ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ইতিহাস-ঐতিহ্য সংরক্ষণে পাঁচ জেলার অংশগ্রহণে জাতীয় সম্মেলনের প্রস্তুতি


ইতিহাস-ঐতিহ্য সংরক্ষণে পাঁচ জেলার অংশগ্রহণে জাতীয় সম্মেলনের প্রস্তুতি

উত্তরাঞ্চলের পাঁচটি জেলার ইতিহাস, প্রকৃত প্রত্নসম্পদ, শিল্প, আঞ্চলিক সমস্যা ও উন্নয়নের সম্ভাবনা নিয়ে দুই দিনব্যাপী একটি ওয়ার্কশপ এবং জাতীয় সম্মেলন আয়োজনের লক্ষ্যে বগুড়ায় প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (১০ জুন) রাত ৮টায় শহরের সেউজগাড়ি বগুড়া নার্সিং হোম সম্মেলন কক্ষে এই আয়োজনটি নির্মিত হয়েছে ইতিহাসচর্চা ও গবেষণা কল্যাণ সংস্থা দ্বারা। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, টিএমএসএস নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপিকা ড. হোসনে আরা বেগম। সভাপতিত্ব করছেন বগুড়া ইতিহাস চর্চা ও গবেষণা কল্যাণ সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ডা. সিএম ইদ্রিস।

সভাটির সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ ফজলে রাব্বী ডলার। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া পৌরসভার সাবেক মেয়র অ্যাডভোকেট একেএম মাহবুবর রহমান, ইতিহাসচর্চা ও গবেষণা কল্যাণ সংস্থার উপদেষ্টা-মন্ডলীর সদস্য ডা. এ এইচ এম মশিউর রহমান, সরকারি মজিবর রহমান ভান্ডারী মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. বেল্লাল হোসেন।

আরও পড়ুন: ‘আল্লাহর বাড়ি মানুষ যায় পবিত্র নিয়তে, ওখানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঠিক না’ হুমায়ুন কবিরের মন্তব্য

এছাড়া সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন সরকারি শাহ সুলতান কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. সাহিদুর রহমান, সরকারি আজিজুল হক কলেজের ইতিহাস বিভাগের প্রধান অধ্যাপক শাহজাহান আলী, বগুড়া ইতিহাস চর্চা গবেষণা কল্যাণ সংস্থার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি একে এম রাজিউল্লাহ এবং আরও অনেকে।

আয়োজকরা তাদের আশা প্রকাশ করেছেন যে, এ আয়োজনের মাধ্যমে ঐতিহাসিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ করা, উন্নয়নের সম্ভাবনা চিহ্নিত করা এবং বাস্তবভিত্তিক সুপারিশগুলোর প্রণয়নের কাজ সম্ভব হবে। সভা চলাকালীন সম্মেলন আয়োজনের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন উপ-কমিটি গঠন, সম্ভাব্য কর্মসূচি এবং সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় এবং গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চট্টগ্রামে দুর্গতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করল ছাত্রদল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ১১ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:২৬ পি.এম


চট্টগ্রামে দুর্গতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করল ছাত্রদল

চট্টগ্রামে টানা ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে সৃষ্ট প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের নির্দেশনার ভিত্তিতে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের তত্ত্বাবধানে বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকায় অসহায়, দুস্থ ও বন্যাদুর্গত পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী ও জরুরী ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে।

শনিবার, ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমের নেতৃত্ব দিয়েছেন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের খবর নেন এবং দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এসময় বাঁশখালীতে বন্যার পানিতে ডুবে প্রাণ হারানো দুই বছর বয়সী শিশু ইসমাইল হোসেনের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। তিনি তাদের হাতে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।

কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কষ্ট লাঘবে মানবিক দায়িত্ববোধ থেকেই এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ছাত্রদল সবসময় মানুষের পাশে ছিল এবং ভবিষ্যতে যেকোনো দুর্যোগ ও সংকটে সেভাবেই পাশে থাকবে। প্রথম দিনে ৫০০টি পরিবারের হাতে ত্রাণ ও উপহারসামগ্রী সরবরাহ করা হয়েছে। ছাত্রদলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরে না আসা পর্যন্ত এই মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচিতে ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের পাঠাগার সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন শাওন, চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাইফুল আলম, সদস্য সচিব শরিফুল ইসলাম তুহিন, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আসিফ চৌধুরী লিমন, আল মামুন সাদ্দাম, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক রবিউল ইসলাম রবি, সদস্য সচিব কামরুদ্দীন সবুজ, যুগ্ম আহবায়ক আবদুল ওয়াহেদ সুমনসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বন্যাদুর্গত মানুষের জন্য সহযোগিতার ডাক দিল ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ১১ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:৩০ পি.এম


বন্যাদুর্গত মানুষের জন্য সহযোগিতার ডাক দিল ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ

ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ বন্যায় দুর্গতদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য একটি আহ্বান জানিয়েছে। দলের মহাসচিব অধ্যক্ষ আল্লামা জয়নুল আবেদীন জুবাইর বলেন, দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানো প্রত্যেক মুসলমানের ঈমানি ও মানবিক দায়িত্ব।

শনিবার দলের উদ্যোগে বাঁশখালীর দুর্গত এলাকায়, যেখানে পানিবন্দি মানুষ রয়েছেন, ত্রাণ বিতরণকালে তিনি এ কথা বলেন। এসময় তিনি বাঁশখালীকে দুর্গত এলাকা ঘোষণা করে সরকারকে অসহায়দের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আহ্বান জানান।

আল্লামা জয়নুল আবেদীন জুবাইর আরও বলেন, বাঁশখালীর বিভিন্ন ইউনিয়ন বানের পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেক মানুষের ক্ষেত-খামার এবং ফসলি জমি নষ্ট হয়ে একেবারে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। বর্তমানে অসংখ্য মানুষ খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে।

ত্রাণ কার্যক্রমের আওতায় সহস্রাধিক পানিবন্দি মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করা হয়। ত্রাণ সহযোগিতার মধ্যে রয়েছে শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি, ওষুধ, নগদ টাকাসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি।

এসময় উপস্থিত ছিলেন অধ্যক্ষ এম ইব্রাহীম আখতারী, স ম হামেদ হোসাইন, ছৈয়দ হাফেজ আহমদ, মাওলানা এ এম মঈনউদ্দীন চৌধুরী হালিম, মাওলানা মুহাম্মদ ওয়াহেদ মুরাদ, অধ্যক্ষ আল্লামা হেলাল উদ্দীন আলকাদেরী, এম কফিল উদ্দীন রানা, মাস্টার আনোয়ারুল আজিম, মাওলানা বশির আহমদ, মাওলানা শরিফ কাদেরী, গিয়াস উদ্দীন জাহেদ, কাজী সোলতান আহমদ, মাওলানা সিরাজুল হক, এম আহমদ রেজা, মুহাম্মদ মামুনুর রশিদ, আবুল ফয়েজ মামুন, মুহাম্মদ শিহাব উদ্দীন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পানিবন্দি মৌলভীবাজার, সীমাহীন কষ্টে হাজারো মানুষ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১১ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:৩৪ পি.এম


পানিবন্দি মৌলভীবাজার, সীমাহীন কষ্টে হাজারো মানুষ

মৌলভীবাজারের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে। মনুনদী চাঁদনীঘাট পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ওপরে থাকলেও অন্যান্য সবকটি নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। রাজনগর, কুলাউড়া ও কমলগঞ্জ এই তিনটি উপজেলার অর্ধ লাখ মানুষ এখনও পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন।

গ্রামীণ রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় পানিবন্দি মানুষ তাদের বাড়ি ঘর থেকে বের হতে পারছেন না। অনেক পরিবার পরিজন ও গবাদিপশু নিয়ে উচুঁ স্থান ও বাঁধে আশ্রয় নিলেও দুর্গত এলাকায় শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র অভাব দেখা দিয়েছে।

সরেজমিনে বন্যাদুর্গত এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, মনু ও ধলাই নদীর ঢলের পানি অনেকটা নেমে গেছে। বন্যাদুর্গতরা জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় উজানে বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ার ফলে সবকটি নদীর পানি দ্রুত কমেছে। তবে ঢলের এসব পানি হাওড়ের দিকে গড়িয়ে পড়ায় হাওড় নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। নিম্নাঞ্চলের লোকজনেরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

সরেজমিনে রাজনগর উপজেলার মনুনদী ভাঙন এলাকার একামধু ও উজিরপুরে গেলে সময় সংবাদের সঙ্গে কথা হয় একাধিক ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের। জয়নাল মাস্টার জানালেন, তার বসতভিটা পুরোটাই তছনছ হয়ে গেছে। পানির স্রোতের তোড়ে ঘরের মালপত্র এমনকি হাঁস-মোরগ সবকিছু ভাসিয়ে নিয়ে গেছে।

তিনি আরও জানান, ঘর থেকে পানি নেমে যাওয়ার পর এখন ঘরের কাঁদা পানি পরিষ্কার করার কাজ করছেন পরিবারের লোকজন।

কান্দিরকুল গ্রামের সুব্রত জানালেন, তার ঘরের ধান-চাল সব পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে। তবে তিনি জানালেন, ঘরের পানি নামলেও হাঁটু সমান কাঁদায় তার পুরো বসতঘর ভরে আছে।

উজিরপুর ভাঙনের একদম কাছাকাছি বসবাসকারী বয়োবৃদ্ধ মো. আবদুল মান্নান জানালেন, সবার দোয়ায় তিনি বেঁচে আছেন। স্ত্রী ও তার ছোট বোনকে নিয়ে তার সংসার। আয় রোজকারের কেউ নেই। গ্রামের অনেকের সহায়তায় তার পরিবার চলে। অন্যদের মতো তিনিও জানালেন, হাঁস-মুরগি সব জলপানিতে ভেসে গেছে। দুদিন ধরে তারা কিছু খাননি। তবে তাঁর স্ত্রী জানালেন, গ্রামের এক ব্যক্তি কিছু চিড়া দিয়েছিলেন। তা দিয়ে আজ খাওয়া হয়েছে। এভাবে হাজারো সমস্যার কথা জানালেন বন্যাদুর্গত এলাকার লোকজন। তাদের মধ্যে এক রকম হাহাকার বইছে।

এদিকে জেলা ত্রাণ অফিসের তথ্যমতে, বন্যাদুর্গতদের মধ্যে এ পর্যন্ত পাঁচটি উপজেলায় ৯০ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া সাত উপজেলায় ১৭৫০ ব্যাগ শুকনো খাবার দেয়া হয়েছে। তাছাড়া রাজনগর, কমলগঞ্জ, শ্রীমঙ্গল ও মৌলভীবাজার সদরে নগদ ৫ লাখ টাকা দুর্গতদের মধ্যে দেয়া হয়েছে। রাজনগর উপজেলায় ১০টি এবং সদর উপজেলায় ৯টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। বন্যাদুর্গত লোকজনের অভিযোগ, যে পরিমাণ ত্রাণ দেয়া হচ্ছে তা খুবই অপ্রতুল।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বন্যা-পাহাড় ধসের তাণ্ডবে ৪৪ প্রাণহানি, বিপর্যস্ত ১০ লাখেরও বেশি মানুষ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১১ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:৩৬ পি.এম


বন্যা-পাহাড় ধসের তাণ্ডবে ৪৪ প্রাণহানি, বিপর্যস্ত ১০ লাখেরও বেশি মানুষ

বন্যা ও পাহাড় ধসে দেশের দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ৪৪ জনের মৃত্যুর তথ্য দিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে সৃষ্টি হওয়া এই দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন সাত জেলার ১০ লাখ ২২ হাজার ৯৬৩ জন মানুষ। খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ, এই সাতটি জেলা বন্যার কবলে পড়েছে।

শনিবার (১১ জুলাই) সন্ধ্যা পর্যন্ত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের হালনাগাদ প্রতিবেদন বলছে, এসব জেলার ৫৮টি উপজেলার ৩৮৬টি ইউনিয়ন ও ১১টি পৌরসভা প্লাবিত হয়েছে। সাত জেলায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছে ২ লাখ ৬৭ হাজার ৯১৮টি পরিবার।

মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, বন্যা ও পাহাড় ধসে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে কক্সবাজারে। সেখানে পাহাড় ধস ও বন্যায় ২৩ জন মারা গেছেন। নিহতদের মধ্যে ১০ জন স্থানীয় বাসিন্দা এবং ১৩ জন রোহিঙ্গা নাগরিক। কক্সবাজারে আহত হয়েছেন ২৪ জন।

এদিকে, বিভাগীয় শহর চট্টগ্রামে বন্যা ও দেয়াল ধসের ঘটনায় ১১ জন নিহত এবং ১২ জনের আহত হওয়ার তথ্য দিয়েছে মন্ত্রণালয়। পার্বত্য জেলা বান্দরবানে ঢলের পানিতে ভেসে ও পাহাড় ধসে প্রাণ হারিয়েছেন ৬ জন; আহতের সংখ্যা ২। আরেক পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটিতে মৃত্যু হয়েছে ৩ জনের। দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জেলা মৌলভীবাজারে বন্যায় ১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এবারের বন্যায় সবচেয়ে বেশী মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চট্টগ্রাম জেলায়। জেলার ১৬টি উপজেলায় আংশিক ও পূর্ণ জলাবদ্ধতা তৈরি হওয়ায় ৭ লাখ ৫৯ হাজার ৫৩০ জন মানুষ ভোগান্তির শিকার হয়েছেন।

চট্টগ্রামে পানিবন্দি পরিবারের সংখ্যা ১ লাখ ৮৮ হাজার ৬৪৮টি। এরপর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কক্সবাজারে, যেখানে ১০টি উপজেলার ১ লাখ ৫৮ হাজার ২৭ জন মানুষ বন্যাকবলিত এবং ৩৯ হাজার ৫০৬টি পরিবার পানিবন্দি।

অন্যান্য জেলার মধ্যে খাগড়াছড়ির ৯ উপজেলায় ২৭ হাজার ২২০ জন, রাঙ্গামাটির ৯ উপজেলায় ৩ হাজার ৫২৪ জন, বান্দরবানের ৭টি উপজেলায় ৮ হাজার ৩৫০ জন, মৌলভীবাজারের চার উপজেলায় ৩৮ হাজার ১৭২ জন এবং হবিগঞ্জের তিন উপজেলায় ২৮ হাজার ১৪০ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

হঠাৎ উপচেপড়া পানি ও পাহাড়ি ঢলে ঘরবাড়ি হারিয়ে জীবন বাঁচাতে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটছে হাজারো মানুষ। সরকার ক্ষতিগ্রস্তদের জরুরি আশ্রয় দিতে মোট ১ হাজার ১৩১টি আশ্রয়কেন্দ্র খুলেছে। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে ইতোমধ্যে ৪৪ হাজার ৪৫৭ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। তবে, প্রত্যন্ত অঞ্চলের বহু মানুষ এখনো নিজের জলমগ্ন ভিটেমাটি আঁকড়ে পড়ে আছেন। আশ্রয় কেন্দ্রগুলোর মধ্যে ঠাঁই নেওয়া বিপন্ন মানুষের মাঝে শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের পক্ষ থেকে জরুরি মানবিক সহায়তা জোরদার করার কথা বলা হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় গত ৭ জুলাই দেশের ৬৪টি জেলার জেলা প্রশাসকদের অনুকূলে মোট ৬ হাজার ৯০০ মেট্রিক টন চাল এবং ৩ কোটি ৪৫ লাখ টাকা নগদ বরাদ্দ দেওয়ার কথা বলেছে। এর মধ্যে দুর্গত এই ৭টি জেলায় বিশেষ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জরুরি ত্রাণ পাঠানো হয়েছে। বন্যা কবলিত জেলাগুলোর মধ্যে চট্টগ্রামে সর্বোচ্চ ৭০০ টন চাল ও ৪০ লাখ টাকা নগদ এবং কক্সবাজারে ৪৫০ টন চাল ও ৩০ লাখ টাকা নগদ অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া পার্বত্য তিন জেলা খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবানের প্রতিটিতে ৪০০ টন করে চাল এবং ২০ লাখ করে টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মৌলভীবাজারে ২০০ টন চাল ও ১০ লাখ টাকা এবং হবিগঞ্জে ১০০ টন চাল ও ৫ লাখ টাকা ত্রাণ কার্য (নগদ) হিসেবে বরাদ্দ করা হয়েছে।

স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুর্গত এলাকায় শুকনো খাবার, চাল ও নগদ টাকা বিতরণ শুরু হলেও প্রত্যন্ত অঞ্চলের সড়ক ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় অনেক জায়গাতে সরকারি-বেসরকারি সাহায্য পৌঁছাতে বেগ পেতে হচ্ছে। বন্যাকবলিত এলাকার মানুষ এখন পানি কমার অপেক্ষায় দিন গুনছেন।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের ত্রাণ কর্মসূচি, জরুরি সাড়াদান সমন্বয় অধিশাখার যুগ্মসচিব সেখ ফরিদ আহমেদ বলেন, ওইসব (বন্যাক্রান্ত) জেলাগুলোর সঙ্গে আমাদের সার্বক্ষণিক যোগাযোগ আছে। এই যোগাযোগে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে শুরু করে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং এনজিও কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে সার্বিক সহযোগিতা করা হচ্ছে। আমরা মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দের যে বিষয়গুলো আছে, এগুলো আমরা সব জায়গায় মোটামুটি জেলাপ্রশাসনের চাহিদামতো বরাদ্দ দিয়ে রেখেছি। এতে কোনো সমস্যা নেই। অর্থাৎ জেলা প্রশাসন এবং আমাদের মিনিস্ট্রি, দুই পক্ষেরই সার্বিক সহযোগিতা আছে।

অন্যান্য জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় এবং সমাজকর্মীদের সার্বিক সহযোগিতায় মোটামুটি উত্তরণের চেষ্টা করা হচ্ছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%