ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বাংলাদেশ ব্যাংকের নিট মুনাফায় বড় প্রবৃদ্ধি


বাংলাদেশ ব্যাংকের নিট মুনাফায় বড় প্রবৃদ্ধি

বাংলাদেশ ব্যাংক বিগত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে নিট মুনাফায় উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই অর্থবছরে প্রায় ২৫ হাজার ৯০০ কোটি টাকা নিট মুনাফা করেছে। আগের অর্থবছর ২০২৪-২৫ এ এই মুনাফার পরিমাণ ছিল ২২ হাজার ৬২০ কোটি টাকা। ফলে, এক বছরের ব্যবধানে নিট মুনাফা বেড়েছে প্রায় ৩ হাজার ২৮০ কোটি টাকা।

রোববার (৩০ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আর্থিক হিসাব বিবরণী অনুমোদন করা হয়েছে। বৈঠকে উপস্থাপিত তথ্যে এই তথ্য উঠে এসেছে। এছাড়া, বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য মূল বেতনের ছয় গুণ হারে প্রণোদনা বোনাস দেওয়ার প্রস্তাবও বৈঠকে অনুমোদিত হয়েছে।

গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন: সরকারি কর্মচারীদের ভাতা নির্ধারণে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি

এদিকে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুনাফা বৃদ্ধির পেছনে কয়েকটি কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। বিশেষ করে, ব্যাংক খাতে দীর্ঘদিনের তারল্যসংকটের কারণে বিভিন্ন ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে আগের তুলনায় বেশি অর্থ ধার করেছে। এর ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঋণ থেকে সুদ আয় বৃদ্ধি পেয়েছে।

এছাড়া, বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের একটি অংশ বিভিন্ন দেশের আর্থিক ও বিনিয়োগ খাতে রাখা রয়েছে। সেখান থেকেও গত অর্থবছরে ভালো আয় হয়েছে। ঋণ ব্যবস্থাপনা থেকে বাড়তি সুদ আয় এবং বৈদেশিক বিনিয়োগের মুনাফা— এই দুইয়ের সমন্বয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিট মুনাফা বেড়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রকৃত মুনাফা ছিল প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা। ওই অর্থবছরে নিট মুনাফা ছিল ১৫ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। পরবর্তী অর্থবছর ২০২৪-২৫ এ নিট মুনাফা বেড়ে দাঁড়ায় ২২ হাজার ৬২০ কোটি টাকা। সর্বশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা আরও বেড়ে ২৫ হাজার ৯০০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।

আরও পড়ুন: বিশ্ববাজারে সোনার দাম বেড়ে গেল, বিনিয়োগকারীদের নজর ফেডারেল রিজার্ভের সিদ্ধান্তে

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তামিমের সঙ্গে বৈঠক শেষে বিপিএল নিয়ে যা বললেন নাসির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

রবিবার, ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:২৫ পি.এম


তামিমের সঙ্গে বৈঠক শেষে বিপিএল নিয়ে যা বললেন নাসির

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) চলতি বছর বিপিএল আয়োজন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই কারণে ক্রিকেটাররা বিসিবি সভাপতির সঙ্গে আলোচনা করতে বসেছিলেন। নাসির হোসেন জানিয়েছেন, সেখানে বিপিএলের বিকল্প নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুরে শুরু হওয়া মিটিং শেষে নাসির হোসেন ক্রিকেটারদের প্রতিনিধি হয়ে গণমাধ্যমের সামনে আসেন।

নাসির বলেন, ‘প্রথমেই বলি, এই ক্রিকেট বোর্ড সবসময় ক্রিকেটারদের পাশে ছিল এবং আছে। আমরা বিপিএল নিয়েই কথা বলেছি, কেন আয়োজন হচ্ছে না- তা নিয়েই আলোচনা হয়েছে। বোর্ড সুন্দরভাবে ব্যাখ্যা দিয়েছে কেন বিপিএল হচ্ছে না।

‘বিপিএলের জায়গায় (সময়) কী করলে খেলোয়াড়দের জন্য ভালো হয়...। বিসিবির সঙ্গে বসে বুঝেছি, এবার বিপিএল হচ্ছে না। আমাদেরকে ভিন্ন টুর্নামেন্টের কথা জানিয়েছে। তবে কোন টুর্নামেন্ট হবে, সেটা আমরা পরবর্তী মিটিংয়ে বুঝতে পারব।’

বিসিবির প্রস্তাবকে সমর্থন করে নাসির বলেন, যে প্রস্তাবের কথা বলা হয়েছে সেটা খারাপ হবে না। ক্রিকেট বোর্ড কিছু বিষয় নিয়ে আমাদের সঙ্গে কথা বলেছে। যতটুকু বুঝলাম, ক্রিকেট বোর্ড ক্রিকেটারদের জন্য চিন্তা করেছে। ৫ থেকে ১০ বছর পর আমরা খেলোয়াড়রা কোথায় থাকব, সেটা নিয়েই বেশি ফোকাস করা হয়েছে।

ক্রিকেটারদের আর্থিক ক্ষতির কথা নিয়ে তিনি বলেন, দেখুন, বিপিএল না হলে খেলোয়াড়রা আর্থিকভাবে সমস্যায় পড়ে যাবে। তারা (বিসিবি) আমাদের কিছু প্রস্তাব দিয়েছে, আমাদের দিক থেকেও কিছু প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কোন কিছুই চূড়ান্ত হয়নি। আমরা আবার পরবর্তীতে বসব এবং এটা নিয়ে আলোচনা করব।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৫৯ বছর বয়সে গ্র্যাজুয়েট হলেন সেই বেলায়েত শেখ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:২৫ পি.এম


৫৯ বছর বয়সে গ্র্যাজুয়েট হলেন সেই বেলায়েত শেখ

মো. বেলায়েত শেখ একটি অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন, যা প্রমাণ করে যে বয়স উচ্চশিক্ষার পথে কোনো বাধা নয়। ৫৯ বছর বয়সে তিনি জার্নালিজম, কমিউনিকেশন অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগ থেকে স্নাতক (অনার্স) সম্পন্ন করেছেন। প্রবল ইচ্ছাশক্তি ও অধ্যবসায় থাকলে জীবনের যেকোনো পর্যায় থেকেই নতুন করে স্বপ্ন পূরণের যাত্রা শুরু করা সম্ভব, বেলায়েত শেখের গল্প যেন তারই প্রমাণ।

রোববার (৩০ আগস্ট) স্টেট ইউনিভার্সিটির সাংবাদিকতা যোগাযোগ ও মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের সমন্বয়ক, সহকারী অধ্যাপক রিফাত সুলতানা জানান, শনিবার (২৯ আগস্ট) ফলাফল ঘোষণা করা হয়। বেলায়েত শেখ এ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন।

বেলায়েত শেখ জীবনের নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে দীর্ঘ বিরতির পর শিক্ষাজীবনে ফিরে আসেন। ২০১৭ সালে ৫০ বছর বয়সে ঢাকার দারুল ইসলাম আলিম মাদরাসায় নবম শ্রেণিতে ভর্তি হয়ে নতুন করে লেখাপড়া শুরু করেন তিনি। এরপর ২০১৯ সালে এসএসসি এবং ২০২১ সালে এইচএসসি পাস করেন। উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম, জাহাঙ্গীরনগর, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন বেলায়েত শেখ।

২০২২ সালে তিনি স্টেট ইউনিভার্সিটিতে সাংবাদিকতা যোগাযোগ ও মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগে ভর্তি হন। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে বয়সের ব্যবধান, পারিবারিক ও আর্থিক নানা চ্যালেঞ্জ থাকলেও তিনি হাল ছাড়েননি। নিয়মিত পড়াশোনা, ক্লাশ ও পরীক্ষায় অংশ নিয়ে শেষপর্যন্ত অনার্সের গণ্ডি পাড়ি দিতে সক্ষম হয়েছেন।

অনার্স পাসের অনুভূতি প্রকাশ করে বেলায়েত শেখ বলেন, "শিক্ষার কোনো বয়স নেই। জীবনে যত বাধাই আসুক, ইচ্ছাশক্তি ও পরিশ্রম থাকলে স্বপ্ন পূরণ করা সম্ভব। যারা বয়সের কারণে পড়াশোনা থেকে দূরে আছেন, তাদের প্রতি আমার আহ্বান—সুযোগ পেলেই আবার পড়াশোনায় ফিরে আসুন।"

তার এই সাফল্যে পরিবার, সহপাঠী, শিক্ষক ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা আনন্দ প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তার অর্জনকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন অনেকে।

৫৯ বছর বয়সে অনার্স পাসের মাধ্যমে বেলায়েত শেখ শুধু নিজের স্বপ্নই পূরণ করেননি, বরং বয়সকে জয় করে শিক্ষার পথে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে অন্যদের জন্যও তৈরি করেছেন অনুপ্রেরণার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

সাংসারিক জীবনে বৃদ্ধা মা, স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক কন্যাসন্তান রয়েছে বেলায়েত শেখের। রয়েছে ছেলে এবং মেয়ের ঘরের তিনজন নাতি-নাতনিও।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বেতন না বাড়ানোয় ক্ষোভে, ৫০ কোটি ডলারের গুদামে আগুন দিল কর্মী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:৪৬ পি.এম


বেতন না বাড়ানোয় ক্ষোভে, ৫০ কোটি ডলারের গুদামে আগুন দিল কর্মী

ক্যালিফোর্নিয়ার অন্টারিওতে একটি বিশাল ডিস্ট্রিবিউশন সেন্টারে আগুন দেওয়ার অভিযোগ ২৯ বছর বয়সী এক গুদামকর্মীর বিরুদ্ধে উঠেছে, যা কর্মীদের বেতন নিয়ে ক্ষোভের ফলস্বরূপ ঘটেছে। ২০২৬ সালের ৭ এপ্রিল ভোরে লাগা এই আগুনে ১২ লাখ বর্গফুটের পুরো স্থাপনাটি সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে যায়। ফেডারেল প্রসিকিউটরদের হিসাব অনুযায়ী, এতে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলার হতে পারে।

অভিযুক্ত চামেল আবদুলকারিম হাইল্যান্ড শহরের বাসিন্দা। তিনি সরাসরি কিম্বারলি-ক্লার্কের কর্মী ছিলেন না, বরং তৃতীয় পক্ষের লজিস্টিকস কোম্পানি এনএফআই ইন্ডাস্ট্রিজের হয়ে সেখানে কাজ করতেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ৭ এপ্রিল রাত ১২টা ৩৪ মিনিটে অন্টারিওর একটি বড় ডিস্ট্রিবিউশন সেন্টারে আগুনের খবর পায় পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, আবদুলকারিম গুদামের ভেতরে কাগজজাত পণ্যে ভরা একাধিক প্যালেটে ইচ্ছাকৃতভাবে আগুন ধরিয়ে দেন। এছাড়া, তিনি ওই ঘটনার ভিডিও ধারণ করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

ভিডিওতে তাকে বেতন নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করতে শোনা যায়। ফেডারেল প্রসিকিউটরদের উদ্ধৃত বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি বলেন, "কর্মীদের জীবনযাপনের মতো বেতন দেওয়া হলে এমন ঘটনা ঘটত না।" পরে ফোন কল ও মেসেজের মাধ্যমে তিনি কর্মীদের উৎপাদিত মূল্যের আরও বেশি অংশ দেওয়ার দাবি করেন এবং শেয়ারহোল্ডারদের সমালোচনা করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

আগুন দ্রুত পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে বিপুল পরিমাণ টিস্যু, টয়লেট পেপার ও অন্যান্য কাগজজাত পণ্য মজুত ছিল। প্রচণ্ড আগুনের ফলে ভবনের ছাদ ধসে পড়ে এবং পুরো ডিস্ট্রিবিউশন সেন্টারটি ধ্বংস হয়ে যায়। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে কয়েক ঘণ্টা ধরে বিপুলসংখ্যক দমকলকর্মী কাজ করেন। এই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

সান বার্নার্ডিনো কাউন্টির প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, ভবনটির মূল্য এবং ভেতরে থাকা পণ্যের ক্ষতি মিলিয়ে মোট আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির হিসাব ৬০০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি হতে পারে। কর্মকর্তাদের মতে, এর মধ্যে কাগজজাত পণ্যের মূল্য ৫০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি।

ঘটনার পর আবদুলকারিমকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে একাধিক অগ্নিসংযোগের অভিযোগ এবং ফেডারেল পর্যায়ে বাণিজ্যিক স্থাপনায় অগ্নিসংযোগের অভিযোগ আনা হয়েছে। ফেডারেল অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলে তার ন্যূনতম পাঁচ বছর এবং সর্বোচ্চ ২০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।

১৩ এপ্রিল অঙ্গরাজ্যের মামলায় আদালতে হাজির হয়ে আবদুলকারিম অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। তদন্তকারীরা এফবিআই, ব্যুরো অব অ্যালকোহল, টোব্যাকো, ফায়ারআর্মস অ্যান্ড এক্সপ্লোসিভস, অন্টারিও পুলিশ বিভাগ এবং অন্টারিও ফায়ার বিভাগের সঙ্গে মিলে তদন্ত চালাচ্ছেন। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত আবদুলকারিমকে আইন অনুযায়ী নির্দোষ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

১২ কোটি টাকার প্রকল্প, কাজ শেষ না হতেই ধসে পড়ল ডেক প্ল্যাটফর্ম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:৪৬ পি.এম


১২ কোটি টাকার প্রকল্প, কাজ শেষ না হতেই ধসে পড়ল ডেক প্ল্যাটফর্ম

বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বরগুনার আমতলী পৌরসভার কেন্দ্রীয় লেকের সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রায় সাড়ে ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন ওয়াকওয়ের আরসিসি ডেক প্ল্যাটফর্মের একটি অংশ ধসে পড়েছে।

রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুরে শ্রমিকরা যখন নির্মাণকাজে ব্যস্ত ছিলেন, তখন এই দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী এবং অনিয়মের কারণে এই নির্মাণাধীন অংশটি ধসে পড়েছে। তারা ঘটনার দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

জানা গেছে, আমতলী পৌরসভার কেন্দ্রীয় লেকের সৌন্দর্যবর্ধনে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১২ কোটি ৫৬ লাখ ৯৮ হাজার ৩২৩ টাকা ব্যয়ে এলজিসিআরআরপি প্রকল্পের আওতায় কাজ শুরু করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে আমতলী পৌর মেয়র মো. মতিয়ার রহমান এ কাজের দরপত্র আহ্বান করেন।

অভিযোগ রয়েছে, ঝালকাঠির ইসলাম ব্রাদার্স নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে অতি গোপনে কাজটি দেওয়া হয়েছে। তবে নামমাত্র ওই প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া হলেও প্রকল্পের সমুদয় কাজ সাবেক মেয়র মতিয়ার রহমানই পরিচালনা করছেন বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন।

২০২৪ সালের ৩০ জুলাই কাজ শুরু হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু নির্ধারিত সময়ে কাজ শুরু হয়নি। স্থানীয়দের দাবি, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর মেয়র মতিয়ার রহমান পরিবারসহ এলাকা ছেড়ে চলে যান। পরে ২০২৪ সালের ২৫ অক্টোবর তৎকালীন আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আশরাফুল আলম প্রকল্পের কাজের উদ্বোধন করেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজের শুরুতেই প্রকল্পের ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তৎকালীন ইউএনও প্রকল্পের ব্যয় পর্যালোচনা করে তা কমিয়ে আনেন। এতে ঠিকাদার ক্ষুব্ধ হয়ে কাজ বন্ধ করে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

পুনরায় কাজ শুরু হলে নির্মাণকাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। স্থানীয়রা বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানালেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে তাদের অভিযোগ।

আরও অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পের কাজ তদারকির দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে ঠিকাদারের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকায় ইচ্ছেমতো কাজ করা হয়েছে। সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রোকনুজ্জামান খাঁন এবং সদ্য বিদায়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরীকে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ জানানো হলেও তারা কোনো ব্যবস্থা নেননি বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুরে লেকের পানির ওপর পিলারের মাধ্যমে নির্মাণাধীন ওয়াকওয়ের আরসিসি ডেক প্ল্যাটফর্মের একটি অংশ ধসে পড়ে। এই ঘটনার ফলে নির্মাণকাজের মান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন সেখানে জড়ো হন। পরে ঠিকাদারের লোকজন ধসে যাওয়া অংশটি পলিথিন দিয়ে ঢেকে দেন বলে জানা গেছে।

এ সময় সাংবাদিকরা ধসে পড়া আরসিসি ডেক প্ল্যাটফর্মের ছবি ও তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে ঠিকাদার মতিয়ার রহমানের ম্যানেজার শ্যামল চন্দ্র, ব্যক্তিগত সহকারী পান্নু মোল্লা এবং তাদের সহযোগীরা ছবি তুলতে বাধা দেন এবং অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন বলে অভিযোগ করেছেন সাংবাদিক মনিরুল ইসলাম, নাসরিন শিপু, মিথুন কর্মকার ও রাসেল।

স্থানীয় শাহীন, নুরুল ইসলাম ও সাইদুজ্জামান বলেন, শুরু থেকেই ঠিকাদার নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী দিয়ে কাজ করছেন। এ নিয়ে আমরা কয়েকবার ইউএনওকে জানিয়েছি। কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এখন নির্মাণাধীন আরসিসি ডেক প্ল্যাটফর্মের অংশ ধসে পড়ায় কাজের মান নিয়ে আমাদের অভিযোগের সত্যতা সামনে এসেছে। দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইসলাম ব্রাদার্সের মালিক মো. খাইরুল আজাদ বলেন, "লাইসেন্স দিয়েছি, এটা সত্য। কিন্তু কাজ করেন সাবেক মেয়র মতিয়ার রহমান। ওইখানে আমার কিছুই নেই। আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না।"

অভিযোগের বিষয়ে আমতলী উপজেলা নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র মো. মতিয়ার রহমানের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।

আমতলী পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মশিউর রহমান আরসিসি ডেক প্ল্যাটফর্মের একটি অংশ ধসে পড়ার কথা স্বীকার করে বলেন, "মূল পিলার বা পাইলিংয়ে কোনো সমস্যা হয়নি। সেন্টারিংয়ের কাঠ বা ঠেলা (সাপোর্ট) খুলে যাওয়ার কারণে ঢালাইয়ের অংশটি কিছুটা ধসে পড়েছে।"

তিনি আরও বলেন, যে অংশটিতে সমস্যা হয়েছে, সেটির কাজ আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে।

আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%