রবিবার, ১৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৬:২৩ পি.এম
মৃত মায়ের সরকারি পাওনার ১০ লাখ টাকা তুলতে গিয়ে হয়রানির শিকার হন ১৭ বছর বয়সী সন্তান শাহেদ শরীফ আহমেদ। তার কাছে এক লাখ টাকা ঘুষ চাওয়া হয়েছিল। এই ক্ষোভের সূত্র ধরেই সারাদেশের ঘুষের চিত্র তুলে ধরার উদ্দেশ্যে ‘ঘুষ.সাইট’ নামক একটি ওয়েবসাইট তৈরি করেন শাহেদ। তার অভিযোগের ভিত্তিতে ময়মনসিংহ সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের দুই কর্মচারী এ এইচ এম নাদিরুল হাসান সবুজ ও মুহাম্মদ মজিবুর রহমানকে শোকজ করা হয়।
গত ৬ সেপ্টেম্বর ওই দুই কর্মচারীর বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। তবে, তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার তিন দিনের মধ্যেই শোকজ করা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মনিকা পারভীনকে বদলি করা হয়।
গত বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অফিস আদেশে মনিকা পারভীনকে ময়মনসিংহ সদর উপজেলা থেকে বদলি করে নান্দাইল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে পদায়ন করা হয়। অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, এটি ‘জনস্বার্থে’ করা হয়েছে।
তবে ঘুষ দাবির অভিযোগ, দুই কর্মচারীকে শোকজ, তদন্ত প্রতিবেদন জমা এবং এর পরপরই সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তার বদলি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তদন্ত প্রক্রিয়া চলাকালীন সময়ে কেন তাকে বদলি করা হলো, তা নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
‘ঘুষ.সাইট’ নির্মাতা শাহেদের অভিযোগ, তার মা আমিনা খাতুন চাকরিরত অবস্থায় মারা যান। তার মৃত্যুর পর কল্যাণ তহবিল থেকে দুই লাখ টাকা এবং চাকরিরত অবস্থায় মৃত্যুর কারণে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে আরও আট লাখ টাকা পাওয়ার কথা ছিল তাদের পরিবারের। সব মিলিয়ে ১০ লাখ টাকা পাওয়ার কথা থাকলেও সেই টাকা পেতে ময়মনসিংহ সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তাদের কাছে এক লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন বলে অভিযোগ করেছেন শাহেদ।
তিনি দাবি করেন, ‘ঘুষ না দিলে ফাইল এগোবে না’ বলেও তাদের জানানো হয়েছিল। পরবর্তীতে তিনি এ ঘটনায় অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ‘ঘুষ.সাইট’ তৈরি করেন এবং সেখানে অভিযোগ করেন। এই প্ল্যাটফর্ম চালুর পর অল্প সময়ের মধ্যে দেশব্যাপী ব্যাপক সাড়া ফেলে। সারাদেশ থেকে জমা হতে থাকে হাজার হাজার ঘুষ দাবির অভিযোগ। টাকার অঙ্কে সেইসব ঘুষ দাবির পরিমাণ শত শত কোটি টাকায় পৌঁছে যায়। এতে সাইটের পাশাপাশি শাহেদের নিজের অভিযোগটিও নজরে আসে।
অভিযোগটি সামনে আসার পর ৩১ আগস্ট সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের হিসাব সহকারী এ এইচ এম নাদিরুল হাসান সবুজ এবং অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মুহাম্মদ মজিবুর রহমানকে শোকজ করা হয়। সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মনিকা পারভীনের স্বাক্ষরিত শোকজ নোটিশে দুই কর্মচারীকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়।
অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের জন্য তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত শেষে ৬ সেপ্টেম্বর প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। কিন্তু এর তিন দিনের মাথায়, ৯ সেপ্টেম্বর, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অফিস আদেশে মনিকা পারভীনকে ময়মনসিংহ সদর উপজেলা থেকে নান্দাইল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে বদলি করা হয়।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন-২) মোছাম্মদ রোখসানা হায়দার স্বাক্ষরিত আদেশে মনিকা পারভীনকে ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থলের দায়িত্ব হস্তান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত হিসেবে গণ্য করা হবে।
তবে আদেশে বদলির সুনির্দিষ্ট কারণ হিসেবে কোনো অভিযোগ, তদন্ত বা প্রশাসনিক ব্যবস্থা উল্লেখ করা হয়নি। সেখানে শুধু ‘জনস্বার্থে’ বদলির কথা বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. হারুন সিকদারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমাদের তিনজনকে শোকজের বিষয়ে তদন্ত করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তদন্ত প্রতিবেদন গত রোববার জমা দেওয়া হয়েছে। এর বেশি এ বিষয়ে আমি আর কিছু বলতে পারছি না।’
বদলির বিষয়ে মনিকা পারভীন বলেন, ‘আমাদের কার্যালয় নিয়ে সম্প্রতি আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। তবে আমি আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করার চেষ্টা করেছি। আদেশে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে বদলি করা হয়েছে। বদলির নির্দিষ্ট কোনো কারণ আছে কি না, তা আমার জানা নেই।’
ময়মনসিংহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘যেকোনো কর্মকর্তা সরকারি আদেশে যেকোনো সময় বদলি হতে পারেন। শিক্ষা কর্মকর্তা মনিকা পারভীনকে বদলির পেছনে আলাদা কোনো কারণ আছে কি না, আমার জানা নেই।’
ঘুষ.সাইটে করা অভিযোগ ও দুই কর্মচারীকে শোকজের সঙ্গে এই বদলির কোনো সম্পর্ক আছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ঘুষ.সাইটে অভিযোগ ও শোকজের কারণেও হতে পারে। আবার নান্দাইলে শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে যাওয়ার জন্য তিনি আবেদন করে থাকতে পারেন, এ কারণেও হতে পারে।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, শোকজ নোটিশ দেওয়ার পর থেকেই শিক্ষা কর্মকর্তা মনিকা পারভীন এবং শাহেদের বাবা শরীফুল ইসলাম শামীমের ওপর বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে তারা জানতে পেরেছেন। ওই কর্মকর্তা বলেন, এসব চাপের কারণেই মনিকা পারভীনকে বদলি করা হয়ে থাকতে পারে। পাশাপাশি ঘুষ.সাইট চালু করে আলোচনায় আসার পর শাহেদও নিরাপত্তা ঝুঁকিতে রয়েছেন বলে তার পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে।
শাহেদ বলেন, ‘প্ল্যাটফর্ম চালু করে আলোচনায় আসার পর থেকে বিভিন্নভাবে মোবাইল ফোনে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এসব চাপ ও নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়ে এখনো থানায় মামলা বা লিখিত অভিযোগ করা হয়নি। তবে থানায় অভিযোগ করা হবে।’
প্রসঙ্গত, সরকারি সেবা নিতে গিয়ে ঘুষ দাবির অভিজ্ঞতা থেকেই সাইফ কবির নামে এক তরুণকে নিয়ে ‘ঘুষ.সাইট’ তৈরির উদ্যোগ নেন শাহেদ শরীফ আহমেদ। গত ২১ আগস্ট চালুর পর থেকেই ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে তাদের ওয়েবসাইটটি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
নীলফামারীর সৈয়দপুর সরকারি বিজ্ঞান কলেজে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির সুযোগের দাবিতে বিমানবন্দর সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে কলেজের সামনে ওই গুরুত্বপূর্ণ সড়কে অবস্থান নিয়ে তারা এই কর্মসূচি শুরু করেন।
আন্দোলনকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে কলেজটিতে পড়াশোনা করে আসা ৪৮ জন শিক্ষার্থী চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ না পাওয়ার কারণে নিজ প্রতিষ্ঠানে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন করতে পারছেন না। তারা ভর্তির ন্যূনতম যোগ্যতা পুনর্বিবেচনা করে তাদের ভর্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা বলেন, ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে তারা সৈয়দপুর সরকারি বিজ্ঞান কলেজে পড়াশোনা করে আসছেন। একটি পরীক্ষার ফলাফলের কারণে দীর্ঘদিনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়া তাদের জন্য অত্যন্ত হতাশাজনক। তারা নিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে নিজ প্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ দেওয়ার দাবি জানান।
অভিভাবকেরা জানান, তাদের সন্তানদের অনেকেই সামান্য নম্বরের ব্যবধানে জিপিএ-৫ পাননি। তারা মনে করেন, দীর্ঘদিন একই প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করা শিক্ষার্থীদের বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিতে বিবেচনা করা প্রয়োজন। কলেজ কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।
জানা গেছে, ভর্তির সুযোগ নিশ্চিত করার দাবিতে এর আগে ৪৮ শিক্ষার্থীর অভিভাবকেরা দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত আবেদন করেন। পাশাপাশি কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে ভর্তির বিষয়টি পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন তারা। তবে কোনো সমাধান না হওয়ায় রোববার সড়ক অবরোধ করে আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা।
কলেজ সূত্রে জানা গেছে, ১৯৬৪ সালে প্রতিষ্ঠিত সৈয়দপুর সরকারি বিজ্ঞান কলেজে চলতি বছর ১০১ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ১০০ জন উত্তীর্ণ হন। তাদের মধ্যে ৫২ জন জিপিএ-৫ পেয়েছেন। একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য এ বছর কলেজটিতে ৩৫০টি আসন নির্ধারণ করা হয়েছে। গত ২৭ আগস্ট প্রকাশিত ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে ভর্তির ন্যূনতম যোগ্যতা হিসেবে জিপিএ-৫ নির্ধারণ করা হয়। ফলে জিপিএ-৫ না পাওয়া ৪৮ শিক্ষার্থী নিজ প্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কায় পড়েছেন।
সড়ক অবরোধ চলাকালে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন নীলফামারী-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মুনতাকিম। তিনি কলেজ কর্তৃপক্ষ ও আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের দাবির বিষয়ে অবগত হন। শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে একটি সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করবেন।
এ বিষয়ে সৈয়দপুর সরকারি বিজ্ঞান কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, কলেজে প্রতিবছর ভর্তির চাপ বাড়ছে। উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন স্থান থেকে শিক্ষার্থীরা এখানে ভর্তি হতে আগ্রহী। তিনি জানান, ভর্তির ক্ষেত্রে সরকারি নীতিমালার বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেটো রেংগলির সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে এক ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন তিনি। ব্রিফিংয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানও উপস্থিত ছিলেন।
মীর শাহে আলম উল্লেখ করেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। তিনি আরও বলেন, যারা নির্বাচনে অংশ নিতে চান, তাদের বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।
তিনি জানান, আইন ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা পর্যালোচনা করে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন কি না, তা নির্বাচন কমিশন নির্ধারণ করবে। যদি আইনগত মতামত বা ব্যাখ্যার প্রয়োজন হয়, তাহলে নির্বাচন কমিশন সেটি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে পারে। এরপর আইন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি পরিষ্কার করা হবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতা বা অযোগ্যতা নির্বাচন কমিশনই নির্ধারণ করবে। এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে জামায়াত সরকারের ওপর কোনো দায় চাপালে তা হবে না, কারণ সংসদে বিল পাস হওয়ার সময় তারা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে, বৈঠকে সুইজারল্যান্ড বাংলাদেশে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেটো রেংগলি বলেন, স্থানীয় উন্নয়ন, জলবায়ু এবং ভবিষ্যতে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়ে বৈঠকে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সাতক্ষীরার একটি দুর্ঘটনায় বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পাটকেলঘাটা থানার শাকদাহ এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।
নিহত আব্দুল মজিদ গাজী (৬৫) সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বিনেরপোতা বসুন্ধরা এলাকার বাসিন্দা ছিলেন এবং পেশায় তিনি একজন পরিচ্ছন্নতা কর্মী ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, সকালে একটি দ্রুতগতির বাস শাকদাহ এলাকায় যাওয়ার সময় সাইকেল আরোহী আব্দুল মজিদকে চাপা দেয়। এই ঘটনায় ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু ঘটে। নিহতের পরিবারের সদস্যরা খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।
লাবসা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল আলিম বলেন, "প্রতিদিনের মতো আজ সকালে আব্দুল মজিদ গাজী সাইকেল নিয়ে কাজে যাচ্ছিলেন। পথে দ্রুতগতির একটি বাস তাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান।"
তিনি আরও উল্লেখ করেন, "বয়সের ভার সত্ত্বেও পরিবারের জীবিকা নির্বাহের জন্য আব্দুল মজিদ গাজী নিয়মিত পরিচ্ছন্নতার কাজ করতেন।"
পাটকেলঘাটা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুর রহমান জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তবে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি পালিয়ে যায়, ফলে সেটিকে আটক করা সম্ভব হয়নি। মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জাভা সাগরে ২৪৩ জন আরোহী নিয়ে নিখোঁজ যাত্রীবাহী ফেরির হদিস পাওয়া গেছে। উদ্ধার অভিযানে এ পর্যন্ত ১০২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এ ঘটনায় অন্তত একজনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। নিখোঁজ থাকা অন্য আরোহীদের সন্ধানে দুর্ঘটনাস্থলে দেশটির অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী সংস্থা জোর তৎপরতা চালাচ্ছে।
বিবিসির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘ভার্গো ট্রান্সপোর্ট ৮’ নামের ফেরিটি পূর্ব জাভার সুরাবায়া থেকে দক্ষিণ কালিমন্তানের বাঞ্জারমাসিন শহরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় ভোররাত আনুমানিক ২টার দিকে ফেরিটি বাঞ্জারমাসিন থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দক্ষিণে জাভা সাগরে অবস্থানকালে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে নিখোঁজ হয়ে যায় এবং নিয়ন্ত্রণকক্ষের সঙ্গে সব যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই জাতীয় অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী সংস্থা সম্ভাব্য স্থান চিহ্নিত করে উদ্ধার অভিযানে নেমে পড়ে। বর্তমানে নিখোঁজদের জীবিত উদ্ধারের জন্য সাগরে একাধিক উদ্ধারকারী জাহাজ ও হেলিকপ্টার দিয়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
প্রায় ১৭ হাজার দ্বীপের দেশ ইন্দোনেশিয়ায় সাধারণ মানুষের জন্য দূরদূরান্তে যাতায়াতের ক্ষেত্রে ফেরি ও নৌপথই অন্যতম প্রধান ভরসা। তবে দুর্বল নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহনের কারণে দেশটিতে প্রায়ই বড় ধরনের নৌ-দুর্ঘটনা ঘটে থাকে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ