বৃহস্পতিবার, ২০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং
০৭:৫৩ পি.এম
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে নির্বাচিত করে ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দিনটি ছিল, যখন ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ এর স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনটি প্রকাশিত হয়।
প্রজ্ঞাপনের মধ্যে উল্লেখ করা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১ (১৯৯১ সনের ২৭ নম্বর আইন) এর ধারা ১১ অনুসারে এবং নির্বাচনী কর্তা ও নির্বাচন কমিশনার এর ঘোষণার মাধ্যমে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, পিতা- মির্জা রুহল আমিন, গ্রাম-কালিবাড়ী, ডাকঘর-ঠাকুরগাঁও ৫১০০, ঠাকুরগাঁও সদর, ঠাকুরগাঁও পৌরসভা, ঠাকুরগাঁও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিধিমালা, ১৯৯১ এর বিধি ১২ (৬) অনুযায়ী, আখ্যায়িত হয়েছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে।
নির্বাচনের ফলাফল সম্পর্কে জানানো হয় যে, ভোটার সংখ্যা ছিল ৩৪৯, যেখানে ৩৪৩টি ভোট পড়েছে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নির্বাচনে ২৫৫ ভোট পেয়েছেন এবং প্রতিদ্বন্দ্বী কর্নেল (অব.) অলি পেয়েছেন ৮৮ ভোট।
এর আগে, গত ২৪ জুলাই ২২তম রাষ্ট্রপতি অসুস্থতার কারণে পদত্যাগ করেন। এরপর ৬ আগস্ট শূন্য পদে নির্বাচন আয়োজনের জন্য তফসিল প্রকাশিত হয়। বিএনপি ও সমমনাদের প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং ১১ দলীয় জোটের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)-এর প্রেসিডেন্ট অলি আহমদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব পদে মনোনীত হয়েছেন অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভী।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বিকেলে বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক মুহম্মদ মুনির হোসেনের সই করা একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বিএনপির গঠনতন্ত্রের ৭ এর খ (৬) ধারার আওতায় বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভীকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। এই মনোনয়ন অবিলম্বে কার্যকর হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে পরিষ্কারভাবে উল্লেখ রয়েছে।
এর পূর্বে, বৃহস্পতিবার বিকেলে সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসাবে নির্বাচিত হন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ভোটগ্রহণ শেষে বিকেলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণার পরপরই বিএনপির মহাসচিব হিসেবে রিজভীকে মনোনীত করার ঘোষণা দেওয়া হলো।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় চীন অভিনন্দন জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ঢাকায় চীনা দূতাবাসের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বার্তায় এই অভিনন্দন জানানো হয়।
অভিনন্দন বার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ায় মহামান্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আন্তরিক অভিনন্দন জানানো হচ্ছে।
চীনের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ও চীন সম্পর্ককে বেইজিং অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। নতুন যুগে, অভিন্ন ভবিষ্যৎমুখী চীন-বাংলাদেশ সম্প্রদায় যৌথভাবে গড়ে তুলতে বাংলাদেশকে সঙ্গে নিয়ে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে প্রস্তুত চীন।
এছাড়া, বার্তায় আশা প্রকাশ করা হয়েছে যে, দুই দেশের এই সহযোগিতার মাধ্যমে বাংলাদেশ ও চীন এবং উভয় দেশের জনগণ আরও বেশি সুফল লাভ করবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পাল্টাপাল্টি নৌ-অবরোধ চলমান থাকার মধ্যেই মার্কিন সামরিক বাহিনী হরমুজ প্রণালিতে একটি বিশেষ ও গোপন নৌপথ চালু করেছে। ওমানের উপকূলঘেঁষা নতুন এই পথ ব্যবহার করে প্রতিদিন লাখ লাখ ব্যারেল তেল বিশ্ববাজারে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেছেন দুই মার্কিন কর্মকর্তার।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের বরাতে বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দ্য জেরুজালেম পোস্ট তাদের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে এই গোপন অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এর আওতায় প্রতি রাতে ১৫ থেকে ২০টি তেলবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালির দক্ষিণাংশের ওই বিকল্প পথ দিয়ে নিরাপদে যাতায়াত করছে।
কর্মকর্তারা জানান, গোপন এই পথটির মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় এক কোটি ব্যারেল তেল হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে প্রবেশ করছে। চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির শুরু হওয়ার আগে এই প্রণালি দিয়ে যে পরিমাণ অপরিশোধিত তেল পরিবহন হতো, বর্তমানে সরবরাহ তার প্রায় অর্ধেক বলে জানানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সাম্প্রতিক একটি সামরিক অভিযানে ইরানের রাডার ও সামুদ্রিক নজরদারি ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ার পরেই এই নৌপথটি কার্যকর করা সম্ভব হয়েছে বলে কর্মকর্তারা দাবি করেছেন। তাদের ভাষ্যমতে, নজরদারি ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ইরানি বাহিনী এখন নির্দিষ্ট গতিপথ দেখতে পাচ্ছে না। ফলে, জাহাজ চলাচলের সাধারণ এলাকাগুলো লক্ষ্য করে নির্বিচারে ড্রোন ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর চেষ্টা করছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মার্কিন সামরিক বাহিনী শুধুমাত্র তেলভর্তি ট্যাংকারকে প্রণালি পার করতে সাহায্য করছে না, বরং খালি জাহাজগুলোকে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ ও তেল সংগ্রহের পর তা নিরাপদে বাইরে আনতেও সুরক্ষা প্রদান করছে। এই জাহাজের বহরকে আকাশপথে নিরাপত্তা দিতে মার্কিন বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়েছে, যা সম্ভাব্য ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিরোধে কাজ করছে।
বিষয়টিতে সরাসরি যুক্ত এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রায় দুই মাস ধরে হরমুজ প্রণালির দক্ষিণ অংশের পথ তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং মূল নিয়ন্ত্রণ এখন মার্কিন বাহিনীর হাতে রয়েছে।
তবে, ইরানের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোও গোপন এই নৌপথের বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারেনি। শিপ ট্র্যাকিং সাইট ‘কেপলার’-এর তথ্য অনুযায়ী, বুধবার (১৯ আগস্ট) হরমুজ প্রণালি দিয়ে মাত্র ৯টি জাহাজ পার হতে দেখা গেছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
খুলনার পাইকগাছায় মৎস্য আড়ৎদারি সমিতির নির্বাচিত ক্যাশিয়ার হারুন অর রশীদের বিরুদ্ধে প্রায় ৪০ লাখ টাকার মাছ আত্মসাতের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে হারুনের পাল্টা অভিযোগ, তাকে সমিতি থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এ মামলা করা হয়েছে।
অন্যদিকে, সমিতির সাধারণ সম্পাদক বেল্লাল হোসেনের দাবি, হারুনকে কয়েক মাস আগে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছিল। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে ৪০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে।
হারুন অর রশীদ, উপজেলার গোপালপুর গ্রামের শফিকুল ইসলামের পুত্র। তিনি পাইকগাছা মৎস্য আড়ৎদারি সমিতির একাধিকবার নির্বাচিত ক্যাশিয়ার হিসেবে পরিচিত।
হারুনের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি অন্যান্য মাছ ব্যবসায়ীদের মতো আড়ৎ থেকে প্রতিদিন বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ক্রয় করেন এবং সেগুলি দেশের বিভিন্ন এলাকায় আড়তে চালানের মাধ্যমে বিক্রি করেন। মাছ বিক্রির পর তিনি পাওনাদারদের টাকা পরিশোধ করার যে কার্যক্রম চালান, সেটাই তার ব্যবসায়িক কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
তিনি দাবি করেন, গত ১৩, ১৪ ও ১৫ আগস্ট তিন দিনে তিনি বিভিন্ন প্রজাতির মোট ১৯ লাখ ৭৩ হাজার ৭৮০ টাকার মাছ ক্রয় করেন। পরবর্তীতে এসব মাছ ঢাকা, চট্টগ্রাম, নরসিংদীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার আড়তে চালানের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়। মাছ বিক্রির টাকার মাধ্যমে পাওনাদারদের পরিশোধ করার কথা ছিল।
হারুন অর রশীদ বলেন যে, গত ১৬ আগস্ট তিনি মাছের টাকার জন্য জরুরিভাবে ঢাকায় যান। এ দুপুরের পরেই তার বিরুদ্ধে প্রায় ৪০ লাখ টাকার মাছ কিনে আত্মসাৎ করে পালিয়ে যাওয়ার গুজব ছড়িয়ে পড়ে।
পরে এই অভিযোগে পাইকগাছা থানায় তার বিরুদ্ধে একটি মামলা করা হয়েছে। মামলাটি সোলাদানা মৎস্য আড়তের একজন স্বত্বাধিকারী বাদী করে দায়ের করেছে। মামলায় সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের সংশ্লিষ্টতা উল্লেখ করেছেন হারুন।
নিজের বিরুদ্ধে করা মামলার ব্যাপারে হারুন অর রশীদ মুঠোফোনে বলেন, "আমার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, এটা জেনে আমি হতবাক হয়েছি। মাত্র এক দিনের ব্যবধানে আমার বিরুদ্ধে পরিকল্পিত অভিযোগ তুলে ৪০ লাখ টাকার মামলা দেয়া হয়েছে।"
তিনি আরও বলেন, "আমি আড়ৎ থেকে টাকা পেলেই সংশ্লিষ্ট পাওনাদারদের টাকা পরিশোধ করে দেব। আমি ব্যবসা করি। আমার মধ্যে কোনো অসৎ উদ্দেশ্য নেই।"
হারুন আরও অভিযোগ করেন যে, বর্তমান কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক উদ্দেশ্যমূলকভাবে তাকে সমিতি থেকে চূড়ান্তভাবে বহিষ্কার করার জন্য এ ঘটনা উদ্ভব করেছেন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমান কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পর আগের কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ মোট নয়জন সদস্যকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এরপর তাকেও স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে তার বিরুদ্ধে এ মামলা করা হয়েছে।
তবে হারুনের এই অভিযোগ অস্বীকার করে পাইকগাছা মৎস্য আড়ৎদারি সমিতির সাধারণ সম্পাদক বেল্লাল হোসেন বলেন, "সমিতির ক্যাশিয়ার হারুন অর রশীদকে কয়েক মাস আগে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।"
অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী ও আড়ৎদারদের মধ্যে আলোচনা চলছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ