রবিবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৬:৩১ পি.এম
সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন ১ হাজার ৩৪১ জন সন্দেহভাজন ও নিশ্চিত হাম রোগী।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামসংক্রান্ত নিয়মিত অনলাইন প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে সর্বাধিক চারজন, চট্টগ্রাম ও সিলেটে দুজন করে এবং ময়মনসিংহ বিভাগে একজনের মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে দেশে শুরু হওয়া এই প্রাদুর্ভাবে আজ পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ১ হাজার ৯৬ জনে পৌঁছেছে।
অধিদপ্তর আরও জানায়, মোট মৃতের মধ্যে ১০১ জনের হাম রোগী হিসেবে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া গেছে। বাকি ৯৯৫ জনের মৃত্যু হামের প্রাথমিক উপসর্গ নিয়ে ঘটেছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক খায়রুল ইসলাম সজীবকে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে তার পূর্বের পদে পুনর্বহাল করা হয়েছে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির দপ্তর শাখা থেকে একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, পূর্বে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং দলের নীতি ও আদর্শের পরিপন্থি কার্যকলাপের জন্য খায়রুল ইসলাম সজীবকে দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। তবে, তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আজকের দিনে এই বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে তাকে পূর্বের পদে পুনর্বহাল করা হয়েছে।
যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না এবং সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন ইতোমধ্যে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছেন।
যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির যৌথ সাধারণ সম্পাদক (দপ্তরের দায়িত্বে) মিনহাজুল ইসলাম ভূইয়ার স্বাক্ষরিত বার্তা প্রেরণে দলটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের এই নির্দেশনার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বিদ্যমান ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন কার্যকর করার ফলে অবৈধভাবে বেদখল হওয়া জমি উদ্ধারের জন্য কঠোর বিধান প্রবর্তন করা হয়েছে।
এই আইন অনুযায়ী, আদালত বা যথাযথ কর্তৃপক্ষের আদেশ ছাড়া কোনো ব্যক্তিকে তার দখলীয় জমি থেকে উচ্ছেদ করা হলে, মাত্র তিন মাসের মধ্যে সেই জমির দখল পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে। জনগণ এই আইনের মাধ্যমে মামলা করে সুফল লাভ করছেন।
ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সাল থেকে ২০২৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৩৩ মাসে ঢাকা জেলায় এই আইনে মোট ৮০৭টি মামলা দায়ের হয়েছে। এর মধ্যে ৪৭৫টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে এবং ৩৩২টি মামলা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। দায়েরকৃত মামলাগুলোর অধিকাংশই অবৈধভাবে দখলচ্যুত ব্যক্তির দখল পুনরুদ্ধারের সাথে সম্পর্কিত। ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনের ৮ ধারায় দখল পুনরুদ্ধারের বিস্তারিত পদ্ধতি বর্ণনা করা হয়েছে।
আইন অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তিকে উপযুক্ত আদালত বা কর্তৃপক্ষের আদেশ ছাড়া তার দখলীয় ভূমি থেকে উচ্ছেদ করা হয়, তবে তিনি সংশ্লিষ্ট অধিক্ষেত্রের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে দখল পুনরুদ্ধারের জন্য আবেদন করতে পারবেন।
এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট, যদি সন্তুষ্ট হন যে, সংক্ষুব্ধ ব্যক্তিকে আইনানুগ প্রক্রিয়া ছাড়া উচ্ছেদ করা হয়েছে, তবে তিনি তাকে তার পূর্ব-দখলীয় ভূমিতে পুনরুদ্ধার করার জন্য যথাযথ আদেশ প্রদান ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন। উভয় পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ ও সরেজমিন তদন্ত করা হবে। তবে, যদি কোনো পক্ষ যথাযথভাবে নোটিশ জারি করা সত্ত্বেও ইচ্ছাকৃতভাবে অনুপস্থিত থাকে, তাহলে সরেজমিনে তদন্ত ও প্রয়োজনীয় অনুসন্ধান করার পর লিখিত আদেশ প্রদান করা যাবে।
এই আইনের অধীনে কোনো আবেদন প্রাপ্তির পর তিন মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে, এবং কোনো কর্মকর্তা বা কর্তৃপক্ষ যদি এতে অসহযোগিতা বা অবহেলা করে, তাহলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে। সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি নিজে বা নিয়োজিত কোনো ব্যক্তির মাধ্যমে মামলা পরিচালনা করতে পারবেন। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণের জন্য সংশ্লিষ্ট জেলার এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটদের মধ্যে দায়িত্ব বণ্টন বা অধিক্ষেত্র নির্ধারণ করে আদেশ জারি করতে পারেন।
ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, যদি কোনো দেওয়ানি আদালতে দখল পুনরুদ্ধার সংক্রান্ত মামলা বিচারাধীন থাকে, তবে একই বিষয়ে এই ধারার অধীনে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে না। তবে, উক্ত আদালত তার নিকট দায়েরকৃত বা বিচারাধীন কোনো মামলা তার পক্ষের আবেদনক্রমে বা স্বীয় বিবেচনায় এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট পাঠাতে পারবেন।
আইন অমান্য করার ক্ষেত্রে দণ্ড: ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনে বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি আইনটির ধারা ৮-এর অধীন প্রদত্ত কোনো আদেশ ইচ্ছাকৃতভাবে অমান্য করেন বা বাস্তবায়নে বাধা প্রদান করেন, তাহলে তা একটি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে এবং তিনি অনধিক দুই বছর কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হবেন।
এ বিষয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের আইন শাখার উপসচিব তুষার আহমেদ বাসসকে জানান, ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩ প্রণয়নের পর ২০২৪ সালে এর বিধিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। বিধিমালা যথাযথভাবে পরিপালনের মাধ্যমে আইনটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, যার সুফল জনগণ পাচ্ছেন।
তিনি আরও জানান, প্রতিটি জেলায় জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের সমন্বয়ে একটি আলাদা টিম গঠন করা হয়েছে। সেখানে জমা পড়া আবেদনগুলো আইন অনুযায়ী নিষ্পত্তি করা হচ্ছে।
ঢাকা জেলার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট লিটুস লরেন্স চিরান বলেন, এই আইনের আওতায় ২০২৪ সাল থেকে ২০২৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ঢাকা জেলায় ৮০৭টি মামলার মধ্যে ৪৭৫টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। তিন মাসের মধ্যে নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ম্যাজিস্ট্রেটদের এখতিয়ার নির্ধারণ করা হয়েছে। নিয়োজিত সকল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সর্বাত্মক আন্তরিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন বাস্তবায়নের মাধ্যমে বেদখলকৃত ভূমি পুনরুদ্ধার করে জনগণের ভোগান্তি দূর করা হচ্ছে।
আইনজীবী খালিদ হোসাইন বলেন, এই আইনের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো জবাবদিহিতার বিধান। পূর্বে দেওয়ানি মামলায় ৫-১০ বছর সময় লাগত, কিন্তু এখন ৯০ দিনে দখল পুনরুদ্ধারের আইনি বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়েছে।
ভুক্তভোগীরা খুব অল্প সময়ের মধ্যে প্রতিকার পাচ্ছেন।
এই আইনের মাধ্যমে প্রতিকার পাওয়া ভুক্তভোগী জসিম উদ্দিন বলেন, আদালতের আদেশ ছাড়াই আমাকে উচ্ছেদ করা হয়েছিল। আমি প্রতিকার চেয়ে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আবেদন করি। পরে তিন মাসের মধ্যেই জমির দখল ফেরত পেয়েছি। আদালতে গেলে বছরের পর বছর সময় লাগত। এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে অল্প সময়ের মধ্যে প্রতিকার পেয়েছি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
কানাডার অন্টারিওর এক কিশোর মাত্র ১৬ বছর বয়সে পানিদূষণ শনাক্ত করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে রোবট কচ্ছপ তৈরি করেছেন। ইভান বুডজের তৈরি এই রোবটের নাম ‘বার্ট’। এটি পানির নিচে কচ্ছপের মতো চলাচল করতে সক্ষম এবং পানিতে উপস্থিত ক্ষতিকর উপাদান শনাক্ত করতে পারে।
২০২৪ সালের গ্রীষ্মে রোবটটি তৈরির ধারণা আসে। কানাডায় দাদা-দাদির বাড়ির সুইমিংপুলে প্রথমবার রোবটটি পানিতে নামানোর পর ইভান বড় সমস্যায় পড়েন। রোবটটি পানিতে নামানোর পর সরাসরি তলিয়ে যায়। পানির গভীরতা নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে এটি অক্ষম ছিল এবং সাঁতার কাটতেও পারছিল না।
এর আগে, ইভান ক্যাম্পিং করতে গিয়ে অন্টারিওর দুর্গম এলাকায় একটি স্ন্যাপিং কচ্ছপকে শান্তভাবে চলতে দেখেছিলেন। সেই দৃশ্য থেকেই পানির নিচে চলতে সক্ষম রোবট তৈরির ধারণা পান তিনি।
সাধারণ পানির নিচের রোবটগুলো চলাচলের জন্য পাখা বা উচ্চচাপের পানির প্রবাহ ব্যবহার করে, যা পানির নিচের পরিবেশে শব্দ ও নড়াচড়া সৃষ্টি করে। এটি সামুদ্রিক প্রাণী ও সংবেদনশীল জলজ পরিবেশের জন্য বিরক্তিকর হতে পারে।
এ কারণে, ইভান কচ্ছপের সাঁতারের কৌশল অনুসরণ করে ‘বার্ট’ তৈরি করেন। রোবটটি ঘণ্টায় প্রায় শূন্য দশমিক ৫ মাইল গতিতে চলতে পারে, যা একটি আসল কচ্ছপের স্বাভাবিক গতির কাছাকাছি।
রোবটটিতে একটি ক্ষুদ্র কম্পিউটার, সামনের দিকে থাকা ক্যামেরা এবং পরিবেশগত ঝুঁকি শনাক্ত করার জন্য প্রশিক্ষিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা রয়েছে। এর সঙ্গে একটি সৌর প্যানেলও যুক্ত করা হয়েছে, যা দীর্ঘ সময় কাজ করতে সহায়তা করে।
ইভানের নিজস্ব পরীক্ষায় কৃত্রিমভাবে তৈরি প্রবাল বিবর্ণতার নমুনা শনাক্ত করতে ‘বার্ট’ ৯৬ শতাংশ নির্ভুলতা প্রদর্শন করেছে। তবে এই ফল নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে পরিচালিত পরীক্ষার ভিত্তিতে এসেছে। বাস্তব সমুদ্রের প্রবালপ্রাচীর বা প্রাকৃতিক পরিবেশে একই মাত্রার নির্ভুলতা বজায় থাকবে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।
পরে, ইভান রোবটটি সুইমিংপুলের বাইরেও পরীক্ষা করেন। অন্টারিও হ্রদেও এর কার্যকারিতা যাচাই করা হয়েছে। ঘোলাটে পানিতে কাজ করার জন্য রোবটটিতে শব্দতরঙ্গভিত্তিক একটি যন্ত্র যুক্ত করা হয়েছে। ক্ষুদ্র কণার আকার ও গঠন শনাক্ত করার জন্য একটি বিশেষ আলোকচিত্র প্রযুক্তিও সংযুক্ত করেছেন ইভান। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে পানিতে থাকা কোনো কণা মাইক্রোপ্লাস্টিক কি না, তা শনাক্ত করার চেষ্টা করা হয়।
বিজ্ঞান মেলায় সেরা প্রকল্প
ইভানের তৈরি রোবটটি ইতোমধ্যে বিজ্ঞান মেলার গণ্ডি পেরিয়েছে। ২০২৫ সালের কানাডা-ব্যাপী বিজ্ঞান মেলায় উদ্ভাবন বিভাগে সেরা প্রকল্পের পুরস্কার পায় ‘বার্ট’। এই প্রতিযোগিতায় দেশটির প্রায় ২৫ হাজার শিক্ষার্থী অংশ নেয়।
এরপর, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে লাটভিয়ার রিগায় অনুষ্ঠিত ইউরোপীয় ইউনিয়নের তরুণ বিজ্ঞানী প্রতিযোগিতায় প্রথম পুরস্কার অর্জন করে ইভান। ৪০টি দেশের ১৪ থেকে ২০ বছর বয়সী শিক্ষার্থীরা এতে অংশগ্রহণ করে। পুরস্কার হিসেবে সে ৭ হাজার ইউরো পায়।
এছাড়া, ইভান ইতিবাচক ফলাফলের জন্য গর্ডন ই. মুর পুরস্কার হিসেবে ৫০ হাজার ডলার এবং অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্পূর্ণ অর্থায়নে ভ্রমণের সুযোগসহ এলিসন স্কলার্স পুরস্কার পেয়েছে।
এখনো কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে
‘বার্ট’ এখনো নিজে থেকে তাৎক্ষণিকভাবে পথ পরিবর্তন করতে পারে না। এটি আগে থেকে নির্ধারিত একটি অনুসন্ধান পথ অনুসরণ করে। তবে কোনো দড়ি বা দূর থেকে নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন হয় না। এতে রোবটটি শান্তভাবে কাজ করতে পারে, এবং পানির নিচে কোনো অস্বাভাবিক কিছু দেখতে পেলে সেটির কাছে গিয়ে পরীক্ষা করতে পারে না।
ইভানের পরবর্তী লক্ষ্য হলো রোবটটির মাধ্যমে সরাসরি পানির নমুনা সংগ্রহের ব্যবস্থা করা। পাশাপাশি, কৃত্রিম বা নিয়ন্ত্রিত পরিবেশের বাইরে প্রাকৃতিক জলাশয়ে আরও পরীক্ষা চালাতে চান তিনি।
ভবিষ্যতে তৈরি করতে চান রোবটের বহর
ইভান জানিয়েছেন, তার লক্ষ্য শুধু একটি রোবট তৈরি করা নয়। ভবিষ্যতে একই ধরনের অনেকগুলো রোবট কচ্ছপ একসঙ্গে পানিতে নামানোর পরিকল্পনা রয়েছে তার। এতে একটি জলাশয় বা প্রবালপ্রাচীরের বড় এলাকা একসঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে।
‘বার্ট’ তৈরিতে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাগার বা বড় প্রতিষ্ঠানের গবেষণা বাজেটের প্রয়োজন হয়নি। ক্ষুদ্র কম্পিউটার, ক্যামেরা ও সহজলভ্য যন্ত্রাংশ ব্যবহার করেই এটি তৈরি করেছেন ইভান।
তবে ৯৬ শতাংশ নির্ভুলতার ফলকে চূড়ান্ত সাফল্য হিসেবে দেখছেন না তিনি। বরং ভবিষ্যতের আরও উন্নত পরীক্ষা ও গবেষণার ভিত্তি হিসেবে এই ফলকে কাজে লাগাতে চান।
সূত্র: রিসার্চ ডট কম
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) যৌন নিপীড়ন ও প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে অভিযুক্ত তিন শিক্ষক আলী রেজওয়ান তালুকদার, মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন এবং কাজী এম আনিছুল ইসলামকে পুনর্বহালের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীরা অভিযুক্ত তিন শিক্ষকের শাস্তি পুনর্বহালের দাবি জানান।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গোল চত্বরে মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা এতে অংশগ্রহণ করেন। মানববন্ধনের সময় শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন।
মানববন্ধনে ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ রাহিম মন্তব্য করেন, "বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন রাজনৈতিকভাবে নিজেদের দল ভারি করার উদ্দেশ্যে তিন যৌন নির্যাতনের অভিযুক্ত তিন নিপীড়ককে স্বপদে বহাল করেছেন। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেয়েদের ইজ্জতের দায়ভার কি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নেবে?"
তিনি আরও বলেন, "যতটুকু ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, বর্তমান বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আবার তাকে ক্ষমা করে দিয়েছে, যাতে পুনরায় সে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈষম্য করতে পারে এবং নারী শিক্ষার্থীদের হেনস্তা করতে পারে। প্রশাসনের প্রতি বিনীত আহ্বান থাকবে, অচিরেই আপনাদের ঘৃণ্য সিদ্ধান্ত থেকে আপনারা সরে আসুন। বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীদের জানমালের নিরাপত্তা আপনারা দিন।"
মানববন্ধন শেষে শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের দাবি দাওয়াগুলো উপস্থাপন করেন।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালে ইংরেজি বিভাগের তৎকালীন বিভাগীয় প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী রেজওয়ান তালুকদারের বিরুদ্ধে সান্ধ্যকালীন কোর্সের এক নারী শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়ন এবং বিভাগের শিক্ষকদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগ ওঠে। পরে তাকে বিভাগীয় প্রধানের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
এবং ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়ন এবং তিন শিক্ষার্থীকে নিয়মবহির্ভূতভাবে নম্বর দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। পরে তদন্তের স্বার্থে ১ অক্টোবর তাকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
পরবর্তীতে তদন্ত প্রতিবেদন ও সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে ২০২৫ সালের ১০৪তম সিন্ডিকেট সভায় তাদের পদাবনতি দেওয়া হয়। পরে ২০২৬ সালের ১১০তম সিন্ডিকেট সভায় তাদের অভিযোগ পুনর্বিবেচনার জন্য একটি রিভিউ কমিটি গঠন করা হয়। সেই কমিটির বিষয়টি বিবেচনা করে এবার তাদের আগের পদে বহাল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া, ২০২৫ সালের মার্চে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কাজী এম আনিছুল ইসলামের বিরুদ্ধে এক নারী শিক্ষার্থীকে উত্তরসহ প্রশ্নপত্র সরবরাহের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় বিভাগের একটি সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্ত চলাকালে কাজী এম আনিছুল ইসলামকে অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে বিরত রেখে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হয়। একই সঙ্গে তাকে ক্যাম্পাসে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল।
সবশেষ ২৬ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১১তম সিন্ডিকেট সভায় মোহাম্মদ আলী রেজওয়ান তালুকদার এবং মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনকে পূর্বে দেওয়া পদাবনতি বাতিল করে তাদেরকে পুনরায় স্বপদে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে আলী রেজওয়ান তালুকদারকে সতর্ক করা হয়েছে এবং জসিম উদ্দিনকে আগামী দুই বছর কোনো পদোন্নতি দেওয়া হবে না, এই সিদ্ধান্ত বহাল রয়েছে।
অন্যদিকে কাজী এম আনিছুল ইসলামকে ক্যাম্পাসে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে তাকে ক্লাসে ফেরার অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তবে তার বিরুদ্ধে বিচারিক কার্যক্রম চলমান থাকবে বলে জানান উপাচার্য।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ