০৩:৩৪ পি.এম
কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আমির হামজা নিজের সাড়ে ছয় মাসের দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে অন্য সংসদ সদস্যদের দুর্নীতিমুক্ত থাকার নিশ্চয়তা দেওয়ার চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন। তিনি দেশের বন্ধ চিনিকলগুলো চালু করে চিনির উৎপাদন বাড়ানোর আহ্বানও জানিয়েছেন।
সম্প্রতি একটি বক্তব্যে আমির হামজা উল্লেখ করেন, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ নেওয়ার পর থেকে তিনি নিজের বিবেক ও সজ্ঞানে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ কিংবা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত হননি।
তিনি বলেন, "১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ নেওয়ার পর থেকে আমি নিজের বিবেক ও সজ্ঞানে বলছি, এই সাড়ে ছয় মাসে এক টাকারও সরকারি দুর্নীতি আমার দ্বারা হয়নি। আমার পাশে যারা বসে আছেন, তারাও একই নিশ্চয়তা দেবেন।"
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
আমির হামজা আরও জানান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ৬৮ জন সংসদ সদস্যের পক্ষ থেকেও একই ধরনের বক্তব্য আসবে। অন্যদিকে, তিনি মন্তব্য করেন, বাকি ২১২ জন সংসদ সদস্য যদি দুর্নীতি করেননি এমন নিশ্চয়তা দিতে পারেন, তাহলে তিনি রাজনীতি ছেড়ে দেবেন।
বক্তব্যে দেশের চিনি উৎপাদন ও আমদানিনির্ভরতা নিয়েও আলোচনা করেন এই সংসদ সদস্য। তার দাবি, দেশে বছরে প্রায় ২০ লাখ মেট্রিক টন চিনির চাহিদা রয়েছে। তবে রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলগুলোতে উৎপাদন কম হওয়ায় বিপুল পরিমাণ চিনি বিদেশ থেকে আমদানি করতে হচ্ছে।
আমির হামজা বলেন, "দেশের বন্ধ চিনিকলগুলো চালু করা গেলে স্থানীয়ভাবে চিনির উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব। এতে বিদেশের ওপর নির্ভরতা কমার পাশাপাশি বাজারে সিন্ডিকেটের প্রভাব নিয়ন্ত্রণেও সহায়তা মিলবে।"
তিনি আরও বলেন, "আমরা চাই, নিজেদের সম্পদ কাজে লাগিয়ে চিনির উৎপাদন বাড়াতে। আমাদের মিলের অধীনে প্রায় ৭২০ বিঘা জমি পড়ে আছে।"
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
এত সম্পদ থাকার পরও বিদেশ থেকে চিনি আমদানি করতে হচ্ছে কেন, এই প্রশ্ন তুলে চিনিশিল্পের বিদ্যমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
সরকারের সমালোচনা করে আমির হামজা বলেন, দেশে সার, বীজ, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ নিয়ে মানুষের উদ্বেগ রয়েছে। তবে এসব সমস্যা সমাধানে সরকারের যথেষ্ট মনোযোগ দেখা যাচ্ছে না। বরং তিনি অভিযোগ করেন, দলীয়করণের মাধ্যমে ক্ষমতায় টিকে থাকার চেষ্টা চলছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন