মঙ্গলবার, ১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৯:৪৪ পি.এম
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি পরিবর্তিত হয়। সেই উত্তাল সময়ের মধ্যে শেরপুরে বিভিন্ন সরকারি এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এই সময় শেরপুর জেলা পরিষদ ডাকবাংলোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে, ঘটনার দুই বছর পেরিয়ে গেলেও গুরুত্বপূর্ণ এই সরকারি স্থাপনাটি এখনো সংস্কার করা হয়নি এবং চালু করা হয়নি। দীর্ঘ সময় ধরে অরক্ষিত ও পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকার কারণে ভবনটির বিভিন্ন অংশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সন্ধ্যার পর এখানে মাদকসেবীদের আনাগোনা বেড়ে গেছে এবং নিয়মিতভাবে এখানে মাদকের আড্ডা হয়ে থাকে।
এক সময় এই ডাকবাংলোটি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রয়োজনে ব্যবহৃত হতো। বর্তমানে সেই ভবনটি তালাবদ্ধ ও অচল অবস্থায় পড়ে আছে। এর ফলে, একদিকে সরকারি সম্পদ নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষ প্রয়োজনীয় সেবা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ৫ আগস্টের পর ডাকবাংলোটি পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। অযত্ন ও অবহেলার কারণে সরকারি ভবনটি এখন মাদক সেবীদের নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হয়েছে। ফলে, স্থানীয়দের নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।
স্থানীয় মাহিম আহমেদ বলেন, "ডাক বাংলোর ভিতরে বখাটে ছেলেদের নিরাপদ মাদক সেবনের জন্য আস্তানা গড়ে উঠেছে। তারা প্রতিনিয়ত ভবনের ভিতরে মাদক সেবন করে। এতে আশপাশের মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় থাকে।"
এ বিষয়ে শেরপুর জেলা পরিষদ প্রশাসক এবিএম মামুনুর রশীদ পলাশ বলেন, "ডাক বাংলোটি সংস্কারের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দ্রুত টেন্ডারের মাধ্যমে কাজ শুরু করা হবে।"
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’র ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গফরগাঁও উপজেলা ও দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলা বিএনপির পৃথক আয়োজনের মধ্যে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা এবং আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে সাড়ে ১১টায় এমপি মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান বাচ্চু’র নেতৃত্বে কান্দিপাড়া বাজার থেকে শোভাযাত্রাটি শুরু হয় এবং বিকেলে গফরগাঁও পৌর শহরে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। এ সময় দুই উপজেলায় বিএনপি ও এর অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা দলীয় পতাকা, ব্যানার ও ফেস্টুন হাতে নিয়ে শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করেন।
শোভাযাত্রার পর কান্দিপাড়া বিএনপির দলীয় কার্যালয় চত্বরে এবং পৌরসভার সংলগ্ন জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এ আলোচনাসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ-১০ আসনের সংসদ সদস্য এবং দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান বাচ্চু। সভায় সভাপতিত্ব করেন দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক একেএম আনসার উদ্দিন এবং গফরগাঁও উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ মোহাম্মদ ইসহাক। আলোচনাসভায় বক্তব্য রাখেন এমপির সহধর্মিণী শামীমা সুলতানা সহ বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে। মঙ্গলবার ১ সেপ্টেম্বর সকালে উপজেলা অডিটোরিয়াম হলরুমে উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
সভাটি সভাপতিত্ব করেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক শিকদার হাফিজুল ইসলাম। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল-১ আসনের এমপি ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদা) জহির উদ্দীন স্বপন।
সভায় দলের নেতাকর্মীরা বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের পাশাপাশি দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জহির উদ্দীন স্বপন বলেন, “আমরা নির্বাচনে নির্বাচিত হববার পরে দেশে হা হা কার। আমরা সরকার গঠন করার পরে আমরা পুরাতন আইন সংস্কার করাহচ্ছে। সময় উপযোগি আই করা হচ্ছে। আমরা কৃষি অর্থনিতি নিয়ে কাজ হাতে নিয়েছি।”
তিনি আরও বলেন, আগৈলঝাড়া উপজেলাকে মাদকমুক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, “মাদকচক্র চিহ্নিত করে তাদের নির্মূল করতে হবে। আগৈলঝাড়ায় কোনোভাবেই মাদকের বিস্তার হতে দেওয়া যাবে না।” মাদক নির্মূলে প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন, সঞ্চালনা করেন আগৈলঝাড়া উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মোল্লা বশির আহমেদ পান্না, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার হোসেন মিয়া, যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল মোল্লা, উপজেলা যুবদল নেতা হাবিবুর রহমান মুন্সী, মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি ফারহানা আক্তার সহ উপজেলা বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
আলোচনা সভা শেষে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ১২তম আসরের প্রেক্ষাপটে দুর্নীতিবিরোধী কোডের বিভিন্ন ধারার লঙ্ঘনের অভিযোগে তিনজনকে অভিযুক্ত করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিসিবি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানায়।
অভিযুক্ত তিনজনের মধ্যে রয়েছেন— বিসিবির সাবেক পরিচালক ও সাবেক অডিট কমিটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মুখলেসুর রহমান (শামীম), সাবেক সিকিউরিটি লিয়াজোঁ অফিসার (এসএলও) জাকির হোসাইন এবং বগুড়া জেলার সাবেক বিসিবি কাউন্সিলর ও সাবেক অডিট কমিটির সদস্য সচিব রাকিবুল ইসলাম সানি।
বিসিবি জানায়, বোর্ডের ইন্টিগ্রিটি ইউনিটের তদন্তের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে আইসিসির ২০২৪ সালের অংশগ্রহণকারীদের জন্য অ্যান্টি-করাপশন কোডের বিভিন্ন ধারার লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে দুর্নীতিপূর্ণ কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার চেষ্টা, দুর্নীতির প্রস্তাব বা যোগাযোগের তথ্য গোপন করা, তদন্তে সহযোগিতা না করা এবং তদন্তে বাধা দেওয়া বা বিলম্ব ঘটানো।
শামীমের বিরুদ্ধে কোডের ২.১.১, ২.১.৪, ২.৪.৪ ও ২.৪.৭ ধারা ভঙ্গের অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বিপিএলের ম্যাচের ফল, অগ্রগতি বা ম্যাচের অন্য কোনো বিষয় প্রভাবিত করার চেষ্টা, কোনো অংশগ্রহণকারীকে দুর্নীতিপূর্ণ কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে উৎসাহ বা সহায়তা করা, দুর্নীতির প্রস্তাব পাওয়ার তথ্য যথাসময়ে অ্যান্টি-করাপশন কর্মকর্তাকে না জানানো এবং তদন্ত-সংশ্লিষ্ট যোগাযোগ বা তথ্য গোপন, মুছে ফেলা বা নষ্ট করার মাধ্যমে তদন্তে বাধা দেওয়া।
জাকিরের বিরুদ্ধে ২.১.১, ২.১.৪ ও ২.৪.৬ ধারা ভঙ্গের অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে ম্যাচের ফল বা অন্য কোনো বিষয় অনিয়মের মাধ্যমে প্রভাবিত করার চেষ্টা এবং কোনো অংশগ্রহণকারীকে দুর্নীতিতে যুক্ত হতে উৎসাহ বা সহায়তা করার অভিযোগ আনা হয়েছে। পাশাপাশি অ্যান্টি-করাপশন কর্মকর্তার পরিচালিত তদন্তে সহযোগিতা না করার অভিযোগও রয়েছে।
অন্যদিকে রাকিবুল ইসলাম সানির বিরুদ্ধে ২.৪.৪ ও ২.৪.৬ ধারা ভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতিপূর্ণ কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ার প্রস্তাব বা যোগাযোগের তথ্য যথাসময়ে অ্যান্টি-করাপশন কর্মকর্তাকে না জানানো এবং তদন্তে সহযোগিতা না করার অভিযোগ রয়েছে।
বিসিবি জানায়, অভিযুক্ত তিনজনকেই সাময়িকভাবে (প্রভিশনালি) বরখাস্ত করা হয়েছে। নোটিশ অব চার্জ পাওয়ার পর নিজেদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের জবাব দেওয়ার জন্য তারা ১৪ দিন সময় পাবেন। এরপর কোড অনুযায়ী শৃঙ্খলাজনিত প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
নওগাঁর মান্দায় ‘ব্ল্যাকহোল ক্লাব’ নামে পরিচিত সন্ত্রাসী ও কিশোর গ্যাংয়ের দুই মূলহোতা সুলতান ও পারভেজকে দেশীয় তৈরি আগ্নেয়াস্ত্র এবং বিভিন্ন ধারালো অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশের সূত্রে জানা গেছে, মান্দা উপজেলার কসব ইউনিয়নের তুরুকবাড়িয়া এলাকায় দীর্ঘ সময় ধরে ‘ব্ল্যাকহোল ক্লাব’ নামে একটি কিশোর গ্যাং গড়ে তুলে বেআইনি কার্যকলাপ ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিল সুলতান ও পারভেজ। তারা এলাকার কিশোরদের জোরপূর্বক তাদের ক্লাবে যোগ দিতে বাধ্য করত এবং রাজি না হলে তাদের মারধর করা হতো।
এই প্রেক্ষাপটে, গত ২৫ আগস্ট রাত আনুমানিক ৮টা ২০ মিনিটের দিকে তুরুকবাড়িয়া এলাকার সাফিয়াল জাবের নীরবকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি চালায় তারা। ঘটনাস্থল থেকে মান্দা থানা পুলিশ একটি গুলির খোসা উদ্ধার করে। পরবর্তী সময়ে ২৬ আগস্ট রাতে আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য তারা পুনরায় গুলি চালায়। এসব ঘটনায় মান্দা থানায় একটি মামলা রুজু করা হয়।
এসব ঘটনার পর নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের নির্দেশে মান্দা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) শাওন, জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি), মান্দা থানা ও রানীনগর থানা পুলিশের সমন্বয়ে একটি বিশেষ চৌকস দল গঠন করা হয়। তথ্যপ্রযুক্তি ও ডেটা অ্যানালিসিসের মাধ্যমে পুলিশ জানতে পারে আসামিরা ঢাকায় পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে অন্যান্য জেলার পুলিশের সহযোগিতায় সোমবার (৩১ আগস্ট) রাতে বগুড়ার শেরপুর থানাধীন 'ফুড ভিলেজ'-এর সামনে ঢাকাগামী একতা পরিবহনের একটি বাসে অভিযান চালিয়ে সন্ত্রাসী সুলতান ও পারভেজকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারের পর তাদের নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয় এবং নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে তারা নিজেদের কাছে অস্ত্র থাকার কথা স্বীকার করেন। পরবর্তীতে তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী সোমবার রাত ১টা ২৫ মিনিটে সুলতানের বসতঘরের চালের কার্নিশের উপর থেকে কাগজে মোড়ানো অবস্থায় অস্ত্র ও মালামাল জব্দ করা হয়।
উদ্ধারকৃত আলামতসমূহের মধ্যে রয়েছে- ১টি দেশীয় তৈরি লোহার পিস্তল আকৃতির ওয়ান শুটার গান, ১টি ধারালো ডেগার (বাটসহ ১৮ ইঞ্চি ও বাট ছাড়া ১২ ইঞ্চি লম্বা), ১টি খেলনা পিস্তল, ১টি সুইচ গিয়ার ঈগল চাকু, ২টি পুরাতন চাকু, ১টি খুর চাকু, ৩টি মোবাইল ফোন এবং নগদ ১৬৮৫০ টাকা।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, আসামি সুলতান ও পারভেজের বিরুদ্ধে মান্দা থানায় বহুল আলোচিত চৌকিদারের ছেলেকে হত্যা মামলা, সাইবার সুরক্ষা আইন এবং মারামারিসহ মোট ৪টি মামলা রয়েছে। তারা পূর্বে হত্যা মামলায় আট মাস কারাভোগও করেছেন। অপরাধ সংঘটনের সুবিধার্থে আসামিরা সবসময় সঙ্গে সুইচ গিয়ার ঈগল চাকু বহন করতেন।
নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, নওগাঁ জেলাকে অপরাধমুক্ত রাখতে জেলা পুলিশ বদ্ধপরিকর। যেকোনো ধরনের সন্ত্রাসী বা অসামাজিক কার্যকলাপ কঠোরভাবে দমন করা হবে এবং এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ