মঙ্গলবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০১:৪৩ পি.এম
চলতি অর্থবছরে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাধারণ ভবিষ্যৎ তহবিল বা জিপিএফের ওপর সর্বোচ্চ ১৩ শতাংশ মুনাফা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। মুনাফার হার তিনটি স্তরে নির্ধারণ করা হয়েছে, যা টাকার পরিমাণের ওপর নির্ভর করে। গত অর্থবছরেও একই হারে মুনাফা প্রদান করা হয়েছিল।
রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) অর্থ বিভাগ চলতি অর্থবছরের জন্য জিপিএফের মুনাফার হার নির্ধারণ করে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।
প্রজ্ঞাপনের তথ্য অনুযায়ী, প্রভিডেন্ট ফান্ডের প্রারম্ভিক স্থিতি অথবা চলতি অর্থবছরে জমা করা চাঁদার পরিমাণ ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত হলে মুনাফার হার ১৩ শতাংশ হবে। ১৫ লাখ টাকার বেশি থেকে ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত হলে ১২ শতাংশ মুনাফা পাওয়া যাবে। আর ৩০ লাখ টাকার বেশি হলে মুনাফার হার ১১ শতাংশ হবে।
জিপিএফের আওতায় থাকা সুবিধা বিবেচনায় নিয়ে যেসব প্রতিষ্ঠানে ভবিষ্যৎ তহবিল বা সিপিএফ চালু রয়েছে, সেসব প্রতিষ্ঠান তাদের নিজস্ব নিয়ম অনুযায়ী মুনাফার হার নির্ধারণ করতে পারবে।
সরকারি চাকরিজীবীরা তাদের মূল বেতনের সর্বনিম্ন ৫ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ পর্যন্ত অর্থ জিপিএফে জমা রাখতে পারেন। অন্যদিকে, সিপিএফভুক্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা মূল বেতনের সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ পর্যন্ত চাঁদা জমা দিতে পারেন।
জিপিএফ ও সিপিএফ উভয় ক্ষেত্রেই কর্মীর নিজস্ব জমার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠান বা নিয়োগকর্তার নির্ধারিত অংশ থাকে। সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলো প্রভিডেন্ট ফান্ড ও সিপিএফে মূল বেতনের ৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ অর্থ প্রদান করে থাকে। কর্মীরা মোট জমা অর্থের ওপর চক্রবৃদ্ধি হারে মুনাফা পান।
বাংলাদেশ সার্ভিস রুলস অনুযায়ী, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য গঠিত প্রভিডেন্ট ফান্ডকে জিপিএফ বলা হয়। আর যেসব প্রতিষ্ঠান বা সরকারি চাকরিতে পেনশন ব্যবস্থা নেই, সেখানে কর্মীদের ভবিষ্যৎ আর্থিক সুরক্ষার জন্য সিপিএফসহ বিভিন্ন ধরনের ভবিষ্যৎ তহবিল চালু রয়েছে।
এ ব্যবস্থায় কর্মী তার মূল বেতন থেকে নির্দিষ্ট অংশ জমা করেন এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানও নির্ধারিত হারে অর্থ প্রদান করে। চাকরি শেষে বা বিধি অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে কর্মী নিজের ও প্রতিষ্ঠানের জমা অর্থের সঙ্গে অর্জিত মুনাফা একসঙ্গে পান। সাধারণত স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোতে সিপিএফ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ট্রেনের ধাক্কায় আনুমানিক ৫০ বছর বয়সী অজ্ঞাত এক নারীর মৃত্যু ঘটেছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ভোরে পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পাকার মাথা এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, মঙ্গলবার ভোরে রেললাইনের ওপর হাঁটার সময় একতা এক্সপ্রেস নামে একটি ট্রেনের ধাক্কায় ওই নারীর মৃত্যু হয়। তবে, তার পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়দের দাবি, নিহত ওই নারী ও তার স্বজনরা উপজেলার বাগানবাড়ী এলাকায় আলমগীর হোসেনের ভাড়াটিয়া। জানা গেছে, ওই নারীর বাড়ি টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর এলাকায়। দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর স্বজনরা ঘটনাস্থল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে দেশের বাড়িতে নিয়ে যান।
কালিয়াকৈর হাইটেক রেলওয়ে স্টেশন কর্মকর্তা এচএম খায়রুল ইসলাম জানান, ট্রেন দুর্ঘটনায় এক নারী নিহত হওয়ার খবর পেয়েছি। কিন্তু ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই তার স্বজনরা মরদেহ নিয়ে চলে যান।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
খুলনায় ডেঙ্গুর কারণে দুই অন্তঃসত্ত্বা নারীর মৃত্যু ঘটেছে। তাদের গর্ভে থাকা সন্তানদের বাঁচানো সম্ভব হয়নি। একদিকে, ছয় বছরের রওদার প্রশ্ন, ‘আমি কাকে আম্মু বলে ডাকব?’ অন্যদিকে, দেড় বছরের কেয়া এখনো বুঝতে পারছে না, কেন তার ‘সোনা মা’ আর ফিরে আসছেন না। দুই পরিবারের শোক যেন আটকে আছে শিশুদের নিষ্পাপ প্রশ্নে।
খুলনা নগরের সিদ্দিকীয়া মহল্লার নাহিদ হাসানদের পারিবারিক ভবনে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গিয়ে দেখা যায়, পরিবারের অন্যান্য শিশুদের সঙ্গে খেলছে নাহিদ হাসান ও নুসরাত জাহান দম্পতির দুই সন্তান, বড় ছেলে রাইয়ান হাসান ও ছয় বছরের রওদা হাসান।
রাইয়ান কিছুটা শোকাচ্ছন্ন। সে মায়ের চলে যাওয়ার বিষয়টি বুঝতে পারছে। কিন্তু ছয় বছরের রওদা এখনো বুঝতে পারছে না, কেন তার মা আর ঘরে ফিরছেন না। তাই মাঝে মাঝে স্বজনদের কাছে জানতে চায়, ‘আমি কাকে আম্মু বলে ডাকব?’
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর নেই পরিবারের সদস্যদের কাছে। নাহিদের বড় ভাই মাহমুদ হাসান সোহেল বলেন, "ওদের সুখের সংসার ছিল। নতুন সদস্যের আগমন নিয়ে আমরা সবাই উচ্ছ্বসিত ছিলাম। কীভাবে কী হয়ে গেল, এখনো বুঝতে পারছি না। ছোট মেয়েটার জন্য বেশি খারাপ লাগছে। মাঝে মাঝে ও প্রশ্ন করছে, আমি কাকে আম্মু বলে ডাকব?"
নাহিদ হাসান ও নুসরাত জাহান দম্পতির তৃতীয় সন্তানের আগমনের অপেক্ষা ছিল পুরো পরিবারে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ২০ সেপ্টেম্বর সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল। নতুন অতিথির নামও ঠিক করে রাখা হয়েছিল। ঘরজুড়ে চলছিল প্রস্তুতি। কিন্তু হঠাৎ সবকিছু বদলে যায়।
১৮ সেপ্টেম্বর নুসরাতের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। তার রক্তের প্লাটিলেট কমে ৬২ হাজারে নেমে যায়। পরবর্তীতে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরের দিন অবস্থার অবনতি হলে প্রয়োজন হয় আইসিইউর।
স্বজনেরা জানান, এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে চেষ্টা করেও আইসিইউ শয্যা পাওয়া যায়নি। শেষ পর্যন্ত নুসরাতকে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে অ্যাম্বুলেন্সে রওনা হন তার স্বামী নাহিদ। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই ভাঙ্গার কাছে নিস্তেজ হয়ে পড়েন নুসরাত।
পরে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার গর্ভের সন্তানটিও বাঁচানো সম্ভব হয়নি। নুসরাতের পরিবারের সদস্যরা জানান, তিনি বটিয়াঘাটার ইউসুফিয়া দাখিল মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করতেন। গর্ভধারণের পর চাকরি ছেড়ে দেন। সন্তানদের নিয়েই ছিল তাঁর ব্যস্ততা।
এদিকে, বড় ছেলে রাইয়ানের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছিল ১৫ সেপ্টেম্বর। অন্য শিশুদের মশা থেকে দূরে রাখতে নুসরাতই সবচেয়ে বেশি সতর্ক করতেন বলে জানান স্বজনেরা। নাহিদ হাসান খুলনার গ্রামীণফোন সেন্টারের ডেপুটি ইনচার্জ হিসেবে কাজ করেন। স্ত্রী ও অনাগত সন্তানকে হারিয়ে এখন তিনি দুই সন্তানকে নিয়ে নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি।
নাহিদ বলেন, "কীভাবে কী হয়ে গেল, কিছুই বুঝতে পারছি না!"
নুসরাতের মতোই আরেকটি পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তবে সেই শূন্যতার অর্থ বোঝার বয়স হয়নি দেড় বছরের কেয়া নামের শিশুটির।
খুলনা নগরের বসুপাড়ায় সাদিয়া আফরিন সুমাইয়ার বাবার বাড়ি। দ্বিতীয়বার গর্ভধারণের পর সেখানেই ছিলেন তিনি। তার স্বামী শেখ ইশতিয়াজ সম্রাট পেশায় আইনজীবী। তাদের দেড় বছরের মেয়ে কেয়া।
কয়েক দিন ধরে জ্বর ছিল সুমাইয়ার। একই সময়ে তার মা-বাবাও অসুস্থ ছিলেন। ১৬ সেপ্টেম্বর তার মায়ের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। ১৮ সেপ্টেম্বর বাবারও ডেঙ্গু শনাক্ত হয়।
নিজের জ্বরকে গর্ভকালীন কোনো সমস্যা মনে করে সুমাইয়া হাসপাতালে যাননি। ১৯ সেপ্টেম্বর রাতে হঠাৎ তার শরীরে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। স্বজনেরা দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসকেরা তাকে আইসিইউতে নেওয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু আইসিইউ শয্যা না থাকায় এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে ছুটতে হয় স্বজনদের। কোথাও শয্যা খালি না থাকায় শেষ পর্যন্ত তাকে লেবার ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়।
পরদিন ভোরে মারা যান সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা সুমাইয়া। তার গর্ভের সন্তানকেও বাঁচানো সম্ভব হয়নি। মায়ের মৃত্যুর পরও বিষয়টি বুঝতে পারেনি ছোট্ট কেয়া। সে শুধু মাকে খুঁজছে। মাঝে মাঝে স্বজনদের কাছে জানতে চাইছে, "আমার সোনা মা কোথায়?"
সুমাইয়ার এক স্বজন জানান, শেষ সময়ে তাকে এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও কোথাও আইসিইউ শয্যা পাওয়া যায়নি। শারীরিক অবস্থা বেশি খারাপ থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে ডেঙ্গু পরীক্ষাও করা হয়নি। সুমাইয়ার মৃত্যুসনদে হৃদ্যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানান স্বজনেরা।
এখন কেয়া তার খালা মারজিয়ার কাছে আছে। পরিবারের সদস্যরা তাকে আগলে রাখছেন। তবে মায়ের অনুপস্থিতির কারণ এখনো বুঝতে পারছে না শিশুটি। মারজিয়া বলেন, "মায়ের মৃত্যুর বিষয়টি এখনো বুঝতে পারছে না কেয়া। মাঝে মাঝে বলছে, আমার সোনা মা কোথায়?"
দুই পরিবারের ঘরেই এখন নতুন অতিথির অপেক্ষার বদলে শোক বিরাজ করছে। এক ঘরে ছয় বছরের রওদার প্রশ্ন, আমি কাকে আম্মু বলে ডাকব? আর অন্য ঘরে দেড় বছরের কেয়া খুঁজে ফিরছে তার ‘সোনা মা’কে। দুই শিশুর প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার মতো ভাষা যেন হারিয়ে ফেলেছেন স্বজনেরাও।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে আকাশপথের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বিকল হয়ে ব্যাপক ফ্লাইট বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। ফিলাডেলফিয়ার বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈদ্যুতিক সংযোগ নষ্ট হওয়ার ফলে নেওয়ার্ক (নিউ জার্সির অঙ্গরাজ্য ও নিউইয়র্ক মেট্রোপলিটন এলাকার একটি প্রধান অংশ) এবং ফিলাডেলফিয়াসহ বিভিন্ন বিমানবন্দরে শত শত ফ্লাইট বাতিল হয়েছে এবং কয়েকশ ফ্লাইটে দেরি হয়েছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ফিলাডেলফিয়ার ওই নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রে বড় ধরনের বৈদ্যুতিক ত্রুটি দেখা দেয়। কেন্দ্রটি নিউইয়র্কের নেওয়ার্ক লিবার্টি ইন্টারন্যাশনাল, টেটারবোরো ও ফিলাডেলফিয়া বিমানবন্দরের আকাশপথ নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে ওই অঞ্চলের রানওয়েতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অনেক উড়োজাহাজ অপেক্ষায় থাকে।
যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহনমন্ত্রী শন ডাফি জানান, প্রায় সাত ঘণ্টা পর বিকেল ৫টার দিকে যোগাযোগ ব্যবস্থা মেরামত করা হয়। এরপর উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ফ্লাইট চলাচল আবার শুরু হয়। তবে জমে থাকা বিলম্ব স্বাভাবিক হতে আরও সময় লাগবে বলে তিনি জানান।
ফেডারেল বিমান চলাচল প্রশাসনের প্রধান ব্রায়ান বেডফোর্ড জানান, মূল ব্যবস্থা বিকল হওয়ার পর তারা বিকল্প ব্যবস্থা চালুর চেষ্টা করেন। কিন্তু পরে দেখা যায়, নিউ জার্সিতে নির্মাণকাজের সময় বিকল্প ব্যবস্থার একটি যোগাযোগ তারও কেটে গেছে।
ডাফি জানান, নিউ জার্সিতে রেল নির্মাণকাজের সময় একটি দল ভুল করে ভূগর্ভস্থ যোগাযোগ তার কেটে ফেলায় এই বিপর্যয় আরও বড় আকার নেয়। তার মতে, পুরোনো অবকাঠামো আধুনিক করতে আরও অর্থ প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়ানো যায়।
এদিকে আমট্রাকের এক মুখপাত্র জানান, তাদের নিজস্ব কর্মীরা নয়, নিউ জার্সির গণপরিবহন সংস্থার একটি ঠিকাদারি নির্মাণ দল তারটি কেটেছে।
নিউ জার্সির গণপরিবহন সংস্থা জানায়, নিউ ব্রান্সউইক ও নর্থ ব্রান্সউইকের মাঝামাঝি এলাকায় সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে নির্মাণকাজের সময় একটি তন্তু-ভিত্তিক যোগাযোগ তার ভুল করে কেটে যায়। তবে ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে যোগাযোগ প্রতিষ্ঠান ভেরাইজন দাবি করেছে, তাদের কোনো দল এ ঘটনার জন্য দায়ী নয়। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, রেললাইনের পাশ দিয়ে যাওয়া তাদের একটি যোগাযোগ তার নিউ জার্সির গণপরিবহন সংস্থার নির্মাণকাজের সময় কেটে যায় এবং তার কাটার আগ পর্যন্ত তাদের সব ব্যবস্থা স্বাভাবিক ছিল।
প্রথমে নেওয়ার্ক লিবার্টি ইন্টারন্যাশনাল, টেটারবোরো ও ফিলাডেলফিয়া বিমানবন্দরে উড়োজাহাজের উড্ডয়ন বন্ধ রাখা হয়। পরে নিউইয়র্কের লাগার্ডিয়া ও জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরেও একই ব্যবস্থা নেওয়া হয়। জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন উপলক্ষে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতারা তখন নিউইয়র্কে আসছিলেন। ফলে ফ্লাইট বিপর্যয়ের প্রভাব আরও বেড়ে যায়।
ফেডারেল বিমান চলাচল প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, নিউয়ার্ক ও ফিলাডেলফিয়া থেকে উড্ডয়নে সর্বোচ্চ ১৫০ মিনিট পর্যন্ত দেরি হয়। সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত নিউয়ার্ক বিমানবন্দরে প্রায় ৬১৯টি এবং ফিলাডেলফিয়ায় ১৯৭টি ফ্লাইট বাতিল হয়। এর বাইরে দুই বিমানবন্দরেই আরও কয়েকশ ফ্লাইট বিলম্বিত হয়।
বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণকক্ষের সঙ্গে পাইলটদের কথোপকথনেও পরিস্থিতির চিত্র উঠে আসে। ফিলাডেলফিয়ায় এক পাইলট দীর্ঘ সময় উড্ডয়নের অপেক্ষা নিয়ে জানতে চাইলে নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে শুধু জানানো হয়, যন্ত্রের সমস্যার কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সমস্যাটি কতক্ষণ চলবে—পাইলট জানতে চাইলে নিয়ন্ত্রণকক্ষের কর্মী জানান, তিনি তা জানেন না।
যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম ব্যস্ত আকাশপথ হিসেবে পরিচিত নিউ জার্সি ও আশপাশের এলাকা। গত বছরও যন্ত্রের ত্রুটির কারণে সেখানে বিমান চলাচলে বড় ধরনের সমস্যা হয়েছিল। সে সময় প্রায় এক ডজন উড়োজাহাজ প্রায় ৯০ সেকেন্ড যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় আকাশে ছিল। তবে তখন পরিবহনমন্ত্রী ডাফি জানিয়েছিলেন, ওই ঘটনায় উড়োজাহাজগুলোর মধ্যে সংঘর্ষের কোনো ঝুঁকি তৈরি হয়নি।
সূত্র: দ্য এনবিসি নিউজ
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
দীর্ঘ আন্তর্জাতিক বিরতির সূচনাতে ইংল্যান্ড একটি বড় ধাক্কা খেয়েছে। জাতীয় দলের স্কোয়াড থেকে একসঙ্গে পাঁচ গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলার কোল পালমার, ডেকলান রাইস, মার্কাস রাশফোর্ড, কোবি মাইনু ও টিনো লিভ্রামেন্টো চোটের কারণে বাদ পড়েছেন।
ইংল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএ) সোমবার এই পাঁচ ফুটবলার সরে দাঁড়ানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তাদের পরিবর্তে দলে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন নটিংহাম ফরেস্টের মরগান গিবস-হোয়াইট এবং এভারটনের জেমস গার্নার।
পালমারের বাদ পড়া ইংল্যান্ডের জন্য একটি বড় ক্ষতি। ২০২৬ বিশ্বকাপের দলে জায়গা না পাওয়ার পর তিনি আবার জাতীয় দলে ফিরেছিলেন। চলতি মৌসুমে চেলসির হয়ে সাত ম্যাচে চার গোল ও দুটি অ্যাসিস্ট করার পর তিনি পেশির চোটের কারণে জাতীয় দলের ক্যাম্পে যোগ দিতে পারছেন না।
আর্সেনালের মিডফিল্ডার ডেকলান রাইসও চোটের কারণে বাদ পড়েছেন। তিনি বিশ্বকাপেও চোট নিয়ে খেলেছিলেন। চলতি প্রিমিয়ার লিগে আর্সেনালের পাঁচ ম্যাচে শুরু থেকে খেলেছেন, তবে এবার বিশ্রাম ও চিকিৎসার জন্য আন্তর্জাতিক উইন্ডো থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন।
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের দুই খেলোয়াড় মার্কাস রাশফোর্ড এবং কোবি মাইনুও চোটের কারণে বাদ পড়েছেন। ফুলহামের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র হওয়া ম্যাচের পর তাদের চোটের সমস্যা দেখা দেয়। রাশফোর্ড বিশ্বকাপ থেকেই নিতম্বের সমস্যায় ভুগছেন এবং ফুলহামের বিপক্ষে বদলি হওয়ার পর তাকে খুঁড়িয়ে হাঁটতে দেখা যায়। একই ম্যাচে ৮০ মিনিট মাঠে ছিলেন মাইনু।
এদিকে নিউক্যাসল ইউনাইটেডের টিনো লিভ্রামেন্টোও চোটের কারণে এই আন্তর্জাতিক উইন্ডোতে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না।
আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর ওয়েম্বলিতে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনের বিরুদ্ধে নেশন্স লিগ অভিযান শুরু করবে ইংল্যান্ড। এরপর ২৯ সেপ্টেম্বর প্রাগে চেক প্রজাতন্ত্র, ৩ অক্টোবর রিয়েকায় ক্রোয়েশিয়া এবং ৬ অক্টোবর আবারও ওয়েম্বলিতে চেক প্রজাতন্ত্রের মুখোমুখি হবে টমাস টুখেলের দল।
ফিফার নতুন সূচিতে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরের দুটি আন্তর্জাতিক উইন্ডো একসঙ্গে হওয়ায় খেলোয়াড়দের প্রায় তিন সপ্তাহ জাতীয় দলের সঙ্গে থাকতে হবে। তবে এই দীর্ঘ আন্তর্জাতিক বিরতির শুরুতেই পাঁচ গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলারকে হারিয়ে চোটের বড় ধাক্কা খেল টুখেলের দল।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ