শুক্রবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৫:৫৯ পি.এম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘সরকার একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায়, যেখানে স্বাস্থ্যসেবার সূচনা পরিবার ও কমিউনিটি থেকে হবে এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা স্বাস্থ্যব্যবস্থার মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।’
তিনি উল্লেখ করেন, ‘প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই উত্তম’ এই নীতিকে সামনে রেখে সরকার দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার রূপান্তর ঘটাচ্ছে।
এ ব্যবস্থায় নারী ও শিশুদের বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুরে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের কনফারেন্স রুম-৭-এ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাইডলাইনে আয়োজিত ‘প্রতিশ্রুতি থেকে কার্যকর পদক্ষেপ: প্রতিরোধযোগ্য মাতৃ ও নবজাতকের মৃত্যু রোধে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় মিডওয়াইফারি অন্তর্ভুক্তি’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের সাইড ইভেন্টে উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সুইডেন ও ইউএনএফপিএ-এর অংশীদারিত্বে বাংলাদেশ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রাজনৈতিক অঙ্গীকার তখনই অর্থবহ হয়ে ওঠে, যখন তা বিনিয়োগ, কার্যকর প্রতিষ্ঠান, দক্ষ জনশক্তি এবং মানুষের উন্নত জীবনে রূপ নেয়। এ কারণেই ‘প্রতিশ্রুতি থেকে কার্যকর পদক্ষেপ’ প্রতিপাদ্যটি বাংলাদেশের জন্য বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক।’
তিনি আরও বলেন, ‘সরকার আরও এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা নিয়েছে, যার ৮০ শতাংশই হবেন নারী। এসব স্বাস্থ্যকর্মী সকল পরিবারকে স্বাস্থ্যব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করবেন, শুরুতেই স্বাস্থ্যঝুঁকি শনাক্ত করবেন এবং সময়মতো প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সহায়তা করবেন।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই ধারাবাহিক স্বাস্থ্যসেবায় পেশাদার মিডওয়াইফের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন দক্ষ মিডওয়াইফ শুধু প্রসবসেবা প্রদানকারী নন; গর্ভধারণের পূর্বপর্যায় থেকে শুরু করে প্রসব-পরবর্তী সময় পর্যন্ত তিনি একজন নারীর আস্থাভাজন স্বাস্থ্যসেবাকর্মী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।’
বাংলাদেশ সরকার সারা দেশে ২৫ হাজার পেশাদার মিডওয়াইফ নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এরই মধ্যে এ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এসব মিডওয়াইফ বহুমুখী দক্ষতাসম্পন্ন প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা দলের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে কাজ করবেন।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মিডওয়াইফরা প্রয়োজনীয় প্রজননস্বাস্থ্য সেবা প্রদান, গর্ভকালীন সেবা, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রসব নিশ্চিতকরণ, জটিলতা দ্রুত শনাক্তকরণ এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে উচ্চতর স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে রেফার করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন। পাশাপাশি মা ও নবজাতকের সেবা, শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানো, টিকাদান এবং শিশুর সুস্থ বিকাশেও তারা সহায়তা করবেন।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ পেশাদার মিডওয়াইফারি শিক্ষা চালু, নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ এবং জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে মিডওয়াইফ নিয়োগের মাধ্যমে এ খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি করেছে।’
বর্তমানে বাংলাদেশে ১১ হাজারেরও বেশি লাইসেন্সপ্রাপ্ত মিডওয়াইফ রয়েছেন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০৩০ সালের মধ্যে এ সংখ্যা ২৫ হাজারে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। এ ক্ষেত্রে সুইডেন ও ইউএনএফপিএ-এর সঙ্গে বাংলাদেশের অংশীদারত্ব গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।’
তিনি বলেন, ‘ইউএনএফপিএ-এর সহযোগিতায় বাংলাদেশ ২২টি জেলায় মিডওয়াইফ-নেতৃত্বাধীন সেবা সম্প্রসারণ করেছে। সেখানে দক্ষ মিডওয়াইফরা এক লাখ ৫৪ হাজারেরও বেশি প্রসবে সহায়তা করেছেন এবং মাতৃস্বাস্থ্যের বিভিন্ন জটিল পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভূমিকা রেখেছেন।’
তিনি বলেন, ‘এগুলো শুধু পরিসংখ্যান নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে নিরাপদে বাড়ি ফিরে যাওয়া মায়েদের গল্প এবং আশার আলো নিয়ে জীবনের পথে যাত্রা শুরু করা নবজাতকদের ভবিষ্যৎ।’
বাংলাদেশ একটি সমন্বিত ডিজিটাল স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘এর আওতায় প্রত্যেক নাগরিকের জন্য একটি হেলথ কার্ড থাকবে, যা ডিজিটাল স্বাস্থ্য রেকর্ড ও ইলেকট্রনিক রেফারেল ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত থাকবে।’
‘এর ফলে একজন গ্রামীণ নারীর স্বাস্থ্যসেবার তথ্য বাড়ির কাছাকাছি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিবন্ধিত ও সংরক্ষিত থাকবে। তাকে উচ্চতর পর্যায়ের হাসপাতালে রেফার করা হলে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যতথ্যও তার সঙ্গে যাবে।’
নারীর স্বাস্থ্যসেবা শুধু গর্ভধারণ ও সন্তান প্রসবের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘নারীর জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে। এর মধ্যে কিশোরীদের স্বাস্থ্য, প্রজননস্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা এবং জরায়ুমুখ ও স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধ ও প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্তকরণকে গুরুত্ব দিতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার আওতায় নারীর স্বাস্থ্যসেবার বৃহত্তর ব্যবস্থার অংশ হতে হবে মিডওয়াইফারিকে। এ ক্ষেত্রে জাতীয় মালিকানা ও টেকসই অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগকে প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে গ্রহণ করতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রত্যেক নারী যেন তাদের বাসস্থানের কাছাকাছি প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা দলের অংশ হিসেবে একজন দক্ষ পেশাদার মিডওয়াইফের সেবা পাওয়ার সুযোগ পান, এটাই বাংলাদেশের লক্ষ্য।’
তিনি বলেন, ‘এ লক্ষ্য অর্জনে দেশব্যাপী মিডওয়াইফদের নিয়োগ ও সেবা নিশ্চিত করা, কমিউনিটিভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা ও রেফারেল ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং আধুনিক ডিজিটাল স্বাস্থ্যব্যবস্থার মাধ্যমে নাগরিকদের স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে সংযুক্ত করা প্রয়োজন।’
প্রধানমন্ত্রী দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, ‘এই পদক্ষেপগুলো একসঙ্গে আমাদের একটি সুস্থ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সহায়তা করবে। এভাবেই আমরা প্রতিশ্রুতি থেকে কার্যকর পদক্ষেপের দিকে এগিয়ে যাব।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে জীবনের প্রথম ভাষণ প্রদানকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আবেগাপ্লুত হয়ে প্রয়াত বাবা-মাকে স্মরণ করেন।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ভোর ৪ টার দিকে তিনি জাতিসংঘের বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের সরকারপ্রধান হিসেবে ভাষণ শুরু করেন।
ভাষণের শুরুতেই, প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানান।
তিনি ড. খলিলুর রহমানের উদ্দেশে বলেন, "সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় আপনাকে সম্পূর্ণভাবে সহায়তা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি।" একইসঙ্গে বিদায়ী সভাপতি ম্যাডাম এনালেনা বেয়ারবককে তার সুযোগ্য নেতৃত্বের জন্য ধন্যবাদ জানান।
মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে আত্মদানকারীদের স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "শুরুতেই আমি বাংলাদেশের সকল শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি।" স্বাধীনতার পর থেকে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার, এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে যারা আত্মত্যাগ করেছেন, তাদের অবদানকে তিনি বিনম্রচিত্তে স্মরণ করেন। ২০২৪ সালের জুলাই-আগষ্টে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে বীর ছাত্র জনতার গণ অভ্যুত্থানে সকল শহীদ এবং আহতদের প্রতিও তিনি অকৃত্রিম শ্রদ্ধা জানান।
তিনি আরও বলেন, "ফ্যাসিবাদী শাসন-শোষণের বিরুদ্ধে দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময়ের আন্দোলন-সংগ্রামের পথ ধরে বর্তমানে ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ।" চলতি বছরের ১২ই ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ জাতীয় নির্বাচনে জনগণ বাংলাদেশ জাতীয়াতাবাদী দল-বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। তিনি দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণকে অভিনন্দন জানান এবং বলেন, "আমরা বিশ্বাস করি, জনগণই আমাদের সকল রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস।"
এই সময়, তারেক রহমান তার প্রয়াত বাবা-মাকে স্মরণ করে বলেন, "জাতিসংঘের এই বিশ্বমঞ্চে দাঁড়িয়ে এই মুহূর্তে, আজ আমি কিছুটা স্মৃতিকাতর।" তিনি উল্লেখ করেন, এই বিশ্বমঞ্চে দাঁড়িয়ে তার পিতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা খালেদা জিয়া দেশ ও জনগণের পক্ষে ভাষণ দিয়েছিলেন। একইভাবে, আজ তিনি তার দেশ এবং জনগণের স্বার্থের পক্ষে এবং একটি শান্তিময় বিশ্ব সমাজের প্রত্যাশায় এখানে দাঁড়িয়ে আছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্তব্য করেছেন যে, বাংলাদেশ বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণে তেমন ভূমিকা না রাখলেও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব বহন করতে হচ্ছে।
তিনি শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ভোর ৪ টার দিকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ভাষণে এই কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাবের মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। যদিও বাংলাদেশের বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণে ভূমিকা নেই, তবুও দেশটি জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবের শিকার। এই পরিস্থিতিতে, বাংলাদেশ ঝুঁকি মোকাবেলা করে টিকে থাকার সক্ষমতা অর্জনের পথ বেছে নিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ COP-31 (কপ-৩১)-এ ক্লাইমেট জাস্টিস, জলবায়ু অর্থায়ন এবং অভিযোজন সহায়তার ক্ষেত্রে আরও জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপের আশা করে।
তারেক রহমান জানান, বর্তমান সরকার বাংলাদেশে পরিবেশ সুরক্ষায় কর্মসূচি জোরদার করেছে। এর অংশ হিসেবে, সরকার আগামী পাঁচ বছরে সারাদেশে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর কর্মসূচি শুরু করেছে। ক্লিন এনার্জি এবং সোলার এনার্জি ব্যবহারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বন্যা ও খরার অভিশাপ থেকে দেশকে মুক্ত করার লক্ষ্যে সরকার সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের কর্মসূচি শুরু করেছে।
তিনি আরও বলেন, সরকার বর্তমানে বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ সুন্দরবনে মিঠা পানির প্রবাহ বৃদ্ধি এবং বৃহৎ জলাধারের মাধ্যমে পানি সংরক্ষণের জন্য তিস্তা মহাপরিকল্পনা এবং ‘পদ্মা ব্যারেজ’ প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে। একইসঙ্গে, পানি সংরক্ষণ ও দূষণ রোধে অভ্যন্তরীণ পদক্ষেপ জোরদার করার পাশাপাশি আন্তঃসীমান্ত পানি ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে ১৯৯২ সালের ‘ওয়াটার কনভেনশন’ স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ সরকার।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশের কর্মক্ষম জনগণের দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দেশকে ম্যানুফ্যাকচারিং হাবে পরিণত করার লক্ষ্যে ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে, এমনটি জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ভোর ৪ টার দিকে দেওয়া ভাষণে তিনি উল্লেখ করেন, তরুণ উদ্যোক্তা ও উদ্ভাবকদের জন্য স্টার্টআপ এবং ব্যবসার সুযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। চলতি অর্থবছরে এই খাতে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, নারী শিক্ষা, নারীর কর্মসংস্থান এবং নারী উদ্যোক্তা তৈরিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার বিষয়টিও সরকারের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, ‘শুধু ভোটের গণতন্ত্র নয়, অর্থনীতির গণতন্ত্রও নিশ্চিত করতে চায় বাংলাদেশ।’ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং সমৃদ্ধির সুফল প্রতিটি পরিবারের কাছে পৌঁছে দিতে ফ্যামিলি কার্ড, স্পোর্টস কার্ড এবং হেলথ কার্ডের মতো সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি চালু করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, পরিবারে নারী-প্রধানের নামে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করা হচ্ছে। এটি নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের একটি মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
শিক্ষাখাতের পরিকল্পনা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে শিক্ষা খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ পর্যন্ত ব্যয় বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। নতুন কর্মসূচিতে নৈতিক শিক্ষা ও ব্যবহারিক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
স্কুলে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও ভর্তি বাড়াতে বিনামূল্যে দুপুরের খাবার দেওয়ার উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করতে প্রথমবারের মতো স্পোর্টসকে একটি বিষয় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একটি ফুটবল টুর্নামেন্টে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণের বিষয়টিও তিনি উল্লেখ করেন।
প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির নতুন যুগে প্রবেশ করছে। তবে প্রযুক্তির সুযোগ এখনো সবার জন্য সমান নয়। তরুণ জনগণের ডিজিটাল সক্ষমতাকে কাজে লাগাতে জ্ঞান, শিক্ষা এবং গবেষণার সুযোগ সবার নাগালের মধ্যে আনতে হবে।
তিনি বলেন, ‘ডিজিটাল বিভাজন যেন আগামী দিনের আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা এআই বিভাজনে পরিণত না হয়।’
বাংলাদেশ উদ্ভাবন ও মেধাকে সম্মান করে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক প্রযুক্তিতে সাশ্রয়ী প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, কোনো দেশ যেন প্রযুক্তিগত অগ্রযাত্রায় পিছিয়ে না থাকে। সবার জন্য ন্যায্য এবং সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়তে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত।
প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশগুলোর পারস্পরিক নির্ভরতার বিষয়টিও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বিশেষ করে আঞ্চলিক পর্যায়ে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত করা এবং পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
করোনাভাইরাস মহামারির প্রসঙ্গ তুলে তারেক রহমান বলেন, মহামারি বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের জীবন কেড়ে নিয়েছে। এমন সংকটে বৈশ্বিক সমাজের মধ্যে সহযোগিতা এবং সহমর্মিতা অপরিহার্য। ভবিষ্যৎ সংকট মোকাবিলায় চিকিৎসাসামগ্রী এবং রোগ নির্ণয়ের সরঞ্জামের টেকসই উৎপাদন নিশ্চিত করতে হবে, যাতে প্রয়োজনের সময় এগুলো সবার জন্য সহজলভ্য থাকে।
ভাষণের শেষ পর্যায়ে নাগরিকের ক্ষমতায়নের ওপর গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, নাগরিকদের ক্ষমতাহীন রেখে কোনো রাষ্ট্র শক্তিশালী হতে পারে না।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের মাধ্যমে সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর, কল্যাণমূলক এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চায় বাংলাদেশ। যেখানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রত্যেক নাগরিক নিশ্চিন্তে এবং নিরাপদে সমান অধিকার ও মর্যাদা নিয়ে বসবাস করতে পারবেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্তব্য করেছেন যে, কূটনৈতিক আলোচনা ও সহযোগিতার মাধ্যমেই যেকোনও সংঘাতের সমাধান হওয়া উচিত।
তিনি শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ভোর ৪ টার দিকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ভাষণে এই কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, গ্লোবালাইজেশনের এই সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোর নেতিবাচক প্রভাব প্রতিটি রাষ্ট্রে কমবেশি অনুভূত হচ্ছে। মানবসৃষ্ট বিরাজমান সংঘাতের কারণে বর্তমানে অনেক দেশে অশান্তি বিরাজ করছে। বিশাল সংখ্যক জনগণের বাস্তুচ্যুতি ঘটছে এবং মানবিক সংকট সৃষ্টি হচ্ছে।
তিনি বলেন, যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে বিশ্ব অর্থনীতি চরম চাপের মুখে রয়েছে। জ্বালানি নিরাপত্তা সংকট, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতির কারণে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি অবনতি ঘটছে।
তারেক রহমান আরও বলেন, "আমরা বিশ্বাস করি, যেকোনো সংঘাতের সমাধান আলোচনা, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে হওয়া উচিত।" বিবদমান রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সমতা, ন্যায্যতা, পারস্পরিক স্বার্থরক্ষা এবং সম্মান ও মর্যাদা রক্ষার ভিত্তিতে দ্বিপাক্ষিক কিংবা বহুপাক্ষিক সম্পর্ক গড়ে তোলা উচিত।
তিনি আশা প্রকাশ করেন একটি শান্তিময় বিশ্ব প্রতিষ্ঠার, যেখানে যুক্তি-তর্ক, কূটনীতি, শিক্ষা ও মানবতা পরিবর্তনের হাতিয়ার হিসেবে কাজ করবে, মারণাস্ত্র নয়। বাংলাদেশ জাতিসংঘকে একটি সমঝোতামূলক বিশ্বসমাজ প্রতিষ্ঠার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে দেখতে চায়, যেখানে একে অপরের স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন দেশে উন্নয়ন খাতের বাজেট সামরিক খাতে সরিয়ে নেওয়ার প্রবণতা বিশ্বশান্তির জন্য হুমকি। শান্তিপ্রিয় জাতি হিসেবে বাংলাদেশ পূর্ণাঙ্গ ও সাধারণ নিরস্ত্রীকরণ, পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
জাতিসংঘের মঞ্চে তারেক রহমান স্বাধীনতাকামী ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্দশার বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, "স্বাধীনতাকামী ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্দশা নিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের মনে উদ্বেগ রয়েছে।" বাংলাদেশ তাদের ন্যায্য দাবির প্রতি পুনরায় সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে, যা আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার এবং একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের অধিকার অন্তর্ভুক্ত করে।
বাংলাদেশ সরকারপ্রধান আরও বলেন, চলমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনের প্রতিপাদ্য “Restoring Trust, Managing Transformation: A United Nations that Delivers for All” অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক এবং সময়োপযোগী। আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখার ক্ষেত্রে বহুপাক্ষিকতার নীতিতে বাংলাদেশ অটল রয়েছে।
তারেক রহমান জানান, ‘পিসবিল্ডিং কমিশন’-এর ভাইস-চেয়ার হিসেবে বাংলাদেশ টেকসই শান্তি, সংঘাত প্রতিরোধ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক শান্তি প্রতিষ্ঠার পক্ষে বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের সদস্য হিসেবেও বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মানবতার সেবায় নিয়োজিত রয়েছেন।
তিনি বলেন, প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের নারীদের সাহসী অংশগ্রহণ ‘নারীর অগ্রযাত্রা, শান্তি ও নিরাপত্তা’ বিষয়ক কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের দৃঢ় অঙ্গীকারের প্রতিফলন।
প্রধানমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ এ বছর ‘উন্নয়নের অধিকার বিষয়ক ঘোষণা’র ৪০তম এবং ‘ডারবান ঘোষণা ও কর্মপরিকল্পনা’র ২৫তম বার্ষিকী পালন করছে। অভিবাসন প্রক্রিয়া মানবসভ্যতার মতোই প্রাচীন। বিশ্বের অনেক দেশে অভিবাসীগণ তাদের জন্মভূমি এবং অভিবাসিত দেশ— উভয় দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। নিরাপদ, সুশৃঙ্খল অভিবাসন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। অভিবাসীদের অধিকার, মর্যাদা ও কল্যাণ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ আরও জোরালো বৈশ্বিক সহযোগিতা প্রত্যাশা করে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ