ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

দেনমোহর স্ত্রীর অধিকার, আর্থিক সংকট দেখিয়ে দায় এড়াতে পারবেন না স্বামী: হাইকোর্ট


দেনমোহর স্ত্রীর অধিকার, আর্থিক সংকট দেখিয়ে দায় এড়াতে পারবেন না স্বামী: হাইকোর্ট

হাইকোর্টের একটি রায়ে বলা হয়েছে, স্ত্রীকে দেনমোহর পাওয়ার জন্য তালাক বা স্বামীর মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করা প্রয়োজন নয়। আদালত উল্লেখ করেছে, প্রচলিত আইনগত অবস্থান অনুযায়ী, তাৎক্ষণিক দেনমোহর স্ত্রীর পাওনা এবং এটি অবিলম্বে পরিশোধ করতে হবে। স্বামী আর্থিক অক্ষমতার অজুহাত দেখিয়ে দেনমোহর পরিশোধের দায় থেকে অব্যাহতি পেতে পারেন না বলেও মন্তব্য করেছে আদালত।

আদালত আরও জানিয়েছে, যদি প্রকৃত আর্থিক সংকট প্রমাণিত হয়, তবে পাওনা অর্থ কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ দেওয়া হতে পারে। তবে কিস্তির ব্যবস্থা এমন হতে হবে, যাতে স্ত্রীর এবং সন্তানের অধিকার সুরক্ষিত থাকে। সম্প্রতি বিচারপতি আবদুর রহমানের নেতৃত্বে একক হাইকোর্ট বেঞ্চ একটি সিভিল রিভিশন মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়ে এসব পর্যবেক্ষণ প্রদান করে। রায়টি গত ৩ সেপ্টেম্বর ঘোষণা করা হয়।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। মামলাটির পক্ষ ছিল ইয়াকুব আলী বনাম সানজিদা নাসরিন।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

২২ লাখ টাকা দেনমোহরে বিয়ে

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৪ সালের ২৯ ডিসেম্বর বাদী ও বিবাদীর বিয়ে হয়, যেখানে দেনমোহর নির্ধারণ করা হয় ২২ লাখ টাকা। তাদের সংসারে একটি কন্যাসন্তানের জন্ম হয়। পরে দাম্পত্য কলহের কারণে স্ত্রীকে স্বামীর বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে এবং তাদের বিয়েবিচ্ছেদ ঘটে। স্ত্রীর অভিযোগ, বিয়ের পর স্বামী তার কাছে ২০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন এবং ২০১৭ সালের পর থেকে মেয়ের ভরণপোষণ যথাযথভাবে দেননি।

স্ত্রী এরপর দেনমোহর, ইদ্দতকালীন ভরণপোষণ এবং মেয়ের বকেয়া ভরণপোষণ আদায়ে চট্টগ্রামের পারিবারিক আদালতে মামলা করেন। স্বামী আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় ২০২২ সালের ৫ মে একতরফা ডিক্রি দেওয়া হয়, যেখানে দেনমোহর বাবদ ১৮ লাখ টাকা, ইদ্দতকালীন তিন মাসের ভরণপোষণ ৩০ হাজার টাকা এবং মেয়ের অতীতের ভরণপোষণ বাবদ ২ লাখ ১০ হাজার টাকাসহ মোট ২০ লাখ ৪০ হাজার টাকা পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়।

এছাড়া, অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের বিয়ে না হওয়া পর্যন্ত প্রতি মাসে ৭ হাজার টাকা করে ভরণপোষণ দেওয়ার নির্দেশনাও দেওয়া হয়। রায়ে প্রতি বছর এ অর্থ ১০ শতাংশ হারে বাড়ানোর কথাও উল্লেখ করা হয়।

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা

আপিল ও হাইকোর্টে রিভিশন

ডিক্রি কার্যকরের জন্য স্ত্রী এক্সিকিউশন মামলা করেন। পরে স্বামী মামলার খবর পেয়ে একতরফা ডিক্রি বাতিলের আবেদন করেন এবং ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা জমা দিয়ে জামিন নেন। তবে তার আবেদন নিষ্পত্তির আগেই তিনি আপিল করেন। চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা জজের পঞ্চম আদালত ২০২৪ সালের ১৯ আগস্ট ওই আপিল খারিজ করে পারিবারিক আদালতের রায় ও ডিক্রি বহাল রাখেন। এরপর স্বামী হাইকোর্টে রিভিশন আবেদন করেন।

হাইকোর্টে স্বামীর পক্ষ থেকে বলা হয়, তিনি মামলার সমন যথাযথভাবে পাননি এবং তার অনুপস্থিতিতে একতরফা ডিক্রি দেওয়া হয়েছে। তার আইনজীবী আরও জানান, ডিক্রিকৃত ২০ লাখ ৪০ হাজার টাকার মধ্যে তিনি ইতোমধ্যে ৫ লাখ ৬৫ হাজার টাকা পরিশোধ করেছেন। ব্যবসা হারিয়ে আর্থিক সংকটে পড়ায় বাকি অর্থ একসঙ্গে পরিশোধ করা তার পক্ষে সম্ভব নয়। তাই কিস্তিতে অর্থ পরিশোধের সুযোগ দেওয়ার আবেদন করা হয়।

অন্যদিকে স্ত্রীর পক্ষের আইনজীবী বলেন, নিম্ন আদালত সাক্ষ্য-প্রমাণ ও নথি যথাযথভাবে মূল্যায়ন করেই সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। স্বামী মূলত একই বিষয় তুলে ধরে মামলাটি দীর্ঘায়িত করতে চাইছেন। তার আর্থিক অক্ষমতার দাবিও বিশ্বাসযোগ্য নয় বলে আদালতে যুক্তি দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত

দেনমোহর নিয়ে হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ

রায়ে হাইকোর্ট উল্লেখ করে, দেনমোহর কোনো সাধারণ আনুষ্ঠানিকতা বা ঐচ্ছিক উপহার নয়। এটি স্ত্রীর একটি স্বতন্ত্র আর্থিক অধিকার এবং বিয়ের মাধ্যমে স্বামীর ওপর সৃষ্টি হওয়া আইনগত দায়। আদালত বলেন, নিকাহনামায় দেনমোহরের অঙ্ক নির্ধারিত থাকলে কেবল আর্থিক অক্ষমতার অজুহাতে স্বামী এ দায় থেকে অব্যাহতি পেতে পারেন না। মুসলিম বিবাহের ক্ষেত্রে নির্ধারিত দেনমোহর স্ত্রীর পাওনা ঋণের মতো।

রায়ে বলা হয়, তাৎক্ষণিক দেনমোহর হলে তা স্ত্রীর দাবি অনুযায়ী পরিশোধযোগ্য। আর বিলম্বিত দেনমোহর নির্ধারিত থাকলেও শুধুমাত্র এ কারণে তা অনির্দিষ্টকাল পরিশোধ না করার সুযোগ নেই। হাইকোর্ট আরও বলেন, স্ত্রীকে দেনমোহর পাওয়ার জন্য তালাক বা স্বামীর মৃত্যুর সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে—এমন কোনো সাধারণ বিধান নেই।

হাইকোর্ট স্পষ্ট করে বলেন, কোনো আদালত নিজের এখতিয়ার থেকে স্ত্রীর দেনমোহর মওকুফ বা কমিয়ে দিতে পারেন না। তবে স্ত্রী চাইলে স্বেচ্ছায় দেনমোহরের পুরো বা কোনো অংশ মওকুফ করতে পারেন। সেক্ষেত্রে তার সম্মতি হতে হবে স্বাধীন, সচেতন ও দ্ব্যর্থহীন। জবরদস্তি, প্রতারণা, চাপ বা অন্যায় প্রভাবের মাধ্যমে কোনো মওকুফ নেওয়া হলে তা বৈধ বলে গণ্য হবে না।

আরও পড়ুন: বিশ্বজিৎ হত্যা মামলার আপিলের চূড়ান্ত শুনানি ৮ ডিসেম্বর

আদালত বলেন, স্ত্রী দেনমোহর মওকুফ করেছেন—এমন দাবি করা হলে সেই মওকুফ যে স্বেচ্ছায় ও স্বাধীনভাবে করা হয়েছে, তার প্রমাণ থাকতে হবে।

আর্থিক সংকটে কিস্তির সুযোগ

হাইকোর্ট জানায়, স্বামীর প্রকৃত আর্থিক সংকট প্রমাণিত হলে এক্সিকিউটিং আদালত ন্যায়সংগত শর্তে ডিক্রির অর্থ কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ দিতে পারে। তবে কিস্তির ব্যবস্থা এমন হতে হবে, যেন ডিক্রিধারীর অধিকার ও স্বার্থ ক্ষুণ্ন না হয়। আদালত আরও মন্তব্য করে, স্বামীর আর্থিক সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও দেনমোহর পরিশোধে অযথা বিলম্ব করা হলে মামলার পরিস্থিতি বিবেচনায় ট্রায়াল কোর্ট ক্ষতিপূরণের বিষয়ও বিবেচনা করতে পারে।

মেয়ের ভরণপোষণও বহাল

আরও পড়ুন: ডেঙ্গুতে মৃত্যু বেড়ে ৪, হাসপাতালে ভর্তি ১৮৫১ জন

মেয়ের ভরণপোষণের বিষয়েও নিম্ন আদালতের সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে হাইকোর্ট। রায়ে বলা হয়েছে, স্কুলগামী অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানের খাবার, বাসস্থান, শিক্ষা ও অন্যান্য প্রয়োজন বিবেচনায় ভরণপোষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, মূল্যস্ফীতি, আবাসন ব্যয় এবং উৎসবসহ শিশুর সার্বিক প্রয়োজন বিবেচনায় মাসিক ভরণপোষণের অর্থ নির্ধারণ করা হয়েছে বলেও আদালত উল্লেখ করে।

রিভিশন খারিজ, ডিক্রি বহাল

সবশেষে, হাইকোর্ট নিম্ন আদালতের রায় ও ডিক্রিতে কোনো বেআইনি সিদ্ধান্ত, আইনগত ত্রুটি বা এখতিয়ারগত ভুল খুঁজে পাননি। ফলে স্বামীর রিভিশন আবেদন খারিজ করে দেন আদালত। এর ফলে ২০ লাখ ৪০ হাজার টাকার ডিক্রি বহাল থাকে। পাশাপাশি বকেয়া দেনমোহর ও ভরণপোষণ পরিশোধের আইনগত দায়ও বহাল থাকে। রায়ে হাইকোর্টের এই পর্যবেক্ষণ বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ যে—দেনমোহর স্ত্রীর নিজস্ব অধিকার; স্বামীর আর্থিক অক্ষমতা দায় পরিশোধের বাধ্যবাধকতা বিলোপ করে না। তবে প্রকৃত আর্থিক সংকট প্রমাণিত হলে ন্যায়সংগতভাবে কিস্তিতে তা পরিশোধের সুযোগ দেওয়া যেতে পারে।

আরও পড়ুন: প্রাথমিক শিক্ষা সংস্কারে ৫ বিষয়ে অগ্রাধিকার ঘোষণা প্রতিমন্ত্রীর

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্টারবাকসের বিরুদ্ধে সুগার ফ্রি পানীয়তে কিটক্যাটের সমান চিনি থাকার অভিযোগে মামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:৩৩ পি.এম


স্টারবাকসের বিরুদ্ধে সুগার ফ্রি পানীয়তে কিটক্যাটের সমান চিনি থাকার অভিযোগে মামলা

বিশ্বখ্যাত কফি বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান স্টারবাকসের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, সুগার ফ্রি বা চিনি ছাড়া হিসেবে বিক্রি করা পানীয়তে কিটক্যাট চকলেটের সমান পরিমাণ চিনি রয়েছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে তিনজন ভোক্তা প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।

মামলাটি শুক্রবার (২ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালতে দায়ের করা হয়। মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, স্টারবাকসের চিনি ছাড়া হিসেবে প্রচারিত কিছু প্রোটিনসমৃদ্ধ লাতে ও ম্যাচা পানীয়তে প্রতি পরিবেশনে ১৩ থেকে ২১ গ্রাম পর্যন্ত চিনি বিদ্যমান।

মামলায় দাবি করা হয়েছে, ভ্যানিলা ও ক্যারামেল স্বাদের গরম ও ঠান্ডা প্রোটিন লাতে এবং প্রোটিন ম্যাচা পানীয়গুলো সুগার ফ্রি নামে বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু এসব পানীয়তে যে পরিমাণ চিনি রয়েছে, তা একটি কিটক্যাট চকলেট বারের চিনির সমান। মামলাকারীদের মতে, সাধারণ ভোক্তা সুগার ফ্রি লেখা পণ্যে এত পরিমাণ চিনি থাকার প্রত্যাশা করেন না।

এছাড়া মামলায় আরও বলা হয়েছে, এটি পুষ্টিগুণের তথ্য না দেওয়ার বিষয় নয়; বরং পণ্যের নামের মাধ্যমে ভোক্তাদের বিভ্রান্ত করার অভিযোগ।

অন্যদিকে, স্টারবাকস এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তাদের পানীয়তে আলাদাভাবে কোনো চিনি যোগ করা হয় না। স্বাদ বাড়ানোর জন্য চিনি ছাড়া সিরাপ ব্যবহার করা হয়, এবং পানীয়তে থাকা চিনি আসে প্রোটিনসমৃদ্ধ দুধ থেকে।

স্টারবাকস আরও জানিয়েছে, তাদের প্রোটিনসমৃদ্ধ পানীয়, চিনি ছাড়া বিকল্প, বিভিন্নভাবে পানীয় তৈরির সুযোগ এবং পুষ্টিগুণ সম্পর্কে ওয়েবসাইট, আবেদন, প্রচারসামগ্রী ও মেনুতে নিয়মিত ও স্পষ্ট তথ্য প্রদান করা হয়। তারা মামলাটি জোরালোভাবে মোকাবিলা করবে।

মামলাটি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া, নিউইয়র্ক ও ওয়াশিংটনের তিন ভোক্তার পক্ষে একটি আইনজীবী প্রতিষ্ঠান দায়ের করেছে। প্রতিষ্ঠানটির অংশীদার স্টিভ বারম্যান বলেন, "বিভিন্ন কারণে মানুষ চিনি এড়িয়ে চলেন। সাধারণ স্বাস্থ্যগত কারণ, ডায়াবেটিস ও রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণসহ নানা কারণে পণ্যে চিনি আছে কি না, তা ভোক্তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।"

স্টারবাকসের ওয়েবসাইটেও এসব পানীয়কে সুগার ফ্রি হিসেবে প্রচার করা হয়েছিল। একই সঙ্গে প্রতিটি পানীতে কত পরিমাণ চিনি রয়েছে, সেটিও উল্লেখ করা হয়েছিল। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, এসব পানীয়তে আলাদাভাবে চিনি যোগ করা হয়নি।

মামলায় যুক্তরাষ্ট্রের যেসব ভোক্তা এসব পানীয় কিনেছেন, তাদের জন্য ক্ষতিপূরণ চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি চিনি থাকা পণ্যে সুগার ফ্রি শব্দ ব্যবহার বন্ধে আদালতের নির্দেশও চাওয়া হয়েছে।

সূত্র: এনবিসি নিউজ

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শিশুদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে কাজ করছে সরকার: ড. মঈন খান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:৩৪ পি.এম


শিশুদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে কাজ করছে সরকার: ড. মঈন খান

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান জানিয়েছেন, সরকার শিশুদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। শিশুদের জন্য কাজ করা মানে দেশের ভবিষ্যতের জন্য কাজ করা। বর্তমানের শিশুরাই আগামী দিনে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

বাংলাদেশ শিশু একাডেমিতে বুধবার (৭ অক্টোবর) সকালে শিশু অধিকার দিবস ২০২৬ ও একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত ‘শিশুর স্বপ্নে ৫০ বছর: অর্জনে অভিজ্ঞতা ও আগামীর বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এই মন্তব্য করেন।

মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান উল্লেখ করেন, আজকের শিশুরাই ভবিষ্যতে এ দেশের পূর্ণ নাগরিক হয়ে দেশকে গড়ে তুলবে। এটি একটি কঠিন দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব শুধু তাদের নয়, বরং আজ যারা বয়স্ক, তাদেরও দায়িত্ব রয়েছে যাতে শিশুরা সঠিকভাবে গড়ে উঠতে পারে।

শিশুদের উদ্দেশে তিনি বলেন, "তোমরা যদি সঠিকভাবে গড়ে উঠতে ব্যর্থ হও, সেটার দায় আমাদের ওপর এসে বর্তাবে।" তাই, তিনি শিশুদের বলেন, "যদি তোমরা দেশকে ভালোবাসো, তাহলে বাংলাদেশের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার জন্য এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে।"

মন্ত্রী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দূরদর্শিতার কথা উল্লেখ করে বলেন, ১৯৭৬ সালে জিয়াউর রহমান উপলব্ধি করেছিলেন যে শিশুদের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে, যা জাতিসংঘ বিশ্বজুড়ে শিশুদের অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়ার ১৩ বছর আগে। তিনি দেশের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল করতে শিশুদের প্রতিভা বিকাশের প্রয়োজনীয়তা অনুধাবন করেছিলেন।

তিনি আরও বলেন, ‘শিশুর পিতা ঘুমিয়ে আছে সব শিশুরই অন্তরে’- এই কথার অর্থ হলো- শিশুরাই ভবিষ্যতে দেশের পূর্ণ নাগরিক হয়ে দেশকে গড়ে তুলবে। বর্তমানের শিশুরাই আগামী দিনের রাষ্ট্রনায়ক এবং দেশের নেতৃত্ব দেবে।

বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তিকে শিশুদের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করে ড. আবদুল মঈন খান বলেন, আজকের অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিশুরা বাংলাদেশের শিশু অধিকার প্রতিষ্ঠার ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের সাক্ষী হয়েছে। তিনি বলেন, "আজকের অভিজ্ঞতা তাদের সারাজীবন মনে রাখা উচিত।"

সৃষ্টির চাকার সঙ্গে শিশুদের ভবিষ্যৎকে তুলনা করে মন্ত্রী বলেন, পৃথিবী কখনও থেমে থাকে না। সৃষ্টির চাকা ঘুরে চলেছে এবং তা সামনের দিকে এগিয়ে যায়। শিশুরা সেই সৃষ্টির চাকারই একটি অংশ। তাই তাদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হতে হবে।

শিশুদের উদ্দেশে তিনি বলেন, "ইতিহাস থেকে আমরা যে শিক্ষা আজকে নেব, সেই শিক্ষা তোমাদের জীবনে প্রতিফলিত করবে।" তারা ভবিষ্যতের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে এবং বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শ অনুসরণ করবে। একইসঙ্গে বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শ অনুসরণ করে দেশ ও মানুষের কল্যাণে নিজেদের নিয়োজিত করবে।

অনুষ্ঠানে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি সেলিমা রহমান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ এস এম আমানুল্লাহ, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সালমা আক্তার, শিশু একাডেমির মহাপরিচালক আরজু আরা বেগমসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এক মাসের মধ্যে ৩৫ লাখ শিশুকে হামের টিকা দেওয়া হবে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:৩৪ পি.এম


এক মাসের মধ্যে ৩৫ লাখ শিশুকে হামের টিকা দেওয়া হবে

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত জানিয়েছেন, টিকাদান কর্মসূচির বাইরে কোনো শিশুকে রাখা হবে না।

তিনি উল্লেখ করেন, সরকারের লক্ষ্য হলো আগের কর্মসূচিতে বাদ পড়া প্রায় ৩৫ লাখ শিশুকে হাম-রুবেলার টিকার আওতায় আনা আগামী এক মাসের মধ্যে।

বুধবার (৭ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর কড়াইল টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে বিশেষ হাম-রুবেলা ক্যাচ-আপ ক্যাম্পেইন-২০২৬-এর টিকাদান সেশন পরিদর্শনকালে তিনি এ কথা বলেন।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, বাদ পড়া শিশুদের খুঁজে বের করে টিকার আওতায় আনতে একটি বিশেষ ক্যাচ আপ বা মপ আপ ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হচ্ছে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান এবং ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স এরিক গিলান।

ড. এম এ মুহিত বলেন, হাম-রুবেলা প্রতিরোধে ইতোমধ্যে সারাদেশে প্রায় ২ কোটি শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। এবার সরকার আগের কর্মসূচিতে বাদ পড়া প্রায় ৩৫ লাখ শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য নিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, "আমরা প্রতিটি ঘরে পৌঁছাবো, প্রতিটি শিশুর কাছে পৌঁছাবো এবং তাদের নিরাপত্তা ও জীবন নিশ্চিত করব।" দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল, চরাঞ্চল কিংবা বিভিন্ন কারণে আগের কর্মসূচি থেকে বাদ পড়া শিশুদেরও এ কার্যক্রমের আওতায় আনা হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার প্রতিরোধমূলক চিকিৎসাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। শিশুদের প্রতিরোধযোগ্য রোগ থেকে সুরক্ষা দিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান এবং মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীরা সমন্বিতভাবে কাজ করছেন।

ক্যাম্পেইনে সহযোগিতার জন্য যুক্তরাষ্ট্র সরকার, গ্যাভি ও ইউনিসেফের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী। একইসঙ্গে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ও মাঠকর্মীদের ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে নাগরিকদের দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঘরবাড়ি ও কর্মস্থলের আশপাশ পরিষ্কার রাখার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। রোগের প্রাদুর্ভাবের সময় নয়, সারা বছর পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে হবে।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, আগের ক্যাম্পেইনের ধারাবাহিকতায় ডিএনসিসি এবারও টিকাদান কার্যক্রমে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। বাসায় বাসায় গিয়ে বাদ পড়া শিশুদের শনাক্ত করে টিকার আওতায় আনা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইনের শেষ পর্যায়ে বাকি শিশুদের টিকা নিশ্চিত করতে ডিএনসিসি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে।

শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সহযোগিতার জন্য যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস, গ্যাভি ও ইউনিসেফকেও ধন্যবাদ জানান তিনি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:৩৫ পি.এম


অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

বাংলাদেশে নিযুক্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ আলী আল হুমুদি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।

এই সাক্ষাৎটি বুধবার (৭ অক্টোবর) অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। উভয় দেশের মধ্যে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট আইনগত বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। এছাড়া, বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ ও সহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার বিষয়েও মতবিনিময় হয়।

অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল জানান, সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূত যদি দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট আইনগত বিষয়ে সহযোগিতা চান, তবে তাকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%