১২:১৯ এম
বাংলাদেশের রাজনীতিতে যতদিন জামায়াতে ইসলামী থাকবে, ততদিন আওয়ামী লীগও টিকে থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন কবি, চিন্তক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ফরহাদ মজহার।
রোববার (২ আগস্ট) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি আয়োজিত ‘৩৬ জুলাইয়ের অবদান বিতর্ক ও ব্যর্থতার দায় পর্যালোচনা’ শীর্ষক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ফরহাদ মজহার বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জাতীয় অর্জন এবং এ অর্জনের সঙ্গে কোনো ধরনের আপস করা যাবে না। একাত্তরের মাধ্যমেই বাঙালি জনগোষ্ঠী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
তিনি বলেন, ইসলাম একটি ধর্ম, রাজনৈতিক দলের পরিচয় নয়। তাই ‘জামায়াতে ইসলামী’ নাম ব্যবহার করে রাজনীতি করার ঘোরবিরোধী আমি। যত দিন এ নাম নিয়ে জামায়াতে ইসলামী থাকবে, তত দিন বাংলাদেশে আওয়ামী লীগও থাকবে।
এ সময় ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রব্যবস্থার অবসান ঘটাতে হলে ১৯৭২ সালের সংবিধান পুনর্বিবেচনা নয়, বরং বাতিল করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন ফরহাদ মজহার।
১৯৭২ সালের সংবিধানের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এটি জনগণের সার্বভৌমত্বকে সীমাবদ্ধ করেছে। জনগণই রাষ্ট্রক্ষমতার প্রকৃত মালিক এবং জনগণের ইচ্ছার ভিত্তিতে নতুন গঠনতন্ত্র প্রণয়ন করা সম্ভব। বর্তমান সংবিধানের পরিবর্তে গণসার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নতুন রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
জুলাই অভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়াতেও অসন্তোষ প্রকাশ করেন ফরহাদ মজহার। তার অভিযোগ, অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে পূর্ণ ক্ষমতাসম্পন্ন অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের সুযোগ সৃষ্টি হয়নি। তিনি দাবি করেন, সে সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক বাস্তবতায় একটি পূর্ণাঙ্গ অন্তর্বর্তী সরকার গঠনে বাধা সৃষ্টি হয়েছিল।
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
ফরহাদ মজহার বলেন, পূর্ণাঙ্গ ক্ষমতাসম্পন্ন একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের সুযোগ দেওয়া হয়নি। শেখ হাসিনার আমলের সংবিধান বহাল রেখে প্রকৃত অর্থে সরকার পরিচালনা সম্ভব নয়। তার ভাষায়, সংবিধানকে জনগণের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, যদি অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে অবৈধ বলা হয়, তাহলে একই সাংবিধানিক ধারাবাহিকতায় অনুষ্ঠিত নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত বিএনপি সরকারকেও অবৈধ বলতে হবে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সাবেক উপদেষ্টা শারমিন এস মুরশিদ। তিনি বলেন, ১৯৭১ ও ২০২৪ সালের চেতনাকে ধারণ করে রাষ্ট্র পুনর্গঠনের কাজ এগিয়ে নিতে হবে। দুর্নীতি, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও পুরোনো রাষ্ট্রীয় কাঠামোর সংস্কার ছাড়া কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন সম্ভব নয়।
সংলাপে সভাপতিত্ব করেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাবেক উপদেষ্টা ও এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া, আইনজীবী আবু হেনা রাজ্জাকী, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জুবায়ের আহমেদ ভূঁইয়া, এ বি এম খালিদ হাসান, ত্রাণ ও পুনর্বাসন সম্পাদক সুলতানা রাজিয়া প্রমুখ।
আরও পড়ুন: সদরঘাটে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসানের আকস্মিক পরিদর্শন
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন