ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

নারী ফেরি থেকে নদীতে ঝাঁপ, কচুরিপানা ধরে ভেসে যান ৩০ কিলোমিটার


নারী ফেরি থেকে নদীতে ঝাঁপ, কচুরিপানা ধরে ভেসে যান ৩০ কিলোমিটার

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে চলাচলকারী ‘কুমিল্লা’ ফেরি থেকে পদ্মা নদীতে ঝাঁপ দিয়ে নিখোঁজ হওয়া মোসা. লাইজু (৩৯) কে অবশেষে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

তিনি কচুরিপানা ধরে প্রায় ৩০ কিলোমিটার ভাটিতে ভেসে যাওয়ার পর ফরিদপুরের কবিরপুর চর এলাকা থেকে উদ্ধার হন।

শনিবার (২৫ জুলাই) রাত সাড়ে ১০টার দিকে ফরিদপুর সদর উপজেলার নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের কবিরপুর চর এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। পরে স্থানীয়রা বিষয়টি দৌলতদিয়া নৌপুলিশ ফাঁড়িকে অবহিত করেন।

আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার

নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. সরোয়ার হোসেন জানান, রাতে কয়েকজন যুবক পদ্মা নদীতে চাক জাল ফেলে মাছ ধরছিলেন। এই সময় তারা দেখতে পান, এক নারী কচুরিপানা আঁকড়ে নদীর স্রোতে ভেসে তীরের দিকে আসছেন এবং সাহায্যের জন্য চিৎকার করছেন। পরে তারা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় বাসিন্দা লোকমানের বাড়িতে নিয়ে যান এবং দৌলতদিয়া নৌপুলিশকে খবর দেন।

দৌলতদিয়া নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (ওসি) ত্রিনাথ সাহা বলেন, নিখোঁজ নারীর জীবিত উদ্ধারের খবর তারা পেয়েছেন। তাকে শনাক্ত এবং পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ফরিদপুর কোতোয়ালি থানাকে অবহিত করা হয়েছে। এই ঘটনার তদন্তের জন্য পুলিশের একটি দলের ঘটনাস্থলে যাওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, উদ্ধার হওয়া নারী মোসা. লাইজু ঢাকার কামরাঙ্গীরচর এলাকার ঝাউচর (আশ্রাফাবাদ) এলাকার বাসিন্দা। তিনি মো. ফুরকান মিয়ার স্ত্রী।

এর আগে, শনিবার সন্ধ্যায় দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে চলাচলকারী ‘কুমিল্লা’ ফেরি থেকে মাঝপদ্মায় ঝাঁপ দিয়ে নিখোঁজ হন লাইজু। ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিস, নৌপুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো উদ্ধার অভিযান শুরু করে। কয়েক ঘণ্টা পর ফরিদপুরের কবিরপুর চর এলাকায় স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

আরও পড়ুন: ধামরাইয়ে দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় প্রশাসনের তৎপরতা: বিভাগীয় কমিশনার

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তেলাপোকা’ আন্দোলনের পর এবার বড় ঘোষণা দিলেন মোদি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ২৬শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৮:২৫ পি.এম


তেলাপোকা’ আন্দোলনের পর এবার বড় ঘোষণা দিলেন মোদি

ভারতে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলে মোদি সরকারের ঘুম হারাম করে দিয়েছিল দেশটির তরুণদের নতুন প্লাটফর্ম ককরোচ (তেলাপোকা) জনতা পার্টি। টানা ৩৭ দিনের আন্দোলনের ফলে বিজেপি সরকার এক প্রকার নতি স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছে— কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেছেন; আন্দোলনকারীদের বাকি সব দাবি-দাওয়া মেনে নেওয়া হয়েছে।

কেন্দ্রীয় সরকার সকল দাবি মেনে নেওয়ার পর অবশেষে আন্দোলনকারীরা রাজপথ ছেড়ে ফিরে গেছেন ঘরে। আর পরীক্ষার ব্যবস্থা আরও নির্ভরযোগ্য, স্বচ্ছ এবং প্রযুক্তিনির্ভর করতে ইনফোসিসের সহ-প্রতিষ্ঠাতা নন্দন নিলেকানির নেতৃত্বে একটি উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন টাস্কফোর্স গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন ভারত সরকারের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

রোববার (২৬ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) প্রকাশিত একটি ভিডিও বার্তায় মোদি বলেন, টাস্কফোর্সটি ভারতের পরীক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় সুপারিশ সরকারকে দেবে। সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই ভবিষ্যতের পরীক্ষাগুলোকে আরও নির্ভরযোগ্য করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় ভারত সরকার ধারাবাহিকভাবে নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে। যারা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে খেলেছিল, তারা এখন কারাগারে রয়েছে। এই ধরনের মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠন করা হয়েছে। এছাড়া, সংসদে কঠোর আইনি বিধানসহ নতুন আইন প্রণয়নের কাজও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আমাদের পরীক্ষার ব্যবস্থা নির্ভরযোগ্য হতে হবে, তা স্বচ্ছ এবং প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমে পরিচালিত হবে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তিবিদ নন্দন নিলেকানির নেতৃত্বে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স গঠন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, টাস্কফোর্সের সুপারিশ পাওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব তা বাস্তবায়নের মাধ্যমে আসন্ন পরীক্ষাগুলোর বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকে স্প্রিং-২০২৬ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের বরণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ২৬শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৮:২৭ পি.এম


ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকে স্প্রিং-২০২৬ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের বরণ

বর্ণাঢ্য আয়োজনের মাধ্যমে নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ করেছে ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক (ইউএপি)।

শনিবার (২৫ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রিন রোডের স্থায়ী ক্যাম্পাসে স্প্রিং-২০২৬ সেমিস্টারে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের নিয়ে এই অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. মহিউদ্দিন আহমেদ ভূঁইয়া সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউএপির ট্রাস্টি বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান আলমজেব ফারজাদ আহমেদ।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিস্টিংগুইসড প্রফেসর ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদ এবং ম্যাক হোল্ডিংস প্রাইভেটের ডেপুটি চেয়ারম্যান ও ভাইস প্রেসিডেন্ট সৈয়দ এরশাদ আহমেদ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আলমজেব ফারজাদ আহমেদ নবীন শিক্ষার্থীদের ইউএপি পরিবারে স্বাগত জানান। তিনি শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলা, সততা ও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে শিক্ষাজীবন পরিচালনার আহ্বান জানান এবং তাদের জন্য একটি মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদ তার বক্তব্যে উচ্চশিক্ষার জন্য ইউএপিকে বেছে নেওয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের ধন্যবাদ জানান। তিনি জ্ঞান অন্বেষণে কৌতূহলী হওয়ার, সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনার বিকাশ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সুযোগ-সুবিধা ও শিক্ষকদের দিকনির্দেশনার সর্বোত্তম ব্যবহার করার পরামর্শ দেন।

সৈয়দ এরশাদ আহমেদ বলেন, নবীনবরণ একজন শিক্ষার্থীর বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সূচনা। তিনি শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রমের পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের মাধ্যমে নেতৃত্ব, দলগত কাজ এবং পেশাগত দক্ষতা অর্জনের আহ্বান জানান।

ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য ড. মহিউদ্দিন আহমেদ ভূঁইয়া শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ-সুবিধার যথাযথ ব্যবহার, শৃঙ্খলা, সততা এবং আজীবন শিক্ষার মানসিকতা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানে ইউএপির রেজিস্ট্রার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. নজরুল ইসলাম এবং প্রক্টর অধ্যাপক ড. অলোক কুমার সাহা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন নিয়মকানুন সম্পর্কে নবীন শিক্ষার্থীদের অবহিত করেন। এছাড়া শিক্ষার্থী কল্যাণ অধিদফতরের (ডিএসডব্লিউ) ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মো. মোহাম্মদ রাকিব বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ক্লাব ও তাদের কার্যক্রম সম্পর্কে নবীন শিক্ষার্থীদের ধারণা দেন।

এসময় আরও বক্তব্য দেন - স্কুল অব এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস ও ডিজাইনের ডিন অধ্যাপক ড. আবু সাঈদ মোশতাক আহমেদ, স্কুল অব বিজনেসের ডিন অধ্যাপক ড. এম. এ. বাকী খলিলী, স্কুল অব ফার্মাসির ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শাহরিয়ার। অন্যান্যদের মাঝে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুইজন প্রাক্তন শিক্ষার্থীরও বক্তব্য ছিল।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিভাগের প্রধান, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী, নবীন শিক্ষার্থী এবং তাদের অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে অভিভাবকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়, যেখানে বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে তাদের প্রত্যাশা এবং শিক্ষার্থীদের সার্বিক উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হয়।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

খাদ্য সংকটে ঝুঁকিতে দেশের ১ কোটি ৫৩ লাখ মানুষ, জানাল আইপিসি বিশ্লেষণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ২৬শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৮:২৮ পি.এম


খাদ্য সংকটে ঝুঁকিতে দেশের ১ কোটি ৫৩ লাখ মানুষ, জানাল আইপিসি বিশ্লেষণ

বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ১ কোটি ৫৩ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছে, যা বিশ্লেষণভুক্ত মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৫ শতাংশ। এর মধ্যে প্রায় ৪ লাখ ৮৩ হাজার মানুষ জরুরি পর্যায়ের খাদ্য সংকটে রয়েছে।

অন্যদিকে, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ সময়ে তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় থাকা মানুষের সংখ্যা বেড়ে ১ কোটি ৮১ লাখে পৌঁছাতে পারে। এর মধ্যে প্রায় ৭ লাখ ৮৭ হাজার মানুষ জরুরি পর্যায়ের খাদ্য সংকটে পড়তে পারেন।

খাদ্য মন্ত্রণালয়, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও), বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি), অ্যাকশন অ্যাগেইনস্ট হাঙ্গার, সেভ দ্য চিলড্রেন এবং গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ইমপ্রুভড নিউট্রিশনের (গেইন) যৌথ উদ্যোগে প্রকাশিত ‘ইন্টিগ্রেটেড ফুড সিকিউরিটি ফেজ ক্লাসিফিকেশন (আইপিসি)’–এর সর্বশেষ বিশ্লেষণে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

আইপিসি হলো খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার তীব্রতা ও ব্যাপ্তি বিশ্লেষণ এবং শ্রেণিবিন্যাসের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি কাঠামো। এর বিশ্লেষণ সরকার ও উন্নয়ন অংশীদারদের মানবিক সহায়তা এবং দীর্ঘমেয়াদি খাদ্য নিরাপত্তা কর্মসূচি পরিকল্পনায় একটি অভিন্ন প্রমাণভিত্তিক ভিত্তি প্রদান করে।

সম্প্রতি ঢাকায় খাদ্য মন্ত্রণালয়ের খাদ্য পরিকল্পনা ও তদারকি ইউনিটের (এফপিএমইউ) নেতৃত্বে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের কর্মশালায় এই বিশ্লেষণের ফলাফল প্রকাশ ও পর্যালোচনা করা হয়েছে। এতে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, উন্নয়ন ও মানবিক সহায়তা সংস্থার প্রতিনিধি, গবেষক এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পার্বত্য চট্টগ্রাম, হাওরাঞ্চল, কয়েকটি উপকূলীয় জেলা এবং কক্সবাজার ও ভাসানচরে অবস্থানরত বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের মধ্যে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার মাত্রা সবচেয়ে বেশি।

কর্মশালায় খাদ্য প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী বলেন, ‘বাংলাদেশ খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জনগণের সহনশীলতা বৃদ্ধিতে প্রমাণভিত্তিক বিশ্লেষণকে নীতি ও বিনিয়োগের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আইপিসির এই বিশ্লেষণ আমাদের সম্পদের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে এবং জলবায়ু ও অর্থনৈতিক চাপের মুখে থাকা ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে আরও কার্যকরভাবে সহায়তা করতে সাহায্য করবে।’

খাদ্যসচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা বলেন, ‘কার্যকর নীতিনির্ধারণে তথ্য ও প্রমাণভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমি আশা করি, এই আইপিসি প্রতিবেদনের ফলাফল নীতিনির্ধারক, উন্নয়ন সহযোগী এবং মানবিক সংস্থাগুলোর জন্য লক্ষ্যভিত্তিক কর্মসূচি গ্রহণ, খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা জোরদার এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সহনশীলতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক (সচিব) ড. মোহাম্মদ জকরিয়া বলেন, ‘খাদ্য নিরাপত্তা কোনো একক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এর জন্য সরকার, সমাজ, এনজিও, উন্নয়ন সহযোগী, জাতিসংঘের সংস্থা, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও সরকারি সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।’

প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতিকূল জলবায়ু, বন্যা, মূল্যস্ফীতি, জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি, বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থার বিঘ্ন এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমিয়ে খাদ্য নিরাপত্তা পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটাচ্ছে। সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে কোটি মানুষের পর্যাপ্ত ও পুষ্টিকর খাদ্যে প্রবেশাধিকার আরও সীমিত হয়ে পড়বে।

কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা জরুরি খাদ্য সহায়তা সম্প্রসারণ, দুর্যোগ-সাড়া সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি জোরদার, জলবায়ু-সহনশীল কৃষি সম্প্রসারণ, জীবিকা পুনরুদ্ধারে সহায়তা এবং দুর্যোগ প্রস্তুতি ও আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা শক্তিশালী করার সুপারিশ করেন।

বাংলাদেশে এফএওর প্রতিনিধি ড. জিয়াওকুন শি বলেন, ‘বারবার বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও জলবায়ুজনিত দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় কৃষি ও খাদ্যব্যবস্থার সহনশীলতা বাড়ানো এখন অত্যন্ত জরুরি। জরুরি কৃষি কৌশল, জলবায়ু-স্মার্ট কৃষি, টেকসই জীবিকা এবং স্থানীয় খাদ্য উৎপাদনে বিনিয়োগ শুধু তাৎক্ষণিক খাদ্য সংকট মোকাবিলাই নয়, ভবিষ্যৎ সংকট থেকেও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দেবে।’

বাংলাদেশে ডব্লিউএফপির প্রতিনিধি ও কান্ট্রি ডিরেক্টর কোকো উশিয়ামা বলেন, ‘এই আইপিসি বিশ্লেষণের সবচেয়ে বড় গুরুত্ব হলো, এটি সংকট আরও গভীর হওয়ার আগেই সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে চিহ্নিত করতে সহায়তা করে। বিশ্লেষণে চিহ্নিত অনেক এলাকাই বর্তমানে ভারী বৃষ্টি ও বন্যার মুখে রয়েছে, বিশেষ করে পার্বত্য চট্টগ্রাম। সেখানে ডব্লিউএফপি আগাম পদক্ষেপ (Anticipatory Action) গ্রহণ করেছে এবং সরকারের দুর্যোগ-সাড়া সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমে সহায়তা দিচ্ছে। জরুরি সাড়ার পাশাপাশি আইপিসি ভবিষ্যৎ সংকটের পূর্বাভাস, আরও কার্যকরভাবে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সহনশীলতা বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

কর্মশালায় খাদ্য মন্ত্রণালয় ও অংশীদার সংস্থাগুলো তাৎক্ষণিক খাদ্য নিরাপত্তা সংকট মোকাবিলা, ভবিষ্যতের দুর্যোগে সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং সবার জন্য টেকসই খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যৌথভাবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শেষ হচ্ছে নতুন কুঁড়ির প্রথম আয়োজন, পুরস্কার বিতরণ করবেন প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ২৬শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৮:৩০ পি.এম


শেষ হচ্ছে নতুন কুঁড়ির প্রথম আয়োজন, পুরস্কার বিতরণ করবেন প্রধানমন্ত্রী

দীর্ঘ রোমাঞ্চকর পথচলা শেষে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৫-২০২৬’-এর প্রথম আসরের পর্দা নামতে যাচ্ছে। আগামীকাল সোমবার দেশের বিশাল ক্রীড়া উৎসবের জাতীয় পর্বের গ্র্যান্ড ফাইনাল ও জমকালো সমাপনী অনুষ্ঠান আর্মি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সমাপনী অনুষ্ঠানে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক সভাপতিত্ব করবেন।

সোমবার (২৬ জুলাই) বিকেল সাড়ে তিনটায় শুরু হতে যাওয়া এই সমাপনী অনুষ্ঠানে, দেশের খুদে ক্রীড়াবিদদের উৎসাহিত করতে মাঠের কার্যক্রমে সরাসরি অংশ গ্রহণ করবেন প্রধানমন্ত্রী। বিকেল ৪টায় ভেন্যুতে এসে রাজশাহী ও রংপুর অঞ্চলের মধ্যে অনুষ্ঠিত বালিকা বিভাগের ফুটবল ফাইনালের দ্বিতীয়ার্ধ দেখতে পারবেন প্রধানমন্ত্রী। ফুটবল ম্যাচটি শেষ হলে বালক ও বালিকা বিভাগের ১০০ মিটার স্প্রিন্টের উত্তেজনাপূর্ণ ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে।

খেলা শেষ হওয়ার পর প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন ও থিম সং-এর সাথে শিশু শিল্পীদের মনোজ্ঞ নৃত্য পরিবেশনাও উপভোগ করবেন আমন্ত্রিত অতিথিরা। প্রধান অতিথির দিকনির্দেশনামূলক ভাষণের পর বিজয়ী খুদে অ্যাথলেটদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে এবং অতিথিবৃন্দ তাদের সাথে অফিশিয়াল ফটো সেশনে অংশ নেবেন।

প্রসঙ্গত, গত ২ মে সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে প্রধানমন্ত্রী এই ক্রীড়া মেগার আঞ্চলিক পর্বের উদ্বোধন করেছিলেন। দেশের সকল উপজেলা ও জেলা থেকে ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার শিশু-কিশোর ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি, অ্যাথলেটিক্স, ব্যাডমিন্টন, দাবা, সাঁতার ও মার্শাল আর্টস—এই ৮টি ডিসিপ্লিনে অংশগ্রহণ করেছে।

আঞ্চলিক পর্ব পেরিয়ে গত ২০ জুলাই ঢাকার বিভিন্ন ভেন্যুতে শুরু হওয়া জাতীয় পর্বে ১০টি অঞ্চলের প্রায় ১,৭০০ ক্রীড়াবিদ ও কর্মকর্তা অংশ নেন। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রতিযোগিতার বিভিন্ন ডিসিপ্লিনে প্রতিভার স্বাক্ষর রাখা খেলোয়াড়দের ইতোমধ্যে বিশেষ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বাছাইকৃত এসব খুদে প্রতিভাকে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (বিকেএসপি) বিভিন্ন শাখায় রেখে আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়াবিদ হিসেবে গড়ে তোলা হবে।

এছাড়াও, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য কোমলমতি শিশুদের ডিজিটাল গ্যাজেট আসক্তি থেকে মুক্ত করে পুনরায় খেলার মাঠে ফিরিয়ে আনা।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%