ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

রিকশা ভাড়া থেকে ভিক্ষা: ডিজিটাল পেমেন্টের নতুন দিগন্তে বাংলাদেশ


রিকশা ভাড়া থেকে ভিক্ষা: ডিজিটাল পেমেন্টের নতুন দিগন্তে বাংলাদেশ

বাংলাদেশ আগামী মাসের শুরুতেই নগদ বা কাগুজে মুদ্রাবিহীন আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করতে যাচ্ছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বজনীন পেমেন্ট ব্যবস্থা ‘বাংলা কিউআর’-এর চতুর্থ ধাপের আনুষ্ঠানিক সম্প্রসারণের মাধ্যমে আগামী ১ নভেম্বর থেকে দেশজুড়ে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি (পিটুপি) ডিজিটাল লেনদেনের এক বৈপ্লবিক যুগ শুরু হতে যাচ্ছে। এই উদ্যোগটি মূলত ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক লেনদেনে কাগুজে নোটের ওপর নির্ভরতা সম্পূর্ণ বিলুপ্তির পথ উন্মোচন করবে।

নতুন এই ব্যবস্থার ফলে আর কোনো বাণিজ্যিক মার্চেন্ট অ্যাকাউন্টের প্রয়োজন হবে না। রিকশাচালক, বাস কন্ডাক্টর, হকার, সবজি বিক্রেতা কিংবা ভিক্ষুক বা সাহায্যপ্রার্থীরাও সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত কিউআর কোডের মাধ্যমে সেকেন্ডের মধ্যে সরাসরি এক মুঠোফোন অ্যাপ থেকে অন্য অ্যাপে নিখুঁত অঙ্কের টাকা আদান-প্রদান করতে পারবেন।

আরও পড়ুন: সরকারি কর্মচারীদের ভাতা নির্ধারণে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি

বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি জায়ান্ট গুগল, মেটা ও হুয়াওয়ের প্রতিনিধিরা ইতোমধ্যেই বাংলা কিউআরের এই সহজ ও অনন্য ওপেন-মডেলটি নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে বিশেষ আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

তৃণমূলের অনানুষ্ঠানিক খাতে ডিজিটাল প্রযুক্তির ছোঁয়া:

এখন পর্যন্ত বড় বড় বিপণিবিতান বা শপিং মলে কেনাকাটার বিল পরিশোধের জন্য ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থা সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু একটি দেশ তখনই সত্যিকারের ‘নগদবিহীন’ হতে পারে, যখন সমাজের প্রান্তিক ও অনানুষ্ঠানিক খাতের মানুষ এর সঙ্গে যুক্ত হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘোষণা অনুযায়ী, ১ নভেম্বর থেকে চালু হতে যাওয়া চতুর্থ ধাপটি মূলত আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সব ধরনের ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক লেনদেনকে ডিজিটাল কাঠামোর আওতায় নিয়ে আসছে।

আরও পড়ুন: বিশ্ববাজারে সোনার দাম বেড়ে গেল, বিনিয়োগকারীদের নজর ফেডারেল রিজার্ভের সিদ্ধান্তে

এখন থেকে বাসের টিকিট কাটা, রাস্তার পাশের টং দোকানে ৫ টাকার এক কাপ চা খাওয়া, ফুটপাতের ভ্যান থেকে ১০ টাকার কাঁচামরিচ বা ধনেপাতা কেনা, জুতো সেলাইয়ের ২০ টাকা কিংবা সেলুনের বিল সবকিছুই মেটানো যাবে একটি মাত্র কিউআর কোড স্ক্যান করে।

পকেটে কোনো কাগুজে নোট না নিয়েও একজন নাগরিক খুব সহজে তার সারাদিনের খুচরা খরচ সম্পন্ন করতে পারবেন।

‘ভাংতির অভান’ ও ছেঁড়া নোটের ঝামেলা অবসান:

আমাদের রোজকার জীবনের সবচেয়ে বড় অস্বস্তির নাম হলো খুচরা টাকা বা ভাংতির অভাব। রিকশা ভাড়া, বাস ভাড়া কিংবা চায়ের দোকানে প্রায়ই ‘ভাংতি নাই’ বলে বিক্রেতার দীর্ঘশ্বাস বা বাড়তি টাকা রেখে দেওয়ার ঝামেলায় পড়তে হয়। বাংলা কিউআর এই সমস্যার একটি নিখুঁত প্রযুক্তিগত সমাধান এনেছে।

আরও পড়ুন: কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও সামাজিক সুরক্ষা জোরদার সরকারের অর্থনৈতিক সংস্কারের প্রধান লক্ষ্য: ড. তিতুমীর

আপনার বিল যদি ঠিক ২৩ টাকা কিংবা ৪৭ টাকাও হয়, তবে কোনো রাউন্ড ফিগার দিতে হবে না; আপনি অ্যাপে ঠিক নিখুঁত অঙ্কটাই পাঠাতে পারবেন। এর ফলে ২ বা ৩ টাকা ফেরত পাওয়ার জন্য দাঁড়িয়ে থাকার ঝামেলা যেমন দূর হচ্ছে, ঠিক তেমনি বাজারে থাকা ছেঁড়া ও নোংরা নোট আদান-প্রদানের চিরচেনা বিড়ম্বনা থেকেও মুক্তি মিলবে।

ডিজিটাল দান ও ভিক্ষা:

নগদবিহীন লেনদেনের চূড়ান্ত রূপ চতুর্থ ধাপের অন্তর্ভুক্তিমূলক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের বড় প্রমাণ হতে যাচ্ছে। এর মাধ্যমে এখন ডিজিটাল ভিক্ষা বা যেকোনো ধরনের দান-খয়রাতও দেওয়া সম্ভব। রাস্তায় বা ধর্মীয় উপাসনালয়ের সামনে খুচরা টাকা না থাকার অজুহাতে আর কাউকে সাহায্য না করে ফিরিয়ে দেওয়ার সুযোগ থাকবে না।

একজন সাহায্যপ্রার্থী বা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান তাদের মোবাইল আর্থিক সেবার ব্যক্তিগত বাংলা কিউআর কোডটি সামনে রাখলে, সাহায্যকারী ২ টাকা, ৫ টাকা বা ১০ টাকার মতো একেবারে ছোট অঙ্কও গোপন নম্বর চেপে সরাসরি পাঠিয়ে দিতে পারবেন।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশে অবকাঠামো ও শিল্প খাতে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে সিঙ্গাপুর

তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর নির্দেশনা অনুযায়ী, এই ব্যক্তিগত কোডটি শুধু বৈধ আদান-প্রদানের জন্যই ব্যবহার করা যাবে। যদি কেউ এটিকে অননুমোদিতভাবে টাকা তোলার (ক্যাশআউট) মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করেন, তবে অ্যাকাউন্টটি তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করা হবে।

সহজ নকশা ও সীমাহীন লেনদেনের স্বাধীনতা:

গ্রাহকদের লেনদেন আরও সহজ করতে বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের সমস্ত ব্যাংকিং ও মোবাইল আর্থিক অ্যাপের নকশায় বড় পরিবর্তন এনেছে। এখন অ্যাপের মূল পাতার একদম নিচে, বুড়ো আঙুলের সহজ নাগালের মধ্যে ‘বাংলা কিউআর’ আইকনটি রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

শুধু তাই নয়, পূর্বে ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে থাকা দৈনিক ২০ হাজার টাকার লেনদেন সীমা সম্পূর্ণ তুলে নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ফলে এখন যেকোনো পরিমাণ টাকা একদম ফ্রিতে আদান-প্রদান করা সম্ভব। পাশাপাশি, সরাসরি স্ক্যান করার ঝামেলা এড়াতে যুক্ত হচ্ছে দূর থেকে কিউআর কোডের ছবি বা স্ক্রিনশট গ্যালারি থেকে সরাসরি অ্যাপে আপলোড করে লেনদেন সম্পন্ন করার অত্যাধুনিক সুবিধা।

আরও পড়ুন: মসলিনের টেকসই উৎপাদন ও বাণিজ্যিক সম্প্রসারণে সর্বোচ্চ সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি

‘একদম ফ্রি’ লেনদেন, পাল্টে যাওয়া নীতি:

ডিজিটাল লেনদেনের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের সবচেয়ে বড় ভীতি থাকে অতিরিক্ত ‘সার্ভিস চার্জ’ বা মাশুল নিয়ে। এই বাধা দূর করতে বাংলাদেশ ব্যাংক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বাংলা কিউআর-এর মাধ্যমে যেকোনো অঙ্কের লেনদেনের ক্ষেত্রে মার্চেন্ট বা গ্রাহক উভয়ের জন্যই লেনদেনের মাশুল সম্পূর্ণ শূন্য (০%) করা হয়েছে।

অর্থাৎ, রিকশাচালককে ৩০ টাকা ভাড়া পাঠালে ক্রেতার অ্যাকাউন্ট থেকে যেমন অতিরিক্ত কোনো টাকা কাটবে না, তেমনি চালকও পুরো ৩০ টাকাই পাবেন। উপরন্তু, টাকাটি কোনো ব্যাংকিং বাণিজ্যে আটকে না থেকে রিয়েল-টাইমে তাৎক্ষণিকভাবে বিক্রেতা বা চালকের অ্যাকাউন্টে জমা হয়ে যায়।

পরিসংখ্যানের চমক ও মাঠপর্যায়ের প্রবৃদ্ধি:

আরও পড়ুন: বাংলাদেশের পর্যটনে ১.২ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা জাপানের

দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এই আর্থিক অন্তর্ভুক্তিমূলক মডেলটির সাফল্য প্রত্যন্ত অঞ্চলে জ্যামিতিক হারে বাড়ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত জুনে যেখানে দৈনিক গড় লেনদেন ছিল মাত্র ৩৭ কোটি টাকা, সেপ্টেম্বর শেষে তা চার গুণেরও বেশি বেড়ে প্রতিদিন গড়ে ১৪৩ কোটি থেকে ১৮০ কোটি টাকায় পোঁছেছে।

দেশে বর্তমানে প্রায় ৪০ লাখ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বাংলা কিউআর চালু রয়েছে, যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের লক্ষ্য, সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণের মাধ্যমে এই দৈনিক লেনদেনকে খুব দ্রুত ৩,০০০ কোটি টাকায় উন্নীত করা।

প্রযুক্তির অন্দরে নিরাপত্তা ও সাইবার সচেতনতা বাংলা কিউআর আন্তর্জাতিক ইএমভি স্ট্যান্ডার্ড মেনে তৈরি করায় এটি প্রযুক্তিগতভাবে অত্যন্ত নিরাপদ। তবে ব্যবহারিক জীবনের স্বার্থে এর কিছু সাইবার ঝুঁকি ও সচেতনতাও মনে রাখা জরুরি:

নাম যাচাই: গ্রাহকদের কোড স্ক্যান করার পর টাকা পাঠানোর আগে অ্যাপের পর্দায় চালক বা বিক্রেতার নামটি মিলিয়ে নেওয়া উচিত।

নিশ্চিতকরণ বার্তা: চালক বা বিক্রেতাদের উচিত যাত্রীর ফোনের পর্দার দিকে না তাকিয়ে, নিজের ফোনে আসা নিশ্চিতকরণ বার্তা (এসএমএস) বা অ্যাপের ব্যালেন্স দেখে লেনদেন নিশ্চিত করা।

কাগজের নোটে দিয়ে যে অর্থনীতির চাকা ঘুরত, তা আজ কাগজের ওপর মুদ্রিত একটি ছোট্ট কিউআর কোডের ফ্রেমে বন্দি হয়ে গেছে। পকেটে খুচরা টাকার খাঁকচ আওয়াজ, ভাংতি না থাকার চিরচেনা মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ কিংবা ছেঁড়া টাকা নিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত মনোমালিন্য, সবকিছুকে পেছনে ফেলে বাংলাদেশ এক আধুনিক, স্বচ্ছ ও স্মার্ট নগদবিহীন যুগের প্রবেশদ্বারে দাঁড়িয়ে।

আগামী ১ নভেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া এই নতুন অধ্যায় কেবল রিকশা ভাড়া কিংবা ভিক্ষার মতো খুচরা লেনদেনের চিরচেনা দৃশ্যপটকেই বদলে দিচ্ছে না, বরং এটি বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে একটি আত্মনির্ভরশীল ও প্রযুক্তিগতভাবে বদলে যাওয়া স্মার্ট বাংলাদেশের ভিত রচনা করতে যাচ্ছে। সূত্র: বাসস

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নিউইয়র্কে কারা কর্মকর্তা পদে নিয়োগ, বেতন ১ লাখ ৯ হাজার ৩৫২ ডলার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:১৯ পি.এম


নিউইয়র্কে কারা কর্মকর্তা পদে নিয়োগ, বেতন ১ লাখ ৯ হাজার ৩৫২ ডলার

নিউইয়র্ক সিটির কারা বিভাগে কর্মকর্তা পদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে সিটি সরকার। আবেদন করতে কোনো ফি লাগবে না এবং ২১ বছর বয়সী প্রার্থীরা আবেদন করতে পারবেন। আগ্রহী প্রার্থীদের জন্য আবেদন করার শেষ সময় আগামী ২৭ অক্টোবর ২০২৬। লিখিত বহুনির্বাচনী পরীক্ষা ১৫ ডিসেম্বর থেকে শুরু হবে।

বেতন ও সুযোগ-সুবিধা

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, এই পদে প্রাথমিক বার্ষিক বেতন ৫৬ হাজার ৮৩৮ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। চাকরির সাড়ে পাঁচ বছর পূর্ণ হলে বেতন বছরে ১ লাখ ৯ হাজার ৩৫২ ডলারে বৃদ্ধি পেতে পারে। এছাড়াও, বছরে ১ হাজার ১০০ ডলারের পোশাক ভাতা, স্বাস্থ্যবিমা এবং অন্যান্য সুবিধা পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। চাকরির মেয়াদ অনুযায়ী অতিরিক্ত বেতন পাওয়ার সুযোগও রয়েছে। তবে, বেতনের হার পরিবর্তিত হতে পারে।

আবেদন করতে পারবেন যারা

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আবেদনকারীদের জন্য একাধিক যোগ্যতার পথ নির্ধারণ করা হয়েছে। স্বীকৃত কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে অন্তত ৩৯ সেমিস্টার ক্রেডিট সম্পন্ন করা প্রার্থীরা আবেদন করার জন্য উপযুক্ত হতে পারেন। এছাড়াও, চার বছরের উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাগত যোগ্যতার সঙ্গে অন্তত এক বছরের সন্তোষজনক পূর্ণকালীন বেতনভুক্ত সাধারণ কাজের অভিজ্ঞতা থাকলেও আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। সামরিক বাহিনীতে সম্মানজনকভাবে দায়িত্ব পালন, সমাজসেবা, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে নির্দিষ্ট অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেও আবেদনের সুযোগ রয়েছে।

বয়স, নাগরিকত্ব ও বসবাসের শর্ত

পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য প্রার্থীর বয়স কমপক্ষে ১৭ বছর হতে হবে। তবে, নিয়োগ পাওয়ার সময় প্রার্থীর বয়স কমপক্ষে ২১ বছর হতে হবে। চাকরিতে যোগদানের সময় যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব বাধ্যতামূলক। এছাড়াও, নিউইয়র্ক সিটি অথবা নাসাউ, ওয়েস্টচেস্টার, সাফোক, অরেঞ্জ, রকল্যান্ড কিংবা পাটনাম কাউন্টির বাসিন্দা হতে হবে। নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের শিক্ষানবিশ চালকের অনুমতিপত্র নিয়োগের সময় থাকতে হবে এবং প্রশিক্ষণ একাডেমি থেকে উত্তীর্ণ হওয়ার আগে বৈধ চালকের লাইসেন্স অর্জন করতে হবে।

পরীক্ষা ও নিয়োগপ্রক্রিয়া

কম্পিউটারে বহুনির্বাচনী পদ্ধতিতে পরীক্ষা নেওয়া হবে। উত্তীর্ণ হতে প্রার্থীদের কমপক্ষে ৭০ শতাংশ নম্বর পেতে হবে। পরীক্ষায় যুক্তি বিশ্লেষণ, গণিত, তথ্য মনে রাখা, সমস্যা শনাক্ত করা এবং ইংরেজি পড়া ও লেখার দক্ষতা যাচাই করা হবে। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের নম্বরের ভিত্তিতে যোগ্য প্রার্থীদের তালিকায় স্থান দেওয়া হবে; সেই তালিকা থেকে নিয়োগের জন্য বিবেচনা করা হবে। শারীরিক সক্ষমতা, চিকিৎসা ও মানসিক মূল্যায়ন এবং পটভূমি যাচাইয়ের শর্তও রয়েছে।

আগ্রহী প্রার্থীরা নিউইয়র্ক সিটি সরকারের অনলাইন পরীক্ষার আবেদনব্যবস্থায় গিয়ে আবেদন করতে পারবেন। আবেদন করার সময় পরীক্ষার নম্বর ৭৩০২ নির্বাচন করতে হবে এবং ফি দেওয়ার ক্ষেত্রে ‘নো ফি’ বিকল্পটি বেছে নিতে হবে। আবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময় ২৭ অক্টোবর ২০২৬। বিস্তারিত যোগ্যতা ও শর্তাবলি পড়ে আবেদন করার পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাষ্ট্রের ইবি-২ গ্রিন কার্ডে সুযোগ দুই ধরনের দক্ষ পেশাজীবীর, পরিবারসহ আবেদন করা যাবে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:১৯ পি.এম


যুক্তরাষ্ট্রের ইবি-২ গ্রিন কার্ডে সুযোগ দুই ধরনের দক্ষ পেশাজীবীর, পরিবারসহ আবেদন করা যাবে

যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের স্বপ্ন দেখছেন দক্ষ বিদেশি পেশাজীবীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অভিবাসনপথ হলো ইবি-২ গ্রিন কার্ড। এই শ্রেণিতে আবেদন করার জন্য উচ্চতর ডিগ্রিধারী পেশাজীবী এবং বিজ্ঞান, শিল্পকলা বা ব্যবসায় বিশেষ দক্ষতাসম্পন্ন ব্যক্তিরা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করে আবেদন করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে যোগ্য আবেদনকারীর স্বামী বা স্ত্রী এবং ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তানরাও অভিবাসনের সুযোগ পেতে পারেন।

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা (ইউএসসিআইএস) এর তথ্য অনুযায়ী, ইবি-২ অভিবাসন শ্রেণিতে মূলত দুই ধরনের আবেদনকারী অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রথমত, উচ্চতর ডিগ্রিধারী পেশাজীবী এবং দ্বিতীয়ত, বিজ্ঞান, শিল্পকলা বা ব্যবসায় বিশেষ দক্ষতাসম্পন্ন ব্যক্তি। এ ছাড়া জাতীয় স্বার্থে ছাড় বা ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট ওয়েইভার (এনআইডব্লিউ) নামে একটি বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে, যার আওতায় যোগ্য ব্যক্তিরা নির্দিষ্ট শর্তে নিয়োগকর্তার স্পনসর ছাড়াই আবেদন করতে পারেন।

উচ্চতর ডিগ্রিধারীদের জন্য সুযোগ

ইবি-২-এর প্রথম শ্রেণিতে আবেদন করতে সাধারণত স্নাতক ডিগ্রির চেয়ে উচ্চতর শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকতে হয়। মাস্টার্স ও ডক্টরেট ডিগ্রিধারীরা এ ক্ষেত্রে আবেদন করতে পারেন। পাশাপাশি, সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রির পর অন্তত পাঁচ বছরের ক্রমবর্ধমান দায়িত্বসম্পন্ন পেশাগত অভিজ্ঞতা থাকলে নির্দিষ্ট শর্তে সেটিকে মাস্টার্স ডিগ্রির সমতুল্য হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে।

তবে শুধুমাত্র উচ্চতর ডিগ্রি থাকলেই আবেদন অনুমোদনের নিশ্চয়তা নেই। যুক্তরাষ্ট্রে যে পেশায় কাজ করার জন্য আবেদন করা হচ্ছে, সেটিও সাধারণত উচ্চতর যোগ্যতাসম্পন্ন পেশাদার কাজ হতে হবে। সংশ্লিষ্ট পদে প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং আবেদনকারীর ডিগ্রির প্রাসঙ্গিকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ডিগ্রি ছাড়াও বিশেষ দক্ষতায় আবেদনের সুযোগ রয়েছে। উচ্চতর ডিগ্রি না থাকলেও বিজ্ঞান, শিল্পকলা বা ব্যবসায় বিশেষ দক্ষতাসম্পন্ন ব্যক্তিরা ইবি-২ শ্রেণিতে আবেদন করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে আবেদনকারীকে প্রমাণ করতে হয়, সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে তার দক্ষতা সাধারণভাবে প্রত্যাশিত মানের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

যোগ্যতা প্রমাণের জন্য নির্ধারিত ছয়টি মানদণ্ডের মধ্যে অন্তত তিনটি পূরণের নথি জমা দিতে হয়। এর মধ্যে রয়েছে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ, একই পেশায় অন্তত ১০ বছরের পূর্ণকালীন কাজের অভিজ্ঞতা, পেশাগত লাইসেন্স বা সনদ, দক্ষতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বেতন, পেশাজীবীদের সংগঠনের সদস্যপদ এবং সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে অবদানের জন্য স্বীকৃতি।

তবে তিনটি মানদণ্ড পূরণ করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে যোগ্যতা নিশ্চিত হয় না। আবেদনকারীর সামগ্রিক দক্ষতা ও প্রমাণপত্রের ভিত্তিতে তার যোগ্যতা মূল্যায়ন করা হয়।

জাতীয় স্বার্থে ছাড়ে স্পনসর ছাড়াই আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। সাধারণ ইবি-২ আবেদনের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়োগকর্তার চাকরির প্রস্তাব এবং শ্রম সনদসংক্রান্ত প্রক্রিয়া সাধারণত প্রয়োজন হয়। তবে ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট ওয়েইভার বা জাতীয় স্বার্থে ছাড়ের ক্ষেত্রে এসব শর্ত থেকে অব্যাহতি পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

এ ব্যবস্থায় আবেদনকারী নিজেই আই-১৪০ ফরমের মাধ্যমে আবেদন করতে পারেন। তবে ছাড় পেতে হলে প্রস্তাবিত কাজের যথেষ্ট গুরুত্ব ও জাতীয় তাৎপর্য রয়েছে, আবেদনকারী সেই কাজ এগিয়ে নেওয়ার উপযুক্ত অবস্থানে আছেন এবং চাকরির প্রস্তাব ও শ্রম সনদের শর্ত মওকুফ করা যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক স্বার্থে উপকারী হবে—এমন প্রমাণ দিতে হয়।

বিশেষ করে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিতভিত্তিক (স্টেম) ক্ষেত্রে গবেষণা এবং গুরুত্বপূর্ণ বা উদীয়মান প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করা ব্যক্তিদের আবেদন এ ব্যবস্থায় বিবেচিত হতে পারে। তবে শুধু স্টেম বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি থাকলেই জাতীয় স্বার্থে ছাড় পাওয়া নিশ্চিত নয়।

পরিবারের সদস্যদেরও নেওয়ার সুযোগ

ইবি-২ শ্রেণিতে যোগ্য আবেদনকারীর স্বামী বা স্ত্রী এবং ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তানরাও নির্ধারিত শর্তে অভিবাসনের সুযোগ পেতে পারেন। তবে মূল আবেদনকারীর আই-১৪০ আবেদন অনুমোদিত হলেই পরিবারের সবাই সঙ্গে সঙ্গে গ্রিন কার্ড পাবেন, বিষয়টি এমন নয়। ভিসার প্রাপ্যতা, প্রয়োজনীয় আবেদন এবং অন্যান্য অভিবাসনসংক্রান্ত শর্ত পূরণ করতে হয়।

সব মিলিয়ে, উচ্চতর ডিগ্রিধারী এবং বিশেষ দক্ষতাসম্পন্ন বিদেশি পেশাজীবীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ইবি-২ গ্রিন কার্ড স্থায়ী বসবাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ। তবে আবেদন করার আগে নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশাগত অভিজ্ঞতা, প্রস্তাবিত কাজ এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অভিবাসনবিধির সামঞ্জস্য যাচাই করা জরুরি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমের চুয়েট ক্যাম্পাসে প্রশাসনিক ভবনের তালা ভেঙে প্রবেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:১৯ পি.এম


নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমের চুয়েট ক্যাম্পাসে প্রশাসনিক ভবনের তালা ভেঙে প্রবেশ

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) চলমান অচলাবস্থার প্রেক্ষাপটে প্রশাসনিক ভবনের তালা ভেঙে নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেছেন।

সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল পৌনে ৮টার দিকে তিনি প্রশাসনিক ভবন-২-এর তালা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ১১ ও ১২ অক্টোবর ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) আয়োজিত একটি গুরুত্বপূর্ণ সভায় উপাচার্যের অংশ নেওয়ার কথা ছিল। এই উদ্দেশ্যে ১০ অক্টোবর বিকেলে তার ঢাকা যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। তার অনুপস্থিতিতে ১১ ও ১২ অক্টোবরের জন্য যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আরাফাত রহমানকে উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী উপাচার্য ঢাকায় থাকার কথা থাকলেও সোমবার সকালে আকস্মিকভাবে চুয়েট ক্যাম্পাসে উপস্থিত হন। এ সময় ছাত্রদলপন্থী বর্তমান ও সাবেক আট থেকে দশজন শিক্ষার্থী তার সঙ্গে প্রশাসনিক ভবনে প্রবেশ করেন। পরে তারা উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

উল্লেখ্য, গত ২১ সেপ্টেম্বর দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্যের পদ থেকে অপসারণ করা হয়। একই দিনে অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ওই রাতেই শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন। পরদিন ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জনের মাধ্যমে সর্বাত্মক শাটডাউন কর্মসূচি শুরু করেন তারা। একইসঙ্গে সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সৌরবিদ্যুতে বড় সাশ্রয়ের সম্ভাবনা, মিলবে পরিবেশগত সুফলও

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:২০ পি.এম


সৌরবিদ্যুতে বড় সাশ্রয়ের সম্ভাবনা, মিলবে পরিবেশগত সুফলও

সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি ও জীবাশ্ম জ্বালানির উপর নির্ভরতা কমানোর জন্য কাজ করছে। সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে গ্রিডের বিদ্যুতের তুলনায় প্রতি ইউনিটে প্রায় ৫-৬ টাকা সাশ্রয় সম্ভব। এটি পরিবেশ সুরক্ষায়ও একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (স্রেডা) এর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা ১ হাজার ৮৭১ দশমিক ৫ মেগাওয়াট। এর মধ্যে সৌরবিদ্যুতের সক্ষমতা ১ হাজার ৫৭৮ দশমিক ৪১৫ মেগাওয়াট, যার মধ্যে গ্রিড-সংযুক্ত ১ হাজার ২০০ দশমিক ৯৪ মেগাওয়াট। বাকি ৩৭৭ দশমিক ৪৭ মেগাওয়াট গ্রিডের বাইরে রয়েছে।

ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিসের (আইইইএফএ) লিড এনালিস্ট শফিকুল আলম মন্তব্য করেন, “সৌর প্যানেল ব্যক্তি পর্যায়ে প্রয়োজন অনুযায়ী স্থাপন করা হলে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতে অন্তত ৫-৬ টাকা সাশ্রয় করা সম্ভব। এতে সরকারের কোষাগারের ওপরও চাপ কমবে। যেসব পরিবারের বিদ্যুতের ব্যবহার বেশি, তারাও বিদ্যুৎ বিল কমাতে পারবে।”

তিনি আরও জানান, দিনের বেলায় গ্রিডের বিদ্যুৎ ব্যবহারের জন্য শিল্পকারখানাগুলোকে সাধারণত প্রতি ইউনিট (কিলোওয়াট-ঘণ্টা) ১১ টাকা ৪৫ পয়সা থেকে ১৬ টাকা ৬ পয়সা পর্যন্ত পরিশোধ করতে হয়। অন্যদিকে, ছাদে স্থাপিত সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতি ইউনিটে প্রায় ৫-৬ টাকা সাশ্রয় করা সম্ভব।

এই জ্বালানি বিশেষজ্ঞের মতে, ছাদে স্থাপিত সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা থেকে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে খরচ হয় ৪-৫ টাকা। ভূমিতে স্থাপিত সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ক্ষেত্রে এ ব্যয় প্রতি ইউনিটে ৮-৯ টাকা।

শফিকুল আলম বলেন, সরকার জমি, বিদ্যুৎ সঞ্চালনব্যবস্থা ও অন্যান্য অবকাঠামোগত সুবিধা দিলে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের উৎপাদনের গড় ব্যয় দাঁড়ায় আনুমানিক ৬ টাকা ৫০ পয়সা। এসব সুবিধা না থাকলে ব্যয় দাঁড়ায় প্রতি ইউনিটে ৯ টাকা।

তিনি আরও বলেন, ছাদে স্থাপিত সৌর প্যানেল থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ সরাসরি বাসাবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ব্যবহার করা যায়। ফলে জাতীয় গ্রিড থেকে কম বিদ্যুৎ কিনতে হয়। সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের ব্যয়, অর্থায়নের ধরন, রক্ষণাবেক্ষণ খরচ ও বিদ্যুৎ ব্যবহারের ওপর নির্ভর করে গ্রাহকেরা দীর্ঘ মেয়াদে উল্লেখযোগ্য সাশ্রয় পেতে পারেন।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) তথ্য অনুযায়ী, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রতি ইউনিটে ব্যয় হয় ১৩ টাকা ১৩ পয়সা। ফার্নেস অয়েল থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে এ ব্যয় ২৭ টাকা ৪০ পয়সা। অন্যদিকে, দেশীয় গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রতি ইউনিটে ব্যয় হয় আনুমানিক ৭ টাকা ৯ পয়সা।

শেরপুর জেলার নকলা উপজেলার হুজুরীকান্দা গ্রামে অবস্থিত মতি অ্যাগ্রিভোলটাইক প্রকল্পের পরিচালক শহিদুল ইসলাম জানান, নিরাপদ খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র, সেচ ও কার্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালনায় সহায়তা দিতে প্রকল্পটিতে মোট ৩৫ দশমিক ৩ কিলোওয়াট উৎপাদনক্ষমতার দুটি সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, “নিরাপদ খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্রের জন্য ২৬ দশমিক ৫ কিলোওয়াট ক্ষমতার একটি সৌর প্যানেল ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। আর সেচপাম্প চালানো ও কার্যালয়ের বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে স্থাপন করা হয়েছে ৮ দশমিক ৮ কিলোওয়াট ক্ষমতার আরেকটি ব্যবস্থা। প্রতিদিন গড়ে যে বিদ্যুত উৎপাদিত হয় সক্ষমতার প্রায় ৫০ শতাংশ। ফলে এখানে কোন ধরণের লোডশেডিং হয় না।”

শহিদুল ইসলাম জানান, সৌর প্যানেল ব্যবস্থা স্থাপনে মোট ব্যয় হয়েছে ৩০ লাখ টাকা। এর আনুমানিক আয়ুষ্কাল ২৫ বছর।

তিনি আরও বলেন, রক্ষণাবেক্ষণ ও খুচরা যন্ত্রাংশের ব্যয় বাদে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে আমাদের খরচ আনুমানিক সাড়ে ৩ টাকা। ভারত ও পাকিস্তানে এ ব্যয় প্রতি ইউনিটে সাড়ে ৩ টাকা থেকে ৪ টাকার মধ্যে।

একটি সমীক্ষা অনুযায়ী, কোনো বাড়ির ছাদে এমন একটি সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হলো, যার সংরক্ষণক্ষমতা প্রায় নয় ঘণ্টার বিদ্যুৎ ব্যবহারের সমান। তাহলে তাদের উৎপাদিত বিদ্যুৎ নিজেরা ব্যবহার করে ২০ বছরে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের আনুমানিক ব্যয় ৭ টাকা ৪৩ পয়সায় নামিয়ে আনতে পারে।

এদিকে, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনব্যবস্থার ব্যয় কমানো ও এর প্রসার বাড়াতে সরকার সম্প্রতি নির্দিষ্ট কিছু সৌরবিদ্যুৎ সরঞ্জাম ও যন্ত্রাংশ আমদানিতে শুল্ক কমিয়ে ১ শতাংশ নির্ধারণ করেছে। এ সুবিধা ১৮০ দিনের জন্য কার্যকর থাকবে।

এ ছাড়া ছাদে ব্যাটারিসহ সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনে উৎসাহ দিতে সরকার প্রণোদনা চালু করেছে। এ ব্যবস্থায় উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করলে প্রতি ইউনিটের জন্য ১০ টাকা ৫০ পয়সা দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এর ফলে বিদ্যুতের ব্যয় কমার পাশাপাশি জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা হ্রাস ও পরিবেশ সুরক্ষায় সহায়তা মিলবে।

কোস্টাল লাইভলিহুড অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল অ্যাকশন নেটওয়ার্কের (ক্লিন) প্রধান নির্বাহী ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ হাসান মেহেদী মন্তব্য করেন, ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ও অন্যান্য নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প বাংলাদেশের আমদানিনির্ভর জ্বালানির ওপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে পারে।

তিনি আরও বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে বিশ্বব্যাপী পেট্রোলিয়াম সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে সৌরবিদ্যুৎ একটি গুরুত্বপূর্ণ সমাধান হতে পারে।”

হাসান মেহেদী বলেন, বিশেষজ্ঞরা পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে সরকারের আরও জোরালো উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুতের অন্তত ২০ শতাংশ ও ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন। সরকারের ২০২৬-২০৩০ মেয়াদি জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশল অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে ভূমিতে স্থাপিত সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে ৫ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

বিপিডিবির চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজাউল করিম জানান, সরকারের লক্ষ্য অর্জনে ২০২৮ সালের মধ্যে প্রতি কিলোওয়াট-ঘণ্টায় ৯ টাকা ১২ পয়সা দরে ৯১৮ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ১২টি স্বতন্ত্র বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের (আইপিপি) সঙ্গে চুক্তি করেছে বিপিডিবি।

তিনি বলেন, “নিজস্ব অর্থায়নে গ্রিড-সংযুক্ত ৬৮৯ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার বিভিন্ন প্রকল্পও হাতে নেওয়া হয়েছে। এসব প্রকল্প ২০৩০ সালের মধ্যে চালু হওয়ার কথা রয়েছে।”

সৌরবিদ্যুৎ দেশের জ্বালানি উৎসের বৈচিত্র্য বাড়ানো, জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জীবাশ্ম জ্বালানির দামের ওঠানামার ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত ও পরিবেশদূষণ কমাতে বাংলাদেশ নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্প্রসারণে কাজ করছে।

সরকার নতুন বাণিজ্যিক, শিল্প ও সরকারি ভবনে বাধ্যতামূলকভাবে ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপনের শর্ত কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করেছে। বিশেষ করে, যেসব স্থাপনার বৈদ্যুতিক লোড ১০ কিলোওয়াটের বেশি, সেগুলোর ক্ষেত্রে এ শর্তের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় কমাতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে স্বল্পসুদে অর্থায়ন চালুর জন্য উৎসাহিত করা প্রয়োজন। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা এবং শহরের আবাসিক গ্রাহকদের জন্য এ ধরনের অর্থায়ন কার্যকর হতে পারে।

তবে প্রতি ইউনিটে ৫-৬ টাকা সাশ্রয়ের যে হিসাব দেওয়া হচ্ছে, তা সংশ্লিষ্ট বিদ্যুতের ট্যারিফ এবং সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন ও পরিচালনার মোট ব্যয়ের সঙ্গে তুলনা করে মূল্যায়ন করতে হবে।

চলতি অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকির পরিমাণ ৪০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। সৌর, বায়ু ও বর্জ্যভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়িয়ে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুতের ২০ শতাংশ এবং ২০৫০ সালের মধ্যে ৩০-৫০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সূত্র: বাসস

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%