০৫:৪৪ পি.এম
অতিবৃষ্টির ফলে সৃষ্টি হওয়া জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জীবনসহ সম্পদ রক্ষা করার জন্য, দ্রুত ত্রাণ ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার ও পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে সর্বোচ্চ সতর্কতা এবং সমন্বয়ের সঙ্গে কাজ করতে হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা এবং মাঠ প্রশাসনকে নির্দেশনা প্রদান করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
রোববার (১২ জুলাই) দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জুম (Zoom) প্ল্যাটফর্মে দেশের আট বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশের ডিআইজি, জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি), সিভিল সার্জনসহ মাঠ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক ভার্চুয়াল সভায় তিনি এই নির্দেশনা দেন।
সভায় বিভাগীয় কমিশনার, ডিআইজি, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সিভিল সার্জন ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিজেদের এলাকার জলাবদ্ধতার সর্বশেষ অবস্থা, ক্ষয়ক্ষতি, আশ্রয়কেন্দ্রের পরিস্থিতি, উদ্ধার কার্যক্রম, ত্রাণ বিতরণ ও চিকিৎসাসেবার অগ্রগতি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন।
আরও পড়ুন: ‘আল্লাহর বাড়ি মানুষ যায় পবিত্র নিয়তে, ওখানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঠিক না’ হুমায়ুন কবিরের মন্তব্য
প্রধানমন্ত্রী এসময় বলেন, দুর্যোগপূর্ণ এই পরিস্থিতিতে মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষা করা প্রশাসনের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হতে হবে। কোনো ধরনের গাফিলতির সুযোগ নেই। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে দ্রুত ত্রাণসামগ্রী, শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ খাবার পানি, শিশু খাদ্য, প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং চিকিৎসাসেবা পৌঁছানোর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন।
এছাড়া, আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে নিরাপদ পরিবেশ, পর্যাপ্ত স্যানিটেশন ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ এবং যোগাযোগ সুবিধা সচল রাখার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি। বিশেষভাবে নারী, শিশু, প্রবীণ ব্যক্তি, প্রতিবন্ধী এবং গর্ভবতী নারীদের জন্য প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রধানমন্ত্রী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশনা দিয়ে বলেন, দুর্যোগকালীন পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কোনো অসাধু চক্র যেন চুরি, ডাকাতি, মজুতদারি, ত্রাণ আত্মসাৎ কিংবা অন্য কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়াতে না পারে, সেদিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে। ত্রাণ বিতরণে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের অগ্রাধিকার নিশ্চিত করার উপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
সভায় দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশাসনের প্রস্তুতি, স্থানীয় প্রশাসনের কার্যক্রম, উদ্ধার কার্যক্রমে বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়, নদ-নদীর পানির স্তর এবং আবহাওয়ার পূর্বাভাস নিয়মিত পর্যবেক্ষণের বিষয়েও বিশদ আলোচনা করা হয়।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
এসময় চট্টগ্রাম থেকে যুক্ত হওয়া কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রীকে জানান, সেখানে জলাবদ্ধতার পরিস্থিতি ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। তবে সিলেট অঞ্চলে মনু নদীর বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পরিস্থিতি অবনতি হচ্ছ। রংপুর বিভাগে নতুন করে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এসব তথ্য জানার পর, প্রধানমন্ত্রী সম্ভাব্য সব ধরনের ঝুঁকি মোকাবেলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়া, প্রয়োজনীয় জনবল ও সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখা এবং জনগণের পাশে থেকে সমন্বিতভাবে কাজ করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে নির্দেশ দেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন