্পন্দন দ্রুত করতে পারে, বুকের পেশীগুলোকে শক্ত করে দিতে পারে, শ্বাস-প্রশ্বাসের ধরণ পরিবর্তন করতে পারে এবং বুকে চাপ, তীব্র ব্যথা, বুকের চাপ, বুক ধড়ফড় করা, মাথা ঘোরা অথবা শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ তৈরি করতে পারে।
প্যানিক অ্যাটাক বা তীব্র উদ্বেগের শিকার অনেকেই এই উপসর্গগুলোকে হার্ট অ্যাটাক মনে করেন, কারণ অনুভূতির দিক থেকে এটা প্রায় একই রকম হতে পারে। অতিরিক্ত চিন্তার কারণে অগভীর ও দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাস (হাইপারভেন্টিলেশন) হতে পারে, যা রক্তে কার্বন ডাই অক্সাইডের মাত্রা কমিয়ে ফেলে। এর ফলে বুকে অস্বস্তি অনুভূত হয়, হাতে ঝিনঝিন করে এবং মাথা হালকা লাগতে পারে। তা ছাড়াও দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ ঘাড়, কাঁধ এবং বুকের চারপাশের পেশীগুলোকে টানটান করে রাখে, যা ব্যথা বা যন্ত্রণার কারণ হতে পারে।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের মতে, মানসিক চাপের কারণে প্রকৃতপক্ষে শারীরিক ব্যথা হতে পারে। সংস্থাটি জানিয়েছে, এটি পেশীগুলোকে ক্রমাগত টানটান অবস্থায় রাখতে বাধ্য করে। তারা আরও উল্লেখ করেছে যে, যখন আমরা অতিরিক্ত চিন্তা করি বা মানসিক চাপের মধ্যে থাকি, তখন আমাদের শরীর এটিকে শারীরিক হুমকি হিসেবে গণ্য করে। ফলে পেশীগুলো শক্ত হয়ে যায় আঘাত থেকে রক্ষা পাওয়ার উদ্দেশ্যে। যদি এই চাপ দীর্ঘস্থায়ী হয়ে যায়, তবে আমাদের পেশীগুলো শিথিল হওয়ার সংকেত কখনোই পায় না। এর ফলে পেশীগুলো স্থায়ীভাবে শক্ত হয়ে যেতে পারে। এই ক্রমাগত টানটান অবস্থা ধীরে ধীরে মাইগ্রেন, টেনশন হেডেক এবং তীব্র কোমর ব্যথার মতো প্রকৃত শারীরিক সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। সংস্থাটি উল্লেখ করেছে যে, রিলাক্সেশন কৌশল অনুশীলন করলে আমাদের স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত হতে সাহায্য করতে পারে, যা পেশীর টান এবং এর ফলে সৃষ্ট শারীরিক ব্যথা দুটোই কমাতে সহায়ক।
বুকে ব্যথা নিয়ে কখন আপনার চিন্তিত হওয়া উচিত?
কোনো গুরুতর কারণ ছাড়া বুকের ব্যথা কীভাবে শনাক্ত করবেন? যদিও উদ্বেগজনিত বুকে ব্যথা একটি পরিচিত বিষয়, তবুও মনে রাখা প্রয়োজন যে, বুকে ব্যথাকে কখনোই অবহেলা করা উচিত নয়। বৈশিষ্ট্য অনুসারে, যদি এটি হঠাৎ এবং তীব্র হয়, হাত, চোয়াল অথবা পিঠে ছড়িয়ে পড়ে, অথবা এর সঙ্গে ঘাম, বমি বমি ভাব বা শ্বাসকষ্ট থাকে, কারণ এগুলো হৃদরোগের লক্ষণ হতে পারে যার জন্য অবিলম্বে চিকিৎসার প্রয়োজন।
যদি ডাক্তারি পরীক্ষায় হৃদরোগ ধরা না পড়ে এবং ব্যথা অব্যাহত থাকে, তবে মানসিক চাপ এবং মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো উচিত। অতিরিক্ত চিন্তা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে উদ্বেগজনিত বুকের উপসর্গগুলো কমানোর জন্য রিলাক্সেশন টেকনিক, গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম, মাইন্ডফুলনেস, নিয়মিত শারীরিক কার্যকলাপ, পর্যাপ্ত ঘুম এবং ক্যাফেইন সীমিত করার মতো পদক্ষেপগুলি সহায়ক হতে পারে।
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন