০৯:৫৩ পি.এম
চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন নামের একজন ব্যবসায়ীর নির্মাণাধীন ১০ তলা ভবনে সশস্ত্র হামলা, ভাঙচুর এবং ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাটি ঘটেছে।
২০ লাখ টাকা চাঁদা না দেওয়ার জেরে একদল সন্ত্রাসী এই তাণ্ডব চালায়। এ ঘটনা রোববার (২৬ জুলাই) সকাল ৮টার দিকে ঘটে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ১ নম্বর দক্ষিণ পাহাড়তলী ওয়ার্ডের বড় দিঘিরপাড়–ভাটিয়ারী লিংক রোড–সংলগ্ন আবাসিক এলাকায় এটি ঘটে।
পুলিশ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, রোববার সকালে মুখে মাস্ক পরা ৮ থেকে ১০ জনের একটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী দল একটি টেম্পোতে করে ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিনের বহুতল ভবনের সামনে এসে নামে। তখন ভবনটিতে নির্মাণকাজ চলছিল। সন্ত্রাসীরা ভেতরে প্রবেশ করেই কাজ করতে থাকা শ্রমিকদের ওপর হামলা করে এবং বেধড়ক মারধরের ঘটনা ঘটায়।
আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার
এক পর্যায়ে তারা ভবনের দরজা-জানালা এবং বিভিন্ন কাঠামোকে ভাঙচুর করে। তাণ্ডব চালানোর সময় হাসান সাকি নামের একজন নির্মাণশ্রমিককে ধারালো কিরিচ দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। সেইসাথে মারধরের শিকার হন ভবনের নিরাপত্তার কাজ করা কর্মী ও অন্যান্য কয়েকজন শ্রমিকও।
সব মিলিয়ে তাণ্ডব চালিয়ে সন্ত্রাসীরা চত্বর ত্যাগ করার সময় এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করার জন্য তিনটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়। হামলার শিকার জসিম উদ্দিন হচ্ছেন একজন চাল ও চিনির পাইকারি ব্যবসায়ী। তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান হাটহাজারীর বড় দিঘিরপাড় এলাকায় অবস্থিত।
জসিম উদ্দিন জানান, গত এক মাস ধরে একটি বিদেশি ফোন নম্বরের মাধ্যমে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করার ফোন আসছিল। পূর্বে নগরীতে আরেকটি প্রতিষ্ঠানে হামলার পর প্রতিবাদের কারণে চাঁদাবাজরা কিছুদিন নিষ্ক্রিয় ছিল। তবে গত এক সপ্তাহ ধরে তারা নতুন করে ফোন করে হুমকি দিতে শুরু করে। এই ঘটনার বিষয়টি তিনি সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে অবহিত করেন। আজ ঘটে যাওয়া এই ঘটনার জন্য তিনি থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
তিনি জানান, হামলাকারীদের নাম জানে না। স্থানীয় অধিবাসীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং জানান যে, কেবল ব্যবসায়ী জসিমই নন বরং বড় দিঘিরপাড় এলাকায় নির্মাণাধীন প্রায় ৮ থেকে ১০টি ভবনের মালিকদের কাছেও ফোন করে মোটা অঙ্কের চাঁদা আদায় করেছে সন্ত্রাসী দলটি। স্বাধীনতা-উত্তর সময়ে এই এলাকায় এমন প্রকাশ্য ও বেপরোয়া চাঁদাবাজির ঘটনা এর আগে কখনো দেখা যায়নি, এই অভিযোগও পাওয়া যায়।
আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা
ঘটনার খবরের পর পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ শুরু করেছে। চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাটহাজারী সার্কেল) কাজী মো. তারেক আজিজ এ তথ্য নিশ্চিত করেন এবং জানান, ভিডিও ফুটেজ দেখে হামলায় জড়িত সন্ত্রাসী ও হামলাকারীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
এ বিষয়ে উল্লেখ্য, এর আগে গত ১৩ জুলাই নগরের চকবাজার অ্যাকসেস রোডে 'ডিডিএন' নামের একটি ইন্টারনেট সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে ১৫-২০ জনের একটি অস্ত্রধারী দল ব্যাপক ভাঙচুর ও তাণ্ডব চালায়। ওই ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ মুক্তি পাওয়ার পর র্যাব ও পুলিশ যৌথমিলিত অভিযানে মোট ২০ জনকে গ্রেপ্তার করে।
ডিডিএনের মামলায় চিহ্নিত সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ওরফে ইমনের নাম উল্লেখ করা হয়। কিন্তু ঘটনার পর ফেসবুকে একটি অডিও ছড়িয়ে পড়ে যেখানে একজন মুঠোফোনের প্রান্ত থেকে ইমন পরিচয় দিয়ে একজনকে বলতে শোনা যায়, 'business premises তারা ছুরি ও কিরিচ নিয়ে হামলা করেন না। তাদের হামলার ধরন নিয়েই পুরো চট্টগ্রামবাসী জানে।'
আরও পড়ুন: ধামরাইয়ে পরিত্যক্ত গোডাউনে আগুন, ৫ লাখ টাকার সম্পদ উদ্ধার
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন