বৃহস্পতিবার, ২ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০৯:১৯ পি.এম
দেশের সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার, উপকূলীয় এলাকায় টহল ও নজরদারি, মানবিক সহায়তা ও দুর্যোগ মোকাবিলায় সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সমুদ্রসম্পদ ও সার্বভৌমত্বের সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর আধুনিকায়ন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
এরই ধারাবহিকতায় আজ বৃহস্পতিবার জাপানের অফিশিয়াল সিকিউরিটি অ্যাসিস্ট্যান্স (ওএসএ) এর আওতায় প্রাপ্ত ৫টি পেট্রোল বোট জাপান সরকারের প্রতিনিধি আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নিকট হস্তান্তর করে।
এ উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম প্রধান অতিথি এবং জাপানের পররাষ্ট্র বিষয়ক সংসদীয় উপমন্ত্রী শিমাদা তোমোয়াকি বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়াও, অনুষ্ঠানে জাপানের প্রতিনিধি দল, নৌবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং আমন্ত্রিত অতিথি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
জাপানের সাথে দীর্ঘদিনের পারস্পারিক আস্থা, বন্ধুত্ব এবং কৌশলগত অংশীদারিত্বের ধারাবাহিকতায় ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে ৫টি উচ্চগতিসম্পন্ন পেট্রোল বোট সংগ্রহের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও জাপান সরকারের মধ্যে একটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। নোট বিনিময়ের মাধ্যমে ২০২৩ সালে নভেম্বরে প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হয় এবং প্রকল্পের কার্যক্রম শেষে গত ৬ ফেব্রুয়ারি বোটগুলো চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছায়।
জাপানি বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে 'বানৌজা নির্ভীক'-এ বোটগুলোর পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ বিষয়ে নৌবাহিনীর সদস্যদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। প্রতিটি বোটের দৈর্ঘ্য ১৬.১৫ মিটার, প্রস্থ ৩.৫৩ মিটার, গভীরতা ১.৭৮ মিটার ও ধারণ ক্ষমতা ১৩.৫ টন।
পেট্রোল বোটগুলো সর্বোচ্চ ৩২ মাইল গতিতে চলাচল করতে সক্ষম। এ সকল বোট কম গভীরতাসম্পন্ন জলপথে চলাচলের উপযোগী এবং উচ্চগতিসম্পন্ন হওয়ায় দেশের নদী, মোহনা ও উপকূলীয় অঞ্চলের সংকীর্ণ ও দুর্গম নৌপথে অধিক দক্ষতা ও কার্যকারিতার সঙ্গে অভিযান পরিচালনা করতে সক্ষম হবে।
দেশের সমুদ্র বন্দর ও উপকূলীয় এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার, টহল অভিযান, নজরদারি, অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান, মানবিক সহায়তা, দুর্যোগ মোকাবিলা ও যে কোন জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া প্রদানে এসব বোট কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। উল্লেখ্য, ওএসএ কর্মসূচির আওতায় বাস্তবায়িত এ প্রকল্প বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যকার বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার পাশাপাশি প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার ক্ষেত্রকে সম্প্রসারিত করবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএআরআই) উদ্যোগে প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে। এ বছর এ বিষয়ে বিএআরআই এর থিম শ্লোগান "জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে লড়াই, অভিযোজনই হোক কৃষি বিজ্ঞানীদের শ্রেষ্ঠ সাফল্য।"
একজাতীয় গাছ না লাগিয়ে প্রকৃতিতে কার্যকর ও শোভাবর্ধনকারী বিভিন্ন প্রজাতির মিশ্র উদ্ভিদ, মসলা ও ঔষধি এবং ফলদ গাছের বিভিন্ন চারা রোপণের মাধ্যমে কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করেন বিএআরআই’র মহাপরিচালক কৃষিবিদ ড. মো. মন্জুরুল কাদির।
উদ্বোধন পরবর্তী বক্তব্যে ড. কাদির বলেন, বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচির মাধ্যমে কার্বন ক্রেডিট অর্জন এবং মৌমাছির আবাসস্থল সৃষ্টি করে ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি করা বর্তমান সরকারের একটি অত্যন্ত দূরদর্শী ও পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ। মৌমাছির আবাসস্থল সৃষ্টির ফলে কৃষকরা মধু ও মোম আহরণ করে অতিরিক্ত অর্থনৈতিক সুবিধাও লাভ করতে পারেন। এছাড়া একই সাথে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা করবে এবং কৃষকদের অর্থনৈতিকভাবে লাভবান করে। অন্যদিকে এ উদ্যোগের ফলে বিভিন্ন প্রজাতির ফুল ও ফলদ গাছ বৃদ্ধি পেয়ে মৌমাছির আদর্শ আবাসস্থল সমৃদ্ধ করবে। এতে মৌমাছিরা গাছ থেকে মধু সংগ্রহের পাশাপাশি ফুলে ফুলে ঘুরে পরাগায়ন (চড়ষষরহধঃরড়হ) নিশ্চিত করবে এবং বিশ্বের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ফসল, বিশেষ করে ফল, সবজি, মসলা ও তেলবীজ পরাগায়নের জন্য মৌমাছির ওপর নির্ভরশীল। তাই গাছপালা বাড়লে মৌমাছির সংখ্যা বৃদ্ধি পায়, যা পরোক্ষভাবে ফসলের ফলন ২০% থেকে বহুগুণ পর্যন্ত বাড়িয়ে দেয়।
এসময় বক্তব্য রাখেন আঞ্চলিক মসলা কেন্দ্র, গাজীপুরের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোহা: মাসুদুল হক ঝন্টু। আরও উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক (প্রশিক্ষণ ও যোগাযোগ) ড. রেশমা সুলতানা, পরিচালক (গবেষণা উইং) ড. ফারুক আহমেদ, পরিচালক (উদ্যানতত্ব গবেষণা কেন্দ্র) ড. কাউছার উদ্দিন আহম্মেদ, পরিচালক (কন্দাল ফসল গবেষণা কেন্দ্র) ড. নির্মল কুমার দত্ত, পরিচালক (পরিকল্পনা ও মূল্যায়ন উইং) ড. হাবিব মোহাম্মদ নাসের, পরিচালক (সেবা ও সরবরাহ উইং) ড. মো. মোশারফ হোসেন মোল্লা প্রমুখ।
উল্লেখ্য, এ বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচির আওতায় বিএআরআই এর উদ্যোগে সারাদেশের ছয়টি কেন্দ্র, আঞ্চলিক কেন্দ্র ও স্টেশনসহ বিভিন্ন উপ-কেন্দ্রসমূহ ও তার আওতাধীন এলাকায় পাঁচ বছরে পর্যায়ক্রমে সাড়ে সাত লাখ এবং সুচনা বছরে প্রায় ১.৩৩ লাখ বিভিন্ন প্রজাতির ফলদ, মসলা ও ঔষধি এবং শোভাবর্ধনকারী গাছ উৎপাদন, সংগ্রহ, বিতরণ, রোপণ ও পরিচর্যা করা হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জুলাই আন্দোলন নিয়ে বিএনপির স্বনির্ভর বিষয়ক সহ-সম্পাদক ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনির একটি সাম্প্রতিক বক্তব্যকে ‘অযাচিত’ আখ্যা দিয়ে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল তীব্র ক্ষোভ ও ঘৃণা প্রকাশ করেছে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব নিজের এবং ছাত্রদলের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এই প্রতিক্রিয়া জানান।
সম্প্রতি এক টেলিভিশন টকশোতে অংশ নিয়ে নিলোফার চৌধুরী মনি জুলাই আন্দোলনের নেতৃত্ব এবং হত্যাকাণ্ডের ধরন সম্পর্কে বেশ কিছু বিতর্কিত প্রশ্ন তুলেছিলেন, যা ছাত্রদলের এই কঠোর প্রতিক্রিয়ার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
টকশোতে অংশ নিয়ে নিলোফার চৌধুরী মনি প্রশ্ন করেন, জুলাই আন্দোলনে স্নাইপারদের কর্মকাণ্ড ছিল কাদের? তিনি বলেন, ‘অনেক কিছুই আমি বলতে চেয়েও বলতে পারি না। কারণ অনেক কিছু বললে অনেকের কাপড়-চোপড় ঠিক থাকবে না। যারা আজ কথা বলে, তারা কখন কোথায় কীভাবে সেনাবাহিনীর সঙ্গে দেখা করে এই কাজগুলো করেছিল, তাদের কতটা ভূমিকা ছিল?’
আলোচনার এক পর্যায়ে তিনি দাবি করেন, জুলাই আন্দোলনের সময় বাংলাদেশের পুলিশে স্নাইপার ছিল না, পুলিশের কাছে স্নাইপার নেই।
কিন্তু আন্দোলনের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলতে গিয়ে নিলোফার বলেন, ‘যাদের বলা হয় যে তারা (আন্দোলনের) মেইন, এই আন্দোলনে কারা মেইন ছিল, কেউ জানে না। আন্দোলনে অংশ নেয়াদের একজন আরেকজনকে চেনে না। পাশেই হাঁটতে গিয়ে আন্দোলন করতে গিয়ে কেউ পড়েছে। মনে করছে যে নরমাল পড়েছে। আসলে সে মারা গিয়েছে। গুলিটা সামনে থেকে আসছে না পেছন থেকে আসছে, সেটাও জানে না। গুলির কোনো শব্দ হয় নাই, এটা স্নাইপারের গুলি ছিল।’
উপস্থাপিকা প্রশ্ন করেন, মানে কি এটি কোনো ডিজাইন ছিল? ষড়যন্ত্র ছিল?
জবাবে মনি বলেন, ডিজাইন তো অবশ্যই ছিল। ষড়যন্ত্র কিনা আমি তা জানি না।
'এটাও সত্যি যে, একটা মহাস্বৈরাচার থেকে দেশ উদ্ধার হয়েছে। শেখ হাসিনা যদি এত বড় স্বৈরাচার না হতো এটার দরকার ছিল না। কিন্তু এটা যে শুধু শুধুমাত্র যারা আন্দোলনে ছিল তাদের হাতেই ছিল, তা কিন্তু না।'
উপস্থাপিকা মন্তব্য করেন, যারা সাধারণ ছেলেমেয়ে, যারা আন্দোলনে এসেছিল তারা তো আর কিছু বুঝলো না। তারা তো প্রতিবাদের জন্য রাস্তায় নামলো। তাদের অনেকেই এসেছিলো কিছু না জেনে। তারা একটি অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে এসেছিল, আবেগে এসেছিল। তারা একে অপরকে চেনে না।
উপস্থাপিকা প্রশ্ন করেন, সেই ইমোশনটিকে কি প্রতারণা করা হয়নি?
ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের এক নেতার উদ্ধৃতি দিয়ে মনি বলেন, আন্দোলনে কেউ কাউকে চেনে না। মারলো কারা, তা জানে না। সামনে কোনো পুলিশও ছিল না। পুলিশের গুলি হলে তো সামনে হত। হতে পারে কোনো বাসা থেকে টার্গেট করে, উপরতলা থেকে টার্গেট করে গুলি করা হয়েছে। কিন্তু আমার কাছে অনেক প্রশ্নের উত্তর নেই। অনেক কিছু আমি স্টাডি করার চেষ্টা করেছি কিন্তু একটা জায়গায় এসে আর উত্তর নেই।
নিলোফার চৌধুরী মনির এই বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব তার ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘প্রিয় নিলোফার চৌধুরী মনি আপা, এমপি; আপনি দীর্ঘ ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন সংগ্রামের সারথি ছিলেন। গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে আপনার অনবদ্য ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু সম্প্রতি টেলিভিশন টকশোতে জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান নিয়ে আপনার অযাচিত বক্তব্যে আমরা অত্যন্ত মর্মাহত ও ক্ষুব্ধ। আপনার বক্তব্য আমরা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করলাম।’
নিলোফার চৌধুরী মনিকে উদ্দেশ্য করে ছাত্রদল সভাপতি আরও জানিয়েছেন, ‘আমরা অবগত রয়েছি, আপনি জুলাইয়ের চেতনা ধারণকারী একজন দেশপ্রেমিক রাজনীতিবিদ। তাই জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান নিয়ে বক্তব্যে আপনি আরও বেশি সংযত ও শ্রদ্ধা প্রদর্শন করবেন, সেটাই প্রত্যাশা করি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
আর্জেন্টিনার ফুটবল মহাতারকা লিওনেল মেসিকে সম্মান জানাতে দেশের নিউকুয়েন প্রদেশে নির্মিত বিশ্বের সবচেয়ে বড় মেসির ভাস্কর্য উদ্বোধনের পরপরই তুমুল বিতর্ক শুরু হয়েছে। এই বিশাল আকৃতির ভাস্কর্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
ভাস্কর্যটির উচ্চতা ২৬ মিটার এবং ওজন প্রায় ৭০ টন। এটি কাট্রাল কো শহরের জাতীয় মহাসড়ক ২২ ও ম্যানুয়েল সাভিও সড়কের সংযোগস্থলে স্থাপন করা হয়েছে। নির্মাতাদের দাবি, এটি ভারতের ২১ মিটার উঁচু মেসি ভাস্কর্যের রেকর্ড ভেঙে বিশ্বের সবচেয়ে বড় মেসি ভাস্কর্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ভাস্কর্যটিতে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের জার্সি পরিহিত মেসিকে হাঁটু গেড়ে বসা অবস্থায় দেখানো হয়েছে। তার দুই পায়ের মাঝে রয়েছে ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি, এবং তিনি এক হাত আকাশের দিকে নির্দেশ করছেন।
ভাস্কর্যটির নির্মাতা, ভাস্কর অ্যালদো বেরোইসা জানান, তাদের প্রথম পরিকল্পনা ছিল ২০২২ বিশ্বকাপ জয়ের ঐতিহাসিক মুহূর্তের আদলে মেসির হাতে ট্রফি তুলে ধরা। তবে প্রায় ৭০ টন ওজনের স্টিল ও কংক্রিটের কাঠামোর ভারসাম্য এবং নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে ট্রফিটি মাটিতে স্থাপন করা হয়েছে।
কিন্তু এই নকশাই বিতর্কের কারণে পরিণত হয়েছে। ভাস্কর্যটি বিভিন্ন কোণ থেকে দেখলে অনিচ্ছাকৃতভাবে আপত্তিকর ও ইঙ্গিতপূর্ণ বলে মনে হচ্ছে, এমন দাবি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসংখ্য ছবি এবং ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। বিষয়টি নিয়ে হাজারো মন্তব্য, সমালোচনা এবং রসিকতা করেছেন নেটিজেনরা।
একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, "এই কোণ থেকে দেখলে বিষয়টি বেশ অদ্ভুত লাগছে।" অন্য একজন মন্তব্য করেছেন, "ভাস্কর্যটির পেছনে একটি দেয়াল তৈরি করা উচিত ছিল।" কেউ কেউ আবার মেসির নামের সঙ্গে ইংরেজি Messy (অগোছালো) শব্দের মিল নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্যও করেছেন।
এদিকে, ভাস্কর্যটির মুখাবয়ব নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেক দর্শক। তাদের মতে, মুখের আদল পুরোপুরি মেসির সঙ্গে মেলে না। তবে এসব সমালোচনার জবাবে ভাস্কর অ্যালদো বেরোইসা বলেন, "মেসির মুখের অবয়ব যতটা সম্ভব নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলতে আমি প্রায় তিন মাস সময় ব্যয় করেছি।"
যদিও ভাস্কর্যটি নিয়ে বিতর্ক থামেনি, তবে এটি ইতোমধ্যে আর্জেন্টিনার নতুন একটি দর্শনীয় স্থাপনা হিসেবে ব্যাপক আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন বলেছেন, চলমান আলোচনা ইসরাইলের সঙ্গে কোনো বিশ্বাসঘাতকতা নয়। তিনি জানালেন, লেবানন তার এক ইঞ্চি ভূখণ্ডও ইসরাইলের কাছে ছেড়ে দেবে না।
আজ বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) লেবাননের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আউন উল্লেখ করেন, ‘লেবাননের যুদ্ধ ও বিদেশি প্রভাবের যুগ থেকে বেরিয়ে আসার সময় এসে গেছে। অধিকাংশ লেবানিজ এই পথে সমর্থন করেন, বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ, যারা মর্যাদা ও নিরাপত্তার সঙ্গে বসবাসের অধিকার রাখেন।’
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় কয়েক মাসের আলোচনা শেষে গত সপ্তাহে ইসরাইল ও লেবানন একটি কাঠামোগত (ফ্রেমওয়ার্ক) চুক্তিতে সই করে। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এই চুক্তি ‘দীর্ঘদিনের সংঘাত থেকে বাস্তবসম্মতভাবে বেরিয়ে আসার পথ’ তৈরি করবে।
ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই চুক্তিকে ঐতিহাসিক আখ্যা দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে হওয়া এই ফ্রেমওয়ার্ক সমঝোতা সংঘাতের অবসানের পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
তবে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ এই চুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছে। হিজবুল্লাহ মহাসচিব নাঈম কাসেম এক বিবৃতিতে চুক্তিটিকে ‘অবৈধ ও অকার্যকর’ আখ্যা দিয়েছেন এবং বলেছেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হওয়া সমঝোতা স্মারকের শর্ত অনুযায়ী লেবাননের ভূখণ্ড থেকে ইসরাইলি সেনার সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের দাবি জানান।
ইসরাইলের সঙ্গে লেবানন সরকারের করা এই চুক্তি নিয়ে দেশটিতে ব্যাপক সমালোচনা উঠেছে। সমালোচকদের দাবি, এই চুক্তির মাধ্যমে কার্যত লেবানন ইসরাইলকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এই চুক্তির ফলে দেশের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার কিছু অংশ ছাড় দেওয়া হয়েছে বলেও অনেকেই অভিযোগ করছেন।
তবে প্রেসিডেন্ট আউন এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, ‘ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তির ধারাগুলো লেবাননের অধিকার ও মৌলিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়; বরং এগুলো পূর্ণাঙ্গভাবে সেই অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই করা হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘যারা সার্বভৌমত্বের নীতিকে সম্মান করেন, তাদের এই বিষয়ে রাষ্ট্রের সিদ্ধান্তকেও সম্মান করা উচিত।’
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ