রবিবার, ১৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১১:৫২ পি.এম
গাজীপুরের টঙ্গীতে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) এবং পশ্চিম থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের তিন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শনিবার দিবাগত রাতে টঙ্গীবাজার এবং সাতাইশ রাজনগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতদের গাজীপুর আদালতে রোববার দুপুরে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তার হওয়া তিনজন হলেন- গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি ওসমান আলী (৬৭), গাজীপুর জেলা যুবলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মনির হোসেন (৪৫) এবং গাজীপুর মহানগরের ৫১ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সক্রিয় কর্মী মো. নজরুল ইসলাম (৩৬)।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিষিদ্ধ কার্যক্রমের আওতায় যুবলীগের কিছু নেতাকর্মী টঙ্গীর সাতাইশ রাজনগর এলাকায় জড়ো হয়ে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা করছিল। এমন গোপন তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার রাত ১১টার দিকে টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশের একটি দল সেখানে অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় যুবলীগ নেতা মনির হোসেন এবং নজরুল ইসলামকে আটক করা হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তাদের অপর সহযোদ্ধারা পালিয়ে যায়।
অন্যদিকে, মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি দক্ষিণ) একই রাতে টঙ্গীবাজার এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে আওয়ামী লীগ নেতা ওসমান আলীকে তার বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে।
এ বিষয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানার ওসি আরিফুর রহমান জানিয়েছেন, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং রোববার দুপুরে তাদের গাজীপুর বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ব্যবসার সম্ভাবনা যাচাইয়ের উদ্দেশ্যে ২০১৮ সালে চীন সফর করেন মো. আসাদুল্লাহ। চীন সফরের সময় তিনি দেশটির উৎপাদন, সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন। দেশে ফিরে এসে বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার রহমতপুর ইউনিয়নে ব্যবসার নতুন ক্ষেত্র তৈরির উদ্যোগ নেন। ধীরে ধীরে তাঁর ব্যবসায়িক কার্যক্রম চীন ও ভারত পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডেও তিনি যুক্ত হয়েছেন। রহমতপুর ইউনিয়নের মোল্লাবাড়ির সন্তান আসাদুল্লাহ, সমাজসেবক মো. হারুন মোল্লার ছেলে। ব্যবসার পাশাপাশি তিনি মানুষের জন্য কাজ করার বিষয়টিকে নিজের উদ্যোগগুলোর সঙ্গে যুক্ত করেছেন।
চীন সফর থেকে আন্তর্জাতিক ব্যবসায়
২০১৮ সালে চীন সফরের সময় আসাদুল্লাহ দেশটির ব্যবসা ও উৎপাদন খাতের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন। ইলেকট্রনিক্সসহ বিভিন্ন পণ্যের উৎপাদন, সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক পরিবহনব্যবস্থা সম্পর্কে ধারণা নেওয়ার পর তিনি দেশে আন্তর্জাতিক পণ্য পরিবহনের ব্যবসার সম্ভাবনা নিয়ে কাজ শুরু করেন। এর ধারাবাহিকতায় তিনি প্রতিষ্ঠা করেন অগ ঊীঢ়ৎবংং ওহঃবৎহধঃরড়হধষ। প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে চীন ও ভারত থেকে বিভিন্ন পণ্য সংগ্রহ, বুকিং, পরিবহন এবং বাংলাদেশে সরবরাহের কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। ব্যবসায়ী ও ব্যক্তিগত গ্রাহকদের প্রয়োজন অনুযায়ী ২৪ ঘন্টার মধ্যে পণ্য পরিবহনসেবা দেওয়াই প্রতিষ্ঠানটির মূল কার্যক্রম।
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে আসাদুল্লাহ পরবর্তী সময়ে ব্যবসার পরিধি আরও বাড়ান। তাঁর উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত ঞধংষরসধ এৎড়ঁঢ়-এর আওতায় বর্তমানে অগ ঊীঢ়ৎবংং ওহঃবৎহধঃরড়হধষ, অগ ঞড়ঁৎ ্ ঞৎধাবষং, অগ জবধষ ঊংঃধঃব এবং অগ ওহঃবৎরড়ৎসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান রয়েছে। অগ ঞড়ঁৎ ্ ঞৎধাবষং-এর মাধ্যমে ভিসা প্রসেসিং, বিমান টিকিট ও ভ্রমণসংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা দেওয়ার উদ্যোগ রয়েছে। বিদেশ ভ্রমণপ্রত্যাশীদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার পাশাপাশি পর্যটন ও ভ্রমণসেবা খাতে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও রয়েছে। অন্যদিকে অগ জবধষ ঊংঃধঃব-এর মাধ্যমে জমি ও ফ্ল্যাট ক্রয়-বিক্রয় এবং আবাসিক ও বাণিজ্যিক সম্পত্তি সংক্রান্ত সেবা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই গ্রুপের অগ ওহঃবৎরড়ৎ আবাসিক ও বাণিজ্যিক স্থাপনায় ইন্টেরিয়র ডিজাইন ও সাজসজ্জার কাজ করছে।
ব্যবসার এই বিস্তারের মাধ্যমে আসাদুল্লাহ একটি খাতনির্ভর প্রতিষ্ঠান থেকে বহুমুখী ব্যবসায়িক কাঠামো তৈরির দিকে এগোচ্ছেন। আন্তর্জাতিক পণ্য পরিবহন থেকে শুরু করে ভ্রমণ, রিয়েল এস্টেট ও ইন্টেরিয়র, বিভিন্ন খাতে কার্যক্রম গড়ে তোলাই তাঁর উদ্যোক্তা-যাত্রার বর্তমান চিত্র।
ব্যবসার পাশাপাশি আসাদুল্লাহ সামাজিক কর্মকাণ্ডেও যুক্ত হয়েছেন। তিনি হারুন মোল্লা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান, যা তাঁর বাবা সমাজসেবক মো. হারুন মোল্লা প্রতিষ্ঠা করেছেন। ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে অসহায় মানুষের চিকিৎসা সহায়তা, অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানো, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সহায়তা, বৃক্ষরোপণ ও বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। চিকিৎসা সহায়তার অংশ হিসেবে সম্প্রতি লোহালিয়া গ্রামের আমজাদ হোসেনের চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়ে তাঁকে ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করানোর ব্যবস্থা করা হয়।
স্থানীয় শিশু-কিশোরদের খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করতে গড়ে তোলা হয়েছে অগ ঝঢ়ড়ৎঃং অপধফবসু। এখানে ফুটবলসহ বিভিন্ন খেলায় প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিশু-কিশোরদের জন্য ফুটবল প্রশিক্ষণ ক্যাম্পের পাশাপাশি অভিজ্ঞ কোচের মাধ্যমে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
মাদক ও অপরাধ থেকে তরুণদের দূরে রেখে খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। আসাদুল্লাহর উদ্যোক্তা-যাত্রার একটি দিক আন্তর্জাতিক ব্যবসা সম্প্রসারণ, অন্যদিকে সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা। চীন ও ভারতের সঙ্গে ব্যবসায়িক যোগাযোগের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ ও কার্যক্রম সম্প্রসারণের চেষ্টা করছেন তিনি। নতুন ব্যবসায়িক উদ্যোগের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি এবং একই সঙ্গে সামাজিক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। বাবুগঞ্জ থেকে শুরু করা এই উদ্যোক্তা-যাত্রাকে ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছেন আসাদুল্লাহ।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাজশাহীর বাঘায় পানিবন্দি পদ্মার ১৫টি চরে বিশুদ্ধ পানির সংকট সৃষ্টি হয়েছে। এই ১৫টি চরে প্রায় ২০ হাজার মানুষ এক সপ্তাহ ধরে পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। বেশিরভাগ বাড়ির টিউবয়েল পানিতে তলিয়ে গেছে। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে লক্ষীনগর চর পরিদর্শন করা হলে দেখা যায়, এখানে ১৫০টি পরিবার বসবাস করছে। তারা এক সপ্তাহ ধরে পানিবন্দি হয়ে আছে। চৌমাদিয়া সরকারি প্রাইমারী স্কুলে পানি নিয়ে সমস্যা দেখা দিয়েছে। স্কুলের শিক্ষার্থীরা স্কুলে আসতে পারছে না।
চৌমাদিয়া সরকারি প্রাইমারী স্কুলের পাশে দিয়াড়কাদিরপুর বাজার অবস্থিত। বাজারের পাশে একটি টিউবয়েলের অর্ধেক অংশ পানিতে তলিয়ে রয়েছে। এই টিউবয়েল থেকে পানি সংগ্রহ করে মানুষকে জীবনধারণ করতে দেখা গেছে। প্রতিটি চরের মানুষের একইভাবে পানি ব্যবহার করতে হচ্ছে। চারপাশে পানি ছড়িয়ে রয়েছে এবং বাড়িসহ সব জমির ফসল পানিতে ডুবে গেছে।
চকরাজাপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বর আবদুর রহমান জানান, আতারপাড়া, চৌমাদিয়া ও দিয়াড়কাদিরপুরসহ চরের প্রতিটি বাড়িতে পানি উঠার কারণে বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। অধিকাংশ টিউবয়েলের অর্ধেকের বেশি অংশ পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ফলে, উপায় না থাকায় তলিয়ে থাকা টিউবয়েল থেকে পানি সংগ্রহ করে ব্যবহার করতে হচ্ছে।
দিয়াড়কাদিরপুর চরের দিলরুবা খাতুন বলেন, তার বাড়িতে টিউবয়েল নেই। তিনি বাজারের পাশে একটি টিউবয়েল থেকে খাবার পানি সংগ্রহ করে পান করেন। এই টিউবয়েলও অর্ধেকের বেশি ডুবে আছে। কোন উপায় নেই, তিনি এ টিউবয়েল থেকে পানি সংগ্রহ করছেন।
চকরাজাপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আজিজুল আযম জানান, পদ্মার চরের প্রায় ৯০ ভাগ পরিবারের বাড়িতে পানি উঠেছে। শত শত পরিবার বাড়িঘর ছেড়ে উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছে। কিছু কিছু বাড়ি সম্পূর্ণ ডুবে গেছে। এর ফলে বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে।
পদ্মার মধ্যে চকরাজাপুর ইউনিয়নের আতারপাড়া, চৌমাদিয়া, দিয়াড়কাদিপুর, উত্তর কালিদাসখালী, দক্ষিন কালিদাসখালী, পশ্চিম চকরাজাপুর, পূর্ব চকরাজাপুর, দাদপুর, পলাশি ফতেপুর, নিচ পলাশি ফতেপুর, জোতাশী, লক্ষীনগর, কালিদাসখালী, আম বাগান, টিকটিকিপাড়াসহ ১৫টি চরে প্রায় ২০ হাজার মানুষ বসবাস করে। সকলেই পানিবন্ধী অবস্থায় রয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তকী ফয়সাল তালুকদার জানিয়েছেন, ১০ সেপ্টেম্বর চৌমাদিয়া, দিয়াড়কাদিরপুর, আতারপাড়া চরে পানিবন্দি ১০০টি পরিবারের মাঝে সরকারিভাবে ১৫ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়েছে। তবে জলমগ্ন চরের মানুষের জন্য কিছুটা বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
পিরোজপুরের জিয়ানগরে ১৫ পিস ইয়াবাসহ যুবলীগ নেতা ও মাদক ব্যবসায়ী মো. শুক্কুর আলী সিকদার (৩৫) কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টায় এসআই মো. ইসমাইল হোসেনের নেতৃত্বে চন্ডিপুর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের তাকওয়া মসজিদ সংলগ্ন রাস্তার উপর থেকে তাকে আটক করা হয়।
আটককৃত ব্যক্তি শুক্কুর আলী সিকদার, যিনি জিয়ানগর উপজেলার চন্ডিপুর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা এবং মৃত আবুল হোসেন সিকদারের পুত্র। তিনি চন্ডিপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সদস্য পদে রয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বরিশাল নগরীর চৌমাথা লেকের সৌন্দর্য নতুন মাত্রা পেয়েছে। পদ্মফুল আকৃতির দৃষ্টিনন্দন ‘লোটাস লাইট’ লেকের চারপাশে স্থাপন করা হয়েছে। সন্ধ্যার পর যখন এসব বাতি জ্বলে ওঠে, তখন লেকের পানিতে আলোর প্রতিফলনে একটি মনোরম পরিবেশ তৈরি হয়। এতে নগরবাসী ও আগত দর্শনার্থীরা আকৃষ্ট হচ্ছেন। বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) বিদ্যুৎ বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী অহিদ মুরাদ জানান, আফ্রিকার দেশ ইথিওপিয়ায় সৌন্দর্যবর্ধক সড়কবাতির ব্যবহারের উদাহরণ দেখে বিসিসি প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন চৌমাথা লেককে আধুনিকায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
তিনি উল্লেখ করেন, চৌমাথা লেকে পর্যায়ক্রমে আরও ‘লোটাস লাইট’ স্থাপন করা হবে। এ ছাড়া পার্ক সংস্কার, বটগাছে ঝাড়বাতি স্থাপন, দর্শনার্থীদের বসার স্থান তৈরি, চারপাশে সবুজায়ন এবং বিভিন্ন ধরনের ফুলের গাছ রোপণের পরিকল্পনা রয়েছে। সিটি করপোরেশনের বিদ্যুৎ কর্মকর্তা মুরাদ হোসেন জানান, ঢাকার পর বরিশালেই প্রথমবারের মত এ ধরনের লোটাস লাইট স্থাপন করা হয়েছে। এর আগে, গত মে মাসে চৌমাথা লেকে মিউজিক্যাল ও ড্যান্সিং ফোয়ারা চালু করে সিটি করপোরেশন। বর্ণিল আলো, পানির নৃত্য ও সংগীত উপভোগ করতে উদ্বোধনের পর থেকেই লেক এলাকায় মানুষের সমাগম বৃদ্ধি পেতে থাকে। এবার লোটাস লাইট যুক্ত হওয়ায় রাতে লেকের সৌন্দর্য আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সন্ধ্যার পর লেকের চারপাশে হাঁটতে আসা মানুষ দাঁড়িয়ে থেকে আলোকসজ্জা উপভোগ করছেন। পরিবার নিয়ে আসা মানুষ, শিক্ষার্থী ও তরুণ-তরুণীদের কাছে স্থানটি ধীরে ধীরে বিনোদনের আকর্ষণীয় কেন্দ্রে পরিণত হচ্ছে।
ঘুরতে আসা সোনিয়া আক্তার জানান, চৌমাথা লেকের পরিবেশ আগের চেয়ে অনেক সুন্দর হয়েছে। পরিবার নিয়ে সন্ধ্যায় এখানে সময় কাটাতে ভালো লাগে। তবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা ও বসার ব্যবস্থা আরও উন্নত করা প্রয়োজন। বরিশাল সরকারি হাতেম আলী কলেজের শিক্ষার্থী রাব্বি ইসলাম বলেন, লোটাস লাইট ও ফোয়ারা চালুর পর রাতে লেকের পরিবেশ অনেক আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে এটি নগরবাসীর জন্য একটি ভালো বিনোদনকেন্দ্র হয়ে উঠবে।
নগরবাসী বলছেন, কীর্তনখোলা নদীর তীরে অবস্থিত বরিশাল শহরটি বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের একটি প্রধান শহর। এই নদীর তীরে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম নদী বন্দর রয়েছে। ঐতিহ্যবাহী শহরের নাগরিক জীবনে বিনোদন ও নান্দনিক পরিবেশের প্রয়োজন রয়েছে। কর্মব্যস্ত দিনের পর পরিবার নিয়ে কিছুটা সময় কাটানোর মতো নিরাপদ ও সুন্দর স্থান নগরীতে সীমিত। এ কারণে তারা চৌমাথা লেকের পাশাপাশি বিবির পুকুরপাড় ও পদ্মপুকুরকেও সৌন্দর্যবর্ধনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টদের প্রতি।
তাদের মতে, শুধু আলোকসজ্জা ও ফোয়ারা নয়, বসার ব্যবস্থা উন্নত করা, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, হাঁটার পথ এবং লেকের পানি পরিষ্কার রাখা ও অবৈধ দখলমুক্ত পরিবেশ বজায় রাখা গেলে চৌমাথা লেক বরিশালের অন্যতম প্রধান নাগরিক বিনোদনকেন্দ্রে পরিণত হতে পারে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, চলমান সৌন্দর্যবর্ধন কার্যক্রম যথাযথভাবে বাস্তবায়ন ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করা গেলে চৌমাথা লেক নগরবাসীর বিনোদনের পাশাপাশি বরিশালের অন্যতম নান্দনিক স্থান হিসেবে পরিচিতি পেতে পারে। বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন বলেন, নগরবাসীর বিনোদন ও নান্দনিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে চৌমাথা লেককে আরও আকর্ষণীয় করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে লেক ও এর আশপাশের সৌন্দর্যবর্ধন করা হবে। নগরবাসীর জন্য একটি সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ বিনোদন পরিবেশ গড়ে তুলতে সিটি করপোরেশন কাজ করছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ