বৃহস্পতিবার, ২৩শে জুলাই, ২০২৬ ইং
০৮:৫৪ পি.এম
কুমিল্লার হোমনায় দেওয়াল ধসে আহত রামকৃষ্ণপুর কামাল স্মৃতি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির তিন শিক্ষার্থীর বাড়ি পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. শহিদুল ইসলাম। বৃহস্পতিবার, ২২ জুলাই২০১৬, তিনি আহত শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান, তানিশা ও ইশানার শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসার খোঁজখবর নেন। এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম এবং বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আনোয়ার হোসেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার জন্য দশ হাজার টাকা করে মোট ত্রিশ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।
পরিদর্শন শেষে ইউএনও মো. শহিদুল ইসলাম জানান, শিশুরা জাতির ভবিষ্যৎ। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় আহত শিক্ষার্থীদের খোঁজখবর নিয়ে সহযোগিতা করেছি। তিনি বলেন, তবে তাদের দ্রুত সুস্থতা ও ক্লাসে ফেরার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তাদের প্রতি প্রশাসনের পক্ষ থেকে সুদৃষ্টি থাকবে। উল্লেখ্য, গত ২০ জুলাই তারিখে স্বুল ছুটির পর রাস্তা দিয়ে বাড়ি যাওয়ার সময় একটি পুরোনো বাড়ির সীমানা দেওয়াল ধসে এই তিন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছিল।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
অর্থ আত্মসাতের মামলায় ৩ বছরের সাজা এড়াতে মুর্শেদ খাদেম (৪০) নামের একজন ব্যক্তি ১২ বছর ধরে পালিয়ে থাকার পর অবশেষে গত বুধবার রাতে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার হয়েছেন। মামলার বাদী হলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা হরলাল দেবনাথ। মুর্শেদ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার শাহজাদাপুর গ্রামের কোনাপাড়ার প্রয়াত ফরিদ মিয়ার ছেলে।
সরাইল থানার এ.এস.আই আমান উল্লাহর নেতৃত্বে পুলিশ একটি দল অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করেন। পুলিশ, মামলা ও বাদী সূত্রে জানা যায়, ইট দেওয়ার শর্তে হরলাল দেবনাথের কাছ থেকে ষ্ট্যাম্পে লিখিত দিয়ে ২০১২ সালে সাড়ে ৩ লাখ টাকা গ্রহণ করেন মুর্শেদ খাদেম। টাকা গ্রহণের পরপরই মুর্শেদ তার রূপ বদলে ফেলেন। ইট না দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তিনি হরলালকে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে নানা তালবাহানা করতে থাকেন। এক পর্যায়ে মুর্শেদ লাপাত্তা হয়ে যান। মুর্শেদের অবস্থান জানতেও হরলালকে বিভিন্ন জায়গায় ধরণা দিতে হয়েছিল। বাধ্য হয়ে ২০১৩ সালে হরলাল দেবনাথ মুর্শেদের স্বাক্ষর করা ষ্ট্যাম্প ব্যবহার করে তার বিরূদ্ধে অর্থ আত্মসাতের মামলা করেন।
এই মামলায় ২০১৪ সালে বিজ্ঞ আদালত মুর্শেদ খাদিমকে ৩ বছরের সাজা প্রদান করেন। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও সাজা এড়াতে মুর্শেদ পালিয়ে থাকতে থাকেন। ৩ বছরের সাজা থেকে আত্মরক্ষা করতে দীর্ঘ ১২ বছর পালিয়ে ছিলেন তিনি। অবশেষে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত বুধবার রাত প্রায় ১০টা নাগাদ সরাইল থানার এ.এস.আই আমান উল্লাহ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে শাহজাদাপুর গ্রামে অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে তারা সাজাপ্রাপ্ত আসামী মুর্শেদকে গ্রেপ্তার করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি মন্তব্য করেন যে, উল্লেখযোগ্য কোন কর্ম না করলেও মুর্শেদ খুব দাপুটে চলেন। তার কাছে অনেক লোকজন টাকা পাবেন এবং পাওনাদাররা তার খুঁজতে গ্রামে আসেন। তার শ্বশুড়বাড়ি দেওড়ায় গিয়েও মুর্শেদকে খুঁজেন। এ.এস.আই আমান উল্লাহ মুর্শেদকে গ্রেপ্তারের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, "একটি মামলায় ১২ বছর আগে তিনি সাজাপ্রাপ্ত হয়ে আত্মগোপনে রয়েছেন।" উনার নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। পুলিশ দীর্ঘদিন ধরে তাকে খুঁজছিলেন এবং বুধবার রাতে কৌশলে মুর্শেদকে গ্রেপ্তার করে গতকাল আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠিয়েছি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
চাঁদপুর শহরের একটি ফ্ল্যাট বাসায় গোপন অভিযানের মাধ্যমে চিহ্নিত মাদক কারবারি বাঘ শাহজাহানসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে। আটককৃতদের মধ্যে জামতলা এলাকার বসবাসকারী বাঘ শাহজাহান এবং দুই নারী হাসনা ও মিথিলা রয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) চাঁদপুর শহরের মুক্তিযোদ্ধা সড়ক শহীদ মিনারের সামনে একটি চারতলা ভবনের ফ্ল্যাটে এ অভিযান পরিচালনা করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।
অভিযানে মাদক সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম এবং ২০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। ডিবির এসআই জিয়াউল হকের নেতৃত্বে এই অভিযান চালানো হয়, যা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সঞ্চালিত হয়। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে ওই ফ্ল্যাটে ইয়াবা বিক্রি, মাদক সেবন এবং অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগের জন্য এই অভিযান চালানো হয়েছে।
তল্লাশির সময় ফ্ল্যাটের বিভিন্ন কক্ষ থেকে উদ্ধার করা ইয়াবা এবং মাদক সেবনের সরঞ্জামগুলি প্রাথমিক তদন্তের সমর্থন দিয়ে মাদক বিক্রি এবং সেবনের কাজে ব্যবহারের তথ্য প্রমাণিত করেছে। চাঁদপুর ডিবির ওসি মজিবুর রহমান জানিয়েছেন, পুলিশ সুপারের নির্দেশে এই মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালিত হয়েছে। আটক তিনজনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
ডিবি পুলিশ জানিয়েছে, মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত অন্যান্যদের শনাক্তে অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং নতুন তথ্য পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
নওগাঁর পোরশায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় হতে বাস্তবায়িত বিশেষ এলাকার জন্য উন্নয়ন সহায়তা (পার্বত্য চট্টগ্রাম ব্যতীত) শীর্ষক কর্মসূচির (২০২৫-২৬) অর্থবছরের আওতায় গত বুধবার শিক্ষার্থীদের মাঝে বাইসাইকেল ও শিক্ষাবৃত্তি বিতরণ করা হয়েছে। উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইউএনও রাকিবুল ইসলাম। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান, যিনি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠির শিক্ষার্থীদের হাতে বাইসাইকেল ও বৃত্তির অর্থ তুলে দেন। অনুষ্ঠানে থানা অফিসার ইনচার্জ জিয়াউর রহমান, কৃষি কর্মকর্তা মামুনূর রশিদ, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আতিকুর রহমান, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাদেকুল ইসলাম, সাবেক সিনিয়র সহ সভাপতি তৌফিকুর রহমান শাহ্ চৌধুরীসহ আরও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। প্রধান অতিথি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, শিক্ষার মানোন্নয়নে এই উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং দূর-দূরান্ত থেকে আসা শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি বলেন, আধুনিক ও সমৃদ্ধ সমাজ গঠনে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় আরও মনোযোগী হওয়ার প্রয়োজন আছে। অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথি শিক্ষাবৃত্তি হিসাবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৬৪ জন শিক্ষার্থীকে ৩ হাজার টাকা করে, উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯৮ জন শিক্ষার্থীকে ৫ হাজার টাকা করে এবং কলেজ পর্যায়ের ৬৬ জন শিক্ষার্থীকে ৭ হাজার টাকা করে প্রদান করেন। এছাড়াও ৩৩ জন শিক্ষার্থীর হাতে একটি করে বাইসাইকেল তুলে দেন। তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও উন্নয়ন মুলক অনুষ্ঠানে যোগদান করেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
নওগাঁয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৭ শিশু শিক্ষার্থীকে বৈদ্যুতিক তার দিয়ে পিটানোর অভিযোগ উঠেছে একটি শিক্ষকের বিরুদ্ধে। প্রতিবাদে অভিভাবকেরা এলাকায় বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন এবং অভিযুক্ত শিক্ষকের শাস্তি দাবি করেছেন। তবে ওই শিক্ষক দোষ স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থী হয়ে পার পাবার চেষ্টা করছেন। ঘটনাটি ঘটে বুধবার (২২ জুলাই) বিকেলে সদর উপজেলার নারচী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। আর্জেন্টিনা ফুটবল দল সম্পর্কে ব্যঙ্গ করার কারণে এই ঘটনার সূত্রপাত ঘটে। অভিযুক্ত ব্যক্তি ওই বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক আব্দুস সালাম। অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বুধবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে চতুর্থ শ্রেণির ক্লাস নেবার জন্য কোনো শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন না। এসময় এক শিক্ষার্থী ‘আর্জেন্টিনা স্পেনের কাছে বাঁশ খাইছে’ বলে গান গাওয়া শুরু করেন। গানের শব্দ শুনে শিক্ষক আব্দুস সালাম ক্ষিপ্ত হয়ে এক খণ্ড বৈদ্যুতিক তার দিয়ে শিক্ষার্থীদের এলাপাথারি পিটাতে শুরু করেন। এতে ওই শ্রেণির ২৩টি শিক্ষার্থী, যার মধ্যে ১৭ জন ছেলে ও মেয়ে শিক্ষার্থী আহত হন। শিশুরা যখন বাড়ি গিয়ে অভিভাবকদের বিষয়টি জানায়, তখন এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা দেখা দেয়। সন্ধ্যায় তারা বিদ্যালয় সংলগ্ন নারচী মোড়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী শামীমা আক্তার বলেন, ‘সালাম স্যার আমাদের আর্জেন্টিনা সাপোর্ট করতে বলেন। দল হেরে যাওয়ার কারণে আমরা কিছু শিক্ষার্থী মিলে ক্লাসে গান গাইছিলাম ব্যঙ্গ করে। এরপর স্যার এসে আমাদের সবাইকে ইচ্ছেমতো মারধর করেন।’ আরেক শিক্ষার্থী আব্দুর রহমান বলেন, ‘আর্জেন্টিনা স্পেনের কাছে বাঁশ খাইছে’ এই গানটি বলে আমরা তিনজন গান গেয়েছিলাম। তারপর স্যার রেগে গিয়ে আমাদের পিঠে বেধড়ক মারধর করেন।’ স্থানীয় বাসিন্দা শরিফুল ইসলাম মন্তব্য করেন, ‘শিক্ষার্থীদের অন্যায়ভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। এ ঘটনায় ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’ জানতে চাইলে অভিযুক্ত শিক্ষক আব্দুস সালাম বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের মারধর করায় আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত ও ক্ষমাপ্রার্থী। বিষয়টি নিয়ে অভিভাবক ও বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের চেষ্টা করবো।’ জানতে চাইলে নওগাঁ জেলা ভারপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ছানাউল হাবিব বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে লিখিতভাবে অভিযোগ দিলে আমরা বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেবো।’
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ