ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

সশস্ত্র বাহিনীর ১৫০ কর্মকর্তাদের পুনর্বাসনের উপর সরকারের সিদ্ধান্ত


সশস্ত্র বাহিনীর ১৫০ কর্মকর্তাদের পুনর্বাসনের উপর সরকারের সিদ্ধান্ত

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার সশস্ত্র বাহিনীর ১৫০ জন কর্মকর্তাকে পুনর্বাসন, ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি এবং বকেয়া আর্থিক সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

সম্প্রতি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এই সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আশরাফ উদ্দিন স্বাক্ষরিত এই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে জারি করা এই আদেশটি অবিলম্বে বাস্তবায়ন করবে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ। এক্ষেত্রে, চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের জারি করা পূর্ববর্তী প্রজ্ঞাপনটি বাতিল করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: ‘আল্লাহর বাড়ি মানুষ যায় পবিত্র নিয়তে, ওখানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঠিক না’ হুমায়ুন কবিরের মন্তব্য

নতুন এই আদেশের অধীনে সেনাবাহিনীর ১১৫ জন, নৌবাহিনীর ২১ জন এবং বিমানবাহিনীর ১৪ জন অবসরপ্রাপ্ত, অপসারণকৃত, অব্যাহতিপ্রাপ্ত ও বরখাস্তকৃত (চাকরিচ্যুত) অফিসারগুলো বিশেষ সুবিধা পেতে যাচ্ছেন। এই কর্মকর্তাদের তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী স্বাভাবিক অবসর, ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি সহ স্বাভাবিক অবসর, অকালীন (বাধ্যতামূলক) অবসর অথবা পদোন্নতি প্রদান করা হয়েছে।

এছাড়া, বিধি মোতাবেক তাদের বকেয়া বেতন-ভাতা, অন্যান্য আর্থিক সুবিধা এবং যেখানে প্রযোজ্য, সেখানে বিশেষ আর্থিক প্রণোদনাও দেওয়া হবে।

জানা গেছে, ২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট পর্যন্ত তিন বাহিনীতে চাকরির ক্ষেত্রে বৈষম্য ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার কর্মকর্তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও বাহিনী সদর দপ্তর পৃথকভাবে পর্ষদ গঠন করেছে।

পরে, গত ৩ মে প্রধান উপদেষ্টার প্রতিরক্ষা ও জাতীয় সংহতি বিষয়ক বিশেষ সহকারী লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আব্দুল হাফিজের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটি সংশ্লিষ্ট আবেদনের প্রস্তাব এবং সুপারিশ বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত সুপারিশ তৈরী করে। সেখান থেকে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

কমিটির সুপারিশে উল্লেখ করা হয়েছে, বিগত সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও অন্যায়ের শিকার কর্মকর্তাদের মান-মর্যাদা এবং প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা পুনর্বহাল করার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, জেনারেল আমিনুল করীমকে লেফটেন্যান্ট জেনারেল পদে ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, অকালীন বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো লেফটেন্যান্ট জেনারেল সিনা ইবনে জামালী, রিয়ার অ্যাডমিরাল মোস্তাফিজুর রহমান এবং এয়ার ভাইস মার্শাল মুহাম্মদ দেলোয়ার হোসেনসহ মোট ১৫০ কর্মকর্তাকে পদোন্নতি, বকেয়া বেতন-ভাতা এবং অন্যান্য প্রাপ্য আর্থিক সুবিধা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যখন দায়িত্ব গ্রহণ করে, তখন বিগত সরকারের আমলে বরখাস্ত, চাকরিচ্যুত, বাধ্যতামূলক অবসর, অকালীন অবসর ও স্বেচ্ছায় অবসরে যাওয়া বহু সামরিক কর্মকর্তা চাকরি পুনর্বহাল ও ন্যায়বিচারের আবেদন করেন। এর আগে, অন্তর্বর্তী সরকার একই প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত ১৪১ জন বঞ্চিত কর্মকর্তাকে ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি প্রদান করেছিল।

আরও পড়ুন: ক্ষমা চাইলেন ‘পাপের লাশ বাংলাদেশে আসুক চাই না’ বলা এমপি রতন

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জুলাই-আগস্টে ভয়াবহ বন্যার শঙ্কা!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:৫৮ পি.এম


জুলাই-আগস্টে ভয়াবহ বন্যার শঙ্কা!

আমাদের দেশে উজানে ভারী বৃষ্টির কারণে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। চলতি বছর জুলাই ও আগস্ট মাসে ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা নদী অববাহিকায় এ বন্যা হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিউসি)।

পাউবোর বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সারদার উদয় রায়হান গণমাধ্যমে জানান, জলবায়ুগত কারণে বাংলাদেশে জুলাই ও আগস্ট মাসে সব সময়ই বন্যার ঝুঁকি দেখা দেয়। এই সময়ে দেশের প্রধান নদীগুলোর অববাহিকা ও উজানে ভারী বৃষ্টিপাত হয়, ফলে দেশে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

তিনি বলেন, এ কারণেই চলতি বছরের জুলাই ও আগস্ট মাসে ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা নদী অববাহিকায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ঐতিহাসিকভাবে, বর্ষা মৌসুমের এই মধ্যবর্তী সময়েই দেশের ওপর সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যা হয়েছে। ১৯৮৮ সালের আগস্ট-সেপ্টেম্বরে অতিবৃষ্টির ফলস্বরূপ ভয়াবহ বন্যায় দেশের প্রায় ৮২ হাজার বর্গকিমি এলাকা, অর্থাৎ প্রায় ৬০ শতাংশ ভূখণ্ড প্লাবিত হয়েছিল।

একইভাবে, ১৯৯৮ সালের বন্যা জুলাই ও আগস্টজুড়ে দুই মাসেরও বেশি সময় স্থায়ী ছিল। ওই বন্যায় এক হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল এবং প্রায় ৩ কোটি (৩০ মিলিয়ন) মানুষ সাময়িকভাবে বাস্তুচ্যুত বা পানিবন্দি হয়ে পড়েছিলেন।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা— এই দুই বৃহৎ নদী অববাহিকায় একই সময়ে পানির উচ্চপ্রবাহ দেখা দেওয়াই সবচেয়ে বড় ঝুঁকি। ২০০৪ সালে জুলাইয়ের শেষদিকে ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা নদীর পানির সর্বোচ্চ প্রবাহ একসাথে মিলিত হওয়ায় ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছিল এবং শুধু উত্তর-পূর্বাঞ্চলেই প্রায় ৩০ হাজার বর্গকিমি এলাকা প্লাবিত হয়েছিল।

এছাড়া, ২০২২ সালের মেঘনা অববাহিকার বন্যা এবং ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যায় সম্মিলিতভাবে এক কোটি ৩০ লাখের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, যা উজানের অতিবৃষ্টির ক্রমবর্ধমান ঝুঁকির বিষয়টি আরো স্পষ্ট করে।

সারদার উদয় রায়হান বলেন, বর্তমানে এফএফডব্লিউসি দেশের অভ্যন্তরীণ নদী অববাহিকার জন্য ১০ থেকে ১৫ দিন আগেই বন্যার পূর্বাভাস দিতে সক্ষম। তবে, উপকূলীয় নদীগুলোর ক্ষেত্রে তিনদিন আগে পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব।

দেশের নদ-নদীর বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি জানান, বর্তমানে ব্রহ্মপুত্র নদ অববাহিকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে। তবে, আগামী পাঁচ থেকে ছয় দিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্থিতিশীল হতে পারে।

তিনি আরও জানিয়েছেন, অববাহিকা ও উজানে ভারী বৃষ্টিপাত না হওয়ায় আগামী কয়েক দিন মেঘনা নদী অববাহিকার পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকবে, এফএফডব্লিউসির এই নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, চলতি মাসে বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে, যার ফলে দেশের উপকূলীয় অঞ্চলের নিম্নাঞ্চলে আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে, বৃহস্পতিবার এফএফডব্লিউসি প্রকাশিত বন্যা পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদ-নদী ব্যবস্থার পানির স্তর কমেছে। তবে, আগামী চার দিনে পানির স্তরের বৃদ্ধি পেতে পারে এবং পঞ্চম দিনে তা স্থিতিশীল থাকতে পারে।

পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, আগামী ৪ থেকে ৭ জুলাই (দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম দিন) পর্যন্ত কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর ও বগুড়া জেলায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর পানি সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে। এতে সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কিছু এলাকা প্লাবিত হতে পারে।

এতে আরও উল্লেখ করা হয়, আগামী পাঁচ দিনে গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানির স্তর বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে। তবে, তা বিপৎসীমার নিচেই প্রবাহিত হবে। এছাড়া, আগামী ৭২ ঘণ্টায় সুরমা-কুশিয়ারা (উচ্চ মেঘনা) নদ-নদীর পানি সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলায় সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে। ফলে সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কিছু এলাকা প্লাবিত থাকতে পারে।

বর্তমানে নীলফামারীর ডালিয়া ও লালমনিরহাটের তিস্তা নদীর তারাপুর পয়েন্ট, সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ ও সুনামগঞ্জের মারকুলিতে কুশিয়ারা নদী এবং নেত্রকোনার কলমাকান্দায় সোমেশ্বরী নদীর পানি নিজ নিজ সতর্কসীমায় প্রবাহিত হচ্ছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নরওয়ের বিপক্ষে কখন মাঠে নামাবেন নেইমার, আনচেলত্তির মন্তব্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শুক্রবার, ৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:০০ পি.এম


নরওয়ের বিপক্ষে কখন মাঠে নামাবেন নেইমার, আনচেলত্তির মন্তব্য

চলমান বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত নেইমার জুনিয়র এক ম্যাচে মাঠে নামার সুযোগ পেয়েছেন। নকআউপ পর্বে জাপানের বিপক্ষে বেঞ্চে বসে দলের জয় উপভোগ করতে হয়েছে এই ব্রাজিলিয়ান তারকাকে। এজন্য উঠে এসেছে প্রশ্ন, আনচেলত্তি নরওয়ের বিপক্ষে কখন নেইমারকে মাঠে নামাবেন।

সম্প্রতি ফোলহা দে এস. পাওলোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বাঙালি ব্রাজিল কোচ এই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন।

আনচেলত্তি বলেন, "গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো সে খেলতে পারে। সে কতক্ষণ খেলতে পারবে, তা কেউ জানে না। খেলার সময়, ছন্দ সামলানোর অভিজ্ঞতা তার আছে। যখন আমি বুঝব, তাকে দলের প্রয়োজন, তখন আমি তাকে মাঠে নামাব।"

কাফ ইনজুরি থেকে সেরে ওঠার পর নেইমার ৯০ মিনিট খেলতে পারবেন কি না, এর উত্তরে আনচেলত্তি বললেন, "হ্যাঁ, সে ৯০ মিনিট খেলতে পারে।"

বেঞ্চে বসে থাকার কারণে নেইমার অখুশি কি না—এটি স্বীকার করেন ইতালিয়ান কোচ। তার ভাষ্য, "সে খুশি নয়, কিন্তু ভালো আচরণ করছে। খুব ভালোভাবে অনুশীলন করছে। সে খুব শ্রদ্ধাশীল, দয়ালু এবং সতীর্থদের কাছে সে প্রিয় একজন। দলের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় সে, কারণ তার সামর্থ্য আছে এবং সে খুব বিনয়ী।"

দিনি অরও বলেন, "আমি তার সঙ্গে খুব খুশি। আর অবশ্যই সে খেলতে চায়, যেমনটা সবসময় চেয়েছে। সে কখনো বলবে না যে ‘আমি খেলতে চাই।’ কিন্তু এটা পরিষ্কার। এবং ইতিবাচক। একজন খেলোয়াড় কখনো বেঞ্চে বসে থেকে খুশি হতে পারে না।"

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

খামেনির কফিন উন্মোচন, দাফনকে কেন্দ্র করে ইরানে কী ঘটতে যাচ্ছে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:০৩ পি.এম


খামেনির কফিন উন্মোচন, দাফনকে কেন্দ্র করে ইরানে কী ঘটতে যাচ্ছে?

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দাফনকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে এক সপ্তাহের শোক কর্মসূচি পালনের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। রাজধানী তেহরানসহ কোম, মাশহাদ এবং ইরাকের নাজাফ ও কারবালায় বিভিন্ন দাফন ও শোকানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের সূত্রে এমন খবর পাওয়া গেছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় নিহত হওয়ার পর খামেনির দাফনকে ঘিরে লাখ লাখ মানুষকে একত্রিত করার পরিকল্পনা করেছে ইরানের সরকার। দেশের নেতৃত্ব ইসলামী প্রজাতন্ত্রের প্রতি জনগণের সমর্থন ও ঐক্যের বার্তা দিতে চায়।

সরকারি পক্ষ থেকে শোকানুষ্ঠানে অংশ নিতে মানুষের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বিভিন্ন হোটেলে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেওয়া হচ্ছে। এর পাশাপাশি বাস, ট্রেনসহ গণপরিবহন শোকযাত্রীর সুবিধার জন্য বিশেষভাবে পরিচালনা করা হবে। অনেক স্কুল, মসজিদ ও ক্রীড়া কেন্দ্রে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

শনিবার (৪ জুলাই) তেহরানের একটি মসজিদ থেকে খামেনির মরদেহ নিয়ে জাতীয় পর্যায়ের শেষযাত্রা শুরু হবে। একই হামলায় নিহত তার মেয়ে, জামাতা, নাতনি এবং নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতাবা খামেনির স্ত্রীকেও একই সঙ্গে বিদায় জানানো হবে।

সোমবার (৬ জুলাই) তেহরানে বড় শোকমিছিলের পর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে কোম শহরে। সেখানে মঙ্গলবার (৭ জুলাই) শোকানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। এরপর বুধবার (৮ জুলাই) ইরাকের নাজাফ ও কারবালায় ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা অনুষ্ঠিত হবে। সবশেষে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) মাশহাদে ইমাম রেজার মাজারের পাশে খামেনিকে দাফন করা হবে।

ইরানের কর্মকর্তারা অভিযোগ করছেন, এই শোকানুষ্ঠান শুধু ধর্মীয় নয়, বরং ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রতি জনগণের সমর্থনের একটি বড় বার্তা হবে। কিন্তু বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সংকট, নিষেধাজ্ঞা ও রাজনৈতিক দমন-পীড়নের জন্য সাধারণ মানুষের একটি বড় অংশ সরকারের প্রতি অসন্তুষ্ট। খামেনির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তেহরানের কিছু এলাকায় উল্লাসের সংবাদও পাওয়া গেছে।

দাফনকে ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। তেহরানসহ কয়েকটি শহরের আকাশসীমায় সাময়িক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে জানানো হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল নতুন করে হামলা চালালে কঠোর জবাব দেওয়া হবে।

সূত্র: রয়টার্স

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মরে ফেলার স্থানে কেন নিয়ে যাওয়া হলো খামেনির মরদেহ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:০৫ পি.এম


মরে ফেলার স্থানে কেন নিয়ে যাওয়া হলো খামেনির মরদেহ

ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মরদেহ তার মেরে ফেলার স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এর পরেই শুরু হয়েছে কয়েক দিনব্যাপী শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম উইয়ন এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার (৩ জুলাই) তেহরানে খামেনির কফিন জনসাধারণের সামনে আনা হয়েছিল, এবং তারপর সেটি গোপনে সেই স্থানে নেওয়া হয়, যেখানে ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় তিনি নিহত হন।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, তেহরানের জোমহুরি সড়কে অবস্থিত ওই স্থান পরবর্তীতে শোকপ্রকাশকারীদের জন্য অস্থায়ী স্মৃতিস্থানে পরিণত করা হয়েছে।

ইরানি কর্তৃপক্ষের মতে, দেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করায় খামেনিকে শহীদ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফলে মৃত্যুর স্থানে মরদেহ নেওয়াকে শহীদদের স্মরণ ও সম্মান জানানোর অংশ হিসেবে ধরা হচ্ছে।

৪ থেকে ৬ জুলাই পর্যন্ত খামেনির মরদেহ তেহরানের ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লায় সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য রাখা হবে। এরপর তার নিজ শহর মাশহাদে তার শেষ জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হবে।

খামেনির শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী, তাকে ইমাম রেজার মাজার প্রাঙ্গণে দাফন করা হবে। তার শেষ বিদায়ে বিপুল জনসাধারণের সমাগম হবে বলে আশা করছে ইরানি কর্তৃপক্ষ।

এদিকে নিরাপত্তাজনিত কারণে খামেনির ছেলে ও বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতাবা খামেনি বাবার দাফন অনুষ্ঠানে প্রকাশ্যে অংশ নেবেন না বলে জানিয়েছেন ভারতে তার প্রতিনিধিত্বকারী আয়াতুল্লাহ হাকিম এলাহি।

তিনি উল্লেখ করেছেন, ইসরায়েলের নজরদারি ও সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে মোজতাবা খামেনির জনসমক্ষে আসা আপাতত নিরাপদ নয়। এ কারণে তিনি দাফনের আনুষ্ঠানিকতায় থেকেও দূরে থাকবেন।

সূত্র: উইয়ন

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%