১০:১৬ পি.এম
কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার ছিনাই ইউনিয়নে জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে ১০টি বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর এবং লুটপাটের অভিযোগ উঠে এসেছে। এই ঘটনায় স্থানীয় এক ইউপি সদস্যসহ মোট ৬২ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ৮০ থেকে ১০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে রাজারহাট থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। হামলার পর থেকে প্রাণনাশের আশঙ্কায় ক্ষতিগ্রস্ত ১০টি পরিবারের সদস্যরা টানা ছয় দিন ধরে বাড়িছাড়া রয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানায়, গত রোববার (৫ জুলাই) দুপুরে গত আলোচিত ছিনাই ইউনিয়নে জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধের কারণে এই ঘটনাটি ঘটে। অভিযোগ রয়েছে যে, স্থানীয় ইউপি সদস্য খালিদ মেম্বারের নেতৃত্বে কোরবান আলী, সেকেন্দার আলীসহ প্রায় দুই শতাধিক ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সংঘবদ্ধভাবে এলাকায় প্রবেশ করেন। হামলার পূর্বে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনার কথা বলে মাইকিংয়ের মাধ্যমে স্থানীয়দের ঘটনাস্থলে যেতে নিষেধ করা হয়। এর পরই বাহাদুর আলীর বাড়িসহ অন্তত ১০টি বসতবাড়িতে একযোগে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দাবি হচ্ছে, হামলার সময় প্রাণভয়ে নারী-শিশুসহ পরিবারের সদস্যরা বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেন। তাদের অভিযোগ, হামলাকারীরা নগদ প্রায় ২৬ লাখ টাকা, স্বর্ণালংকার, ফ্রিজ, টেলিভিশন, টিউবওয়েল, আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন মূল্যবান মালামাল লুটে নিয়ে যায়। পাশাপাশি বসতঘর ও ঘরের আসবাবপত্র ব্যাপকভাবে ভাঙচুরের শিকার হয়। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পুরো ঘটনার সময় পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলেও হামলাকারীদের প্রতিহত করার কিংবা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কোনো কার্যকর ভূমিকা নেয়নি। এ কারণে হামলাকারীরা দীর্ঘ সময় ধরে নির্বিঘ্নে তান্ডব চালাতে সক্ষম হয়।
আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার
ক্ষতিগ্রস্ত বাহাদুর আলী বলেন, "পুলিশ ঘটনাস্থলে ছিল, কিন্তু হামলাকারীদের কোনো বাধা দেওয়া হয়নি। আমাদের চোখের সামনে বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে। প্রায় ২৬ লাখ টাকা, স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান মালামাল নিয়ে গেছে। হামলার পর থেকেই আমরা পরিবার নিয়ে বাড়িছাড়া। প্রতিনিয়ত প্রাণনাশের হুমকির সম্মুখীন হচ্ছি। দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানাই।"
ঘটনার দুদিন পরে, মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বাহাদুর আলী বাদী হয়ে রাজারহাট থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় ৬২ জনের নাম উল্লেখ উল্লেখ করা হয় এবং পাশাপাশি আরও ৮০ থেকে ১০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
হামলার ছয় দিন পরও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে ফেরার সক্ষমতা পাননি বলে অভিযোগ করেছেন। তাদের ভাষ্যমতে, প্রতিনিয়ত জীবনের প্রতি হুমকির কারণে নারী-শিশুসহ পরিবারের সদস্যরা এখনও নিরাপত্তাহীনতার কারণে অন্যত্র অবস্থান করছেন।
শনিবার (১১ জুলাই) এ বিষয়ক রাজারহাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মামুনুর রশীদ বলেন, "বর্তমানে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্তাধীন। মামলার পরদিন আসামিরা আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন। ঘটনার দিন একজন এসআই ও একজন পুলিশ সদস্য অন্য একটি মামলার তদন্তের কাজে ওই এলাকায় গিয়েছিলেন। মূলত দীর্ঘ সময় ধরে উভয় পক্ষের মধ্যে জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল।
আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন