শনিবার, ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৯:০৯ পি.এম
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইডলাইনে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বৈঠকের সফল ফলাফল বাংলাদেশের জন্য গর্বের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান।
নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চারদিনের সফর শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই মন্তব্য করেন। সফরের সময় বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বৈঠক করেন এবং বাংলাদেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
চারদিনের সফরের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী ১১টি দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক সম্পন্ন করেন। এছাড়া জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন, উচ্চপর্যায়ের সাইড ইভেন্ট এবং আন্তর্জাতিক সংস্থা ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠকসহ প্রতিনিধিদলের প্রায় ৮০টি কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করা হয়।
বৈঠকগুলোতে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জনশক্তি রপ্তানি, জ্বালানি নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, রোহিঙ্গা সংকট এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মতো বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নিউইয়র্ক সফরে সীমিত আকারের প্রতিনিধিদল নিয়ে সময়ের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা হয়েছে। বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে এবং পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ এবং জাতিসংঘে বাংলাদেশের উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, "বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বৈঠকের সফল আউটপুট বা ফলাফল দেশের জন্য অত্যন্ত গর্বের।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে এসব আলোচনার মাধ্যমে অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে রোগীর চাপ অব্যাহত রয়েছে, যা হাসপাতালের ধারণক্ষমতার তুলনায় অনেক বেশি। হাসপাতালের দৈনিক রোগী পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২৬ সেপ্টেম্বর তারিখে ১,২০০টি অনুমোদিত শয্যার বিপরীতে মোট ৩,৩০৩ জন রোগী চিকিৎসাধীন আছেন। এর ফলে অনুমোদিত শয্যার অতিরিক্ত রোগীর সংখ্যা ২,১০৩ জনে পৌঁছেছে এবং শয্যা দখলের হার ২৭৫.২৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আগের দিনের রোগী সংখ্যা ছিল ৩,০৯২ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুনভাবে ৭৬৩ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে ৩২৬ জন রোগী ছাড়পত্র পেয়েছেন এবং ১৮৯ জন রোগী DORB (Discharge on Risk Bond) হয়েছেন। এছাড়া ২৫ জন রোগী Absconded হয়েছেন এবং ৩২ জন রোগী মৃত্যুবরণ করেছেন।
চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি হাসপাতালের অস্ত্রোপচার কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ৩২টি মেজর অপারেশন ও ৪৩টি মাইনর অপারেশন সম্পন্ন হয়েছে। একই দিনে হাসপাতালের বহির্বিভাগে (আউটডোর) চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেছেন ৫,১৪৭ জন রোগী।
বিশেষ রোগী পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে হাসপাতালে ৯৮ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এছাড়া ২৬ জন হাম (Measles) আক্রান্ত রোগী এবং ৯ জন সাপের কামড়ে আক্রান্ত রোগীও চিকিৎসাধীন রয়েছেন। কারা সেলে ৭ জন এবং ওসিসি (One Stop Crisis Centre)-তে ৩ জন রোগী চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন।
হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠার সময় ৫০০ শয্যার অবকাঠামো নিয়ে যাত্রা শুরু করে। পরবর্তীতে ক্রমবর্ধমান রোগীর চাপ সামাল দিতে দুই শয্যার মাঝে নতুন শয্যা স্থাপন, বারান্দা ও করিডোর ব্যবহার, বিভিন্ন ফাঁকা জায়গায় ওয়ার্ড সম্প্রসারণসহ নানাভাবে রোগী ধারণের ব্যবস্থা বৃদ্ধি করা হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালের অনুমোদিত শয্যার সংখ্যা ১,২০০ হলেও চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা এর প্রায় পৌনে তিন গুণ।
একই দিনে ৩,৩০৩ জন ভর্তি রোগীর পাশাপাশি বহির্বিভাগে আরও ৫,১৪৭ জন রোগী চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেছেন। বিপুলসংখ্যক রোগীর চাপের মধ্যেও হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী ও সংশ্লিষ্টরা নিয়মিত চিকিৎসাসেবা ও অস্ত্রোপচার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
নওগাঁয় গোপন মিছিলের প্রস্তুতির সময় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের ১১ জন নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে।
স্থানীয় ছাত্রদল ও বিএনপির নেতাকর্মীদের সহযোগিতায় তাদের আটক করে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে সদর উপজেলার নওগাঁ-রাজশাহী মহাসড়কের বলিহার ব্রিজ এলাকা থেকে এই আটকের ঘটনা ঘটে।
আটক হওয়া ব্যক্তিরা আত্রাই, রানীনগর, সাপাহার ও নিয়ামতপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা।
নওগাঁ জেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব তাজুল ইসলাম তাজ জানান, জেলায় অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির চক্রান্ত হিসেবে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা একত্রিত হচ্ছে— এমন গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বলিহার ব্রিজ এলাকায় অবস্থান নেন। পরে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের সহায়তায় মিছিলের প্রস্তুতিকালে ১১ জনকে আটক করা হয় এবং খবর পেয়ে ডিবি পুলিশ তাদের হেফাজতে নেয়।
তিনি আরও বলেন, নওগাঁ জেলাকে শান্ত রাখতে ছাত্রদল সর্বদা বদ্ধপরিকর এবং কাউকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সুযোগ দেওয়া হবে না।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওসি হাসিবুল্লাহ হাবিব আটকের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পাওয়ার পর পরই দ্রুত অভিযান চালিয়ে বলিহার ব্রিজ এলাকা থেকে ওই ১১ জনকে আটক করে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে। তারা দেশকে অস্থিতিশীল করার কোনো পরিকল্পনা করছিল কিনা, সে বিষয়ে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এর আগে জেলার বিভিন্ন এলাকায় নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীদের মশাল মিছিলের কিছু ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা বিরাজ করায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা শুরু থেকেই সতর্ক অবস্থানে ছিলেন। যার ধারাবাহিকতায় এই ১১ নেতাকর্মীকে হাতেনাতে আটক করা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, "গণহত্যার বিচারের আওতায় আসতে ডিসেম্বর নয়, তাদের এখনই বাংলাদেশে আসতে হবে।" তিনি আরও বলেন, "অনলাইনে হুংকার দিলে হবে না, বাংলাদেশের মাটিতে এখন আসেন, আপনাদের জন্য ফাঁসির মঞ্চ প্রস্তুত আছে। আপনাদের জন্য বিচার প্রস্তুত আছে। সাহস থাকলে, বুকের পাটা থাকলে, এখনই আসেন। ডিসেম্বর পর্যন্ত আমরা অপেক্ষা করতে চাই না।"
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জামালপুরে জেলা বিএনপির আয়োজনে সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার প্রতিবাদে সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, "আমরা অতীতে দেখেছি, তারা যখনই ক্ষমতায় এসেছে, লুটপাট করেছে। বাংলাদেশের কোনো উন্নয়ন করেনি। জামালপুরের উন্নয়ন করেনি, আমার নান্দাইলসহ ময়মনসিংহে উন্নয়ন করেনি। সারা বাংলাদেশের কোথাও উন্নয়ন করেনি। ঢাকা শহরে কয়েকটি ব্রিজ আর ওভারপাস বানিয়ে তারা হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করেছে। এই টাকা জনগণের টাকা, এই টাকা আপনাদের টাকা। তারা এই টাকা লুটপাট করে বিদেশে পাচার করে দিয়েছে।"
জেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত সমাবেশে জেলা বিএনপির সভাপতি ও সংসদ সদস্য ফরিদুল কবির তালুকদার শামীমের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন, সুলতান মাহমুদ বাবু, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল হক।
পরে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে তমালতলা মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনতে প্রয়োজনে ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ধোলাইখালে মেয়র সাদেক হোসেন খোকা মাঠে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব মন্তব্য করেন। ঢাকা-৬ আসনের সূত্রাপুর, ওয়ারী, গেন্ডারিয়া ও কোতোয়ালি ওয়ার্ড বিএনপি এই সমাবেশের আয়োজন করেছে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, "আইসিটি (আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল) চালু আছে, চালু থাকবে। প্রয়োজনে ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি করা হবে। ইনশাআল্লাহ, প্রত্যেক খুনির বিচার করা হবে।"
তিনি আরও বলেন, "যারা এ দেশে গণহত্যা চালিয়েছে, মানুষের বুকে গুলি চালিয়েছে, তাদের কোনো ক্ষমা নেই। প্রত্যেকের বিচার করা হবে। গত ১৭ বছরে যারা গুম-খুনের শিকার হয়েছেন এবং যারা বাংলাদেশে মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে, তাদেরও বিচারের আওতায় আনতে হবে। যে সরকার বিনা ভোটে দেশ পরিচালনা করেছে এবং গণতন্ত্রকে সিস্টেম্যাটিক্যালি হত্যা করেছে, তারা পৃথিবীর বুকে একটি লজ্জাজনক ইতিহাস রচনা করেছে।"
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, "স্বাধীনতার পর এ দেশের মানুষ সবচেয়ে বর্বর হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে। সেই বাহিনী ও ফ্যাসিবাদী শক্তিকে বাংলাদেশের মাটিতে আর কোনোদিন রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না। পতিত আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতাকর্মী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুক্ত হয়ে নিয়মিত জুম মিটিং করছে এবং নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করার চেষ্টা করছে। তারা বলছে, ডিসেম্বরে শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আসবেন। আমরা চাই তিনি দেশে ফিরুন এবং বিচারের মুখোমুখি হোন।"
সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, "শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর জন্য বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাবর্তনের অনুরোধ জানানো হয়েছে। ভারত সরকার এখনো এর কোনো জবাব দেয়নি।"
তিনি বলেন, "মানবতাবিরোধী অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত আসামি ও তার সহযোগীরা যে দেশে অবস্থান করছেন, সেই দেশের প্রতি তাদের ফিরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।"
মন্ত্রী বলেন, "বাংলাদেশে তাদের বিচার হয়েছে। প্রয়োজনে তারা আপিলের সুযোগ চাইলে সেই সুযোগ দেওয়া হবে এবং দেশে ফিরলে সুষ্ঠু ন্যায়বিচার সম্পন্ন করা হবে। সরকারের বয়স মাত্র সাত মাস। এরই মধ্যে যারা সরকার পতনের এক দফার ঘোষণা দিচ্ছেন, তাদের বিষয়েও জনগণকে ভাবতে হবে। বিএনপি ও আন্দোলনের সহযোগীরা বসে বসে তাদের এসব কর্মকাণ্ড দেখবে, এমনটি ভাবার কোনো সুযোগ নেই।"
বিএনপির এই নেতা বলেন, "বিএনপি দেশের স্থিতিশীলতা রক্ষা করতে চায়, গণতন্ত্রকে সুসংহত করতে চায় এবং সাংবিধানিক পরিবর্তন আনতে চায়, যাতে ভবিষ্যতে এ দেশে কোনোদিন ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরাচারের উত্থান না ঘটে।"
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, "সরকার সংবিধান সংশোধন কমিটিতে অংশ নেওয়ার জন্য সবাইকে আহ্বান জানিয়েছে। কিন্তু তারা সেখানে অংশ না নিয়ে রাস্তায় নেমেছে এবং লংমার্চ করেছে। তারা একবার উত্তরে, আবার দক্ষিণে লংমার্চ করেছে। সামনে পূর্ব ও পশ্চিমেও লংমার্চ করার কথা শোনা যাচ্ছে।"
তিনি বলেন, "সাধারণত সরকারের চার বছর পর তীব্র আন্দোলনের ঘোষণা দেখা যায়। কিন্তু সরকারের ছয়-সাত মাসের মধ্যেই কী এমন ব্যর্থতা দেখা গেলো যে সরকারের বিরুদ্ধে লংমার্চের ঘোষণা দিতে হলো, সে প্রশ্নও রয়েছে।"
জ্বালানি তেলের দাম প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, "দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু সারা বিশ্বে জ্বালানি তেলের দাম কত বেড়েছে, সেটি বলা হচ্ছে না। বাংলাদেশের পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রসহ বিশ্বের অনেক দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাংলাদেশের তুলনায় দ্বিগুণ, তিনগুণ পর্যন্ত বেড়েছে।"
তিনি বলেন, "জনগণের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে বিএনপির নেতা তারেক রহমান এক মাস পর্যন্ত জ্বালানি তেলের দাম বাড়াননি। পরে সীমান্ত দিয়ে জ্বালানি তেল পাচার এবং আন্তর্জাতিক দরের সঙ্গে ভারসাম্য রক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সীমিত পরিমাণে দাম বাড়ানো হয়েছে। এরপরও দ্রব্যমূল্যের স্থিতিশীলতা দেখা গেছে। তবে গালফ ওয়ারের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ায় দেশে কিছুটা দাম বাড়াতে হয়েছে। এতে জনগণের কিছুটা দুর্ভোগ হওয়ায় সরকারের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে।"
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, "আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমলে তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশেও জ্বালানি তেলের দাম কমানো হবে। এটি সরকারের প্রতিশ্রুতি। গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং দেশের গণতান্ত্রিক যাত্রা অব্যাহত রাখার স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। যেভাবে ফ্যাসিবাদের পতনের জন্য সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাজপথে সংগ্রাম করেছে এবং রক্ত দিয়েছে, সেভাবেই ভবিষ্যতেও ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।"
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। আরও বক্তব্য দেন মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন, যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুস সাত্তার, সাইদুর রহমান মিন্টুসহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ