ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ঢাকা কলেজের ৯২ শতাংশ শিক্ষার্থীর হলে ওঠার স্বপ্ন অধরাই


ঢাকা কলেজের ৯২ শতাংশ শিক্ষার্থীর হলে ওঠার স্বপ্ন অধরাই

রাজধানীতে পড়াশোনা করতে আসা শিক্ষার্থীদের জন্য আবেগ এবং আশার প্রদীপ হিসেবে পরিচিত ঢাকা কলেজ। তবে, কলেজটিতে ভর্তি হওয়ার পর আবাসন সুবিধা পাওয়ার নিশ্চয়তা নিয়ে শিক্ষার্থীরা বিড়ম্বনায় পড়েন।

অসচ্ছল বা নিম্ন আয়ের পরিবারের শিক্ষার্থীরা এই সমস্যায় সবচেয়ে বেশি ভোগেন। শহরের উচ্চ ব্যয় বহন করার সক্ষমতা অধিকাংশ শিক্ষার্থীর নেই। ফলে, হলে একটি সিট তাদের জন্য শুধুমাত্র একটি সুবিধা নয়, বরং পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য অপরিহার্য হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু কলেজের ৯২ শতাংশ শিক্ষার্থী সেই সিটের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন।

ঢাকা কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মিঠু দাসের কথা উল্লেখ করা যায়। তিনি দুই মাস আগে বাবাকে হারিয়েছেন। শহরের ব্যয়বহুল পরিবেশে নিজের খরচ চালানোর জন্য ফুডপান্ডায় ডেলিভারি কাজ শুরু করেছেন। হলে একটি সিট পেলে তার অনেক কষ্ট লাঘব হতে পারত। মিঠু দাসের মতো অনেক শিক্ষার্থী আবাসন সংকটের কারণে পড়াশোনার পাশাপাশি আয়-রোজগারের পথ বেছে নিতে বাধ্য হচ্ছেন।

আরও পড়ুন: চুয়েটের অচলাবস্থা নিরসনে তদন্ত কমিটি গঠনের উদ্যোগ

কলেজের শিক্ষার্থী সংখ্যা ১৯ হাজার, হলে সিট ১৩৬৪। ঢাকা কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক ও অনার্স-মাস্টার্স মিলিয়ে মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ১৯ হাজারের বেশি। এর মধ্যে উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষার্থী সংখ্যা ২৪০০ এবং অনার্স-মাস্টার্সের শিক্ষার্থী সংখ্যা প্রায় ১৭ হাজার। কলেজের আটটি হলে মোট সিট সংখ্যা মাত্র ১ হাজার ৩৬৪। উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীদের জন্য ৪৪২টি এবং অনার্স-মাস্টার্সের শিক্ষার্থীদের জন্য ৯২২টি সিট রয়েছে।

কলেজের আটটি হলের মধ্যে বিজয় ২৪ হলটি পাঁচ তলাবিশিষ্ট এবং এটি সম্পূর্ণরূপে উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ। এখানে মোট সিট সংখ্যা ১৬৬টি। অন্য সাতটি হলে উত্তর ও দক্ষিণ হলে ৩২৮টি করে ৬৫৬টি সিট, দক্ষিণায়ন হলে ১৯২টি, আন্তর্জাতিকে ১৩৮টি, পশ্চিম হলে ৯৬টি এবং ফরহাদ হলে ১৬৬টি সিট রয়েছে। কলেজের ইলিয়াস হলটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে, ফলে সেখানে সিট বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে না।

অবাসন সংকটের কারণে অনার্সের শিক্ষার্থীরা প্রথম বর্ষ থেকেই হলের আসন পান না। ফলে, ঢাকা শহরে উচ্চশিক্ষার জন্য আসা নবীন শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসন নিয়ে চরম ভোগান্তির সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে অসচ্ছল পরিবারের শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েন। পরিবারের সীমিত আয়ের কারণে শহরের মেস বা হোস্টেলের ব্যয় বহন করা তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে।

প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী রাশেদুল রশিদ জানান, "কলেজে এসে জানতে পারি প্রথম বর্ষে নাকি হল সংকটের কারণে সিট দেওয়া হয় না। হলের সিট সংখ্যা পর্যাপ্ত নয়, এখন ভবিষ্যতেও সিট পাব কিনা তাও বুঝতে পারছি না।"

আরও পড়ুন: ইবি প্রশাসনের চার পদে নতুন পরিচালক নিয়োগ

কলেজের অধ্যক্ষ এ কে এম ইলিয়াস বলেন, "আমাদের হলে সিট অপর্যাপ্ত। ফার্স্ট ইয়ারে সিট দিলে সে তো পাঁচ-ছয় বছরের মধ্যে আর সিট ছাড়বে না। তখন সিনিয়ররা বঞ্চিত হবে। তাদের প্রয়োজনটা অনেক বেশি। আগে শুধু থার্ড ইয়ার ফোর্থ ইয়ারে পেত। এবারই প্রথম ছাত্রদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আমরা সেকেন্ড ইয়ার থেকে সিট দিয়েছি।"

দক্ষিণায়ন হলের প্রভোস্ট ও দর্শন বিভাগের প্রভাষক নাজমুল হাসান নয়ন বলেন, "এটি খুবই দুঃখজনক। মাত্র ৮% শিক্ষার্থী আবাসন সুবিধা পাচ্ছে। তবে এরই মধ্যে মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। একটি ১০ তলা আবাসিক হল নির্মাণের কথাও রয়েছে। আমরা আশা করি, অতিদ্রুত নতুন হল নির্মাণের কাজ শুরু হবে।"

এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কলেজের আক্তারুজ্জামান ইলিয়াস হলটি ১৯৯৩ সালে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। গত বছরের জুলাই মাসে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মু. মোস্তাফিজুর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে হলটি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে ছাত্রদের জরুরি ভিত্তিতে অন্যত্র স্থানান্তর করতে বলা হয়।

কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক এ কে এম ইলিয়াস বলেন, "হল খালি করার জন্য আমরা নোটিশ দিয়েছি, কিন্তু এখনও হলের নিচ তলায় কিছু শিক্ষার্থী রয়েছে। হল খালি হয়ে গেলেই ভাঙার কাজ শুরু হবে। আমরা অলরেডি ডিসিকে হল ভাঙার জন্য চিঠি দিয়েছি।"

আরও পড়ুন: ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের তারিখ ঘোষণা

নতুন একটি হলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছিল। এ বিষয়ে অধ্যক্ষ এ কে এম ইলিয়াস বলেন, "আমরা মনে করেছিলাম এটা হবে। পরে আমরা খোঁজ নিয়ে দেখি এটা একেবারেই হাওয়ার ওপরে।"

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্বাস্থ্যমন্ত্রী: ৭১-এর পরাজিত শক্তিরা ভারতের সাথে হাত মিলিয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:০২ পি.এম


স্বাস্থ্যমন্ত্রী: ৭১-এর পরাজিত শক্তিরা ভারতের সাথে হাত মিলিয়েছে

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল মন্তব্য করেছেন যে, ৭১-এর পরাজিত শক্তিরা বর্তমানে ভারতের সাথে হাত মিলিয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, "যারা দেশের মানুষকে গুম, খুন করেছে সেই ফ্যাসিস্টদের সাথেও তারা হাত মিলিয়েছে।"

এটি বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলায় নরসিংদী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-০২ এর মনোহরদী জোনাল অফিসের আওতায় কাটাবাড়িয়া অভিযোগ কেন্দ্র উদ্বোধনকালে তিনি বলেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, "একদিকে ভারত থেকে হুংকার দেয় ডিসেম্বরে উনি ফিরবে, আর অন্যদিকে দেশ থেকে হুংকার দেয় ডিসেম্বরে সরকার পতন করবে। তারা দুই পরাজিত শক্তি এক হয়েছে।"

তিনি উল্লেখ করেন, দেশের গণতন্ত্র ও দেশকে রক্ষার জন্য ৭১-এ যুদ্ধ করে দেশকে স্বাধীন করা হয়েছিল, ভারতের প্রভুত্ব করার জন্য নয়। মন্ত্রী বলেন, "দেশের মানুষ ভারতের প্রভুত্ব মেনে কখনোই দেশে বসবাস করবে না। বাংলার মানুষ পারস্পরিক স্বার্থের মধ্য দিয়ে বন্ধুত্ব করতে চায়, প্রভুত্ব মেনে নয়।"

স্বাস্থ্য মন্ত্রী জানান, ভারত যদি সুষ্ঠুভাবে পানি বণ্টন না করে, তাহলে চায়নার সহযোগিতা নিয়ে তিস্তা ব্যারেজ করে বর্ষার মৌসুমে পানি আটকানোর পরিকল্পনার কথাও জানান।

অনুষ্ঠানে নরসিংদী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-০২ এর জেনারেল ম্যানেজার মোহাম্মদ আব্দুল কুদ্দুস সভাপতিত্ব করেন। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন মনোহরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসান, মনোহরদী জোনাল অফিসের ডিজিএম প্রকৌশলী ফযীলত রাব্বী মু'মিমাহ, মনোহরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর বাদশা, কাচিকাটা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ ফারুক হোসেন, সাধারণ সম্পাদক আলম হোসেন এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জ্বালানি তেলের দাম কবে কমাবে সরকার, জানালেন প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:০৩ পি.এম


জ্বালানি তেলের দাম কবে কমাবে সরকার, জানালেন প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত

সরকার দেশে সব ধরনের তেলের দাম এক লাফে লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়িয়েছে। এই হঠাৎ অতিরিক্ত মূল্যবৃদ্ধির কারণে ব্যাপক সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। তবে, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানিয়েছেন, সরকার বাধ্য হয়ে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর কঠিন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

তিনি আরও আশ্বাস দিয়েছেন যে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট কেটে গেলে সরকার আবারও তেলের দাম কমানোর উদ্যোগ গ্রহণ করবে।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মেহেরপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এই আশ্বাস প্রদান করেন।

জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ একটি জ্বালানি তেল আমদানিনির্ভর দেশ। দেশে জ্বালানি তেল উৎপাদনের কোনো ব্যবস্থা নেই। যে অঞ্চলে থেকে বাংলাদেশ জ্বালানি তেল আমদানি করে, সেখানে বর্তমানে যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে। এর ফলে সারা বিশ্বের জ্বালানি বাজারে প্রভাব পড়েছে। ফলে বিভিন্ন দেশে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে গেছে।

তিনি বলেন, বৈদেশিক মুদ্রার মাধ্যমে বিদেশ থেকে জ্বালানি তেল আমদানি করতে হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি বীমা প্রিমিয়ামসহ আমদানির ব্যয়ও বৃদ্ধি পেয়েছে। এই কারণে দীর্ঘ সময় জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় না করে রাখা সরকারের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছিল।

অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানান, সরকার প্রথমে প্রায় ছয় মাস পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছে। কিন্তু কোনো বিকল্প না থাকায় শেষ পর্যন্ত কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। তবে, সরকার আশাবাদী যে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট দ্রুত কেটে যাবে। সংকট কেটে গেলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমলে দেশের বাজারেও দাম সমন্বয়ের চেষ্টা করা হবে।

এর আগে, বৃহস্পতিবার সকালে মেহেরপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন মেহেরপুরের জেলা প্রশাসক শিল্পী রানী রায়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন মেহেরপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি জাভেদ মাসুদ মিলটন এবং মেহেরপুরের পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায়।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মেয়াদ ফুরালেও খুলনার সেতুর কাজ শেষ হয়নি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:০৩ পি.এম


মেয়াদ ফুরালেও খুলনার সেতুর কাজ শেষ হয়নি

খুলনার পাইকগাছায় শিবসা নদীর ওপর ১২০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ৭৪৮ মিটার দীর্ঘ সেতুটির কাজ প্রায় ৭৬ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে মূল চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও, এ সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন হচ্ছে না। প্রকল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, নির্মাণকাজ সম্পন্ন করার জন্য আরও ছয় মাস সময় বাড়ানোর প্রক্রিয়া চলছে। লক্ষ্য করা হচ্ছে, চলতি বছরের শেষ নাগাদ সেতুটির কাজ শেষ হতে পারে।

তবে সেতুর কাজ এগিয়ে গেলেও, নির্মাণসামগ্রী বহনকারী ভারী ট্রাকের কারণে গ্রামীণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে সংযোগ সড়কের অবস্থান নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আপত্তি রয়েছে।

লস্কর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম অভিযোগ করেছেন, সেতুর নির্মাণসামগ্রী বহনকারী ভারী ট্রাক চলাচলের কারণে গ্রামীণ সড়কগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, বাইনতলা বাজারের সংযোগ সড়ক সামান্য বৃষ্টিতেই চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে।

স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, গিলাবাড়ীর পরিবর্তে গড়ইখালীর সঙ্গে সংযোগ সড়ক হওয়ায় লস্কর ইউনিয়নের অনেক মানুষ সেতুটির প্রত্যাশিত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।

প্রকাশ সরকার সংশয় প্রকাশ করে বলেন, আগামী ছয় মাসের মধ্যে মূল ব্রিজের কাজ শেষ হলেও, সংযোগ সড়ক নির্মাণের বিষয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। কারণ সড়কের জন্য জমি অধিগ্রহণ এখনো সম্পন্ন হয়নি। আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে ব্রিজ নির্মাণ হলেও সংযোগ সড়ক নির্মাণে কত বছর লাগবে, সেটাই ভাবছেন তিনি।

লাভলু সানা নামে এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, প্রথমে ব্রিজের সংযোগ সড়কটি খড়িয়া খালপাড় হয়ে বগুড়ারচক দিয়ে গিলাবাড়ি পর্যন্ত হওয়ার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু বর্তমানে শুধুমাত্র ব্রিজ নির্মাণ হচ্ছে, সংযোগ সড়ক হচ্ছে না। এর ফলে কয়রা উপজেলায় মানুষ এখন এ ব্রিজের সুবিধা ভোগ করতে পারবে না।

এছাড়া, সেতু নির্মাণের ফলে শিবসা নদীতে পলি জমে নাব্য কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় কয়েকজন। তাঁদের ধারণা, এতে ভবিষ্যতে জলাবদ্ধতা বা বন্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে। তবে এ আশঙ্কার পক্ষে কোনো কারিগরি সমীক্ষার তথ্য পাওয়া যায়নি।

পাইকগাছা জিসি-লস্কর বাজার, বাইনতলা, বগুড়ারচক, শুড়িখালী, ভান্ডারপোল ও গিলাবাড়ী জিসি সড়কের ২ হাজার ৩০০ মিটার চেইনেজে সেতুটির অবস্থান রয়েছে। লস্কর ও গড়ইখালী ইউনিয়নের লস্কর গ্রামের শিবসা নদীর ওপর নির্মিত সেতুটির দৈর্ঘ্য ৭৪৮ মিটার এবং প্রস্থ ৯ দশমিক ৮ মিটার।

ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড (এনডিই) ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু করে। প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, সেতুটির ২৪০টি পাইলের সবগুলোর কাজ সম্পন্ন হয়েছে। দুই পাড়ে প্রায় ২ দশমিক ৭১ একর জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। জমি পরিদর্শনের কাজও সম্পন্ন হয়েছে।

বর্তমানে প্রকল্পের প্রায় ৭৬ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। মূল চুক্তি অনুযায়ী চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও, নির্ধারিত সময়ে তা শেষ হচ্ছে না। ফলে চুক্তির মেয়াদ আরও ছয় মাস বাড়ানোর প্রক্রিয়া চলছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আবুল কালাম ও ব্যবসায়ী তেজেন মণ্ডল জানান, চিকিৎসা ও জরুরি প্রয়োজনে তাঁদের খুলনায় যেতে দীর্ঘ পথ ঘুরতে হয়। শিবসা নদী পারাপারের বর্তমান ব্যবস্থা এবং শিববাটী সেতু হয়ে যাতায়াতের কারণে সময় ও খরচ দুটোই বাড়ছে। নতুন সেতু চালু হলে এ দুর্ভোগ কমবে।

ব্যবসায়ী আলীমুজ্জমান বলেন, সেতুটি দ্রুত চালু হলে ঘেরের মাছসহ কৃষি ও ব্যবসাপণ্য সহজে খুলনায় নেওয়া যাবে। এতে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যও বাড়বে।

পল্লী সড়ক (সিআইবিআরআর) প্রকল্পের আওতায় নির্মিত এ সেতু চালু হলে পাইকগাছার সঙ্গে খুলনা শহরের সরাসরি যোগাযোগ আরও সহজ হবে। পাশাপাশি আশপাশের কয়েকটি উপজেলার মানুষও এর সুফল পাবেন।

প্রকল্পের ম্যানেজার সাহেব আলী জানান, সেতুর প্রায় ৭৬ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। দ্রুতগতিতে কাজ এগিয়ে চলছে। চলতি বছরের শেষ নাগাদ নির্মাণকাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।

উপজেলা প্রকৌশলী শাফীন সোহেব ও উপসহকারী প্রকৌশলী সজল বিশ্বাস বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে। লস্কর প্রান্তে তিন রাস্তার মোড়ে একটি গোলচত্বর নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে যানবাহন চলাচল সহজ হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী বলেন, সেতুটি চালু হলে একাধিক উপজেলার মানুষের যোগাযোগ সহজ হবে। নির্মাণকাজ শেষ করে দ্রুত সেতুটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার চেষ্টা চলছে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সেতুর কাজ দ্রুত শেষ করার পাশাপাশি নির্মাণকাজে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো সংস্কার করা হবে। একই সঙ্গে সংযোগ সড়কের অবস্থান নিয়ে স্থানীয়দের আপত্তিও বিবেচনায় নেওয়া হবে। তাঁদের মতে, শুধু সেতু নির্মাণ শেষ করলেই হবে না, নিরাপদ ও কার্যকর সংযোগ সড়ক নিশ্চিত হলেই এর সুফল মানুষের কাছে পৌঁছাবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভূমি কর্মকর্তাকে খাল ভরাটে বাধা দেওয়ার কারণে মারধর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:০৪ পি.এম


ভূমি কর্মকর্তাকে খাল ভরাটে বাধা দেওয়ার কারণে মারধর

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর এলাকায় ড্রেজার ব্যবহার করে অবৈধভাবে সরকারি জমি ভরাটের বিরুদ্ধে বাধা দেওয়ার কারণে ভূমি অফিসের কর্মচারীদের বিরুদ্ধে মারধর ও হত্যার হুমকির অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে উপজেলা যুবদলের দুই নেতার বিরুদ্ধে শ্রীনগর থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ভুক্তভোগী এবং ভূমি অফিসের কর্মকর্তাদের অভিযোগের ভিত্তিতে থানায় মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়।

অভিযুক্ত নেতাদের মধ্যে রয়েছেন— উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল ইসলাম পার্থ এবং সদস্য অনিক ইসলাম অভি।

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ২১ সেপ্টেম্বর দুপুর ১টার দিকে শ্রীনগর-দোহার সড়কের রাঢ়ীখাল ইউনিয়নের দামলা এলাকায় রবি টাওয়ারের সামনে সরকারি খালের জমি অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে ভরাট করা হচ্ছিল। বিষয়টি জানতে পেরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর নির্দেশে রাঢ়ীখাল ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা আরিফ হোসেন খান এবং ভূমি অফিসের পিয়ন সুজন ঘটনাস্থলে গিয়ে ভরাটকাজ বন্ধ করতে বলেন।

এ সময় নুরুল ইসলাম পার্থ ও অনিক ইসলাম অভি সরকারি কাজে বাধা প্রদান করেন। এক পর্যায়ে তারা ভূমি অফিসের দুই কর্মচারী এবং অটোরিকশাচালক সোহেলকে মারধর করে আহত করার অভিযোগও করা হয়েছে।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, পরবর্তীতে ভরাটকাজে বাধা দিলে ভূমি অফিসে গিয়ে আহতদের খুন-জখম করার হুমকি দেওয়া হয়।

ঘটনার খবর পেয়ে শ্রীনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আফরোজা হক তানিয়া অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। পরে সেখানে অবৈধ ড্রেজারটি ধ্বংস করা হয়।

এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত যুবদলের নেতা নুরুল ইসলাম পার্থ এবং অনিক ইসলাম অভিকে মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তাদের ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

শ্রীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুয়েল মিঞা বলেন, "ঘটনাটি নিয়ে থানায় নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে।"

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%