ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ঢাকায় অফিস খুলতে আগ্রহী মেটা: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী


ঢাকায় অফিস খুলতে আগ্রহী মেটা: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

বাংলাদেশে ফেসবুকের বিশাল ব্যবহারকারী সংখ্যা এবং অনলাইন ব্যবসার সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখে, রাজধানী ঢাকায় অফিস স্থাপনে আগ্রহ প্রকাশ করেছে ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা। একই সঙ্গে, দেশের ই-কমার্স এবং অনলাইন ব্যবসা সম্প্রসারণের পাশাপাশি সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহও দেখিয়েছে মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটি।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ এ তথ্য জানান।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশগ্রহণের জন্য নিউইয়র্ক সফরের প্রথম দিনের বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছিল।

আরও পড়ুন: ‘আল্লাহর বাড়ি মানুষ যায় পবিত্র নিয়তে, ওখানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঠিক না’ হুমায়ুন কবিরের মন্তব্য

শামা ওবায়েদ বলেন, মেটার সঙ্গে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আলোচনা অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও সময়সূচির কারণে তিনি এতে অংশ নিতে পারেননি। তবে বাংলাদেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা আলোচনা করেছেন।

প্রতিমন্ত্রী জানান, ঢাকায় মেটার অফিস স্থাপনের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে অফিস খোলার ব্যাপারে অত্যন্ত আগ্রহী। ঢাকাকে তাদের কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।

বাংলাদেশে ফেসবুকের বিশাল ব্যবহারকারী সংখ্যা মেটার এ আগ্রহের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বিভিন্ন ডিজিটাল পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের আগস্টে বাংলাদেশে ফেসবুকের আনুমানিক ব্যবহারকারী সংখ্যা ৭ কোটি ৫১ লাখের বেশি ছিল। তবে এই তথ্য মেটার বিজ্ঞাপনভিত্তিক পরিসংখ্যান থেকে এসেছে; এগুলোকে প্রকৃত সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যা হিসেবে ধরা উচিত নয়।

বৈঠকে বাংলাদেশের সাইবার নিরাপত্তা আইনসহ ডিজিটাল খাতের বিভিন্ন নীতিগত বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি, ই-কমার্স, অনলাইন ব্যবসা-বাণিজ্য এবং ডিজিটাল অর্থনীতির সম্প্রসারণে মেটার সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় করেছেন দুই পক্ষ।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

বাংলাদেশে কার্যক্রম সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে সম্প্রতি স্থানীয় ব্যবসায়ীদের জন্য পেমেন্ট সুবিধা চালু করেছে মেটা। এর ফলে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা বিকাশের মতো স্থানীয় পেমেন্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে মেটার প্ল্যাটফর্মে বিজ্ঞাপনের অর্থ পরিশোধ করতে পারছেন। এতে ছোট ও মাঝারি ব্যবসাগুলোর ডিজিটাল বিজ্ঞাপন ব্যবহারের সুযোগ আরও বাড়ছে।

এছাড়া, মেটা এবং লাইটক্যাসল পার্টনার্স সম্প্রতি ঢাকায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল প্রযুক্তি নিয়ে একটি আয়োজন করেছে। এই আয়োজনে ছোট ও মাঝারি ব্যবসাগুলোকে ডিজিটাল বিপণন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ব্যবসায়িক সরঞ্জাম ব্যবহারে প্রশিক্ষণের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।

মেটার ‘স্মল বিজনেস গ্রোথ একাডেমি’র আওতায় বাংলাদেশে এক হাজারের বেশি ছোট ও মাঝারি ব্যবসাকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।

শামা ওবায়েদ বলেন, বাংলাদেশের বিপুলসংখ্যক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী এবং দ্রুত সম্প্রসারিত অনলাইন ব্যবসার বাজারকে কাজে লাগিয়ে মেটার সঙ্গে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে ডিজিটাল বাণিজ্য, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, অনলাইন নিরাপত্তা এবং প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থানে এই সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

আরও পড়ুন: ক্ষমা চাইলেন ‘পাপের লাশ বাংলাদেশে আসুক চাই না’ বলা এমপি রতন

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আইফোন ২০ প্রো ও প্রো ম্যাক্সে বড় ডিসপ্লে আসতে পারে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:৫৪ পি.এম


আইফোন ২০ প্রো ও প্রো ম্যাক্সে বড় ডিসপ্লে আসতে পারে

লিক হওয়া স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী, অ্যাপলের আইফোন ২০ প্রো এবং প্রো ম্যাক্স বর্তমান প্রজন্মের মডেলগুলোর তুলনায় আরও বড় ডিসপ্লে নিয়ে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। এই তথ্যগুলো শেয়ার করেছেন টিপস্টার আইস ইউনিভার্স।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আইফোন ২০ প্রোতে ৬.৪১ ইঞ্চি ডিসপ্লে এবং আইফোন ২০ প্রো ম্যাক্সে ৬.৯৬ ইঞ্চি ডিসপ্লে থাকতে পারে। তবে, এই তথ্যগুলো এখনও নিশ্চিত নয় এবং ডিভাইস দুটির বাজারে আসতে এক বছরেরও বেশি সময় বাকি বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আইফোন ২০ প্রো ম্যাক্সে ৬.৯৬ ইঞ্চি ডিসপ্লে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে, যার রেজল্যুশন হবে ১৩৪০* ২৯১২ পিক্সেল। তুলনা হিসেবে, বর্তমান আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সে ৬.৮৬ ইঞ্চি ডিসপ্লে এবং ১৩২০* ২৮৬৮ পিক্সেল রেজল্যুশন রয়েছে।

স্ট্যান্ডার্ড প্রো মডেলটির ডিসপ্লেও বড় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। লিক হওয়া তথ্য অনুযায়ী, এতে ৬.৪১ ইঞ্চি স্ক্রিন এবং ১২৩৬*২৬৮৬ পিক্সেল রেজল্যুশন থাকতে পারে। অন্যদিকে, আইফোন ১৮ প্রোতে ৬.২৭ ইঞ্চি ডিসপ্লে এবং ১২০৬*২৬২২ পিক্সেল রেজল্যুশন রয়েছে।

বড় ধরনের ডিজাইন পরিবর্তন আসতে পারে

২০২৭ সালে প্রথম আইফোনের ২০তম বার্ষিকী উপলক্ষে অ্যাপল বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোম্পানি হয়তো আইফোন ১৯ নামটি বাদ দিয়ে সরাসরি আইফোন ২০ সিরিজে যেতে পারে।

বার্ষিকী উপলক্ষে আসা মডেলগুলো নিয়ে গুঞ্জনে বড় ধরনের ডিজাইন পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে চার পাশে বাঁকানো অর্থাৎ, চার প্রান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত ডিসপ্লে থাকতে পারে। এছাড়াও যেসব ফিচারের কথা শোনা যাচ্ছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে:

• ডিসপ্লের নিচে ফেস আইডি প্রযুক্তি;

• ডিসপ্লের নিচে ফ্রন্ট ক্যামেরা;

• প্রায় সম্পূর্ণ ব্যাজেল ফ্রি ডিজাইন ডিজাইন;

• প্রচলিত বোতামের পরিবর্তে হ্যাপটিক ফিডব্যাকসহ সলিড স্টেট বাটন।

ব্লুমবার্গের আগের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, আইফোন ২০ প্রো মডেলগুলোর ডিজাইন অনেকটাই চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। তবে অ্যাপল এখনো এসব তথ্যের কোনোটি নিশ্চিত করেনি।

এ২১ প্রো চিপ ও সর্বোচ্চ ১৬ জিবি র‌্যাম

লিক হওয়া স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী, আইফোন ২০ প্রো এবং প্রো ম্যাক্স— দুটিতেই এ২১ প্রো চিপ ব্যবহার করা হতে পারে। ডিভাইস দুটিতে ১২ জিবি থেকে ১৬ জিবি পর্যন্ত র্যাম থাকতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। এমনকি অ্যাপল হাই ব্যন্ডউইথ মেমোরি (এইচবিএম) প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়টিও বিবেচনা করতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে।

এইচবিএম হলো এমন একটি মেমোরি প্রযুক্তি যেখানে মেমোরি স্তরগুলো উল্লম্বভাবে সাজানো থাকে। এর ফলে বেশি ডেটা ব্যান্ডউইথ এবং উন্নত দক্ষতা পাওয়া যায়। বর্তমানে এআই ডেটা সেন্টারগুলোতে এই প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। তবে,

* ভবিষ্যতের আইফোনে অ্যাপল সত্যিই এইচবিএম ব্যবহার করবে কি না, তা এখনো পরিষ্কার নয়;

* প্রো ম্যাক্সে ৬০০০ mAh ব্যাটারি থাকতে পারে;

* আইফোন ২০ প্রো ম্যাক্সে ব্যাটারির ক্ষেত্রেও বড় আপগ্রেড আসতে পারে।

প্রাথমিক গুঞ্জন অনুযায়ী, এতে ৬০০০ mAh ব্যাটারি থাকতে পারে। যেখানে, যুক্তরাষ্ট্রের সংস্করণের আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সে ৫৫৬৭ mAh ব্যাটারি রয়েছে।

অ্যাপল সিলিকন বেসড ব্যাটারি প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়টিও বিবেচনা করছে বলে জানা গেছে। প্রচলিত লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারির তুলনায় এই প্রযুক্তি বেশি এনার্জি ডেনসিটি দিতে পারে। তবে উল্লেখিত সব স্পেসিফিকেশনই এখনো প্রাথমিক পর্যায়ের গুঞ্জন ও লিকের ওপর ভিত্তি করে বলা হচ্ছে। ২০২৭ সালে সম্ভাব্য লঞ্চের আগে এসব তথ্য পরিবর্তিত হতে পারে।

সূত্র: সামা টিভি

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ট্রাম্প: যুক্তরাষ্ট্র-ভেনেজুয়েলা তেল চুক্তি বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম কমাবে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:৫৪ পি.এম


ট্রাম্প: যুক্তরাষ্ট্র-ভেনেজুয়েলা তেল চুক্তি বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম কমাবে

যুক্তরাষ্ট্র এবং ভেনেজুয়েলার মধ্যে সদ্য স্বাক্ষরিত তেল চুক্তি উভয় পক্ষের জন্য অত্যন্ত লাভজনক হবে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, এর ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামও কমে আসবে।

নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার সময় ট্রাম্প এই কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার বর্তমান নেতৃত্বের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাচ্ছে যাতে দেশটির জনগণের জন্য একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা সম্ভব হয়।

ট্রাম্প তার ভাষণে উল্লেখ করেন যে, গত মাসে উভয়পক্ষ ইতিহাসের সবচেয়ে বড় তেল চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেল তেল সংক্রান্ত এই চুক্তিটি যুক্তরাষ্ট্র এবং ভেনেজুয়েলার জন্য বিশাল সুবিধা নিয়ে আসবে এবং বিশ্বব্যাপী জ্বালানির খরচ কমাতে সাহায্য করবে, যার ইতিবাচক প্রভাব ইতোমধ্যেই দেখা যাচ্ছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের মতে, যুক্তরাষ্ট্র এবং ভেনেজুয়েলা মিলে বিশ্বের মোট তেল রিজার্ভের ৬০ শতাংশেরও বেশি নিয়ন্ত্রণ করে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নয়নে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ না করে বরং আধুনিক প্রযুক্তি উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করতে চায়।

তিনি বলেন, যেকোনো বড় নতুন প্রযুক্তি মানবতার জন্য কিছু চ্যালেঞ্জ নিয়ে আসে এবং সুপারইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অতিরিক্ত উন্নয়নও এর ব্যতিক্রম নয়।

তবে জলবায়ু পরিবর্তন ও এআই নিয়ে সমালোচকদের কটাক্ষ করে ট্রাম্প যোগ করেন, অতীতে যারা জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে অতিরিক্ত ভীতি সৃষ্টি করেছিল—যেহেতু পৃথিবী উত্তপ্ত হওয়ার বদলে ঠান্ডা হচ্ছিল এবং কেউ মারাও যায়নি—আজ ঠিক তারাই আবার দাবি করছে যে এআই আমাদের ধ্বংস করে দেবে, রোবট আমাদের আক্রমণ করবে এবং সবকিছু এক মহাবিপর্যয়ের দিকে যাবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ব্রাজিল কেন সবসময় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে সবার আগে বক্তব্য দেয়?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:৫৫ পি.এম


ব্রাজিল কেন সবসময় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে সবার আগে বক্তব্য দেয়?

নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন চলছে। বার্ষিক এই সাধারণ আলোচনার প্রথম ভাষণটি দেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা। এরপর স্বাগতিক দেশের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভাষণ দেন।

এই ক্রমটি কোনো প্রথাগত নিয়ম বা বর্ণানুক্রমিক তালিকার আকস্মিক ফলাফল নয়। বরং এটি একটি দীর্ঘস্থায়ী রীতি, যা সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে উচ্চপর্যায়ের এই আলোচনার সূচনা নির্ধারণ করে আসছে।

১৯৫৫ সালে দশম অধিবেশনে এই রীতি দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়। কালেভদ্রে ব্যতিক্রম ছাড়া এই রীতি এখনো অক্ষুণ্ন রয়েছে। জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার পর ১৯৪৫ সালের প্রথম দিকে অনেক দেশই প্রথম ভাষণ দিতে দ্বিধাবোধ করতো। সেই সময় ব্রাজিলই এগিয়ে আসে।

২০১০ সালে এনপিআরকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জাতিসংঘের সাবেক প্রটোকল প্রধান ডেসমন্ড পার্কার বলেন, “একেবারে প্রথম দিকে, যখন কেউ প্রথমে বক্তব্য দিতে চাইতো না, তখন ব্রাজিলই সবসময় প্রথম বক্তব্য দেওয়ার প্রস্তাব দিতো। এভাবেই সাধারণ পরিষদে প্রথম বক্তব্য দেওয়ার অধিকার অর্জন করেছে তারা।”

শুরু থেকেই ব্রাজিলের কূটনীতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ১৯৪৭ সালে সাধারণ পরিষদের প্রথম বিশেষ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেছিলেন কূটনীতিক ওসভালদো আরানিয়া। এটি ছিল ফিলিস্তিন এবং ইসরায়েলের বিভাজন পরিকল্পনার দিকে নিয়ে যাওয়া বৈঠক। দ্বিতীয় নিয়মিত অধিবেশনেও সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

কিছু বিবরণ অনুযায়ী, ব্রাজিলের সেই প্রাথমিক নেতৃত্বের স্বীকৃতি হিসেবেই আংশিকভাবে এই বক্তব্য দেওয়ার সুবিধা জুড়ে দেওয়া হয়েছিল। অন্যরা আবার এর সঙ্গে শীতল যুদ্ধের প্রেক্ষাপটকে যুক্ত করেন। তাদের মতে, জোটনিরপেক্ষ লাতিন আমেরিকান কোনো শক্তিকে বেছে নেওয়া হয়েছিল, যাতে যুক্তরাষ্ট্র বা সোভিয়েত ইউনিয়ন কাউকেই শুরুর এই মঞ্চ দিতে না হয়।

আরেকটি ব্যাখ্যায় এই রীতিকে একধরনের স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার সময় নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী আসন না পাওয়ার পরও এই স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল ব্রাজিলকে।

কিছু বিশেষজ্ঞের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, “এটা ছিল একধরনের সান্ত্বনা পুরস্কার।” এতে বৃহৎ শক্তির মর্যাদা না থাকলেও যুদ্ধোত্তর বহুপাক্ষিক ব্যবস্থায় ব্রাজিলের গুরুত্বেরই প্রতিফলন ঘটে।

জাতিসংঘ নিজেই এই ব্যবস্থাকে সাধারণ বিতর্কে সময়ের সঙ্গে গড়ে ওঠা এক ‘রীতি’ হিসেবে বর্ণনা করে। এটি জাতিসংঘ সনদ বা কার্যপ্রণালী বিধিতে লিপিবদ্ধ কোনো আনুষ্ঠানিক নিয়ম নয়।

প্রতি বছর জাতিসংঘ সচিবালয় ব্রাজিলের মিশনের সঙ্গে পরামর্শ করে, দেশটি এই সুযোগ ধরে রাখতে চায় কিনা তা নিশ্চিত করার জন্য। এখন পর্যন্ত প্রতিবারই এর উত্তর ছিল ইতিবাচক।

ব্রাজিল এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভাষণের পর বাকি ক্রম নির্ধারিত হয় প্রতিনিধিত্বের স্তর অনুযায়ী। প্রথমে রাষ্ট্রপ্রধানরা, এরপর সরকারপ্রধানরা, তারপর পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং অন্যান্যরা বক্তব্য দেন। এছাড়া ভৌগোলিক ভারসাম্য এবং বক্তব্য দেওয়ার অনুরোধের সময়ও এই ক্রম নির্ধারণে ভূমিকা রাখে।

এই রীতির ব্যতিক্রম হয়েছে খুবই কম সময়। ১৯৮৩ এবং ১৯৮৪ সালে গ্রেনাডায় মার্কিন হস্তক্ষেপের পর যুক্তরাষ্ট্রই প্রথম বক্তব্য দিয়েছিল। ২০১৬ এবং ২০১৮ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিলম্বের কারণে দ্বিতীয় স্লটে বক্তব্য দিয়েছিল যথাক্রমে চাদ এবং ইকুয়েডর।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এডিবি: চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৪ শতাংশ হতে পারে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:৫৫ পি.এম


এডিবি: চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৪ শতাংশ হতে পারে

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) চলতি ২০২৬–২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৪ শতাংশে পৌঁছানোর সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে। সংস্থাটির বক্তব্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কমলে মানুষের ভোগব্যয় ও বিনিয়োগের বৃদ্ধি ঘটতে পারে। এর ফলে অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি কিছুটা ত্বরান্বিত হবে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত ‘এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক সেপ্টেম্বর ২০২৬’ প্রতিবেদনে এ পূর্বাভাস প্রকাশ করা হয়েছে।

এডিবির হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪–২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৫ শতাংশ ছিল। পরবর্তী অর্থবছর ২০২৫–২৬ সালে তা বৃদ্ধি পেয়ে ৩ দশমিক ৭ শতাংশ হতে পারে। আর ২০২৬–২৭ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি আরও বৃদ্ধি পেয়ে ৪ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটায় ২০২৫–২৬ অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড কিছুটা ধীর হয়েছে। তবে এডিবি মনে করে এর প্রভাব সীমিত থাকবে। ২০২৬ সালের প্রথমভাগে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনের পর রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কমলে ভোগব্যয় ও বিনিয়োগের সম্ভাবনা বাড়বে।

এডিবির বাংলাদেশ প্রধান চিংফেং ঝাং মন্তব্য করেছেন, "বাংলাদেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে।" তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতির পরিবর্তন এবং দেশের অভ্যন্তরীণ সীমাবদ্ধতার কারণে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়া এখনও ঝুঁকিমুক্ত নয়।

তিনি আরও বলেন, "সামষ্টিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা, আর্থিক খাত, জ্বালানি নিরাপত্তা ও ব্যবসার পরিবেশে সংস্কার দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার এখনই সময়।" এসব সংস্কারের ফলে বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। এডিবি বাংলাদেশের পাশে থাকবে বলেও তিনি জানান।

মূল্যস্ফীতির ক্ষেত্রেও কিছুটা স্বস্তির পূর্বাভাস দিয়েছে এডিবি। তাদের মতে, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৭ শতাংশে নেমে আসতে পারে। তবে ২০২৬–২৭ অর্থবছরে তা আবার ৯ শতাংশ হতে পারে। ২০২৪–২৫ অর্থবছরে দেশে মূল্যস্ফীতি ছিল ১০ শতাংশ।

এডিবি জানাচ্ছে, জ্বালানিসংকট, উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। এল নিনোর প্রভাবে খাদ্যের দামও বাড়তে পারে। মুদ্রানীতি ধীরে ধীরে শিথিল হলে মূল্যস্ফীতির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে।

বাড়তে পারে চলতি হিসাবের ঘাটতি

এডিবি জানিয়েছে, ২০২৬–২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের চলতি হিসাবের ঘাটতি দ্বিগুণ হতে পারে। রপ্তানির তুলনায় আমদানি বেশি হওয়ার কারণে এ ঘাটতি বাড়বে।

এডিবির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে চলতি হিসাবের ঘাটতি ছিল জিডিপির শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ। আগামী অর্থবছরে তা বেড়ে শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ হতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেও প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্সের প্রবাহ ভালো থাকবে বলে এডিবি মনে করছে। প্রবাসী আয় বাড়লে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী হলে বৈদেশিক লেনদেনে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সহজ হবে। এ জন্য পর্যাপ্ত বৈদেশিক অর্থপ্রবাহ নিশ্চিত করা এবং মুদ্রা বিনিময় হারকে বাজারের চাহিদা ও জোগানের সঙ্গে সমন্বিত রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রবৃদ্ধির চালিকা শক্তি হবে ভোগব্যয়

আগামী অর্থবছরে সেবা ও কৃষি খাত প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে এডিবির পূর্বাভাস। তবে শিল্প ও বিনিয়োগ খাতে গতি কম থাকতে পারে।

উচ্চ সুদহার, ঋণ পাওয়ার কঠিনতা, জ্বালানিসংকট এবং বিদেশে চাহিদা কমে যাওয়ার কারণে শিল্প ও বিনিয়োগ খাতে চাপ থাকবে। দেশের দীর্ঘদিনের কাঠামোগত সমস্যাগুলোও প্রবৃদ্ধির পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

এডিবি বলছে, প্রবাসী আয় বাড়ানোর ফলে মানুষের ভোগব্যয় বাড়তে পারে। ফলে আগামী অর্থবছরে ভোগব্যয়ই প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকা শক্তি হতে পারে। তবে মূল্যস্ফীতি বেশি থাকায় মানুষের ক্রয়ক্ষমতার ওপর চাপ অব্যাহত থাকবে।

অর্থনীতিতে নানা ঝুঁকি

বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য কিছু ঝুঁকির কথাও উল্লেখ করেছে এডিবি। এর মধ্যে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়া, তেলের দাম বাড়া এবং বৈশ্বিক জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা।

এছাড়াও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন বিধিনিষেধ, বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি বাজারগুলোতে প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়া, ডলারের বিপরীতে টাকার ওপর চাপ অব্যাহত থাকা এবং ব্যাংক খাতে নতুন সংকট তৈরি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

রাজস্ব সংস্কারে বিলম্ব, উন্নয়ন ব্যয় প্রত্যাশার চেয়ে কম হওয়া এবং জলবায়ুজনিত দুর্যোগও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। এসব কারণে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও কিছুদিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে এডিবি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%